বেগম জিয়ার দেশের সভায় যেমন হৈ চৈ,বিদেশের সভায় তেমনি ;পতনের লক্ষন স্পষ্ট।

 ব্যাক্তি, পরিবার,সমাজ,দল,রাষ্ট্র সব কিছুর বেলায় উত্থান পতন আছে থাকবে।এই সমস্ত সব কিছুওই সৃষ্টির অমোঘ বিধান।জর্মিলে মৃত্যু অনিবায্য।পৃথিবীর যাহা কিছু সৃষ্টি আছে সব কিছুর ধ্বংশ অনিবায্য।অল্প বয়সে মারা গেলে কোন লোক আপসোস একটু বেশী হয়,হওয়াটা স্বাভাবিক।কারন লোকটা কিছু দেখার আগে বা দেখার বয়স হওয়ার সাথে সাথে মারা গেল।পাড়া প্রতিবেশি মা বাবা সবাই ভুলতে পারেন না অনেক দিন পয্যন্ত।আবার কোন খারাপ মানুষ অর্থাৎ কোন সন্ত্রাসি যদি কম বয়সেও মারা যায়, সমাজের অধিকাংশ মানুষ খুশি হয়।অনেকে চিন্তা করেন সমাজের একটা বোঝা পার হল।সমাজ সেবক সে যে বয়সের হোক মারা গেলে, সমাজ তাঁর জন্য কাঁদে।
  ভারত বর্ষে অনেক রাজনৈতিক দলের জর্ম্ম হয়েছে।অনেক রাজনৈতিক দল বর্তমানে সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলে রুপান্তরীত হয়ে মমূর্ষ অবস্থায় নামে মাত্র টিকে আছে।সত্যিকারের জনকল্যানে যে সমস্ত দল কাজ করে তাঁদের মৃত্যু হয়ে হয়েও আবার জনগনের মাঝে ফিরে এসেছে।
   বি,এন,পির জর্ম্মের ইতিহাস বাংলাদেশের সব মানুষের কম বেশি জানা আছে।এই দলটি প্রথম থেকেই মিথ্যের উপর ভর করে দলের বিকাশ ঘটিয়েছিল।একশ্রেনীর সুবিধাবাদি নেতার মিলনস্থল ছিল দলটি।যারা মনে প্রানে বাংলাদেশের স্বাধিনতাকে মেনে নিতে পারেননি,স্বাধিনতা যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিরোধিতা করেছিলেন তাঁরাই এই দল গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন জোরালো ভাবেই।দল প্রতিষ্ঠা করার পর যতনা সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নয়নকাজ তঁার চেয়ে বেশি ছিল আওয়ামী লীগের এবং তাঁর প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনকের এবং তাঁর পরিবারের চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার।

  সদ্য ক্ষমতাচ্যুত দল বিদায় দিকবিদিক চিন্তা ভাবনা না করে সাধারন মানুষ ও বেশ ভাল ভাবেই তাঁদের বানোয়াট কাহিনী বিশ্বাস করেছিল।দলটির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় বাড়তি সুবিদা যা ছিল সবটাই কাজে লাগিয়ে দুদন্ড প্রতাপে বেশ কিছু বছর দেশ শাষন করার সুযোগ ও পেয়েছিল।অবশ্য দেশ শাষনের এই সুযোগ নিতে পারতোনা যদিনা পাকিস্তানের আদলে মার্শাল 'ল জারী করে জনগনকে খাঁচায় বন্ধি করার ব্যবস্থা প্রথম থেকেই না করতেন।
  উত্থান যেমনি পতন তেমনি।মিথ্যার বেসাতি যখন জনগন সম্যক ভাবে অবগত হওয়া শুরু করেছেন তখন থেকেই দলটির পতন শুরু হয়েছে বলা যায়।ব্যাক্তি বা পরিবারারের পতনের সময় যেমন কেউ কারো কথা শুনে না,ভাল কাজেও বাঁধা আসে বারংবার, তেমনি বি,এন,পির ও তদ্রুপ অবস্থা  বিরাজমান। পতনের সব লক্ষন ধীরে ধীরে পরিস্পুটিত হওয়া শুরু হয়েছে।
  গত ২৪তারিখে বৃটেনে ঈদ উৎযাপিত হয়েছে।সংগত ভাবে বি,এন,পির শীর্ষ নেতা বৃটেন অবস্থান করায় ইদের দিন বাঙালী কমিউনিটিতে দেখা সাক্ষাৎ করবেন।তাছাড়া ভবিষ্যত বি,এন,পির কর্নধার ও দীর্ঘ বছর বৃটেন পালিয়ে আছেন,মায়ের সাথে থেকে একটা জনসমাবেশে মিলিত হয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন এই আশা করাটা অন্যায় নয়।এমনিতে ভাইসচেয়ারম্যান সাহেবের উপর নিষেদাজ্ঞা আছে বৃটিশ সরকারের, ঐ দেশে তাঁর বক্তৃতা বিবৃতির উপর। তা কেন হল অবশ্য বাংলাদেশের মানুষ জানে না।যেই কারনেই হোক এতে বাংলা দেশের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হয়নি বরঞ্চ ক্ষতিগ্রস্তই হয়েছে ধারুন ভাবে। বিশ্বের বহু রাষ্ট্র নায়কের ছেলে মেয়েরা বৃটেন বাস করে,কেউ সেখানে লেখাপড়া করার জন্য কেউবা ব্যবসাপাতি করার জন্য।আমাদের দেশের সাবেক প্রধান মন্ত্রীর ছেলে প্রথমে চিকিৎসার জন্য গেলেও প্রায় ৬/৭বছরেও উনার চিকিৎসা শেষ হয়নি।একবার শুনা গিয়েছিল, তিনি আসবেন বীরের বেশে।জানিনা কোথায় যুদ্ধে জয় করে বীর হয়ে দেশে আসবেন বলছিলেন।ইদানিং শুনা যায় না সুন্দর শ্লোগানটি।যাক সেই সব কথা।যে কথাটি বলার জন্য এই নিবন্ধের অবতারনা সেই প্রসঙ্গেই আসি।
   শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠান হলেও এর গুরুত্ব নানাবিধ কারনে জনমনে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য লন্ডনের বার্কিং এর একটি হলে সমাবেশের আয়োজন করেছিলো। আয়োজনকারীরা ছিলেন বিএনপির বর্তমান কমিটি এবং তত্বাবধানে ছিলেন তারেক রহমান। এরকম ভাবেই লন্ডনের কমিউনিটিতে ধারণা বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিলো এবং দাওয়াত যখন দেয়া হয়েছিলো তখন বেছে বেছে দেয়া হয়েছিলো। এই দাওয়াতে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন ব্রিটেনের বিভিন্ন পেশায় কর্মরত- যারা মূলধারার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশা তথা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সলিসিটর, ব্যারিস্টার, কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী অনেকেই। ছিলেন বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বিএনপি দলীয় নেতা কর্মীরা।ছিলো নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি পেশাজীবী বেসরকারি সিকিউরিটির লোকজন।
এত কিছুর পর ও এমন একটি সভায় বিশৃংখলা হবে তাও কি ভাবা যায়।সব চেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে তারেক জিয়া বার বার চেষ্টা করেও নাকি উশৃংখল নেতাকর্মিদের নিবৃত্ত করতে পারেননি।খালেদা যখন থামতে বলছিলেন তখনও হাত্তালি পড়ছিল জোরসেই।এত বেশি উশৃংখল আচরন হচ্ছিল মঞ্চে উপ্র বেগম জিয়ার গায়ের উপর পড়ে যাচ্ছিল হুমড়ি খেয়ে।পত্রিকায় এভাবেই এসেছে ঘটনাটি--
দেশের এবং লন্ডনের এই দুই জল্পনা ও আশার মধ্যে গুড়েবালি ঢেলে দেয় বিএনপির দলীয় নেতা কর্মীদের উচ্ছৃংখল আচরণ- এমনকি দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান বার বার বলার পরেও বিএনপি নেতা কর্মীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছিলোনা। এমনি অবস্থায় দলীয় চেয়ারপার্সনকে ধাক্কা-ঠেলা এমনকি মঞ্চে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায়ও দলটির নেতা কর্মীদের মধ্যে সামান্যতম শৃঙ্খলা ও শালীনতার উদ্রেক না হওয়ায়- সভায় আগত অতিথি সকলেই বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যান। দলীয় নেতা কর্মীদের উচ্ছৃঙ্খল আর হৈ চৈ এমনকি সিকিউরিটি বেষ্টনি বেধ করে মঞ্চে উঠে হৈ হুল্লুড আর খেলার মাঠের মতো নোংরামি আচরন- হতবাক হয়ে বেগম জিয়া যখন বলেন, এখানে দেখছি দেশের মতো অবস্থা- তখনো দলটির নেতা কর্মীরা হাততালি দিতে থাকেন, যা দৃষ্ঠি কঠুই শুধু লাগেনি, বিবেক বোধ শক্তি হারিয়ে তারা ছবি তোলার জন্য হয়ে পরেন বেপরোয়া। এমনি অবস্থায় বেগম জিয়াকে বক্তৃতা বন্ধ করে দিতে হয়। হলে তখন চলছিলো হুড় মুড়িয়ে মঞ্চে উঠার উম্মত্ত প্রতিযোগিতা।
এখানে যারা ছিলেন, যারা উচ্ছৃঙ্খল আচরন করেছিলেন, হৈ চৈ করেছিলেন, নেত্রীকে ধাক্কা ধাক্কি দিয়েছিলেন- এরা সবাই বিএনপির নেতা কর্মী, অন্য কেউ নয়।এদের এই উচ্ছৃংখলতা নতুন নয় । তারেক রহমান যখন লন্ডনে প্রথম অনুষ্ঠান করেন পামট্রিতে- সেখানেও ছিলেন বিএনপির নেতা কর্মী। এর পরেও তারেক রহমান লন্ডনে আরো পাচটি অনুষ্ঠান করেছেন। মোট এই ছয়টি অনুষ্ঠান। প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে বিএনপি দলীয় নেতা কর্মীরা হৈ চৈ আর উচ্ছৃংখল আচরন করেছেন। একটি অনুষ্ঠানও তারেক রহমান তার টিম দিয়ে পরিপূর্ণ শৃংখলার সাথে করতে সক্ষম হননি। সর্বশেষ বেগম জিয়ার উপস্থিতিতে এমন ন্যাক্কারজনক ভাবে অনুষ্ঠান উপহার দিলেন- যখন প্রয়োজন ছিলো জনগনের নির্দেশনা পাওয়ার।
প্রশ্ন হলো- এরকম উচ্ছৃঙ্খল আচরন করার জন্য অনুষ্ঠান কেন ?
ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে যে সব ব্রিটেন প্রবাসী পেশাজীবী ছিলেন তারা কেউই এরকম ছবি তোলার জন্য কিংবা বেগম জিয়ার পাশে দাড়ানোর জন্য ক্যামেরার পোজ বা মঞ্চে উঠার জন্য ধাক্কা ধাক্কি হৈ চৈ করেননি।
 আমি এখানে বলতে চাই যে কথাটি বাংলা দেশের যেখানেই খালেদা জিয়া দলীয় সভা করতে গিয়েছেন সেখানেই এই রুপ ঘটনার অবতারন হয়েছে।বরাবরই পরের দিন বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে সরকারি দলের এজেন্ট ঢুকে পড়েছে দলের মধ্যে,তাঁরাই গন্ডগোল পাকিয়েছে।লন্ডনের সভায় মনের অজান্তে খালেদা স্বীকার করে বললেন "দেশে যে অবস্থা এখানে ও দেখছি সেই অবস্থা"।
তবে কি বি,এন,পি  এতদিন মিথ্যে বিবৃতি দিয়ে এসেছিল?যার যেভাবে উৎপত্তি তাঁর সেভাবেই বিনাশ ঘটে, বহুল প্রচারীত প্রবাদটি যে এমনিতে আমাদের পন্ডিত গন বলেন নাই তাই প্রমানিত হচ্ছে বি,এন,পির ক্ষেত্রে।
" পতনের সময় কেউ কারো কথা শুনে না।"
  আমরা লক্ষ করেছি ঐ সভায় একজন মন্ত্রী নাকি খালেদা জিয়াকে রিসিভ করবেন।একান্ত মিথ্যের বেসাতি।আন্দোলন চলাকালিন সময় ও বিদেশি এম,পি মন্ত্রীদের সাক্ষর জাল করে বিবৃতি প্রকাশ করে দলটি।পরবর্তিতে ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে কয়েক সদস্যকে বহিস্কার করে ভাবমুর্তি রক্ষার বৃথা চেষ্টা করেছিল দলটি।এখানেও সেই মিথ্যারই আশ্রয় নিয়ে বলা হল মন্ত্রী বেগম জিয়াকে বরন করবেন।কিন্তু কোন মন্ত্রীতো দুরের কথা, সেই দেশের বিরুদি দলের ও কোন এম,পি কে সেখানে উপস্থিত দেখা যায়নি।
  পতনের প্রাক্কালে উত্থানের মতই মিথ্যের চড়াচড়ি লক্ষনীয় ভাবেই ফুটে উঠেছে।তবে সবচেয়ে আপসোসের ব্যাপারটি হচ্ছে, অল্প বয়সে দলটি মারা যাচ্ছে।উত্থান পর্ব কেলেংকারীতে প্রিপুর্ন বিদায় তেমন আপসোস দেশে তো হচ্ছেই না,এখন দেখি বিদেশেও হচ্ছেনা।আর বড় আপসোস হচ্ছে বিকল্প শক্তির আত্মপ্রকাশের আগেই দলটির মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে না এই মৃত্যুতে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg