আব্বা মুক্ত থাকলে আমাদের হত ডাবল ঈদ।

আব্বা মুক্ত থাকলে আমাদের ছিল ডাবল ঈদ শেখ রেহানা | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ রেহানা জানাচ্ছেন তাঁর ছেলেবেলার ঈদের স্মৃতি। আব্বা–মা, পাঁচ ভাইবোন মিলে তাঁর ছিল সোনালি শৈশব, বর্ণালী কৈশোর। ছিল হাসি–কান্না, স্বপ্ন–আনন্দভরা দিনরাত্রি। বঙ্গবন্ধু প্রায়ই থাকতেন কারাগারে, কখনো–বা থাকতেন কারাগারের বাইরে। কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সেই সময়ের ঈদের দিনগুলো। মর্মস্পর্শী এই স্মৃতিকথায়। বেলায় দেখতাম, আব্বা প্রায়ই থাকতেন জেলখানায়। আমাদের কাছে ঈদ ছিল তখন, যখন আব্বা জেলখানার বাইরে থাকতেন, মুক্ত থাকতেন। আর আব্বাও জেলখানার বাইরে, ঈদও এল—এমন হলে তো কথাই নেই। আমাদের হতো ডাবল ঈদ। আব্বা জেলে থাকলে ঈদের পরের দিন মা বেশি করে ভালো খাবারদাবার রাঁধতেন। জেলে তো আব্বা একা খাবেন না, অন্য যে নেতারা আছেন, তাজউদ্দীন চাচারা আছেন, আশপাশে যাঁরা আছেন, সবাইকে নিয়ে খাবেন। আব্বার সঙ্গে দেখা করতে আমরা যেতাম জেলখানায়। ১৫ দিনে একবার দেখা করতে যাওয়ার অনুমতি মিলত। সেদিন আমি স্কুলের শেষ দুই পিরিয়ড না করেই চলে আসতাম। রাসেল তো জন্মের পর আব্বাকে বাইরে কমই দেখেছে। ও জেলখানায় গেলে আর ফিরতে চাইত না। বলত, এটা আব্বুর বাড়ি। আমি আমাদের বাড়িতে যাব না। আসো, আমরা আব্বুর বাড়িতেই থাকি। কতই-বা বয়স ছিল তখন। তিন বা চার। ও তো বুঝত না। আমাদের জেলগেট থেকে ফিরে আসতেই হতো। সেই রাতে রাসেল আর ঘুমোতে পারত না। গভীর রাতে সে কাঁদতে শুরু করত। হাছু আপাকে ডাকো, দেনা আপাকে ডাকো, (আমাকে প্রথম প্রথম সে ডাকত দেনা আপা, তারপর রেয়না আপা), বড় ভাইকে ডাকো, ছোট ভাইকে ডাকো। আমরা ছুটে যেতাম। কী হয়েছে! কোনো দিন বলত পেটে ব্যথা, কোনো দিন বলত হাতে ব্যথা, আসলে আব্বার কথা তার মনে পড়েছে, সে ঘুমোতে পারছে না, আমাদের সবাইকে কাছে পেতে চাইছে, আমরা তাকে ঘিরে বসে আছি, সে মায়ের কোলে, ছোট্ট হাত-পা-শরীরের মানুষটা, মায়াভরা মুখ, বড় বড় চোখের পাতা, একটা সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। আর আব্বা বাসায় থাকলে তো আমাদের ঈদের খুশি। বাড়িতে গমগম করছে মানুষ। কতজন যে আসছেন, কতজন যে খাচ্ছেন, আমরা যা খাই, তা-ই খাচ্ছেন—আলাদা কিছু নয়। রাজনৈতিক পরিবার, যাঁরা আসেন, খান। আমাদের ডাইনিং টেবিলটা ছিল বিশাল বড়। একসঙ্গে ১২ জন ১৬ জনও খেতে বসতে পারত। বাসাভর্তি লোকজন গমগম করছে, রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে—আমরা তো পড়ারও জায়গা পাই না। ছাদে চলে যাই। কিংবা এই ভিড়ের মধ্যেই সব ভাইবোন একখানে গোল হয়ে বসে গুনগুন করে একসঙ্গে পড়ি। সব সামলাতেন আমার মা। আব্বার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে আছে, মাকে বলছেন, তুমি যা ভালো বোঝো, কোরো। কী যে সম্মান করতেন মাকে। নারীর প্রতি, স্ত্রীর প্রতি কী যে তাঁর সম্মানবোধ ছিল। আর আমার মা! তাঁর কথা ভাবি। কত অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তো তিনি আমাদের ছেড়ে চলেই গেলেন। কত অল্প বয়সে এতগুলো ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁকে জীবন-সংগ্রামে নেমে পড়তে হয়েছিল। আব্বা আগের দিন মন্ত্রী, পরের দিন জেলখানায়, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সরকারি বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে, কিন্তু কেউ মাকে বাসাভাড়া দিচ্ছে না। আমার তখনো জন্ম হয়নি, কিন্তু এসব ঘটনা তো শুনেছি, পড়েছি, পরে নিজের চোখে দেখেছি। গ্রামে জন্ম হওয়া একজন সাধারণ নারী আমার মা, ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়েছেন মিশনারি স্কুলে। কিন্তু কী যে প্রজ্ঞা, কী যে তাঁর ধৈর্য। আমার মায়ের কাছ থেকে আমাদের যে জিনিসটা সবার আগে শেখা উচিত, তা হলো ধৈর্য আর সাহস। সবাইকে এক করে রাখা। এতগুলো লোক বাড়িতে খাচ্ছে-দাচ্ছে, আমাদের গ্রামে কোনো মেয়ে ম্যাট্রিক পাস করেছে, তাকে এনে ঢাকায় কলেজে ভর্তি করে দাও, কাকে বিয়ে দিতে হবে! সব সামলাচ্ছেন। এর মধ্যে আমাদের সকালে কোরআন শরিফ পড়া শেখাতে মৌলভি সাহেব আসছেন, তারপর নাচ শিখছি, সেতার শিখছি, বেহালা শিখছি—সব কিন্তু মায়ের সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাঁর নিজের বয়স কত! আমার তো মনে হয়, আমার মা কি কোনো দিন তাঁর শৈশবে কিংবা কৈশোরে একটা ফিতা বা রঙিন চুড়ি চেয়েছেন কারও কাছে! মা-ই তো সব থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অথচ তিনি হাসিমুখে সব সামলাচ্ছেন। আব্বা জেলে থাকলে তো আমাদের ঈদ বিশেষ কিছু ছিল না। কাপড়চোপড়ও তো নতুন তেমন কিছু আসত না। ঈদের আগে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকতে হতো হাসিনা আপাকে, আমাদের এখনকার প্রধানমন্ত্রীকে। আমাদের ছিল সেলাই মেশিন। তখন দরজির কাছে কেউ পোশাক বানাতে যেত না। বাড়িতে জামাকাপড় বানাতে হতো, সেটাই ছিল চল। মা আমাদের কাপড় সেলাই করতেন, তারপরে করতে শুরু করেন হাসু আপা। আমাদের বাড়িতেই কত লোকজন, তার ওপর আশপাশের পড়শিরাও এসে দিয়ে যেত কাপড়। আপা সবার জামা বানিয়ে দিতেন। সবারটা দিচ্ছেন, শুধু আমারটা দিচ্ছেন না। আমি বলি, আপা, আমার জামাটা বানাবে না? বানাও। আপা বলেন, ‘বানাব রে। একটু মাথা ধরেছে। তুই এক কাজ কর তো। এক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আয়। তোর বানানো চায়ের কোনো তুলনা হয় না।’ চা বানিয়ে আনলাম। খাচ্ছেন। ‘ভালো হয়েছে’ বলে হাসলেন। তারপর আবার আরেকজনের জামা বানাতে শুরু করলেন। আমি বলি, আপা, আমারটা বানাবে না? আমারটা ধরো। তিনি হাসতেন, হয়তো বললেন, ‘যা তো, দেখ তো, কফি কোথায় পাওয়া যায়, একটু কফি খেতে পারলে ভালো হতো।’ আমি অভিমান করতাম, যাও, আমারটা তোমাকে বানাতে হবে না। আমারটা বানাতেন একেবারে চাঁদরাতে। শেষ সময়ে। উফ্। কী যে করতেন! একবার তো শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে আপা জামা বানিয়ে দিয়েছেন ঈদের আগের রাতে। লুকিয়ে রেখে সকালে পরতে গেছি। দেখি, সেলাই করেছেন কাপড়ের উল্টো দিকে। রাসেল আব্বাকে জেলখানার বাইরে পেলে কাছছাড়া করতে চাইত না। আব্বার মতো করে কাপড়চোপড় পরত। আব্বার মতো পাঞ্জাবি-পায়জামা, মুজিব কোট, আব্বার মতো শেরওয়ানি। আবার তার একটা ছোট্ট লুঙ্গিও ছিল। আব্বার তো সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল লুঙ্গি আর গেঞ্জি। রাসেলও আব্বাকে অনুকরণ করে পোশাক পরত। আব্বার মতো করে হাঁটত। আবার আব্বা হয়তো পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে জুতা পরে বাইরে যাচ্ছেন। রাসেল দৌড়ে গিয়ে স্যান্ডেল-শু এনে দিত। বলত, আব্বা, পায়জামার সঙ্গে জুতা পরতে হয় না। আব্বা বলতেন, কাদা-পানিতে হাঁটতে হবে বাবা। রাসেল বলত, তাহলে আরেক জোড়া সঙ্গে করে নিয়ে যাও। ঈদের দিন আব্বা, ভাইয়েরা, বাসায় আর যাঁরা যাঁরা আছেন ছেলেরা, সবাই সকালবেলা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজ পড়তে গেল। জামাল ভাই তো পুরো রমজান মাস টুপি পরে থাকতেন। ৩০ রোজা তো করতেনই। আব্বা নামাজ পড়তেন সোবহানবাগ মসজিদ বা ধানমন্ডি মসজিদে। তারপর সোবহানবাগে আমাদের ছোট ফুপু লিলি, সৈয়দ হোসেন ফুপার বাড়িতে গিয়ে সবাই নাশতা করতেন। নাশতা সেরে সেখান থেকে চলে আসতেন বাসায়। ফুপুরাও চলে আসতেন, সবাই মিলে আমাদের বাসাতেই কাটাতেন ঈদের দিনের বাকি সময়টা। আমরাও বিকেলবেলা বেড়াতে বের হতাম। ধানমন্ডি, কলাবাগান, শুক্রাবাদে বন্ধুদের বাসা, লেকের ধার ধরে হাঁটা। মাঠে-বাগানে চষে বেড়ানো। তখন তো সবকিছু খোলামেলা ছিল। দিনের বেলা আমাদের বেড়ানোয় কোনো মানা ছিল না। আমাদের সময়ে জামা-কাপড়ের সংখ্যা তো কারোরই বেশি ছিল না। কামাল ভাই, জামাল ভাই, কারোরই না। কামাল ভাই খুব শৌখিন ছিলেন। খুব গুছিয়ে রাখতেন সবকিছু। কিন্তু বেশি কিছু চাইতেন না। আমার কাছেই এসে হয়তো কোনো দিন বললেন, দশটা টাকা দিবি। বিড়ি-সিগারেট কোনো দিন খাননি। খরচ তো কিছু ছিল না। কত যে তাঁর গুণ ছিল। আমি তো বলি, আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি তাঁদের মামার একটা গুণও পায়, সেও হবে অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। কামাল ভাই সেতার বাজাতেন। ধরা যাক, বাড়িতে অনেক মানুষ। আমার পরীক্ষা। পড়ব কোথায়? পড়ার জায়গার খোঁজে ছাদে গেছি। গিয়ে দেখি কামাল ভাই। হাতে সেতার। আকাশে চাঁদ। চারদিক থইথই করছে জোছনায়। কামাল ভাই বললেন, পড়তে হবে না আজকে। অত পড়ে কী করবি। আয়, আমার সঙ্গে বস। গান ধর। আমি তাঁর সঙ্গে গান ধরলাম। একজন-দুজন করে এসে বসে পড়ল পাশে। জামাল ভাই এলেন। হাসু আপা এলেন। আমরা গান করছি। আকাশে তখন চাঁদ, নারকেলের পাতার ফাঁকে অকৃপণ আলো বিলাচ্ছে পৃথিবীর কোনায় কোনায়। হাসু আপার কোলে রাসেল, তার ঢুলু ঢুলু চোখে এসে পড়েছে চাঁদের আলো। হাসনাহেনার গন্ধ বয়ে আনছে রাতের বাতাস। আমাদের বাসাটা তো ছিল খেলাপাগল বাসা। আমাদের নিয়ম ছিল, বিকেল হলে খেলতে যাও, কিন্তু মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে বাসায় ফিরতে হবে। এসে গোসল করে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসো। বাসায়ও নানা রকমের খেলা হতো। ক্যারম খেলার তো টুর্নামেন্ট হতো। মনি ভাই, সেলিম ভাইয়েরাও আসতেন। বাগাডুলি খেলা নিয়ে মজা হতো খুব। একটা ঘর আছে বাগাডুলিতে, এলটিপি, লস্ট টোটাল পয়েন্ট। কেউ একজন বলল, এইবার তোর এলটিপি হবে, তারপর যদি হতো, আমরা সবাই তার ওপরে কপট রাগ ঝাড়তাম, তুমি হলে এলটিপি ভাই, এই যে এলটিপি ভাই এসেছেন। চোর-পুলিশ খেলতাম। লুকোচুরি খেলতাম। বাইরে পেয়ারাগাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছি, বড় বড় লাল পিঁপড়া, কালো পিঁপড়া, হাত-পায়ের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে, কিন্তু চুপটি মেরে আছি। আরেকটা খেলা ছিল, ভূত নামিবে খেলা। রোববারে ছুটির দিনে মা একটু ভালো রান্না করতেন। হয়তো লুচি বা পরোটা। মা লুচি ভাজছেন। একটা মোড়া নিয়ে আব্বা বসেছেন। তাঁর পাশে আমরা সবাই পিঁড়ি পেতে বসেছি। একটা একটা করে লুচি ভাজা হচ্ছে। আমাদের একেকজনের পাতে পড়ছে। আমাদের চার ভাইবোনের চারটা কাঁসার থালা ছিল। সেই কাঁসার থালায় আমরা খাচ্ছি। আর আমাদের ছিল গ্রামোফোন। মা যখন গ্রামে ছিলেন, তখন থেকেই তাঁর সঙ্গী ছিল কলের গান। হাত দিয়ে হাতল ঘুরিয়ে হিজ মাস্টার্স ভয়েসের রেকর্ড চালানো হতো। মায়ের প্রিয় ছিল জগন্ময় মিত্র, শচীন দেববর্মণ, সন্ধ্যা-লতা, সুরাইয়া আর আব্বাসউদ্দীন সাহেবের নজরুলসংগীত। আমাদের বাসায় রবীন্দ্রনাথের নিজের হাতে লেখা একটা গান ছিল, মৈত্রেয়ী দেবী আব্বাকে দিয়েছিলেন, রুপার ফ্রেমে বাঁধানো ছিল। ১৯৭৫-এ কী করেছে, রুপার ফ্রেমটা নিয়ে ওই রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা কাগজটা দলা পাকিয়ে নিচে ফেলে রেখেছে। আমরা যখন ঢোকার অনুমতি পেলাম, আমি বহুদিন দোতলায় যাইনি, একদিন গেলাম, গিয়ে দেখি, রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা নিচে পড়ে আছে। আমি সেটা যত্ন করে তুলে রাখলাম। এখন আপার কাছে আছে, প্রথমে ভেবেছিলাম শান্তিনিকেতনে দেব, পরে ভাবলাম, না তা কেন, এটা তো বঙ্গবন্ধু জাদুঘরেই থাকতে পারে। কোন গানটা আছে জানেন? ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো’। বাসার মধ্যে আমিই ছিলাম একটু আদুরে, আবদার করতাম। আব্বা বাইরে গেলে আমি তাঁকে এত বড় ফর্দ ধরিয়ে দিতাম। আব্বা বলতেন—হানিফ, কী লিস্ট দেয় নে, রেখে দে, এনে দিস। ফরাশ সাহেব, দেখবেন। আর আব্বা বেশি রাত করে ফিরতেন। আমি তাঁর হাতে খাব। এই জন্য প্রায়ই ভাত খেতাম না। অজুহাত বের করতাম—জামাল ভাই আমার দিকে কটমট করে তাকাল কেন? ও আমার বইটা এখানে না রেখে ওখানে রাখল কেন? আমি ভাত খাব না। আব্বা ফিরতেন বহু রাতে। আমি ভাত খাইনি শুনে আমাকে ঘুম থেকে তুলতেন। একটা ছোট্ট তোয়ালে আমার গলার নিচে বাঁধতেন। তারপর ভাত-তরকারি হোক, দুধ-ভাত হোক, মাখাতেন। আমাকে তুলে তুলে খাওয়াতেন। তারপর তোয়ালে ভিজিয়ে আমার মুখ মুছে দিতেন। আলতো করে শুইয়ে দিতেন। আমি ঘুমের ভান করে পড়ে আছি, শুনছি—এই, তোরা রেহানাকে বকেছিস কেন? সকালবেলায় উঠে আমি হাসতাম, কেমন কাল রাতে বকা খেলে...আব্বা আমার জন্যই কেবল নিউমার্কেটে গেছেন দু-একবার। আমি এটা-ওটা কেনার বায়না ধরতাম। আব্বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গোপনে আমাদের টাকা দিয়ে বলতেন—নে, টাকা নে, লুকিয়ে বুড়ির জন্য ভালো শাড়ি কিনে আন। মাকে আদর করে বুড়ি ডাকতেন। আমরা মার্কেটে গিয়ে শাড়ি কিনে এনে গোপনে আব্বার হাতে দিতাম। আব্বা সেটা কোথাও লুকিয়ে রাখলেন। মা দেখলেন, শাড়ির প্যাকেট। আব্বা বলতেন, শাড়িটা কেমন? মা বুঝতেন, এ তো মার্কেটে যাওয়ার লোক নয়। নিশ্চয়ই মেয়েদের দিয়ে আনিয়ে নিয়েছেন। রেডিও আর বই ছিল আমার সারাক্ষণের সঙ্গী। কামাল ভাই ১৯৭১ সালে যুদ্ধে গেলেন, জামাল ভাই গেলেন। কামাল ভাই যাওয়ার আগে একটা রেডিও উপহার পেয়েছিলেন, একটা সুইডিশ ফ্যামিলি দিয়েছিল। সেটা আমাদের বাসায় জোরে জোরে বাজত। স্বাধীন বাংলা বেতারের গান আমরা জোরে জোরে বাজাতাম। বাইরে পাকিস্তানি সৈন্য। ওরা তো বাংলা বোঝে না। রাসেল সেই গান শুনে শুনে মুখস্থ করে ফেলেছে। কিন্তু যখন ঘরের বাইরে গিয়ে সে গান গাইত, সে গাইত— জয় জয় জয় গাছের পাতা হয়... তখনই সে বুঝেছে, জয় বাংলা বলা যাবে না পাকিস্তানি সৈন্যদের সামনে। আব্বা তো তখন পাকিস্তানের জেলে বন্দী। রাসেল একা একা ঘরের কোণে বসে কাঁদছে। কী হয়েছে রে? জানি না আপা, আমার চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে। আমার চোখে কী যেন হয়েছে। স্বীকার করতে চাইত না যে আব্বার জন্য তার মন খারাপ। কার কী মনে হয় জানি না, আমার শুধু রাসেলের কথাই মনে হয়। ৪০ বছর হয়ে গেল! আপাকে বলি, আপা, মা বেঁচেছিলেন ৪৪ বছর, আমরা তো বেশি বছর বেঁচে গেলাম। জানি না, আমরা দুই বোন কেন বেঁচে আছি। রাসেলেরও তো আমার সঙ্গে জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। অত ছোট ছেলে, মা ছাড়লেন না। ওর জার্মানি যাওয়া হলো না। আব্বার ডায়েরি পাওয়া গেছে, আব্বা একটা মুরগি নিয়ে লিখেছেন, একটা পাখিকে নিয়ে লিখেছেন। কী তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, কী যে তাঁর গাছপালা-প্রাণী-প্রকৃতি আর মানুষের জন্য ভালোবাসা। আজও তো এই আকাশে চাঁদ ওঠে। জোছনায় ভেসে যায় চরাচর। আজও রাতজাগা পাখি গান করে। আমার মনে পড়ে সেই সব দিন। আমরা সবাই ছাদে। কামাল ভাই সেতার বাজাচ্ছেন। আমাকে বললেন, তুই একটা গান ধর। মায়ের পছন্দ জগন্ময় মিত্র। ‘যত লিখে যাই, চিঠি না ফুরায় কথা তো হয় না শেষ...তুমি আজ কত দূরে।’ কিংবা শচীনদেবের গান— ‘নদী যদি হয়রে ভরাট কানায় কানায় হয়ে গেলে শূন্য হঠাৎ তাকে কি মানায়।’ আমাদের ভর-ভরন্ত একটা পৃথিবী ছিল। হঠাৎ করে একদিন সব শূন্য হয়ে গেল। আমরা তো আগে কোনো দিন একা একা ভাত খাইনি। এখন একা একা খেতে হয়! জানি না, আল্লাহ কেন আমাদের দুজনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমরা আব্বার ডায়েরি পড়ি, সেগুলো বই হয়ে বেরোবে, সেসব কাজের তদারক করি। হয়তো, আব্বার স্মৃতিরক্ষার এই কাজগুলো করিয়ে নেওয়ার জন্য আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। আবার ঈদ এসেছে। আমার আবার আব্বার কথা মনে পড়বে, রাসেলের কথা মনে পড়বে। মনে পড়বে মায়ের কথা, ভাইদের কথা, ভাবিদের কথা। এভাবেই তো কেটে গেল ৪০টি বছর। অনুলিখিত আলোকচিত্র: সংগৃহীত—মোহাম্মদ আলম, জহিরুল হক। কৃতজ্ঞতা: মাহবুবুল হক শাকিল ও ফোকাস বাংলা। http://countries71.blogspot.com/2015/09/blog-post_61.html

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg