মুক্তি যুদ্ধের অহংকার ও বিপর্যস্ত চেতনা।

'৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙ্গালীর কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন।এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল ধর্ম,বর্ন, জাতিসত্বা নির্বিশেষে  দেশের সর্বস্তরের মানুষ।'১৯৭১ সালের ১৬ই দিসেম্ভর মুক্তিবাহিনী ভারতীয় যৌথ বাহিনীর নিকট পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় তিরানব্বই হাজার সৈন্য আত্মসমর্থন করে।যারা ইসলামের দোহাই দিয়ে হত্যা করেছে তিরিশ লক্ষ নিরীহ নিরস্ত্র  মানুষ,দর্শন করেছে প্রায় সোয়া চার লক্ষ বাঙ্গালী নারী,ধ্বংশ করেছে হাজার হাজার জনপথ।পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর যুদ্ধারাধির প্রধান দোষর ছিল এদেশীয় জামায়াতে ইসলামী,যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় ইয়াহিয়া সামরীক জান্তার যাবতীয় দুষ্কর্মের সহযোগীতারভপাশাপাশি নিজেরাও  উদ্যোগি হয়ে রাজাজাকার,আলবদর,আলশামস,প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী গঠন করে। আমাদের দুর্ভাগ্য,৭১ এ যে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় নস্যাৎ করবার জন্য গনহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের মতো নৃসংসতম অপরাধ করেছিল তারা এখন বি,এন,পির ক্ষমতা লিস্পার সুযোগ নিয়ে জোটের অন্যতম অংশিদার।
  '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্র একটি পতাকা কিংবা জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের যুদ্ধ ছিল না বলি যখন মুক্তি যুদ্ধ বলি তখন বুঝতে হবেসর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিল সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়।১৯৪৭ সালে বৃটিশ উপনিবেশিকের অবসান ঘটেছিল ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে ভারত বর্ষকে দ্বিখন্ডিত করে ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে।পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেছিলেন ভারত বর্ষে হিন্দু ও মসুল্মান দুটি আলাদাজাতি,তারা একদেশে তাঁরা একদেশে থাকতে পারেনা।তাঁর এ দাবী বৃটিশ শাসকেরা লুফে নিয়েছিল,কারনবৃটিশদের ঔপ্নিবেশের মুল নীতি ছিল--শাসনের জন্য বিভাজন।ভারত বর্ষে মসুল্মান্দের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মুল্য দিতে গিয়ে শত সহস্র মানুষ জীবন দিয়েছে,লক্ষ লক্ষ সম্পন্ন মানুষ ভিটেছাড়া হয়েছে,কত পরিবার দেশ ছাড়া হয়েছে, কোটি কোটি মানুষের জিবনে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্যোগ।
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্বের ধারনা কতযে ভ্রান্ত অর্থহীন,রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত ছিল তার পরিচয় পাওয়া যাবে পাকিস্তানের আইন সভার প্রথম সভাপতি হিসেবে প্রদত্ত তাঁর ১১ই আগষ্ট ১৯৪৭ ইং তারিখের ভাষনে।এই ভাষনে তিনি বলেছিলেন,'আপনারা যে কোন ধর্ম,বর্ন ও বিশ্বাসের অনুসারী হতে পারেন,এর সঙ্গে রাষ্ট্রের কোন সম্পর্ক নেই।আপনারা দেখবেন,সময়ের ব্যবধানে হিন্দু আর হিন্দু থাকবেনা,মসুল মান  আর মসুলমান থাকবেনা--- ধর্মীয় অর্থে নয়,কারন এটা ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের অন্তগত,এটা হবে রাজনৈতিক অর্থে,রাষ্ট্রের নাগরীক হিসেবে।
জিন্নাহর এই বক্তব্য নি:সন্দেহে স্যেকুলার গনতান্ত্রিক হয় তাহলে সেখানে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ও হানাহানি থাকেনা।জিন্নাহর এই বক্তব্যই নাকচ করে দেয়,ভারত বর্ষের সংখ্যালঘু মসুলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের তত্ব। খন্ডিত পাকিস্তানে যদি ধর্ম বর্ন  বিশ্বাস নির্বিশেষ সব মানুষ সমান অধিকার ও মার্যদা নিয়ে বাস করতে পারে অখন্ড ভারতবর্ষেও তা সম্ভব ছিল,নেতারা যদি সাম্প্রদায়িক বিরোধের সমাধান সাম্প্রদায়িক হানাহানির মধ্যে না খুঁজে সেক্যুলার মানবিকতা ও গনতন্ত্রের ভেতর অনুস্নধান করতেন।
সাম্প্রদায়িক স্বার্থের কথা বিবেচনা করলেও ধর্মিয় দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি ভারত বর্ষের মসুলমানদের অবস্থান সামগ্রিক ভাবে বিপন্ন করেছে। পাকিস্তান নামের সময় ভারত বর্ষের মসুলমানদের ভেতর এমন এক উম্মাদনা সৃষষ্টি করা হয়েছিল যে,তাঁরা মনে করেছিল পাকিস্তান শুধু তাঁদেরই জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে,পাকিস্তানে গেলে তাঁদের রাতারাতি ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে।যার ফলে তাঁদের অনেকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাকিস্তানে এসে প্রথমেই অমসুলমান বিতাড়নের জেহাদে নিয়োজিত হয়েছে।এর পাশাপাশি ভারতের বহু জায়গায় সাম্প্রদায়িক মনোভাপান্ন হিন্দুরা দেশত্যাগে অনিশ্চুক বহু নিরীহ মসুলমানকে পাকিস্তানে চলে যেতে বাধ্য করেছে,ভেবেছে ভারতে মসুলমানরেরা না থাকলে তাঁদের অবস্থা ভাল হবে।
জিন্নাহর পাকিস্তান কিছু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটালেও এতেব্বিপুল সংখ্যাগরিষ্টের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি,হিন্দু--মসুলমান নির্বিশেষে বহু মানুষের জীবন জীবিকা ধ্বংশ করেছে।মসুলমানদের জন্য স্বতন্ত্র পাকিস্তান ভারতের সংখ্যালুঘু মসুলমানদের আরও সংখ্যা লঘু ও প্রান্তিকিকরন করেছে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পুর্ব বাংলার যেসব বাঙ্গালী মসুলমানের আবেগ উচ্ছাস ও স্বপ্ন কম ছিল না তাঁদের ও মোহ ভঙ্গ হয়েছে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ছয় মাসের মধ্যেই।পাকিস্তানের আইন সভায় ৪৮ ইং সালের ফেব্রুয়ারীতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দাবী করেছিলেন উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃৃতি প্রদানের জন্য।প্রধান মন্ত্রী লিয়াকত আলী খাঁন থেকে আরাম্ভ করে সরকারী দলের বাঙালী সদস্যরা পয্যন্ত তাঁর এই দাবী নাকচ করে দেন।পাকিস্তানের নেতারা এতে  দেশকে বিচ্ছিন্ন করার ভারতীয়  ষড়্যন্ত্রের গন্ধ আবিষ্কার করেছিলেন।২১শে মার্চ '৪৮ ইং তারিখে ঢাকায় এক জনসভায় জিন্নাহ স্পষ্ট করে বললেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা শুধু উর্দুই হবে। যারা এর বিরোধিতা করবে তাঁদের পাকিস্তানের শত্রু হিসেবে গন্য করা হবে।।পাকিস্তানের প্রতিয়াশঠাতার বাংলা ও বাঙালী বিদ্বেসি এই মনোভাবের ভেতর নিহিত ছিল পাকিস্তানের ভাঙ্গন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সংকেত।
বাংলাদেশের ছাত্র ওযুব সমাজ ৪৮ এর জনসভাতেই জিন্নাহর স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিবাদ করেছিল।এই প্রতিবাদের মাধ্যমেই সুচিত হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন।মাতৃভাষার মার্যদা প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালী অকাতরে বুকের রক্ত ঢেলে ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবী শুধু ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাঙালির আত্মপরিচয়ের চেতনা বিকশিত হয়,যার যৌক্তিক পরিনতি হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।বিশ্বের মাঞ্চিত্রে বাঙালীর প্রথম স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র,বাঙালীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অহংকার।  
(চলবে)
                শাহরিয়ার কবির,মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইবস থেকে সংগ্রহ।  ধারাবাহিক ভাবে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg