লিখাটি মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইবস থেকে নেয়া।ইতিহাসে সত্য-মিথ্যা,রটনা- ঘটনা নতুন প্রজর্মকে নিবিড় ভাবে জানানো প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা ই-আর্কাইবস সে লক্ষে মহতি উদ্যোগ গ্রহন করেছে। ----------------------------------------- রক্তাক্ত নভেম্বর: কী চেয়েছিলেন খালেদ ও তাহের নভেম্ভর ৮, ২০১৫ ============================= (দ্বিতীয় কিস্তি) ড মো আনোয়ার হোসেন রক্তাক্ত নভেম্বর: কী চেয়েছিলেন খালেদ ও তাহের নভেম্ভর ৮, ২০১৫ ============================= ৩. সংসদে জেনারেল খালেদ মোশাররফের কন্যা সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদের লিখিত বক্তব্য শুনেছি অভিনিবেশ সহকারে। মুক্তিযুদ্ধের তিন বীর সেনানী খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা এবং মেজর হায়দার– যাঁরা ৭ নভেম্বর সিপাহী অভ্যুত্থানের পর নৃশংস হত্যার শিকার হন, তাদের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা খুব জরুরি। এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি জিয়াউর রহমানকে দায়ী করছেন। এ বিষয়ে মেহজাবিনের সত্যাশ্রয়ী তথ্য উপস্থাপন আমাকে আশান্বিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ইতিহাসের ধূসরতম অধ্যায়, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ ঘিরে অত্যন্ত দ্রুতলয়ের ঘটনাবলী– যার অধিকাংশ এখনও অন্ধকারে ঢাকা, রহস্যাবৃত— তার বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান এবং সত্য বের করে আনা খুবই প্রয়োজন। মেহজাবিন সেই দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে শুরুতেই দুএকটি তথ্য জানিয়ে রাখি। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে নভেম্বরের অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন বেঙ্গল ল্যান্সারের (ট্যাংক রেজিমেন্ট) মুক্তিযোদ্ধা অফিসার মেজর নাসির উদ্দিন। ‘গণতন্ত্রের বিপন্ন ধারায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী’ শীর্ষক একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। ৭ নভম্বের তিন সেনানায়কের হত্যাকাণ্ড বিষয়ে মেজর নাসির তাঁর পুস্তকে লিখেছেন। ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যে কক্ষে ঘাতকরা তাদের হত্যা করে সেই একই কক্ষে একই রাতে মেজর নাসিরকেও আটকে রাখা হয়। অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান। তাই নাসিরের বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন: “বিদ্রোহের খবর শুনে তিনি (খালেদ মোশাররফ) বঙ্গভবন ছেড়ে লালমাটিয়ায় তাঁর মামার বাসায় আসেন। সেখান থেকে টেলিফোনে খবর সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এরপর সম্ভবত কর্নেল হুদার পীড়াপীড়িতে তিনি শেরে বাংলা নগরে ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে আসেন। রংপুর থেকে কর্নেল হুদাই দুদিন আগে এই ব্যাটালিয়নটি ঢাকায় নিয়ে আসেন খালেদকে সহায়তা দেওয়ার জন্য। ৭১এ খালেদই ব্যাটালিয়নটি সৃষ্টি করেন তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীনে। [...] ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে খালেদের উপস্থিতির কথা জানাজানি হলে কর্নেল তাহের ও মীর শওকত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার লোকদেরকে প্ররোচনা দিয়ে বিদ্রোহের আহ্বান জানান। শেষমেশ ১০ ইস্ট বেঙ্গল বিদ্রোহ করে বসে। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। বিদ্রোহের এক পর্যায়ে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এই জলিল ও আসাদই জেনারেল খালেদ, হুদা ও হায়দারকে হত্যা করে।” [নাসিরউদ্দিন, পৃষ্ঠা- ১৫১] উল্লেখ্য, ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত মেজর নাসিরকে ১০ ইস্ট বেঙ্গলে পাঠিয়ে দেন এবং সে রেজিমেন্টের ঘাতক অফিসার মেজর জলিল ও মেজর আসাদ নাসিরকে ঐ কক্ষটিতে পাঠান যেখানে সকাল ১১ টায় তারা হত্যা করেছে তিন সেনানায়ককে। [নাসিরউদ্দিন, পৃষ্ঠা- ১৪৯] এ প্রসঙ্গে সবার বিবেচনার জন্য জানাই, মেজর নাসিরের উক্তি থেকে মনে হতে পারে যে, তাহেরের নেতৃত্বে ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে মীর শওকত সহযোগী ছিলেন। তা একেবারেই সত্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের পর কর্নেল তাহের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল থাকাকালে সেনা অফিসারদের লুণ্ঠিত সম্পদ ফেরত দেবার জন্য যে আদেশ জারি করেছিলেন সেখানে অভিযুক্তদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন মীর শওকত। এ প্রসঙ্গে গোপন আদালতে প্রদত্ত তাহেরের জবানবন্দি দেখব: In the month of April 1972, after all necessary treatment following the amputation was completed, I returned to Bangladesh. I rejoined the Bangladesh Army in the position of Adjutant General. I reinforced discipline in the Army when it was a difficult task. [...] I initiated disciplinary proceedings against certain senior officers, such as Brigadier Mir Sawkat and Major General Safiullah concerning certain illegalities. My position was that everything any officer had illegally acquired must be returned, so that they may stand up as brave and clean men before the nation’s freedom fighters. [Taher’s Last Testament: Bangladesh the Unfinished Revolution, Page: 67] তাহেরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় মীর শওকতের সঙ্গে তার বৈরিতা শুরু থেকেই। ১৯৭৬ সালে প্রহসনের বিচারে তাহেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হওয়ার পর ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত নিজে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে ফাঁসির মঞ্চ পরীক্ষা করে যান। যদিও এটা কোনোভাবেই তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আগাগোড়া জেনারেল জিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন মীর শওকত। মেজর নাসিরের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, হত্যা করার জন্যই মীর শওকত নাসিরকে ১০ ইস্ট বেঙ্গলে পাঠিয়েছিলেন মেজর জলিল ও মেজর আসাদের হাতে। খালেদসহ তিনজন সেনানায়কের হত্যাকাণ্ডের সময় তাহের নন, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন জিয়া-মীর শওকত ও তাদের অনুগত অফিসাররা। সবচেয়ে বড় কথা, অভ্যুত্থানী সিপাহীদের হাতে নয়, ১০ বেঙ্গল রেজিমেন্টের (খালেদের নিজের হাতে গড়া ব্যাটালিয়ন) দুজন অফিসার মেজর জলিল ও মেজর আসাদের হাতে নিহত হন তিন সেনানায়ক। উল্লেখ্য যে, এই দুজনের কেউই তাহেরের নেততৃাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্য ছিলেন না। পরবর্তীতে জানা গেছে, জেনারেল জিয়ার ইঙ্গিতেই তাদের হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে কর্নেল শাফায়াত জামিল রচিত ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর’ পুস্তকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। উল্লেখ্য, কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বাধীন ৪৬তম ব্রিগেড খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানে মূল ভূমিকা পালন করে। শাফায়াত জামিল লিখছেন: “শেষ রাতের দিকে দশম বেঙ্গলের অবস্থানে যান খালেদ। পরদিন সকালে ঐ ব্যাটালিয়নে নাশতাও করেন তিনি। বেলা এগারটার দিকে এল সেই মর্মান্তিক মুহূর্তটি। ফিল্ড রেজিমেন্টে অবস্থানরত কোনো একজন অফিসারের নির্দেশে দশম বেঙ্গলের কয়েকজন অফিসার অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খালেদ ও তাঁর দুই সঙ্গীকে গুলি ও বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি আজও। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হলে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত বারটার পর ফিল্ড রেজিমেন্টে সদ্যমুক্ত জিয়ার আশপাশে অবস্থানরত অফিসারদের অনেকেই অভিযুক্ত হবেন এ দেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সেনানায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফকে হত্যার দায়ে। তথাকথিত সিপাহী বিপ্লবের অন্যতম নায়ক কর্নেল তাহের এবং তৎকালীন জাসদ নেতৃবৃন্দও এর দায় এড়াতে পারবেন না।” [শাফায়াত জামিল, পৃষ্ঠা: ১৪৪-১৪৫] তাই সংসদে যখন মেহজাবিন খালদে পিতার হত্যাকারী হিসেবে জিয়াকে চিহ্নিত করেন, তখন তিনি সত্য উচ্চারণই করেন। কারণ কর্নেল শাফায়াত জামিলের ভাষ্য অনুযায়ী ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত বারটার পর ফিল্ড রেজিমেন্টে সদ্যমুক্ত জিয়ার আশেপাশে অবস্থানরত একজন অফিসারের নির্দেশে ঐ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তাহের সিপাহী অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাসদ তাতে রাজনৈতিক সহায়তা দিয়েছে, তাই শাফায়াত জামিল, “তথাকথিত সিপাহী বিপ্লবের অন্যতম নায়ক কর্নেল তাহের এবং তৎকালীন জাসদ নেতৃবৃন্দকেও” এই হত্যার দায় থেকে বাদ দেননি। তাহের ও জাসদ সম্পর্কে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন সেনানায়কদের মনোভাব কর্নেল শাফায়াত জামিলের মতোই। কারণ, তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র এবং হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে গেছেন সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে থেকে। অন্যদিকে, তাহের ১৯৭২ সালেই বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম ক্যু প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এসব বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করে সেই ১৯৭২এর সেপ্টেম্বরেই পদত্যাগপত্র পেশ করেন, সেনাবাহিনী ছেড়ে দেন। একমাত্র তাহেরই সেনাবাহিনীর মধ্যকার প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র ও হত্যাকাণ্ড চিরতরে বন্ধ ও তার গণবিরোধী চরিত্র বদলের জন্য সেনাবাহিনীর মৌলিক পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা

পরিষ্কার অনুমান করা যায়,প্রথম অবস্থায় যদিও অভ্যুত্থানকারিরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে ইস্যু করে সেনা সদস্যদের সংগঠিত করেছিল,স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে,।চতুর জিয়া দুর্বল মহুর্তের অপেক্ষাই করছিলেন।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg