মুক্তিযুদ্ধে আমার স্মৃতি===

'মুক্তি যুদ্ধের সময়ে আমি ছোট ছিলাম।ছোট বলতে ৬ষ্ট শ্রেনীতে  বাড়ীর পাশের উচ্চ বিদ্যালয়ে সবে ভর্তি হয়ে মাস খানেক ক্লাস করেছিলাম।সারা দেশ উত্তাল,আমাদের গ্রাম্য হাট বাজারেও সদা সর্বদা মিছিল মিটিং চলছেই।বাজারের পাশে বাড়ী বিধায় বা দেশের চলমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হোক, সর্বদাই মিছিলে যেতাম।আনন্দ উল্লাস হত,তবে কেন যেতাম তখন মনে হয় বুঝতাম না।
  মার্চের শেষ দিকে মুরুব্বীরা বলা বলি করছিল,ঢাকায় নাকি বহু মানুষ হত্যা করেছে পাঞ্জাবি সেন্যরা।গ্রামের অনেক মানুষ তখন ঢাকায় চাকুরী সুত্রে বা ব্যাবসা সুত্রে বসবাস করতেন।তাদের বাবা মা ভাই বোনেরা হায় হুতাশ,কান্নাকাটি করছিল।তখনকার সময়ে টেলিযোগাযোগ ছিলনা।যাতায়াত ব্যবস্থাও তেমন উন্নত ছিলনা।মরুব্বিরা সবাই জড়ো হয়ে বি,বি,সির খবর শুনতেন রেডিওতে।রেডিও খুব বেশি ছিল না।সারা বাজারে মাত্র দুইটা রেডিও,সেখানেই ভিড় ছিল সবাইর।গ্রামের মানুষ যারা কদাচিৎ বাজারে আসতেন,তাঁরাও ইদানিং বাজারে আসেন, উদ্দেশ্য খবর শুনা।কয়েকদিন পর আমাদের ঈদগাহ ময়দানে অনেক যুবক দেখি ট্রেনিং নিচ্ছেন।আমাদের গ্রামের এক লোক আর্মিতে চাকুরী করতেন,তাঁর নাম ছিল নুরুজ্জমান হাবিলদার।সে প্রত্যহ বিকেল বেলা এলাকার যুবক ভাইদের ট্রেনিং দিতেন।পরে অবশ্য ভদ্রলোক রাজাকারে ভর্তি হয়ে, পাঞ্জাবী সেনাদের সহযোগিতা করেছিলেন।যুদ্ধের পর যাদেরকে তিনি ট্রেনিং দিয়েছিলেন সেই মুক্তিযুদ্ধাদের হাতেই মৃত্যু ভরন করেছিলেন।আমাদের এলাকায় পাঞ্জাবীরা আসতে অনেক দেরী হয়েছিল।পাশেই ২কিলোমিটার ব্যবধানে ভারতীয় সীমান্ত থাকার কারনে লোকজন মনে হচ্ছিল কিছুটা স্বস্থিতেই ছিল।ঢাকা থেকে লোক জন পায়ে হেঁটে অনেকেই ইতিমধ্যে বাড়ী এসে পৌছে গেছেন।তাঁদের মুখে লোমহর্ষক কাহিনী শুনার জন্য এলাকার মানুষ ছুটে যেতে দেখলেই আমিও পিছনে পিছনে চলে যেতাম।বলা প্রয়োজন যে যদিও ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় ছিলাম,শারিরীক ভাবে খুব বেশী ভাল অবস্থায় ছিলাম না।ক্লাসের মধ্যে আমি এবং আমার এক বন্ধু সবার চেয়ে ছোট ছিলাম,অন্যরা সবাই আমাদের থেকে লম্বা এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকে অনেক ভাল অবস্থায় ছিল।আমার আব্বাজান ভারতে গিয়ে এলাকায় পাঞ্জাবি আসার আগেই একটি টিলার উপর ঘর বেঁধে রেখেছেন, আমরা জানতাম না।আমাদের বাড়ী থেকে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার দক্ষিনে চাঁদগাজীতে মুক্তিযুদ্ধারা নাকি বাঁধ দিয়েছে।অর্থাৎ ব্যারিকেট দিয়েছে,পাঞ্জাবিরা নাকি আমাদের এলাকায় আসতে পারবে না।আমাদের মুরুব্বিরাও এতে দেখা গেল উৎফুল্ল।যার ফলে আগে ভাগে ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।নিশ্চিন্তমনে সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত থেকে যুদ্ধের শেষ পরিনিতির কথাই ভাবছিল।গ্রামের বড়দের সাথে ইতিমধ্যে পাশের ভারতীয় বাজারে এবং তাঁর আসেপাশে কয়েকবার ভ্রমন হয়ে গেছে।পথঘাট সব জানাশুনা হয়ে গেছে।ইতিমধ্যে মহকুমা শহর ফেনী পয্যন্ত পাকিস্তানী বাহিনী চলে এসেছে।মুক্তি যুদ্ধারা বলতে তখন আর্মি, লুলিশ,ই,পি,আরের বাঙ্গালী যুদ্ধারা।তখন ছাত্র জনতা ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধের মাঠে আসেনি।পাকবাহিনী শুভপুর হয়ে আসার চেষ্টা অন্যদিকে ফেনী হয়ে উত্তরে আসার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।মুক্তিযুদ্ধাদের শক্ত অবস্থান চাঁদগাজী থেকে পশ্চিমের বর্ডার পয্যন্ত বিস্থিত।মরন পন লড়াই চালিয়েও মুক্তিযুদ্ধাদের পিছনে হঠাতে পারছেনা।আমরা দিনরাত শুধু আওয়াজ শুনছি বিভিন্ন অগ্নেয়াস্ত্রের।একদিন সকালে হঠাৎ করে রব উঠে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।কে আর কাকে চায়,কে কার দিকে তাকায়।যার যার মত করে যে যেইদিকে পেরেছে সেই দিকে পালায়নপর।।দক্ষিন দিক থেকে পাকি সেনারা মর্টারের সেল আর ব্রাস ফায়ার করে আগেকার ক্যাপ্টেন লিক রোড বর্তমানের( গুগুলের আবদুস সালাম সড়ক) হয়ে এগিয়ে আসছে।মুক্তিযুদ্ধারা প্রানপন বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেও পিছনের দিকে দাবমান।এমনতর অবস্থায় আমাদের পরিবার ভারতের পিলারের সাথে করা ঘরে আশ্রয় নিলাম।সেখানেও অবস্থা বেগতিক চিন্তা করে, আমার বাবা আমাদের ভাইদের চিন্তায় অস্থির।ভাগ্য গুনে কয়েক দিন পর এক হিন্দু ভদ্রলোক এসেছেন আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য।পরে জেনেছি পরিবারটি আমাদের পরিবারের সাথে আগে থেকেই খুব ভাল সম্পর্কিত ছিল।আমরা তাঁদের বাড়ীতে গেলাম।তাঁরা আমাদেরকে তাঁদের থাকার ঘরটি ছেড়ে দিল, তাঁরা গোয়াল ঘরে আশ্রয় নিল।আমাদের সাথে আমাদের গ্রামের আর ও এক পরিবারের ঠাঁই হল একই ঘরে।তাঁদের সেই দিনের আশ্রয়ের কথা কখন্ব ভুলার নয়।
  এদিকে পাকিস্থানীরা বিলোনিয়া পয্যন্ত দখল করে নিল।তাঁদের শাষনের মধ্যেও মাঝে মাঝে গোলাগুলি হচ্ছে,কিন্তু সংগঠিত কোন আক্রমন হচ্ছেনা।ইতিমধ্যে বেশ কিছুদিন কেটে গেছে।যে সমস্ত বাড়ীতে লোক জন নেই, পাঞ্জাবিরা ঐ সমস্ত বাড়ী জ্বালিয়ে দিবে এমন খবরে আমার আব্বা আমাকে নিয়ে বাড়ী চলে এসেছেন। আমার বড় চার ভাই এক বোন, ছোট এক বোন মা,চাচারা ভারতে রয়ে গেলেন।আমাদের বাড়ীর পাশেই বাজার আগেই বলেছি,বাজারের লশ্চিমে বড় একটা তহসিল পকুর আছে, একটা ডাক্তারখানা ছিল।সেখানেই পাঞ্জাবীরা ক্যাম্প করেছে।ক্যাম্প করেই রাজাকারে লোক ভর্তি করা শুরু করে।অনেকেই স্বইচ্ছায় রাজাকার হল,অনেককেই ধরে নিয়ে জোর পুর্বক রাজাকারে ভর্তি করা হল, বয়স্ক যারা ছিল,তাদের অনেকেই শান্তি কমিটির সদস্য হয়ে গেল।শান্তি কমিটিতে যারা ছিল, তাঁরা আগে থেকেই গ্রামের প্রভাব শালী মুসলিম লীগ পরিবার ছিল।রাজাকারে যুবকদের মধ্যে অনেকেই ভর্তি হয়ে গেছে।মুক্তি যুদ্ধারা ও ইতি মধ্যে তিন মাসের ট্রেনিং নিয়ে অনেকেই এসেছেন।মাঝে মাঝে আক্রমন পালটা আক্রমন শুরু হয়ে গেছে।এলাকার বেশিরভাগ যুবক গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে এসেছেন।তাঁরা রাস্তায় মাইণ বসানোর কাজ করে, মাঝে মধ্যে রাজাকারদের বাড়ীতে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।রাজাকার সৃষ্টি হওয়ার পর মুলত মানুষের উপর অত্যাচার লুটপাট,দর্শন ইত্যাদি বেড়ে যায়। একদিন এলাকার কিছু লোক নিয়ে পাঞ্জাবী সেনারা আমাদের বাড়ীতে আসে।আমার বাবা বাহিরে কোথায় ছিল জানিনা।আমি ঘুমে ছিলাম।আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়,উঠে দেখি ছয় সাত জন পাঞ্জাবী সাথে আমাদের এলাকার ৫/৬ জন মানুষ।এলাকার মানুষ দেখে আমি একটু সাহস পেলাম।ওরাযে রাজাকার আমি তা তখনও বুঝে উঠতে পারিনি।একান্ত পরিচিত ছিল সবাই,বাজারে যেতে আসতে আমাকে খুব আদর করতেন তাঁরা।তাঁদের মধ্যে একজন আমার বাবাকে মামা বলে ডাকতেন,তিনি আমাকে প্রথমে জিজ্ঞাসা করেন, আমার ভাইদের নাম ধরে ধরে তাঁরা কোথায় আছে,আমার বাবা কোথায়।জিজ্ঞাসাটা ধমকের সুরে ছিল বলে আমি একটু আশ্চায্য হলাম।চিন্তা করলাম উনিতো আমাদের আত্মীয়, উনি কেন আমাকে ধমকাবেন।কয়েকবার জিজ্ঞাসার পর আমি স্বিকার করিনি কোথায়,তখন আমি চিন্তায় আনতে পারিনি এরা মুলত পাঞ্জাবি সেনাদের লোক।উনি এলাকার মেম্ভার ছিলেন,নাম তাঁর রশিদ মেম্ভার।উনি কি যেন পাকসেনাদের সাথে কথা বললেন,এসেই আমাদের সব গুলা বসত ঘরে আগুন দেয়ার জন্য উদ্যত হলেন। আমি একান্তই ছোট,তারপর ও কিভাবে যেন বলে ফেললাম আমি আব্বা আসলে বলে দেব আপনি আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছেন।এই কথাটা বলার পরই সেই রশিদ মেম্ভার আমাকে সজোরে একটা চড় দিলেন।আমি ঘুরে পড়ে গেলাম।দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল।আমাদের একটা বিল্ডিং ঘর বাড়ীর মধ্যে বাদ বাকী তিনটা মাটির ঘর উপরে টিনের চাউনি ছিল,সব কয়টাতেই আগুন দিল।একটা ঘর ছিল মাটির ওয়াল উপরে টিন,সিলিং ছিল না,ঐ ঘরটাতে তিনবার আগুন দেয়ার পরও আগুন ধরেনি।মাঝখানে বেড়ার পার্টিশান ছিল ঐ পার্টিশানটি জ্বলে নিভে যায়।এখানে বলে রাখা দরকার আমাদের এলাকায় বন্যা,জলোস্বাস হয়না বিধায়  মাটির দেয়ালের ঘর অধিক প্রচলন ছিল।পরবর্তিতে আশেপাশে আমার চাচা জ্যাঠাদের সমুদয় ঘরেই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল।আমাদের সম্পুর্ন বাজারই পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।বাজারেও আমাদের ছয়টি দোকান ঘর ছিল,সব গুলি দোকান ঘরে আগুন দেয় রাজাকার এবং পাঞ্জাবীরা।আমার চাচাত ভাই জ্যাঠাতো ভাই সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও আমার ভাইদের মধ্যে একজনও যুদ্ধে যায়নি।যুদ্ধে না যাওয়ার কারনে নীজকে আমার খুব ছোট মনে হয়।আমার বড় ভাই আওয়ামী লীগ বিরুদি ছিলেন, তাই হয়তো কাউকে মুক্তি যুদ্ধে যেতে দেননি,কিন্তু এলাকার মধ্যে সম্পদ হানী সবচেয়ে বেশি হয়েছে আমাদেরই।বড়ভাই যুদ্ধে যাননি বটে, ভারতে পরিবারের সাথেই ছিলেন।যুদ্ধপরবর্তিতে আমার জ্ঞান হওয়া অবদি দেখি আওয়ামী রাজনীতির সাথেই সম্পৃত্ত।ফলত আমরা পরবর্তি সব ভাই আওয়ামী রাজনীতির সংগে জড়িয়ে যাই।
 আমার আব্বা যুদ্ধের পর প্রায় বিশ বছর বেঁচে ছিলেন,এই বিশ বছরই তিনি রশিদ মেম্ভারের ক্ষুঁজ রেখেছিলেন,আর সুযোগ খুঁজছিলেন রশিদ মেম্ভারকে যদি হাতের মুঠোয় পান, তবে জিজ্ঞাসা করবেন তাঁর আদরের ছোট ছেলের গাঁয়ে হাত দিল কেন?আমার আববা আমৃত্যু সেই সুযোগ পাননি।পরে অবশ্য ঐ রাজাকার মানবেতর জীবন যাপন করে খাগড়াচড়ির জঙ্গলে মৃত্যু বরন করেছেন।এক দিনের জন্য ও সে তাঁর জম্ম ভুমিতে আসেননি। আমি আজও ভুলতে পারিনি সেই চড়ের কথাটি।
  দেশ স্বাধীনের পর একদিন বাজার বার ছিল।আব্বা বাজার থেকে বড় সাইজের দুই কুড়ি কলা কিনে আমাকে দিলেন বাড়ীতে নেয়ার জন্য।আমি কলা গুলি দুই হাতে ভাগ করে নিয়ে আসছিলাম।পথিমধ্যে এক মুক্তিযুদ্ধা আমার হাত থেকে এককুড়ি কলা চিনিয়ে নিয়ে গেল।আমি কলা কেন নিয়ে যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করায় সেও আমাকে একটা চড় দিল,আমি আশ্চায্য হয়ে গেলাম এই ভেবে,রাজাকারের চড় আর মুক্তি যুদ্ধার চড় দুইটাই কি আমার মত অবুঝ বালকের জন্য বরাদ্ধ ছিল?আমি আজও ভুলতে পারিনা। তবে মুক্তি যুদ্ধার একটা কমেন্ট ছিল"তোদের আগের সেই দিন নাই"।
  মুক্তিযুদ্ধা ভাইটি বহুদিন বেঁচেছিলেন।৩/৪ বছর আগে মারা গেছেন।আমৃত্যু মানুষটি আমাকে ভালবেসেছেন,শ্রদ্ধা করেছেন,অনেক বয়স্ক হলেও সালাম কোনদিন আমি আগে দিতে পারিনি।হয়তো কথাটা তাঁর মনে ছিল,বিবেকের তাড়নায় এমন আচরনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল,অথবা আমি আওয়ামী লীগ করি তাই। মুক্তিযোদ্ধা ভাইটির পদস্থলন হয়েছিল,সে অন্য মুক্তিযুদ্ধাদের মতই বি,এন,পির রাজনীতির সাথে সম্পৃত্ত ছিল।আমি একটা বিষয় তাঁর সম্পর্কে আঁচ করতে পেরেছিলাম,সে যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিল,তাঁর সেই স্বপ্ন পূরন হয়নি।তাই শেষ পয্যন্ত আদর্শ চ্যুত হয়েছিল।আমাকে যে কমেন্ট করেছিলেন ঐ কমেন্টে তাঁর স্বপ্ন নিহিত রয়েছে।

৭১এ মুক্তিযুদ্ধের পর আটক রাজাকার আলবদর সদস্যরা, বঙ্গবন্ধুর সাধারন ক্ষমার আওতায়, জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগ সাবেক বসতি গ্রামে ফিরে না এসে,
ভিন্ন ভিন্ন জেলায় গিয়ে নতুন করে বসতি স্থাপন করতে দেখা গেছে।এমন অনেকে দেখা গেছে আত্মীয় স্বজনের মত্যু সংবাদ শুনার পরও, দেখার জন্য নীজ গ্রামে ফেরার চিন্তা করেননি।যদি কখনও কারো সাথে অকস্মাৎ কোথাও দেখা মেলে, বা কারনে অকারনে দেখা হয়ে যায়, তাহলে কেমন যেন চোখ লোকানোর একটা ভাব পরিলক্ষিত হয়।একান্ত পরিচয় দিয়ে আলাপ করতে গেলে,এলাকার বিশেষ কিছু মানুষের সংবাদ সংগ্রহে তাদের বেশি উৎসুক দেখা যায়।ঐ সমস্ত মানুষ গুলি এখন ও জীবিত আছেন, না মারা গেছেন তা জানতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
যে রাজাকার মুক্তিযুদ্ধে তার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের উপর নির্যাতন করেছে,বাড়ীঘর পুড়িয়েছে,গরু ছাগল,হাঁস মুরগি ধরে নিয়ে গেছে, তারা এখনও জীবিত আছে কিনা,সেটাই তারা এখন ও নিশ্চিত হতে চায়।এমনিতে কুখ্যাত রাজাকারদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে মারা গেছে বা অনেকে মত্যু পথযাত্রী। এলাকার জন্য তাদের মন কাঁদে এমনটি আমার কাছে মনে হয়নি।সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা দিব্যি সুখেই আছে বলে মনে হল।
গতবছর পাহাড় ঘেরা খাগড়াছড়ি বেড়াতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা আমার নীজের অর্জিত।একাধিক কুখ্যাত রাজা কারের সাথে আমার দেখা এবং কথা হয়েছে।অনেকের নাম জিজ্ঞাসা করে দেখলাম সবাই সবাইকে চেনে- জানে এবং তাদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ অত্যান্ত চমৎকার বলেই মনে হল। খবর নিয়ে যতটুকু জানলাম,বেশীর ভাগের সন্তানাদি বি,এন,পি রাজনীতির সাথে জড়িত। অনেকে আবার পাবলিক প্রতিনিধি হয়ে বেশ নামযশ ও কিনেছেন।
অতীতের ইতিহাস ছেলেমেয়েরা জানে
কিনা? এই প্রশ্নটি সরাসরি নাকরে,জানতে চাইলাম, আপনার ছেলেমেয়েরা আপনার আধিনিবাসের খবর জানতে চায় কিনা? এই রুপ প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বিচলিত হয়ে উত্তর হ্যাঁ সুচক দিয়ে বলে, ওদের নিয়ে এলাকায় বেড়াতে যাব যাব করেও যাওয়া হয়ে উঠে না।এতে বুঝতে অসুবিধা হয়না যে,এখন ও তারা তাদের '৭১এর কর্মের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মানষিক ভাবে দুবল অবস্থানে আছেন।রাজনীতির বিশ্বাস আগের অবস্থানেতো আছেনই বরং কঠোরতর হয়েছে বলেই মনে হলো।
আমি ঘুরেফিরে যতই জানার চেষ্টা করিনা কেন,তাদের কথা একটাই এইতো অল্প সময়ের মধ্যেই,ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে শেখ হাসিনা বিদেশ পাড়ি জমাবেন।কথাটা তারা বুঝে বলুক আর না বুঝে বলুক "বলাতেই তাদের আনন্দ আমার কাছে মনে হলো"। এইরুপ চিন্তার কারন জানতে চাইলে জাতির জনকের মৈত্রী চুক্তির কথাটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।সাথে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার কথাটা কে জোর দিয়ে বলার চেষ্টা করেন।এই অশিক্ষিত অধশিক্ষিত লোক গুলো সাজিয়ে কথা বলার মধ্যে,তারা যে দীঘদিনের মুজিব আদশের বিরুদ্ধে বিশেষ প্রশিক্ষন প্রাপ্ত, এটা বুঝতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।তাদের মারমুখি অবস্থানের কথা চিন্তা করলে মনে হবে,তারা এখনও যেকোন ত্যাগ স্বিকারে  প্রস্তুত।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কিছুদিন আগে একটি তাৎপয্যপুর্ণ কথাই বলেছেন।
'৯৬ইংসালে যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তি যুদ্ধের চেতনা কি,ইহাই ভুলে যেত বাংলাদেশের মানুষ।নতুন প্রজম্মের ছেলে মেয়েদের মুক্তিযুদ্ধ সম্মন্ধে জানা তো পরের কথা।
কথাটা যে কতটা প্রনিধানযোগ্য বতমান প্রেক্ষাপট চিন্তা করলেই বুঝা যায়। একবিংশ শতাব্দির বিজ্ঞানের চরম শিখরে দাড়িয়ে,আমরা বিজ্ঞ কিছু মানুষের মুখে শুনতে পাই, এই বুঝি ভারতের দাসত্ব বরন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চুক্তি মানে ভারতের দাশ ওই চুক্তি দেশ বিক্রি ইত্যাদি ইত্যাদি।বেগম খালেদা জিয়ার মত নেত্রীরা বা নেতারা যখন বলেন ট্রানজিট চুক্তি হলে বাংলাদেশ ভারতের দাসত্ব বরন করবে।"অশিক্ষিত হলেও তিনি একটা বড়্র রাজনৈতিক দলের নেত্রী। একাধিকবার বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার এবং রাস্ট্র পরিচালনা করার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।তার মুখে যদি
এমন একটা অর্বাচিনের মত কথা বের
হয় তাহলে সাধারন একটা মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ আছে বলে আমি মনে করি না।'১৯৬৫ইং সালের আগে,অর্থাৎ ভারত পাকিস্থান যুদ্ধের আগে পয্যন্ত সড়ক,রেল,নৌপথে ভারতের সাথে সংযোগ বিদ্যমান ছিল,তখন কি দেশ বিক্রি হয়ে যায়নি?নেপাল ভুটান ও সার্ক ভুক্ত অন্য দেশসমুহের সাথেও যদি এই কানেক্টিভিটি কায্যকর হয়, তাহলে একা ভারত কিভাবে বাংলাদেশ কিনে নিবে?অন্য সবাইকে ভাগ দেয়া ছাড়া?এই সড়কে বাংলাদেশের যে পন্য আমদানী রপ্তানী হবে তার কি হবে?বাংলাদেশ এত সস্তা কি ভাবে হল, যে কোন সময়ে ভারত কিনে পেলে বা সহজে আমরা বিক্রি হয়ে যাই?
বাংলাদেশ নামক এই ছোট্র ভুখন্ডটি
অজন করতে যে মুল্য আমাদের দিতে
হয়েছে তা বিশ্বের আর কোনদেশ কিনতে কি দিতে হয়েছে?পৃথিবীর একটি দেশকি খুজে পাওয়া যাবে,যেদেশ তাদের ভাষার জন্য রাজপথে তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে?পথিবীর একটা দেশকি খুঁজে পাওয়া যাবে,যে দেশ স্বাধীন করতে তাদের মা বোনের জীবনের মুল্যবান সম্পদ হারাতে হয়েছে?তারপরও স্বাধীনতার এত বছর পরও পুরাতন মদ নতুন মোড়কে  বিক্রির চেষ্টা কেন করা হয়?এই দেশটা কি তাঁরা উন্নত দেশে রুপান্তরীত হোক চায় না?

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg