বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী॥১৯৭১ সালের ১৩ আগস্ট। আন্দরকিল্লা থেকে সিরাজউদ্দৌলা রোড ধরে আমার তখনকার বাসা চন্দনপুরার হাদি মনজিলে ফিরছিলাম। সকাল আনুমানিক ১১টা। সঙ্গে দুই বন্ধু মীরসরাই’র আনোয়ার কামাল আর সাতকানিয়ার রফিকুল ইসলাম। দিদার মার্কেটের সামনে আমরা। হঠাৎ একটা মিলিটারি জিপ এসে পেছনে ব্রেক কষে। ড্রাইভারের পাশে বসা ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ফকার ছেলে নির্দেশ দিল- ‘তুলি ল’। দেখলাম জীপ থেকে নামছে আমাদের ছাত্রলীগের কর্মী ইউসুফ এবং তিনজন অবাঙালি মিলিশিয়া।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইউসুফ আমাদের সঙ্গে ভারতের আগরতলা গিয়েছিল। সেখানে অবস্থানকালে ট্রেনিংও নিয়েছিল। কিন্তু আগরতলা থেকে দেশে ফিরে আসার পর তার বাবা মুসলিম লীগের কর্মী ও ফজলুল কাদের চৌধুরীর এক অন্ধভক্ত ইউসুফকে ধরে ফকার হাতে তুলে দিয়ে আসে। ফকা তার মুরিদের ছেলেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে নেয়। ই্উসুফের দায়িত্ব ছিল আমরা যারা আগরতলা থেকে এসে মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করছি তাদেরকে ফকা-সাকা বাহিনীর কাছে চিনিয়ে দেওয়া। সাকা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিপ নিয়ে সারা শহর এবং আশে পাশে ঘুরে বেড়াত। সঙ্গে থাকতো এই ইউসুফ এবং পাকিস্তানি মিলিটারিকে সাহায্যকারী বন্দুকধারী মিলিশিয়া।ইউসুফের এই রূপান্তর আগেই শুনেছি। তাই ফকার ছেলে আর তাকে জিপ নিয়ে থামতে দেখে পিলে চমকে গেল। বুঝে গেলাম টার্গেট আমি, কারণ আমার সঙ্গী দু’জন আগরতলা ফেরত না। পালানোর চেষ্টা করেও লাভ নেই। তাদের হাতে অস্ত্র। আমার দুই বন্ধু দৌড়ে পালাতে সফল হল। শুধু সফল নয়, ওইদিনই নাকি তারা গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। আর শহরে ফেরেনি। এমনকি আমাকে তুলে নেওয়ার খবরটাও আমার বাসায় দিয়ে যায়নি। তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে দেশ স্বাধীনের পর।ইউসুফ বললো, ‘উঠেন আমাদের সঙ্গে।’ কোনও প্রতিবাদের সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তারাই অনুধাবন করতে পারবে এমন পরিস্থিতির ভয়াবহতা। শুনেছি যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা এমপি মশিউর রহমানকে পায়ে দড়ি দিয়ে জিপের পেছনে বেঁধে টেনে টেনে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসররা। মিলিশিয়ারা আমাকে নিয়ে জিপের পেছনের সিটে বসলো। অল্প দূরে ছিল ফকা-সাকাদের গুডস হিলের বাসা। তারা একটানে সেখানে নিয়ে আসলো।আমি কোনদিন এর আগে এই পাহাড়ে উঠিনি। উত্তরমুখি একতলা একটি বাড়ি। পশ্চিমপাশে দুটি গাড়ির গ্যারেজ। গ্যারেজের সামনে মাটিতে বসিয়ে রাখলো আমাকে। ইউসুফ, সাকা আমাকে রেখে কোথায় চলে গেছে জানি না। পুরো পাহাড়ে প্রায় ৪০-৫০ জন মিলিশিয়া। কালো ড্রেস, হাতে অস্ত্র। সবাই অবাঙালি। কিছু রাজাকারও আছে। এলাকায় বিল্ডিংটির সামনে ছোট্ট একটি গোল চত্ত্বর। এর মাঝখানে পতাকা উড়ানোর স্ট্যান্ড। এই গোল চত্ত্বরেই একটা যুবকের লাশ পড়ে আছে। চিনি না। কিন্তু লাশ দেখে ভয়ে মৃত্যুর প্রহর গোনা শুরু হল আমার। গ্যারেজ দুটির দরজা বন্ধ। কিন্তু বুঝা যাচ্ছে ভেতরে লোকে ভর্তি। গ্যারেজের ভেতর থেকে কণ্ঠ শুনলাম একটা- ‘বখতিয়ারকেও আনছে।’ গলার স্বর শুনে বুঝিনি সে কে তবে সন্দেহ নেই আমার পরিচিত লোকেরাও আছে। শুনেছি ড. সানাউল্লাহ ব্যরিস্টারের ছেলে সেলিমসহ (বর্তমান পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মামা) অনেককে তুলে এনেছে। মনে মনে চিন্তা করছি তারাই হবে। সেলিমের মামা অবসরপ্রাপ্ত সাব জজ আবুল কাশেম এরমধ্যেই সেলিমকে উদ্ধার করার জন্য ফকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। সেলিমকে কখনো আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ করতে দেখিনি। তার বাবা ড. সানাউল্লাহ রাজনীতি করতেন। নিখিল ভারত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৪৬ এর সাধারণ নির্বাচনে ড. সানাউল্লাহ হাটহাজারি-ফটিকছড়ি-রাউজান নির্বাচনি কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে বেঙ্গল পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্ভবত একই নির্বাচনি কেন্দ্রের লোক হওয়ায় ড. সানাউল্লাহর সঙ্গে ফকার সম্পর্ক কখনও ভালো ছিল না। অবশ্য স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ড. সানাউল্লাহ জীবিত ছিলেন না। সেলিমকে হয়তো এনেছিল তার বাবার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। সেলিম মানবতাবিরোধী ট্রাইবুনালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিয়েছে।গ্যারেজের সামনে মাটির ওপর বসে রইলাম দীর্ঘক্ষণ। চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে অত্যাচার আর হত্যার দুটো কেন্দ্র ছিল। জামায়াত এবং ইসলামি ছাত্রসংঘের আলবদর বাহিনী ধরে নিয়ে যেত ওল্ড টেলিগ্রাফ রোডের ডালিম হোটেলে। সেখানে মীর কাশেমের নেতৃত্বে আল-বদর বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন করতো। আর ফকা-সাকা ও মিলিশিয়ারের ‘কনসেনট্রেইশন ক্যাম্প’ ছিল তাদের বাড়ি এই গুডস হিল। এ যাবত পরিচিত যারা পাক বাহিনী এবং তার দোসরদের হাতে মারা গেছে তাদের কথা মনে পড়ছিল। মনে পড়ে ক’দিন আগে আমার ফুফাতো ভাই আলিমউল্লাহ চৌধুরী ফটিকছড়ির হলদিয়া পাহাড়ে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মারা যান। পটিয়ায় রাজাকার আর পাকবাহিনী হত্যা করেছে আমাদের ছাত্রলীগের বিশিষ্ট নেতা মুরিদুল আলমকে। জুবলি রোডে তারা হত্যা করেছে আমার বন্ধু ছাত্রলীগ নেতা মাহাবুবুল আলমকে। রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর বড় ছেলে এবং আমাদের বন্ধু সাইফ উদ্দিন খালেদ চৌধুরীকে। শুনেছি রাউজানে আত্মগোপন অবস্থা থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম শহরে আসার পথে আমার বন্ধু জাহাঙ্গীর ও তার বাবা ছালারেজেলা মোজাফ্ফর আহমেদকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাহিনী পথ থেকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলেছে।মোজাফ্ফর আহমেদ সাহেব ঐতিহাসিক ‘বাংলার পতন’ নাটকের রচয়িতা। তিনি পাকিস্তান গণপরিষদে আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য ছিলেন এবং চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মনে হচ্ছিল গোল চত্ত্বরে পড়ে থাকা যুবকের মতো আমার লাশও কিছুক্ষণ পর সেখানে পড়ে থাকবে। ভাবছি আমার নেতা সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুর আহমেদ চৌধুরী যে দায়িত্ব দিয়ে আমাকে আগরতলা থেকে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছেন সে দায়িত্ব আমার অবর্তমানে পালন করবে কে!জুনের শেষের দিকে জহুর আহমেদ চৌধুরীর নির্দেশে আগরতলা থেকে চট্টগ্রামে ফেরত এসেছিলাম। সঙ্গে উনার তিনটি চিঠি। চিঠিতে শুধু লেখা ছিল ‘The bearer is my man, Please give him patience hearing’ – Zahur. দেশে এসে তিনটি চিঠি প্রাপকদের হাতে তুলে দেই। আমাকে যা যা বলতে বলেছেন সেটাই তাদেরকে বলেছি। তাদের একজন আশকার দীঘির পাড়ের ডা. সিরাজ, অপর দুইজন ওয়াপদার বিদ্যুত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে কে আলতাফ হোসেন এবং অপর নির্বাহী প্রকৌশলী শামুসুদ্দীন আহমেদ। পুরো মুক্তিযুদ্ধে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। জহুর চৌধুরীর নির্দেশ অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদের অকাতরে সহযোগিতা করেছেন।বাংলাদেশ হওয়ার বহুদিন পর আলতাফ হোসেন ডেসার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। শামসুদ্দিন সাহেব এক সময় চাকরি ছেড়ে ঠিকাদারী করতেন। আর ডা. সিরাজ ১৯৯৯ সালে মারা গেছেন।তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পর দেখলাম বাসার বারান্দায় পাতানো ইজি চেয়ারে এসে বসলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী। তার পাশে দেওয়ালে ঠেকানো একটা রাইফেল। আমার ডাক পড়লো। রাজাকার কমান্ডার রফিক যাওয়ার আগে বলে দিল- চৌধুরী সাহেবের সামনে করজোড়ে দাঁড়াতে। আমি হুকুম পালন করলাম। ফকা তার ঐতিহাসিক বিদ্রুপাত্মক স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, তোর নাম কী? আমি বললাম- বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী। বরাতে দুঃখ ছিল। মুহূর্ত অপেক্ষা করলো না। পাশের রাইফেলটা হাতে নিয়ে বাট দিয়ে আঘাত করলো আমার বাম চোয়ালে। মারার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রুপ করলো- ‘গোলামের পুত চৌধুরী হইলি কবে?’ ‘চৌধুরী’ টাইটেলটা যে ফকার রেজিস্ট্রি করা কে জানতো! কয়েকটা দাঁত ভেঙে গেল। রক্ত পড়া শুরু হল। ফকা আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার জন্য মিলিশিয়াদের হুকুম দিয়ে চলে গেলেন।মিলিশিয়াদের একের পর এক আঘাতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর কিছুই আর মনে নেই। চেতনা যখন ফেরত আসে তখন দেখি রাত। আমি পাহাড়ের নিচে। পিপড়ার কামড়ে শরীর ফুলে গেছে। রক্তাক্ত দেহ। রাজাকার রফিক আমার নাকের ওপর একটা লেবু ধরে আছে। আমি মারা গেছি মনে করে মিলিশিয়ারা নাকি আমাকে গ্যারেজের পেছনের দিকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে ফেলে দিয়েছিল। রফিক আমাকে আস্তে আস্তে বললো, রাত আরও গভীর হলে সে কাঁটাতারের বেড়া ফাঁক করে দিবে। আমি তখন আস্তে আস্তে জামাল খান রোডের দিকে চলে যেতে পারবো।কিছুক্ষণ পর আওয়াজ শুনলাম। আমার এক খালাতো ভাই এক মিলিটারি অফিসার নিয়ে আমাকে খোঁজাখুঁজি করছে। রফিক তাদেরকে নাকি আমার অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছিল। আমাকে যেখান থেকে জিপে তুলেছিল সেই দিদার মার্কেটের দিদার চৌধুরীর বড় ছেলে (নামটা এই মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছি না দুঃখিত) আমাকে চেনে এবং সাকা বাহিনী আমাকে তুলে নেওয়ার খবর সে-ই আমার মাকে বাসায় বলে এসেছে। আমার খালাতো ভাই আমাকে গাড়িতে তুলে নেন। তিনি এবং মিলিটারির সেই কর্নেল দু’জনই গাড়িতে করে আমাকে আমার খালাতো ভাইয়ের বাসায় নিয়ে আসেন।ইউসুফ স্বাধীনতার আগেই পাকিস্তান পালিয়ে গিয়েছে। আজও আসেনি। তার বিরুদ্ধে বহু খুনের অভিযোগ আছে। আমি ১৬ ডিসেম্বর গুডস হিলে গিয়েছিলাম মনের ক্ষোভ মেটাতে। গিয়ে দেখি আমার আগেই মুক্তিযোদ্ধারা তছনছ করে দিয়েছে তার বাসভবন। ওরা তাকে পেলে টুকরা টুকরা করে ফেলতো। এরপর ফকা ট্রলারে করে বার্মা পালানোর সময় ধরা পড়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে পেটানোর সময় ভারতীয় বাহিনী তাকে উদ্ধার করে। সাকা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার আগে আগে। ১৯৭৫ সালের পর দেশে ফিরে আসে। তার ভাইয়েরা অবশ্য দেশে আত্মগোপনে ছিল। তার ছোট ভাই জামাল ছাড়া অপর দুই ভাই সাইফুদ্দিন এবং গিয়াসউদ্দিন তার সঙ্গে অপকর্মে জড়িত ছিল। সাইফুদ্দিন দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে সম্প্রতি মারা গেছে। গিয়াসউদ্দিনেরও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার হওয়া উচিত।আল্লাহ হাকেমুল হাকেমিন। তিনি ফজলুল কাদের চৌধুরীর মতো দাম্ভিক, খুনি, কুলাঙ্গারের বিচার করেছেন বাংলার মাটিতে। জেলখানায় তার মৃত্যু হয়েছে। মুত্যুর পর ফকাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেই অভিশপ্ত মুখটা বিভৎস রূপ ধারণ করেছিল। সাকার মতো খুনি, কুলাঙ্গার, জালেম এখন জেলে। তার মৃত্যুদণ্ড দেখার অপেক্ষায় আছি।লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, চট্টগ্রাম

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg