যারা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ ======== বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় উত্তাল আবহাওয়া বিশ্বের অনেক মানুষকে শুধু প্রভাবিত করেনি, দারুণভাবে তাদের মনকে আন্দোলিত করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থী, মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষের দুর্দশা, পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনীর অমানবিক, নিষ্ঠুর আচরণ বিশ্বের সংবাদপত্রে ও টেলিভিশনে যেভাবে স্থান করে নিয়েছিল, সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা এমন প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়নি। বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুর্দশা দেখার পর ইউরোপের সাধারণ এক তরুণের তাদের সাহায্যার্থে বিমান ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ঘটনাও অসাধারণ তাৎপর্যের অধিকারী। আমেরিকায় বাংলাদেশের বন্ধুরা আমেরিকার নীতির বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদের জন্য এমআইটির খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক নোয়াম চমস্কিকে দিয়ে অনশনের দিক চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত তার বিপদের কথা স্মরণ করে আর সামনে অগ্রসর হননি। বিবেকসম্পন্ন সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় ছাড়াও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সঙ্গীতশিল্পীরাও অগ্রসর হয়েছিলেন। তাদের অবদানও কম উল্লেখযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে তিনজন বিখ্যাত শিল্পীর নামোল্লেখ করা যায়। এরা হলেন আমেরিকার সবচেয়ে খ্যাতিমান নারী ফোকশিল্পী জোন বায়াজ, ইংল্যান্ডের বিটলসদের অন্যতম জর্জ হ্যারিসন ও প্রথিতযশা সরোদবাদক ওস্তাদ আলী আকবর খান। এ তিনজনই প্রত্যক্ষভাবে গান ও কনসার্টের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাহায্যের জন্য অগ্রসর হয়েছিলেন এবং অ্যালবাম বের করেছিলেন। জোন বায়াজ ছিলেন আমেরিকান প্রতিবাদী শিল্পী। মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি ছিলেন প্রথম সারির সঙ্গীতশিল্পী। আমেরিকায় বব ডিলানও তার গানে সমাজের অন্যায়ের দিকটি প্রকাশে ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ফোকশিল্পী। একসময় জোন বায়াজ ঘোষণা দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি যে, তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধ সমর্থন করেন না এবং তিনি কোনো আয়কর দেবেন না ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য। জোন বায়াজ ছিলেন আকর্ষণীয় মুখাবয়বের অধিকারী, মাথার কালো চুল তার মুখের দীপ্তি আরো বাড়িয়ে দিত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগেই প্রকাশিত হয়েছিল তার অটোবায়োগ্রাফি। তার গায়কী ভঙ্গির অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ছিল, যা অন্য কোনো আমেরিকান শিল্পীর মধ্যে দেখা যায়নি। তিনি গান গাওয়ার সময় উচ্চনাদে এমনভাবে পৌঁছাতেন যা গানের শব্দের ব্যঞ্জনা অনেকাংশ বাড়িয়ে দিত। তার যেসব অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল তার মধ্যে প্রথম দিকের 'জোন' শিরোনামে অ্যালবামটি শ্রোতানন্দিত হয়। এ অ্যালবামে 'বি নট টু হার্ড, লাইফ ইজ শর্ট' এবং পরবর্তীকালে 'ফেয়ারওয়েল অ্যাঞ্জেলিনা'-এ গান দুটি একসময় অনেকের মুখে মুখে শোনা যেত। পরে তিনি বব ডিলানের গানে দুটো অ্যালবাম একসঙ্গে বের করেন। এরপরই প্রকাশিত হয় সম্ভবত তার শেষ অ্যালবাম, যেখানে বাংলাদেশের গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়। তার সব অ্যালবামই প্রকাশ করত ভ্যানগার্ড রেকর্ড কোম্পানি। পরে ভ্যানগার্ড তাকে ফোকসং ও রক-এর মিশ্রণ দিতে বললে তিনি তাদের প্রস্তাবে অসম্মত হয়ে সেখান থেকে রেকর্ড প্রকাশ বন্ধ করে দেন। জোন বায়াজের বাংলাদেশ সম্পর্কিত গানের নেপথ্য একটা ইতিহাস আছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রতিবাদী শিল্পী দারুণভাবে আলোড়িত হন। প্রথম পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের শরণার্থীদের অর্থ সাহায্যের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যানফোর্ড ও বার্কলে ক্যাম্পাসে গান গাইতে শুরু করেন। এরপর নিজেই বাংলাদেশের ওপর গান রচনা করে প্রথমে ৪৫ আরপিএম রেকর্ড প্রকাশ করেন। এ অ্যালবাম বাজারজাত হওয়ার পর আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন রেডিও স্টেশন দিনে অসংখ্যবার বাজাতে থাকে। গানটি প্রচারের পর সাধারণ শ্রোতার ওপর একটা প্রভাব বিস্তার করে। পরে জোন বায়াজের বড় অ্যালবাম বের হলে গানটি এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই নতুন অ্যালবামের বৈশিষ্ট্য হলো মানবতাবাদী আমেরিকান শিশু চিকিৎসক ডা. স্পোকের মিছিলের ছবি। অ্যালবামটির নাম ছিল 'কাম ফ্রম দি শ্যাডোজ'। জোন বায়াজের গানে তৎকালীন ইকবাল হলে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ঘুমন্ত ছাত্রদের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের গুলিবর্ষণ, বাঙালি শরণার্থীদের দুর্দশা ও অন্যান্য ঘটনা উপস্থাপন করা হয়। ১৯৭১ সালে স্বরচিত গানের কথায় তিনি নিজেই সুরারোপ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় প্রথম লিখিত ও প্রচারিত জোন বায়াজের এ গানের মূল্য অপরিসীম, যা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাণী পেঁৗছিয়ে দিয়েছিল_ একটি দেশের মুক্তির জন্য মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। জোন বায়াজের পর বাংলাদেশ কনসার্টের জন্য যার নাম ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত তিনি সাবেক বিটলস দলের জর্জ হ্যারিসন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন অন্য এক বিটলস সদস্য রিঙ্গো স্টার। বিটলস দল অনেক আগেই ভেঙে গিয়েছিল, দলের প্রধান জন লেলন তখন মৃত আর অন্যজনের সঙ্গে হ্যারিসনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু এ কনসার্টে জর্জ হ্যারিসন প্রধান হলেও এর নেপথ্যে ছিলেন খ্যাতিমান সেতারবাদক রবিশঙ্কর। বাংলাদেশের শরণার্থী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম ও জনসাধারণের দুর্দশা তাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছিল বাঙালি ও তার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সঙ্গে সংশ্রবের কারণে। প-িত রবিশঙ্কর ইংল্যান্ডে প্রথম পরিচিত হন বিখ্যাত ভায়োলিন বাদক য়েহুদি মেনুহিনের সঙ্গে। পরে তিনিই তাকে বিটলসদের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একা রবিশঙ্করের পক্ষে কনসার্ট করা সম্ভব নয় বলে তিনি জর্জ হ্যারিসন ও রিঙ্গো স্টারের সহযোগিতা কামনা করেন। হ্যারিসনরা তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে কনসার্টের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেন। কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্টে। কনসার্টের নাম দেয়া হয় 'দি কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'। এ কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন রবিশঙ্কর, আলী আকবর খান, আল্লারাখা খান, কমলা চক্রবর্তী, জর্জ হ্যারিসন, রিঙ্গো স্টার, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল ও বব ডিলান। এখানে উল্লেখ্য যে, আমেরিকার খ্যাতিমান ফোকসঙ্গীত শিল্পী ও গীতিকার কবি বব ডিলান কোনো সময় অন্যের কনসার্টে অংশগ্রহণ করতেন না, শুধু বাংলাদেশের কনসার্টেই অংশগ্রহণ করেছিলেন। কনসার্টের পর প্রকাশিত সুভেনিরে বাংলাদেশ সম্পর্কে সংক্ষেপে মন্তব্য করেন ড. আলেকজান্ডার লিপসকি ও সুজেনা মার্টিন এবং রবিশঙ্কর। রবিশঙ্কর মূল অনুষ্ঠানে সেতার ও সরোদ বাদ্যযন্ত্র বাজানোর আগেও সংক্ষেপে কনসার্ট অনুষ্ঠানের মূল কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, রবিশঙ্কর ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মেয়েকে বিয়ে করেন। বাংলাদেশ কনসার্টে রবিশঙ্কর সেতার, আলী আকবর খান সরোদ, আল্লারাখা তবলা ও কমলা চক্রবর্তী তাম্বুরা বাজান। জর্জ হ্যারিসন তার বিখ্যাত গান ওয়া-ওয়া, মাই সুইট লর্ড, হিয়ার কামস দি সান, সামথিং ও নতুন গান বাংলাদেশ পরিবেশন করেন। বব ডিলানও তার বহুল পরিচিত হিট গান মিস্টার তাম্বুরিন ম্যান, বেস্নাইং ইন দ্য উইন্ড, জাস্ট লাইক এ ওম্যান ও অন্যান্য গান গেয়ে শোনান। এ কনসার্টের বৈশিষ্ট্য হলো এখানে স্টেরিও সিস্টেমে একদিকের স্পিকারে রবিশঙ্করের সেতার ও অন্য স্পিকারে আলী আকবর খানের সরোদ এবং একসঙ্গে দুটো স্পিকারে তবলা ও সরোদ শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়। কনসার্ট রেকর্ডিং করার সময় ব্যবহৃত হয় ৪৪টি মাইক্রোফোন। কনসার্ট অনুষ্ঠান পরবর্তী পর্যায়ে চলচ্চিত্রের আকারে বিভিন্ন সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশ কনসার্টের তিনটি অ্যালবাম বিশেষ মোড়কে ক্রেতাদের কোনো কমিশন না দিয়েই মূল্য ধার্য করা হয় ১০ ডলার। চলচ্চিত্র ও তিনটি অ্যালবাম ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে কনসার্টের টেপ বাজারজাত করা হয়। কনসার্ট থেকে প্রাপ্য ডলার বাংলাদেশের রিফিউজি সন্তানদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য ভারতে পাঠানো হয়। ডলারের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ ও ৫০ সেন্ট। এ কনসার্টে কোনো শিল্পী দক্ষিণা গ্রহণ করেননি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি হিসেবে ওস্তাদ আলী আকবর খানও নিশ্চুপ থাকতে পারেননি। তিনি বাংলাদেশ কনসার্টে অংশগ্রহণ ছাড়াও এককভাবে সরোদের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। অ্যালবামের নাম দিয়েছিলেন 'বাংলাদেশ'। তিনি বাংলাদেশ ধুনের সঙ্গে পুরনো আরো কটি ধুন নিয়ে এ অ্যালবাম বের করেছিলেন। তবে যন্ত্রসঙ্গীতের অ্যালবাম বলে এটা তেমন প্রচার সৌভাগ্য লাভ করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শিল্পীরাও যে বিরাট অবদান রাখেন তার মূল্য ছিল অসীম। এ কারণে এ দেশের মানুষের কাছে জর্জ হ্যারিসন, রবিশঙ্কর, আলী আকবর খান ও জোন বায়াজ স্মৃতির মণিকোঠায় চিরদিন ভাস্বর হয়ে থাকবেন।( সংগৃহিত)

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg