অতীতের আলোকিত নেতৃবৃন্দ--বর্তমান প্রজম্ম ========≠======================== বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে পুরানো দল।দলটির মধ্যে রয়েছে অগনিত আদর্শবাদী, ত্যাগী, সংগ্রামী নেতা। অধিকাংশ নেতা সজ্জন কর্মীবান্ধব,দলের প্রতি আনুগত্যশীল।সার্বক্ষনীক রাজনীতি করার অনেক সামথ্যবান, নীতিবান নেতা কর্মীর দেখা মেলে দলটিতে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী দর্শনকে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য লড়াই সংগ্রামের মধ্যে অনেকেই নীজের জীবন যৌবন কখন অমানিশার অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছেন টেরও পাননি। যখন বাধ্যকের পীড়ন অনায়াসে শরীর ও মনকে আড়ষ্ট করা শুরু করেছে তখনি টের পেলেন কতবড় ঘোর স্বপ্নের মধ্যে ডুবে ছিলেন। সময়তো কারও জন্য অপেক্ষা করেনা, অসময়ে ইচ্ছা হলেও পারিপাশ্বিকতা সমর্থন করেনা। সংগতকারনে ভাই,বোন,আত্মীয় স্বজনের বোঝা হওয়া ছাড়া উপায় কি?সুতারাং অযত্ন,অবহেলায় বাধ্যক্যের জীবনে নেমে আসে এক বিভীষিকাময় অন্ধকার।নিকট অতীতের ত্যাগের গৌরবকে মনে হতে থাকে জীবনের নিমগ্মচিত্তের বড় বোকামি। আপামর জনগনের আদর্শ মানুষ আর বহু নেতা কর্মীর অনুস্মরনীয় -অনুকরনীয় হয়ে বেঁচে আছেন--ঘুনাক্ষরেও তাঁর মনে পড়েনা। অসহনীয় বাধ্যক্য সব অর্জনকে চাপা দিয়ে অভিমানকে সামনে নিয়ে আসে।তখনি কেবল নীজের জীবন, অনুসারীদের বিচ্ছিন্নতাকে মনে হতে থাকে- কেবলই অবজ্ঞা আর অবহেলা। অতীতের হাজারো মানূষের শ্রদ্ধা,ভালবাসায় সীক্ত হতে হতে কখন নীজে রীক্ত হয়ে গেলেন কস্মিনকালেও ভাবিত করেনি যাকে,সেই হয়ে যান আপনজনের আপদ। তেমনি সময় পার করছে দলটির অধিকাংশ পোড়খাওয়া নেতাকর্মী। একদা যাদের ত্যাগের মহিমায় সুন্দর সমাজ, সামাজিক সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে ধীরলয়ে,সমাজ পেয়েছে মানব সেবার দীক্ষা। মানব সেবাব্রতে জীবন উৎসর্গকারী বাধ্যক্যপীড়িত মানুষটি আপনজনের নিত্য অবহেলায় একবারের জন্যেও মনে করেনা মরেও সে অমর। কালের বিবর্তনে রাজনীতিতে সবার অলক্ষে উত্থান ঘটেছে ভোগবিলাসী, আদর্শচ্যুত, উদ্দেশ্য পরায়ন, নামবিলাসী,তৌরন সর্বস্ব নেতা কর্মীর। তাঁদের হীনমানষিকতায় তুলে নিচ্ছে জনমানবের আনুগত্যতা, সামাজিক স্থীরতা, সম্মান আর শ্রদ্ধা। চতুর্দিকে দেখা দিচ্ছে অবক্ষয়ের অন্তজ্বালা। রাজনীতি হয়ে পড়েছে বিনিয়োগের উর্বর ভূমি। অমরত্বের অদেখা গৌরবের স্থলে-স্থান করে নিচ্ছে নগদ প্রাপ্তির অহংকার। ঘৃনীত হচ্ছেন বঞ্চিত জনগোষ্টির অভিসম্পাতে। রাজনীতিকে নিয়ে যাচ্ছেন জনমানবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গে।স্মরনে পড়েনা তাঁদের অমরত্ব সুদুরপরাহত--হয়ে আছেন মনের অজান্তে সমাজের বিষাক্তকীট, দেশ ও দশের শত্রু, পরিবারের কলংক। নামিয়ে দিতে পারলে অন্ধকারে বেঁচে যাবে দেশ, সমাজ আর সভ্যতা। এই দুষ্ট চক্রের অনেকেই আজ আসীন হয়ে আছেন সমাজের এমন এক জায়গায়,সাধারনে তাঁরা সবাই অসাধারন। আয়ত্ব করে নিয়েছেন প্রচারের সব সামাজিক মাধ্যম। নীমিষেই বৃহৎ অর্জনকে করে দিতে পারেন বিসর্জন। দিনে দিনে ফুলে ফেঁপে হয়েছেন একেকজন বটবৃক্ষ। ভুলে গেছেন অতীত,পুর্বপুরুষেরা করেছেন তাঁবেদারী, বিজাতীয় উপনিবেশিকদের। ঘুনাক্ষরেও করেনা স্মরন, বৃক্ষ হতে পেরেছেন কার অবদানে। বহুল প্রচলিত প্রবচন,ছোট লোক বড় হলে বন্ধুকে কাঁদায়। এই মহুর্তে দেশ ও জাতিকে শৃংখলায় আনায়ন একান্ত জরুরী। তাঁর জন্য চাই আদর্শবান দল।আদর্শ ভিত্তিক দল বলতে বর্তমানে একটি দলকেই বুঝায়,সে দলটি হচ্ছে ঐতিহ্যের ধারক বাহক,তৃনমুল থেকে উঠে আসা দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।যে দলের রয়েছে জাতির জনকের কালজয়ী দর্শন,ধারন করার আদর্শ, গতিশীল নীতি।এই দলের নেতা কর্মীদের জাতির জনকের রেখে যাওয়া কালজয়ী দর্শন চর্চা অপরিহায্য। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চাই মেধাবী রাজনীতিবীদ হয়ে উঠার একমাত্র উপায় হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করা ছাড়া দলের বিকাশ সম্ভব নয় । উধ্বতন নেতৃবৃন্দের দলের অভ্যন্তরে আদর্শ ধারনক্ষম নেতাকর্মীর উত্থান ঘটাতে মনপ্রান দিয়ে কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। নীতি আদর্শ, সৎ, ত্যাগী নেতাদের বিচরন যত দ্রুত হবে, দুষ্ট চক্রের বিতাড়ন তত নিম্নগামী হবে।আদর্শবান, ত্যাগী নেতারা যত বেশী দল থেকে দূরে সরবে জনগন তত বেশী কষ্ট পাবে। জনগন যত বেশি কষ্ট পাবে, জাতির জনকের আত্মা ততবেশী গোমরে গোমরে কাঁদবে। কারন জাতির জনকের মত আর কোন নেতা বাঙ্গালী জাতিকে ভালবাসতে পারেননি।এই জাতির জন্য তাঁর পরিবারের সমতুল্য ত্যাগ কোন বাঙ্গালী নেতা অতীতেও পারেনি,ভবিষ্যতেও পারবেনা।বাঙ্গালী জাতিরজন্য বদন্যতা, মমত্ববোধ, মহত্বতা, ত্যাগ ,রক্ত, জীবন যৌবন যাহা কিছু সব একটি মাত্র পরিবারেই দিয়েছে,সেই পরিবারটিই হচ্ছে জাতির জনকের পরিবার। এমনতর সময়ে অনুসরন,অনুকরনযোগ্য একজনই আছেন, সেই পরিবারেরই সকল গুনাবলী ধারন করে আছেন। বিশ্বের কোটি মানুষ যাঁকে অনুস্মরন করা শুরু করেছেন,অনুকরন করা শুরু করেছেন।তাঁদের জীবনকেও তাঁর মত করে সাজাতে ব্যস্ত, তিনিই জাতির জনকের জৈষ্ঠ কন্যা,বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাছিনা। জাতির জনকের কন্যা এমন কতক গুন পারিবারিক ভাবেই বহন করে চলেছেন। তিনি অতিশয় প্রচার বিমূখ একজন পর্দানশীল মহিলা।প্রচারের দায়িত্ব আমাদের। আমাদের প্রচার মাধ্যম গুলীর। প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতা ও সৌজন্যতার প্রকাশ তার সরলতায়। আমাদের দেশের মিডিয়ার দায় অবশ্যই আছে তার মহত্ব প্রচারের। তাঁর আচরনে উদারতা থাকলে তাকে জাগিয়ে রাখার। সেটা না করলে যে মহিলাটি আমাদের জন্যে এতকিছু করছেন যার শত্রু পদে পদে, তাঁর অজান্তে শত্রু শুধু বাড়ছেই। '৭১/৭৫ এর রাজাকার, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা সংগঠিত হচ্ছে দেশে বিদেশে।তাকে মর্যাদা দিতে চায়না,জাতির জনককে স্বীকার করেনা,এক সেকেন্ডের জন্য ভালো থাকতে দিচ্ছেনা। আমরা ঘরপোড়া মানুষ, বঙ্গবন্ধু শাষনামল দেখেছি। তার মতো মহান হৃদয়বান সার্থক বাঙালি একটিও নেই,অদুর ভবিষ্যতে জম্ম ও নিবেনা। পরনের লুঙ্গি, প্যান্ট, জামা, গায়ের চাদর খুলে দিয়ে দিতেন গরীব অসহায়দের।গ্রামের সাসাধারন মানুষদের জড়িয়ে ধরতেন, বাড়িতে নেতা কর্মী বা গ্রামের কেহ এলে না খেয়ে যেতে দিতেন না। তাঁকে নিয়ে কত ছলচাতুরী, কত কৌশলে তাকে ছোট করার অপচেষ্টা,তাঁর পরিবারকে হেয় করার কত অপচেষ্টা। পীঠা উৎসবের কথাই বলি।কোন নেতা,কোন দেশে,কোন আমলে মাটিতে সবার সাথে বসে আনন্দকে ভাগাভাগি করেছেন? কখনও কি কেউ দেখেছেন নাকি দেখবেন?আমাদের মিডিয়া কি এই মাটির মানুষটির পিঠা উৎসবে সমাগতদের বেশিরভাগই প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসেন। তার চেতনাকে ধারণও করেন। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়। ব্যক্তিগত ভালোবাসার পাশাপাশি আদর্শের দিকটা তুলে ধরাও জরুরি। এমন এক সমাজে আমরা থাকি, এমন এক অতীত আমাদের ঘিরে আছে যেখানে পিঠা খেয়ে পিঠ প্রদর্শনে সময় লাগে না। প্রধানমন্ত্রীর মাটিতে উপবিষ্ট ছবিটির প্রচার গ্রামগঞ্জে ব্যাপক প্রচার হওয়া জরুরী ছিল। তিনি যে মাটির কাছাকাছি ও মানুষের পাশাপাশি সেটা গ্রামের মানুষের মতো ভালো কেউ বোঝবেনা। গ্রামের মানুষ তারা ভালোবাসে ও চায় বলেই আওয়ামী লীগ টিকে আছে। বারবার শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে দল জেগে ওঠার প্রেরণা পায় গ্রামের মানূষের কাছে। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ দল বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে ভয়ভীতি এড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের দেশকে সামনে নিয়ে যাচ্ছে। একদিন তাদের ডেকেও নিশ্চয়ই প্রধান মন্ত্রী পিঠা খাওয়াবেন আশা করি। জনতার নেত্রী বলেই আপনাকে আমরা জননেত্রী বলি,দেশের মঙ্গল চান বলেই আপনাকে দেশরত্মে ডাকতে ভাল লাগে। জননেত্রী হওয়ার জন্য যে মাটির মানুষের স্পর্শ প্রয়োজন, সেটা আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না,জানবেওনা কোন দিন। জননেত্রীর ইহাই আদর্শ।এই আদর্শকেই অনুশ্মরনের কথা বলছিলাম।জননেত্রীর মানব কল্যান,জনগনের কল্যান করার অদম্য আকাঙ্ক্ষা,দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অদম্য স্পৃহাই নীতি।এই নীতিকেই অনুস্মরন করার কথা বলছিলাম। জননেত্রীর আদর্শ, উদ্দেশ্যকে সঠিক ভাবে ধারন করার মানষিকতা সম্পন্ন প্রজম্ম গড়ে তোলাই সময়ের দাবী। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন আলোকিত রাজনীতির চর্চা।আলোকিত রাজনীতির চর্চার জন্য চাই সার্বক্ষনিক সময় দেয়ার মত সেই সমস্ত আলোকিত মানুষদের যারা আপনার আদর্শকে ধারন করতে পারে,মাটি ও মানূষের কল্যান কামনায় নীজের ভোগ বিলাস ত্যাগ করতে পারে।জাতির জনকের কালজয়ী দর্শনকে ধারন করে লোভ লালসার স্পৃহা অবদমন করতে পারে।আলোকীত রাজনীতি বীদদের রাজনীতিতে সার্বক্ষনিক বিচরন ছিল বলেই '৫২'৬৯'৭১'৯০ এর সৃষ্টি হতে পেরেছিল।বর্তমানের প্রজম্ম দিয়ে নিদেন পক্ষে আন্দোলন সংগ্রামের সিঁড়ি তৈয়ার করা যাবে না,তাঁরই প্রমান রেখে গেল ২০১৪--২০১৫ ইং সাল। জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয় হোক জাতির পিতার কন্যার

   রাজনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রন করার জন্য দেশ প্রেমিক রাজনীতি বীদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকায্য।আলোকিত মানুষেরাই আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।আলোকিত মানুষেরাই দর্শন ধারন করার ক্ষমতা রাখে।

মন্তব্যসমূহ