জাতীয় শোক দিবসের আজ ১০সেপ্টেম্বর শেষ দিন।হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা,শ্রদ্ধায় স্মরন করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে। ============================= ১৫ আগস্ট ২০১৫ইং সর্বযুগের সর্বশ্রষ্ঠ বাঙ্গালী,বাংলাদেশের জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকির, আজ ১০ই সেপ্টেম্বর ২০১৫সরকার ঘোষিত ৪০দিনের জাতীয় শোক দিবসের শেষ দিন।আশার কথা যে এবারের শোক দিবসে অল্প বিস্তর অঘটন ঘটলেও সামগ্রিক শোক পালনে গাম্ভিয্যতা পরিলক্ষিত হয়েছে।বেশ কিছু অফ-লাইনের কাগজ ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়া ৪০দিন ব্যাপি তাঁদের কাগজের পাতায় এবং অনুষ্ঠান সুচিতে কিছু না কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করেছে।এতে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদেরা যেমন মতামত তুলে ধরেছেন তাঁদের জ্ঞানগম্ভির আলোচনায়, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে যারা কাছ থেকে অবলোককন করেছেন তাঁরাও তাদের স্মৃতির পাতা থেকে টুকরো টুকরো স্মৃতি গুলী মানুষকে জানিয়েছেন অবলীলা ক্রমে।বাঙ্গালী যেমন ভালবেসেছিলেন বাঁধন ছেড়া ভাবে বঙ্গবন্ধুকে,বঙ্গবন্ধু ও বাঙ্গালীকে ভালবেসেছিলেন অন্তরের সকল প্রেমকে উজাড় করে মুক্ত আকাশসম হৃদয়ের নিংড়ানো সকল ভালবাসার অকৃত্তিম আবেগ ঢেলে দিয়ে। ১৫ আগস্ট পৈশাচিক, নৃশংস এবং পৃথিবীর সবচাইতে কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডে জাতির জনক সপরিবারে, শেখ ফজলুল হক মণি স্বস্ত্রীক, শেখ নাসের ও আব্দুর রব সেরনিয়াবাত পরিবারের অনেক সদস্যসহ শহীদ হন। এটি পৃথিবীর একটি ব্যতিক্রমধর্মী পৈশাচিক ঘটনা। যুদ্ধ ব্যতিরেকে কোনো জাতির জীবনেই এরকম ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসেনি। ঘটনাটি এতই অনভিপ্রেত এবং এতই অকস্মাৎ ও অতর্কিতে ঘটে যায় যে, যে জাতি ২৫ মার্চের পৈশাচিক আক্রমণকে শুধু প্রতিরোধই নয়, প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল; ঘটনার আকস্মিকতায় সেই জাতি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। এবং অন্যদিকে এই ঘটনার বিপরীতে নেতৃত্বের কোনো অংশ থেকে প্রতিরোধ অথবা রুখে দাঁড়ানোর কোনো আহ্বান বিজয়ী জাতির জাগ্রত জনগণ শুনতে পায়নি। প্রসঙ্গের গভীরে আসার আগে আমি বিদগ্ধ চিত্তে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি কর্নেল জামিলকে- তাঁর দুর্জয় সাহসী ভূমিকার জন্য। যথাসময়ে জীবনের বিনিময়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা ও সামরিক শৃঙ্খলাবোধের। জামিলের মত আর দুই চার জন যদি সেদিন তাদের কর্তব্য নিষ্টার পরাকাষ্টা দেখাতে পারতেন তাহলে বাংলা দেশের ইতিহাস হয়তোবা আজ অন্যরকম হতে পারতো। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘাতকের নির্মম আঘাতে জীবন হারানোর ঘটনা বিরল নয়। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের নিষ্পত্তিকরণের মহানায়ক, ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব আব্রাহাম লিঙ্কন, আমেরিকার প্রথিতযশা রাষ্ট্রনায়ক জন এফ কেনেডি ও তাঁর ভাই আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডি, মানবতার অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং, কঙ্গোর প্যাট্রিস লুমুম্বা, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা করমচাঁদ গান্ধী, সত্তর দশকের পৃথিবীর সবচাইতে দূরদর্শী ও সফল রাষ্ট্রনায়ক ইন্দিরা গান্ধী, তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি রাজীব গান্ধীসহ পৃথিবীর রাজনীতির অনেক শ্রদ্ধাভাজন বিশিষ্টজন ও বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক এমনকি জাতির জনক ঘাতকের গুলিতে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও কখনো একই পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে নির্মূল-নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার এমন পৈশাচিক দৃষ্টান্ত আর নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যামামলা চলাকালে সাক্ষীদের জেরা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উঠে এসেছে- আক্রান্ত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন এবং সামরিক বেসামরিক ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন এবং আক্রমণটিকে প্রতিহত করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। একটা অসহ্য যন্ত্রণায় আমার বুকের পাঁজর টনটন করে ওঠে। মৃত্যুর আগে কি সামরিক, কি বেসামরিক, কি সাংগঠনিক- কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত শক্তিধর ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ার মর্মান্তিক বেদনা নিয়েই তাকে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিতে হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক শক্তি ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশের কারাগার তো দূরে থাক, কোনো ক্যান্টনমেন্টেও তাকে রাখতে সাহস পায়নি, এটা ভেবে যে, তাকে বাংলাদেশের চৌহদ্দির মধ্যে অবরুদ্ধ রাখা ছিল অসম্ভব। তাকে নাগালের মধ্যে পেয়েও পৈশাচিক সামরিক জান্তা খুব সুপরিকল্পিত চেতনার আবর্তেই জীবিত রেখেছিল এই কারণে, মুক্তিযুদ্ধে আমরা পরাজিত হলে তাকে হত্যা করবে, আর তারা পরাজিত হলে তাদের সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক অনুগতদের সঙ্গে জীবন বিনিময় করবে। গভীর বেদনাহত চিত্তে আমার এটা মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানের কারাগার থেকে অক্ষত অবস্থায় প্রত্যাগত হওয়ার পর তাঁর চিন্তাচেতনা ও মননশীলতায় এই বদ্ধমূল ধারণা সৃষ্টি হয় যে, তাঁর প্রাণের স্বদেশবাসীরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে তাঁর নিরাপত্তার বিধান করবে। বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলই তাঁর নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য দুর্গ। তাই অনেক অনুরোধ ও নানাভাবে তাকে সতর্ক করা সত্ত্বেও ৩২ নম্বরের বাড়ি ছেড়ে তিনি গণভবনের নিরাপত্তা ছাউনির মধ্যে অবস্থান করতে রাজি হতেন না। বিষয়টি নিয়ে তাকে সতর্ক করতে গেলে অনেক সময় প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত হয়ে তিনি বলতেন, তিনি নিরাপত্তার নামে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবরুদ্ধ জীবন কাটাতে চান না। ৩২ নম্বরের বাড়িটি এতটাই উন্মুক্ত ও অবারিত ছিল যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মী থেকে শুরু করে যে কোনো পর্যায়ের মানুষ এমনকি ঘাতকরাও সময়ে-অসময়ে তার কাছে অনায়াসে পৌঁছতে পারত। পালিয়ে যাওয়ার বহু রাস্তা খোলা থাকা সত্বেও,তিন ঘন্টার অধিক সময় পাওয়া সত্বেও বঙ্গ বন্ধু পালিয়ে না গিয়ে নির্ভয়ে ঘাতকদের সামনে চলে এসেছিলেন।তাঁর দৃডবিশ্বাস ছিল বাঙ্গালীরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঘাতকরা যদি আদৌ বুঝতে পারত, বঙ্গবন্ধু ৩২ নম্বর থেকে সরে গেছেন, তাহলে তারা পোশাক ছেড়ে উলঙ্গ হয়ে দিকশূন্য হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতো। আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি যদি পেছনের দরজা দিয়ে সরে যেতেন, তাহলেও ঘটনার চিত্রটি অন্যরকম হলেও হতে পারত। বঙ্গবন্ধু স্থির প্রত্যয়ে বিশ্বাস করতেন যে, বাঙালির ডান-বাম যে কোনো ধরনের অভ্যুত্থান এমনকি বিপ্লব হলেও তাকে হত্যা তো দূরে থাক, তাঁর নেতৃত্বকে অস্বীকার করার দুঃসাহস ও স্পর্ধা কেউ দেখাবে না। তাঁর এই চেতনাটির প্রতীতি ও প্রত্যয় মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং বাংলার মাটির প্রতি তাঁর অবারিত চিত্তের নিগুড় ভালবাসা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু ভারতবর্ষের ইতিহাসের একমাত্র সফল আন্দোলনের নির্মাতাই ছিলেন না, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি উপমহাদেশের সর্বকালে সব শহীদের ঋণ শোধ করেছেন। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন সেই মানুষ, যাঁর জীবন ও কর্ম সফল করেছে ক্ষুদিরাম-প্রীতিলতা-সূর্যসেন থেকে সালাম-বরকত-রফিক কিংবা ঊনসত্তরের শহীদ আসাদের আত্মদানকে। তিনিই তো একমাত্র নেতা যিনি একই সঙ্গে বাঙালির অতীত ও ভবিষ্যৎকে তাৎপর্যপূর্ণ করেছেন। তাই হীন-অসত্য-ইতিহাস বিকৃতিকারীদের মূর্খতা ও স্থ‚লতার জবাব দেয়াটাও অবান্তর হবে। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের মধ্য দিয়ে যে ইতিতহাস বিকৃতির যুগ অতিবাহিত হয়ে আসছে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককেই এই বিকৃতির চক্রব্যুহ ভেদ করতে হবে। বাঙালির ইতিহাসের ভেতর দিয়ে বাঙালি আপন কথা বলে। বাঙালির ইতিহাস বাঙালির অস্তিত্বের উচ্চারণ। আর বঙ্গবন্ধু সর্বকালের বাঙালির আপনতম কণ্ঠ। তাই পনেরই আগস্টের বঙ্গবন্ধু নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাঙালির কণ্ঠরোধ করারই শামিল। আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম রূপকার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ভেতর দিয়ে ভ্রান্ত-কপট এক বিষাক্ত জাতীয়তাবাদের দিকে বাঙালিকে চালিত করার পথ প্রশস্ত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদও বস্তুত কোনো আকস্মিক বিষয় নয়। কোনো সেনাছাউনিতে এর কলঙ্কিত জন্ম হয়নি। এর রয়েছে হাজার বছরের এক সেকুলার ইতিহাস। আমাদের মনে পড়বে বঙ্গবন্ধুকে যেদিন হত্যা করা হয় তার পরের দিন সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর থেকে প্রমাণ হয় যে, ধর্মনিরপেক্ষতা যে জাতীয়তার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল বিশ্বের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিসমূহ কোনো দিন তা সমর্থন করতে পারেনি। উল্লেখ্য, একাত্তরের ঘাতক গোলাম আযম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তখন পাকিস্তান ও সৌদি আরবে অবস্থান করছিল। আর তাদের দোসররা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্লোগান দিচ্ছিল ‘তোয়াব ভাই, তোয়াব ভাই, চাঁদ-তারা পতাকা চাই’। এরা বাঙালির পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতকে পরিবর্তনেরও দাবি তুলে। কিন্তু বাঙালি স্বভাবগত সেকুলার। হিন্দু মুসলমানদের মিলনের ভেতর দিয়েই এর পূর্ণতা। বহু ধর্ম-দর্শনকে এটি নিজের উদারতা দিয়ে আপন করে নিয়েছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে সেই সত্তা যাকে রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-সোহরাওয়ার্দীর মতো মহান ব্যক্তিবর্গ নিজের মতো করে আকার দিয়েছেন, আর সেই মৃত্তিকামূর্তির আকারে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে তাঁকে এই দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলার ইতিহাস হয়তো দীর্ঘকালের জন্য অশুভ অন্ধকারে থমকে থাকত। এইবছরই বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে জাগরুক হল বঙ্গবন্ধু মুলত সার্বজনীন ব্যাক্তিত্ব।কোন একক দল বা গোষ্টির সম্পদ নন।এই প্রথম বাঙ্গালীচিত্তে স্বরুপে,স্বমহিমায়,স্বগৌরবে জাতির জনক ফিরে আসতে শুরু করেছে।ইতিহাস কোন দিন কেউ বাঁকা করতে পারেনা,যদিও পারে তা নিতান্তই সাময়িক সময়ের জন্য।জাতির জনকের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে,তিনি তিন দশক পরেই ফিরে আসতে শুরু করেছেন।তবে এই আসার পথ ও যে মসৃন নয় তা ইতিমধ্যে প্রমানীত হয়ে গেছে।অনেক প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতাও অযথা বিতর্কের ঝড় তুলে সাময়িক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন।দক্ষতার সঙ্গেই জাতির জনকের কন্যা সামাল দিতে পেরেছেন বলেই আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুই প্রথম বাঙালি যিনি জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন এবং বাংলাকে জাতিসংঘের স্বীকৃত ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের মৈত্রী ও শান্তি চুক্তি, ফারাক্কার পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৪ হাজার কিউসেক পানির ব্যবস্থা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের বিরাট সাফল্য। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অমূল্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জুলি ও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তি আজো সব বাঙালির জন্য গর্বের এবং গৌরবের। ইতিহাস সত্যের পথে অবিরল, অবিচল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে খুনি মোশতাক, ফারুক, রশিদ, ডালিম ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ৩৪ বছর পরেও খুনিদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাঁর কর্মের মাঝে, সৃষ্টির মাঝে আমাদের হৃদয় মন্দিরে বেঁচে আছেন। দেশে-বিদেশে লাখ কোটি মানুষের অন্তরের মনিকোঠায় বেঁচে থাকবেন মহাকালের পথ বেয়ে অনন্তকাল।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg