জাতির জনক ও দেশরত্মকে বাংলাদেশের গন্ডিতে আটকানো যাবে না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ৭৫ইং আমৃত্যু পয্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতারা স্রেফ জাতির জনক হিসেবে জানতো।কিন্তু তিনি কত বড় মাপের দার্শনিক,চিন্তাবীদ,রাষ্ট্র নায়ক,সমাজ সংস্কারক,ধর্ম সংস্কারক ছিলেন তা গুনাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি।যদি পারতেন তাহলে পালাকরে নেতাকর্মিরা বঙ্গবন্ধুকে পাহারা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতেন।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নায়কগন,দার্শনিক,চিন্তাবীদগন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে গভেষনা করা শুরু করেছেন,প্রত্যহ নতুন নতুন দিক উম্মোচিত করা শুরু করেন তখনি বোধদয় হয়,মুলত:দেশ কি হারিয়েছে,কাকে হারিয়েছে।দলের জন্য জাতির জনকের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল।যখন জ্ঞানে এসেছে তখন বিবেক শুন্য হয়ে,ক্ষমতায় যাওয়ার বাহন হিসেবে জাতির জনককেই দলীয় গন্ডিতে আবদ্ধ করে পেলেছেন।একটা বিষয় শুধু চিন্তা করলে আমাদের বাঙ্গালী জাতির ভুল অনেকটাই কমে যেত।ভারতীয় উপমহাহাদেশে এবং কি পাকিস্তানেও বহু ভাষাবাসির জনগোষ্টি বিদ্যমান।৪৭/৪৮ইং থেকেই প্রায় জাতি গোষ্টি স্বাতন্ত্রতার জন্য লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।অদ্যাবদি কোন জাতি গোষ্টি কি সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে পেরেছে?বাঙ্গালী জাতির মধ্যে এত বিবেদ থাকার পরও কোন যাদুর স্পর্ষে আজ থেকে ৪৫বছর আগে স্বাতন্ত্রতা শুধু নয়,স্বাধীনতাই পেয়ে গেছে?আওয়ামী লীগ যাকে শুধু বাংলাদেশের জাতির জনক,বাংলাদেশের রাষ্ট্র নায়ক ভেবেছে,বিশ্বের নির্যাতিত নীপিড়িত মুক্তিকামী জনগন তাঁকেই মুক্তির দিশারী,সংগ্রামের প্রেরনা হিসেবে স্বরন করে।বাঙালী ইচ্ছে করলেও বাংলাদেশের গন্ডিতে বঙ্গবন্ধুকে ধরে রাখতে পারবে না।যেমন পারেনি চিলির আলেন্দেকে,ভারতের মহত্মা গান্ধীকে,নেলসন ম্যান্ডেলাকে।
  তদ্রুপ দেশরত্ম শেখ হাসিনাকে শুধু আওয়ামী লীগের নেত্রী বা বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী চিন্তা করেন যারা--তাঁরা বোকার স্ব্রর্গে বাস করেন।শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী যদি হতেন মাত্র ৬/৭বছরের মধ্যে কোন যাদুর বলে ভিক্ষুক জাতীকে মধ্যম আয়ের জাতিতে রুপান্তরীত করলেন।এত লুটপাট,এত অব্যবস্থাপনা,এত সহিংসতা,এত অবরোধ উপেক্ষা করে, কি করে দেশকে এত দূর নিয়ে গেলেন।বিনা ভোটে বা নামমাত্র ভোটে জীতে দেশে বিদেশে সমর্থনতো ধরে রেখেছেনই বরঞ্চ অনেক ক্ষেত্রে কয়েক গুন বাড়িয়ে নিয়েছেন।এটা আমার কথা নয়, জরীপের কথা।

""আরআইআর-এর জরিপের ফল এবং চলমান রাজনীতি।
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫,ভোরের কাগজ সহ দেশী বিদেশী প্রায় পত্রিকা""

"মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র বিষয়ের জরিপ প্রতিবেদন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে গত শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর। ২০ মে থেকে ১০ জুনের মধ্যে ১৮ থেকে বেশি বয়সের গ্রাম ও শহরের ২ হাজার ৫৫০ জন নরনারী এই জরিপে অংশ নেয়। এর অর্ধেক ছিল নারী ও অর্ধেক পুরুষ। জরিপের বিষয় ছিল ৭টি এবং জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ গ্রাম আর ২৬ শতাংশ শহরে বসবাসকারী। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে জরিপ চালিয়ে আসছে।

জরিপের ফলাফলে বের হয়ে এসেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থা প্রভৃতি দিকগুলোতে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন যথাক্রমে ৬৬ ও ৬৭ শতাংশ। দেশের সম্ভাবনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে ৬২ শতাংশ মনে করছেন, দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এ ছাড়া ৭২ শতাংশ মনে করেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিবাচক, ৬৮ শতাংশের মতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো এবং ৬৪ শতাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। সেনাবাহিনী, র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন র্যাব আদালত, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কাজের প্রতি যথাক্রমে ৮৬, ৭৬, ৭৩, ৫৯, ৮৩ ও ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক সমর্থন দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন ও বিরোধিতার হার ৬০ ও ২৯ শতাংশ। বিএনপির প্রতি এই হার যথাক্রমে ৪২ ও ৪৬ শতাংশ।
প্রসঙ্গত উল্লিখিত সব ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা এবং বিরোধী দলের প্রতি অনাস্থার দিকটা বুঝে নিতে সম্পূর্ণভাবে জরিপের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই। মানুষ সমাজে থাকে, চলে, ফিরে, কাজকর্ম করে। এসবের ভেতর দিয়ে রাজনৈতিক মতামতও আদান-প্রদান করে। তাই সাধারণ মানুষ জরিপ না হলেও সব কিছু অনুধাবনে নিতে পারে। প্রবাদ এ জন্যই বলে, মার কাছে মাসির গল্প বলে লাভ নেই। তবুও গল্পের অনেক সময়েই প্রয়োজন পড়ে।
এবার তিন জন বিদেশীর চোখে বাংলাদেশের চিত্রের সংক্ষিপ্ত বিবরনী হুবহু তুলে দিলাম====
বাংলাদেশ সম্পর্কে দুই ইউরোপীয়ের পর্যবেক্ষণ
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫
আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। সম্প্রতি ইউরোপের দুটি দেশের দুজন, একজন পণ্ডিত এবং একজন সাধারণ নাগরিক, সফরে এসে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন।

জাতীয় বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে ড. ভিটালি নাওমকিনের একটি সাক্ষাৎকার ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। এ সাক্ষাৎকারে ড. নাওমকিন বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি সাধন করেছে, তাতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারণ স্বাধীনতার সময় দেশটি অত্যন্ত দরিদ্র ছিল, এর সমস্যার শেষ ছিল না। কিন্তু সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ, কিন্তু এর আয়তন সে তুলনায় খুবই কম, মাত্র ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। রাশিয়া পৃথিবীর বড় দেশ, আয়তন ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার বর্গকিলোমিটার, বাংলাদেশের চেয়ে ১৬৩ গুণ বড়। সেই রাশিয়া লোকসংখ্যাও বাংলাদেশের চেয়ে কম, ১৪ কোটি মাত্র। এতটুকু একটা দেশে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর টিকে থাকাই তো কঠিন ব্যাপার কিন্তু বাংলাদেশ ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। এ দেশে এখন প্রায় শতভাগ ছেলেমেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। আমার মতে, বাংলাদেশের এই সাফল্য অত্যন্ত লক্ষণীয় একটি ব্যাপার।’
হাঙ্গেরীয় ভদ্রলোক এ দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছেন। ৩ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। এছাড়া এ উপলক্ষে দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান এবং বিরোধীদলীয় নেতা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে থাকেন। এ বছরেও দিয়েছেন। সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্র প্রধান এভাবে বিশিষ্ট হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এ কথা শুনে ভদ্রলোক অবাক বিস্ময়ে আমার দিকে খানিকক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘দ্য জন্মাষ্টমী ইজ ফর হিন্দুস বাট দ্য হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট এন্ড হেড অব দ্য স্টেট আর অ্যারেঞ্জিং রিসিপশনস অন দিস অকেশন ফর দ্য হিন্দু কমিউনিটি?’ আমি ভদ্রলোককে বললাম, ‘ইট ইজ দ্য ট্রু স্পিরিট অব আওয়ার লিবারেশন ওয়্যার। ইন নাইনটিন সেভেনটি ওয়ান, হোয়েন অল বেঙ্গলিজ, ইরেসপেক্টিভ অব রিলিজিয়ন, হ্যাড বিন ইউনাইটেড আপন দ্য কল অব আওয়ার গ্রেট লিডার, ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
"উপরের কথোপকথটি অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী : চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।"
"ওবামার মুখেও ডিজিটাল বাংলাদেশ
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০১৫ভোরের কাগজ===
ধনে ও মানে এখন আমাদের বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। যার মর্যাদাকর স্বীকৃতি এখন খোদ এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি অপবাদ দেয়া মানুষরাই অকপটে দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক। সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার পিতৃদেশ অর্থাৎ বাবার দেশ আফ্রিকার কেনিয়াতে ব্যক্তিগত ঢঙয়ে এক সরকারি সফর করেছেন। সেখানেই তিনি বিশ্বে বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন ও উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় আমাদের বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অন্যতম মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সে সঙ্গে অন্যান্য অনেক সফল কাজের সঙ্গে বিশেষত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবস্থার অভূত ও অভাবনীয় উন্নয়নকে যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা কিনা কেনিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।"

"একই মন্তব্য অবশ্য কম্পিউটার প্রযুক্তিকে বিশ্বের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে যিনি নিজেও একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, সেই তথ্যপ্রযুক্তির মহামানব বিশ্বের একনম্বর ধনী ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত মাইক্রোসফটের স্বত্বাধিকারী বিল গেটসও বলেছেন।
কেন, কিভাবে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে এই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করল সেটি খোঁজার জন্য একটু পেছনে যেতে হবে। আমরা একটু অতীতের কথা স্মরণ করলেই মনে পড়বে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের সমুদ্র উপক‚লে অবস্থিত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পাশ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিকে গ্লোবালাইজ করার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল সংস্থাপন হওয়ার সময় ওই অবকাঠমোতে আমাদের বাংলাদেশকে বিনামূল্যে সংযুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর আমাদের দেশীয় বিশেষজ্ঞ কর্তৃক সাবমেরিন ক্যাবলের সুযোগ-সুবিধা এবং এর সুফল সম্পর্কে বিষয়টির সপক্ষে জোরালো মতামত দেয়ার পরও দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে এরকম একটি আত্মঘাতী ভীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে সেসময় তাতে যুক্ত করা হয়নি। অথচ একটি ভুলের কারণে এতদিন পরেও এখনো মিলিয়ন-বিলিয়ন অর্থ খরচ করেও আমরা সে লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি যা আগে খুব সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যেত। শুধুমাত্র একটি সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য এমনটি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন। সে সময় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে এতদিনে দেশ ডিজিটালের পথে আরো অনেকদূর এগিয়ে যেত এতে কোনো সন্দেহ নেই।"

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা না থাকলে কী হতো বা হতে পারে, ভাবলেও শিউরে উঠি। তার উপস্থিতি ধীরে ধীরে অর্জিত প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব এখন এই দেশ ও জাতির বড় সহায়। তিনি যে দৃঢ়তার সঙ্গে চলছেন তাতে তার যত ক্ষতি হোক না কেন দেশ ও জাতির লাভ বা মনোবল দৃঢ় হচ্ছে। এখন তার শক্ররও কমতি নেই। এককালে বিএনপি-জামায়াত শত্রু ছিল এখনো আছে যোগ হয়েছে নব্য উৎপাত, সুশীল নামের এক আজব শ্রেণি। এদের চাওয়া-পাওয়া কিংবা হিসাব-নিকাশের দিকটা বোঝা কঠিন। এক সময় দেখতাম এরা জাতির বিবেক সাজার অভিনয় করত, বড় বড় কথা মুখে আদর্শের বুলি আর পোশাকে সাদামাটা অথচ জীবনে ভোগী। এই ভোগী মানুষগুলোর আসল চেহারা বেরিয়ে এলো সংকটকালে।
ফরহাদ মজহারের মতো একদা বাম, হরি কীর্তন গাওয়া পায়ে ঘুঙুর বাঁধা মানুষ হয়ে উঠলেন ঘোর ডান। বিলেতে থাকাকালীন এমনকি দেশে এসেও প্লেবয় খ্যাত শফিক রেহমানের কাণ্ড দেখুন। দেশের তারুণ্যে প্রবাসী অভিজ্ঞতা ও খোলা জীবনের অতীত সম্বল করে যৌনতা ছড়িয়ে দেয়ার মানুষটিও কেমন বদলে গেলেন। যার চলনে-বলনে গোলাপ বিনিময়ে কামগন্ধ সে লোক নামলেন মৌলবাদের পক্ষে।এত বড় এমজংগানী মানুষ অশিক্ষিত,বদমেজাজী খালেদা জিয়ার পদলেহন করতে বিবেকে বাঁধেনা।পান্ডিত্য জাহির করার জন্য  তিনি এখন খালেদা জিয়ার বক্তৃতা লেখক। সেটা দোষের কিছু না, তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর একজন ভাষণ লেখক থাকতেই পারে।জাতির এই পরগাছা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়েও ব্যঙ্গ করতে হবে? সবাই জানেন সুর তালে স্লোগান জমে ওঠে। এ জন্য ভাঙা শব্দ বা স্বল্প বাক্যের জায়গাটি টেনে অন্যটির সঙ্গে জুড়ে দিতে হয়। সে কারণে ‘জয় বাংলা’কে ‘জয়-য়-য় বাংলা’ বলারও রেওয়াজ আজকের নয়,স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হতে জোর পাওয়ার জন্যে কন্ঠে দিয়ে আসছে। এই জ্ঞান পাঁপি শফিক রেহমান সেটুকু মেনে নিতে পারেননি। ব্যঙ্গ করতে গিয়ে শালীনতাহীনভাবে একে ‘জয় লম্বা বাংলা’ বলতেও কলম কাঁপেনি বিবেকে বাঁধেনি।এই পেইড সুশিলদের   ষড়যন্ত্র করার  অপচেষ্টা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা বা অবদান জামায়াত -বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের চাইতেও ভয়ঙ্কর। আজকাল আরেক উৎপাতের নাম টকশোজীবী। দুচারটে ভালো টকশো বাদ দিলে সরকারের নিন্দা আর খেয়ে না খেয়ে আওয়ামী বিরোধিতাই এদের শেষ সম্বল। এতসব গণ্ডগোল মিডিয়ার ষড়যন্ত্র, দেশি-বিদেশি লবিং আর অর্থের প্রতাপ এড়িয়ে লড়ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সে তাঁকেও শান্তি, স্বস্তি দিচ্ছেন না নিজ দল ও জোটের বখাটে কিছু নেতা। এদের কেউ কেউ মন্ত্রীও বটে। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু না থাকলে কপালে মন্ত্রিত্ব দূরে থাক এ দেশে করে খাওয়াটা যাদের দুঃসাধ্য ছিল, তারাও এখন মুখে মুখে জগতের সেব বাঘ মেরে একাকার করে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত।আমার কথা নয় মানুষের  বিশ্বাস ও ধারণা ছিল মানুষ যখন ওপরে ওঠে, তখন তার সবকিছু মার্জিত ও শালীন হয়ে পড়ে,অভদ্র ও ভদ্রের খাতায় নাম উঠানোর চেষ্টা করে।কিন্তু আমাদের তারা বিপরীত। তাদের কাছে আমজনতার চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। তাদের জীবনকে সুন্দর বা সচ্ছল করতে না পারলেও তারা বিগড়ে যায় না। এবার দেখছি ঠিক তার উল্টো। অকারণ কথা আর বিবেচনাহীন সিদ্ধান্তে বিরোধী দলহীন রাজনীতির মাঠে এ সরকারে খুঁটি নাড়িয়ে দিচ্ছেন এরা। অকারণে রাজপথ উত্তপ্ত করে তোলা মধ্যবিত্তের সন্তানরা আপাতত ঘরে ফিরে গেলেও এর রেশ কিন্তু বহুদূর যাবে। ভাষার আন্দোলন থেকে কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন,ভুলে গেলে চলবেনা। এ কথা বলতে পারি এর একটা মাসুল আওয়ামী লীগকে দিতে হবে। এটা গ্রামবাংলার চাষি বা শহুরে শ্রমিক আন্দোলন ছিল না। প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ রাগী একরোখা প্রাণ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু অসংঘবদ্ধ, শহুরে মধ্যবিত্ত ও রাজধানী কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতা অনেক বেশি। তারা বাইরে যেমন হোক ভেতরে একাট্টা। বন্ধন বা শৃঙ্খলা ও স্বার্থের। ফলে আগামী যে কোনো নির্বাচনে এর কুপ্রভাব পড়বেই।
প্রশ্ন হচ্ছে ঝানু, অভিজ্ঞ, বয়স্ক একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে কেন আমরা বিবেচনাবোধ পেলাম না। গরম গরম আর তির্যক কথা বললেই কি কেউ সফল হয়ে যায়? ঘটনার ব্যাখ্যা, যৌক্তিকতা, কে আসলে দায় মেটাবে, কে বেনিফিশিয়ারি কিছুই পরিষ্কার করা হয়নি। মাঠ পর্যায়ে এমন পরাজয় শেখ হাসিনার সরকারের জন্য শুভ হতে পারে না। অন্যদিকে কেউ কেউ ধরে নিয়েছেন প্রতিদিন দুচারটে বিএনপিবিরোধী গরম কথা, খালেদা জিয়া ও তারেকের গুষ্টি উদ্ধার করলেই পদপদবী নিরাপদ। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিদিন নবায়ন কিন্তু ভালো ফল বয়ে আনবে না।জননেত্রী ঠিকই বুঝেন কোন সংলাপ তেলবীজের কোন সংলাপ রাজনীতির। শেখ হাসিনার সরকার বা তাকে সমর্থন ও শক্তি জোগানোর মূল কাজটি কিন্তু কঠিন। জনগণের যে অংশে গুজব হতাশা আর ষড়যন্ত্র কার্যকর সেদিকে নজর দিতে হবে। ভেবে পাই না এমন সময়ে তোফায়েল ভাই, আমু ভাই বা বর্ষীয়ান আওয়ামী নেতারা কেন কিছু বলছেন না। তাদের হস্তক্ষেপ এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা পাশে দাঁড়ালেই শক্তি আসবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু ও শাস্তিদানের পর থেকে এক বিশাল ষড়যন্ত্র চলছে। যেখানে নতুন করে সংখ্যালঘু, ব্লুগার হত্যা, জাসদ বিতর্ক বা ভ্যাট রহস্য মানে গোদের উপর বিষফোঁড়া। এগুলো বন্ধ করে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যৎ ছেড়ে কথা বলবে না।২০০১ এর কথাটা সব নেতা কমকরে হলেও সপ্তায় একবার মনের মধ্যে নিয়ে আসা উওচিৎ,তাহলে অনেকেই সংযত কথার বাক্য জোগাড় করতে পারতেন।সব কথার শেষ কথা হল প্রধান মন্ত্রী যেন কখনই একাকিত্ব বোধ না করতে পারেন সেই দিকেই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। তিনি যেন কখনো একা হয়ে না পড়েন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যেমনি তাঁর যুগান্তকারী দর্শনের সুবাদে বিশ্বের মুক্তিকামী জনতার প্রেরনার উৎসে পরিনত হয়েছেন,তেমনি তাঁর যোগ্যকন্যা দরিদ্র বাংলাদেশকে উন্নতির শীর্ষ শিখরে যে মন্ত্রের গুনে নিয়ে গেছেন, সেই ডিজিটাল রুপকল্পের প্রনেতা,বাস্তবে প্রয়োগ করে শতভাগ সফলতার গুনে বিশ্বের বহু দরীদ্র পীড়িত জাতি গুষ্টির অনুকরনীয় অনুস্মরনীয় দৃষ্টান্তে রুপান্তরীত হচ্ছেন এবং হবেন।
জাতীর জনককে হারিয়ে জাতি যেমন শোকের সাগরে ভাসছে,দেশরত্মকে হারালেও জাতি একই ভাবে আপসোসের সাগরে নিমজ্জিত হবে।হাজার বছরেও স্বপ্নচারী,  দৃডচেতা,দুরদর্শী,আকাশসম হৃদয়ের অধিকারী রাষ্ট নায়ক বাঙালী জাতির অদৃষ্টে পাওয়া যাবে কিনা তা একমাত্র অনাগত ভবিষ্যতই বলতে পারবে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg