মানবতা বিরুধীদের রক্ষায় তাঁদের দোষরেরা উলঙ্গ হয়ে গেছে----------- ================================ বিশ্ব বিদ্যালয়ের সর্বশেষ ডিগ্রি অর্জন করে সবাই উচ্চ শিক্ষিত হতে পারে,কিন্তু সবাই যে জ্ঞানী তা ঠিক নয়। আবার স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত সবাই যে জ্ঞানী নয় এটাও ঠিক নয়। যেমন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম খুববেশী প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া না করেও জ্ঞানের সাগরে ডুবেছিলেন। পড়ালেখা নাজানা লোক জ্ঞানী হতে বাধা থাকেনা। জ্ঞান সবার কাছেই কম বেশি আছে,কেহ হয়তো বেশি জ্ঞানী কেহ হয়তো কম জ্ঞানী। বেশী জ্ঞানীদের মধ্যে মাত্রাতিরীক্ত জ্ঞানী যেমন আছে, তেমনি পাগলের সংখ্যাও কেবল কম নয়। কম জ্ঞানীও পাগল হয় তবে সংখ্যায় নিতান্তই কম। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সনদপত্র না থাকলে তাঁকে কিন্তু শিক্ষিত বলা যায়না।জ্ঞানের সাগর হতে পারে কিন্তু শিক্ষিত নয়। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাহাই আছে, সব গুলীতে শিক্ষা সমাপনান্তে সনদ দেয়া হয়। সনদ স্তর অনুযায়ীই হয়।কিন্তু স্ব-শিক্ষার সনদ কোথাও দেয় এটা কিন্তু কোন দিন শুনীনি বা দেখিনি। খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশনে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে স্ব-শিক্ষিত লিখে জমা দিয়েছেন।তাঁর নমিনেশন বাতিল হয়নি।প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বৈধ বলে তা গ্রহন করেছেন।অথছ সামান্য নাম বা নাম্বারের ভুলের কারনে কতশত মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায় তাঁর কোন হিসেব নেই।তিনি যে স্ব-শিক্ষিত লিখেছেন তাঁর কি সনদ জমা দিয়েছেন? না-,তবে তাঁর নমিনেশন কিভাবে বৈধ হল? ঠিক একই প্রেক্ষাপটে তাঁর দলের মধ্যে যে সমস্ত জ্ঞানী নেতারা আছেন তাঁরা হয় মাত্রাতিরীক্ত জ্ঞানী, নয়তো সবাই খালেদার মতই স্ব-শিক্ষিত।কথাটি আমি একারনেই বলছি",খালেদা জিয়া অশিক্ষিতের কারনে শহিদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।"যেহেতু তাঁর বিশ্বের অন্যান্ন গনহত্যার সংখ্যা তত্ব কিভাবে নিরুপিত হয়েছে তাঁর ধারনায় নাও থাকতে পারে।কিন্তু বড় বড় ডিগ্রিধারীরা যে সমস্ত বিতর্কীত প্রশ্ন উত্থাপন করছেন, খালেদা জিয়ার মন্তব্যের রেশ ধরে, তাতে তাঁদেরকে শিক্ষিত বলা গেলেও কোন অবস্থায় জ্ঞানী বলা যায়না। জ্ঞানী যদিও বলা যায়, তা মাত্রাতিরীক্তের পয্যায় পড়ে।মাত্রারীক্ত অধিকাংশ জ্ঞানী আবার আগেই বলেছি পাগল।যেহেতু তাঁরা সবাই গন প্রজাতান্ত্রীক বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন অবশ্যই তাঁদের সরকারি খরছে এবং তত্বাবধানে পাবনা নিয়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।আরো যোগ হয়েছে শীত। বৈশ্বীক আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে নাতিষীতোষ্ব বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা একটু বেশি বলে আবহাওয়াবীদগন তাঁদের অফিস থেকে নিশ্চিত করেছেন। একতরফা তাঁদের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই, শীতের কারনেও পাগলামী বেড়ে যেতে পারে বলে আমি মনে করি।তাঁর উপর যুক্ত হয়েছে,তাঁদের নেত্রীর হঠকারি সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার দু:চিন্তা। তবে শ'খানেক বুদ্ধিজীবির উদ্দেশ্যে আমি খানিকটা তথ্য দিয়ে তাঁরা আরো বড় বদ্ধপাগল প্রমান দিতে চাই।পৃথিবীর কোনো বড় হত্যাকাণ্ড বা গণহত্যার সংখ্যাই কিন্তু সুনির্দিষ্ট আছে তাঁরা কি তথ্য দিতে পারবেন? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মতো এত বড় একটা যুদ্ধে,যেখানে প্রায় বিশ্বের প্রতিটি দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছিল । যুদ্ধপরবর্তিতে গবেষণার পর দেখা যায়, সেখানেও মৃত্যুর সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। বলা হয়েছে ৫০ থেকে ৮০ মিলিয়ন (কিংবা পাঁচ থেকে আট কোটি)লোক গনহত্যার শিকার হয়েছে। নিউট্রন বোমার আঘাতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে সেটা সঠিকভাবে অনুমান করার জন্য আমেরিকা কিছু শহর বেছে নিয়েছিল,বোমা বর্ষনের আগেই। সেখানে তারা আগে থেকে অন্য কোনো বোমা ফেলেনি। ক্ষয়ক্ষতির এ রকম সুনির্দিষ্ট হিসাব বের করার প্রস্তুতি নেয়ার পরও হিরোশিমা কিংবা নাগাসাকিতে কতজন মানুষ মারা গিয়েছিল তা সুনির্দিষ্ট করে আজ পয্যন্ত বলা সম্ভব হয়নি। হিরোশিমাতে নব্বই হাজার থেকে দেড় লাখ এবং নাগাসাকিতে চল্লিশ থেকে আশি হাজার লোক মারা গিয়েছিল বলে ধারনা দিতে পেরেছেন। চীনের রাজধানী নানকিংয়ে জাপানি সেনাদের গণহত্যা বিশ্ব ইতিহাসে বড় এবং নৃশংসতম গণহত্যা। গবেষকরা এখনো সেখানে কত সংখ্যক মানুষ মারা গিয়েছিল সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি, গভেষকদের হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা আনুমানিক দুই থেকে তিন লাখের কাছাকাছি । নাৎসিরা জার্মানিতে ইহুদিদের গনহারে হত্যা করেছিল।সেই হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা অনুমান নির্ভর করে বলেছেন গভেষকেরা পঞ্চাশ-ষাট লাখ হতে পারে। মাঝে মাঝে কোন কোন গবেষক হত্যার সংখ্যাক দেড় থেকে দুই কোটি ও বলে । সাম্প্রতিক সময়ে গণহত্যার মাঝে রুয়ান্ডাতে টুটসিদের ওপর হত্যাকাণ্ডটি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। এত সাম্প্রতিক ঘটনা, তথ্য আদান-প্রদানেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাচ্ছে অনায়াসে,তারপরও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাটি সুনির্দিষ্ট নয়, বলা হয়ে থাকে সেখানে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। একটা বড় ধরনের হত্যাকাণ্ডে কখনই সঠিক সংখ্যাটা বলা যায় না। হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান দেখে হতাস বা অবাক হওয়ার কিছু নাই। হত্যাকারীরা তালিকা করে হত্যাকাণ্ড ঘটায় না। পৃথিবীর কোথাও গনহত্যা করার পর হত্যাকারীদের পক্ষ থেকে কোন দিন কোন তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের বাংলাদেশের বেলাতেও তাই হয়েছে, একটা আনুমানিক সংখ্যা বলা হয়েছে। একাত্তর সালে প্রায় এক কোটি শরণার্থী দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তাদের একটা বড় অংশ রোগে শোকে মারা গেছে, তাদের সংখ্যাটা ধরা হলে একাত্তরে শহীদদের সংখ্যা খুব সহজেই ত্রিশ লাখ ছাড়িয়ে পঞ্চাশ লাখের কাছাকাছি হতে পারে।কারন শরনার্থী শিবিরের দুর্দশা চোখে না দেখলে কাউকে বলে বুঝানো যাবেনা।এমন কোন দিন ছিলনা সারি সারি লাশের আগুনের স্তুপ কোন পাহাড়ে জ্বলেনি বা সারি সারি কবর খোঁড়ে রাখা হয়নি। যারা গণহত্যা করে তারা কখনই স্বীকার করেনা। এই পয্যন্ত কোন দেশ পৃথিবীতে এত গনহত্যা হয়েছে কেউ কি স্বীকার করেছে? তাঁরা গনহত্যা চালিয়েছে? আর্মেনিয়ানরা গত একশ বছর চেষ্টা করেও তুরস্ককে স্বীকার করাতে পারেনি তারা গণহত্যা করেছে। পাকিস্তানও বলতে শুরু করেছে তারাও বাংলাদেশে গণহত্যা করেনি! যদিও আন্তজাতিক চাপের কারনে স্বীকার করতে বাধ্য হয়, চেষ্টা থাকে সংখ্যাটাকে কম করে দেখানোর। আমাদের বাংলাদেশের উদাহরণটি সবচেয়ে বিচিত্র। একাত্তর সালে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি পাকিস্তান মিলিটারির সঙ্গে গণহত্যায় জড়িত ছিল। তারা চেষ্টা করে সংখ্যা কমিয়ে আনতে। ধরে নেয়া যায় তাঁরা যেহেতু জড়িত তাঁরাতো কম বলবেই। কে না চায় বাঁচতে। মৃত্যুর মুখামুখি দাঁড়িয়ে মিথ্যে বলা জায়েজও আছে। সবচেয়ে হাস্যকর যুক্তিটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু নাকি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিন লাখ বলতে গিয়ে ভুলে ত্রিশ লাখ বলে ফেলেছিলেন ! কোন একটা সহচরও এক্ষেত্রে তাঁরা ব্যবহারর করেছেন সাক্ষাৎকার ধারন করে, বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনের জন্য। যার অর্থ তিন লাখ পর্যন্ত হত্যা করা কোনো ব্যাপার নয়, ত্রিশ লাখ হলে একটু বেশি হয়ে যায়। তাই ত্রিশ লাখ মেনে নেয়া যাবে না! কম বেশি হতেই হবে।জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারটা মেনে নেয়া যায়।কারন তাঁরা জড়িত, তাঁরা বলবে।এর চেয়ে আরো জগন্য মিথ্যাচার করেও তাঁরা পার পেয়ে গেছে। বিএনপি এবং তাঁদের বুদ্ধিজীবীদের উত্থাপিত বিতর্ক গুলী কোন অবস্থায় মেনে নেয়া নেয়া যায়না।কারন এরা কেহই গনহত্যায় সাংগঠনিক ভাবে জড়িত ছিলনা।বিএনপি দলের সৃষ্টিও হয়নি।বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের পরের প্রজর্ম্ম। পৃথিবীর সকল নৃসংশ গনহত্যার পরিসংখ্যান অনুমান নির্ভর হওয়া সত্বেও সংশ্লিষ্ট দেশ মেনে নিয়েছে। তাঁদের দেশের রীতি বা আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। কেউ কোন দিন কোন গনহত্যার সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক উত্থাপনের চেষ্টা করেনি।প্রতিষ্ঠিত সত্য নিয়ে বিতর্ক উত্থাপন বা সন্দেহ পোষনের জন্য কঠিন আইন প্রনয়ন করা আছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগও আছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা গণহত্যার সংখ্যাটি গ্রহণ করে নিয়েছি। গ্রহন করার বয়সও হয়েছে ৪৫ বছর বা অর্ধশত বছর। সেই সংখ্যাটি যেহেতু একটা আনুমানিক এবং যৌক্তিক সংখ্যা , সেই সংখ্যাটি নিয়ে সংশয় সন্দেহ প্রকাশ করার অর্থুই হচ্ছে- আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের অসম্মান করা। আর মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান অপদস্ত করে আপনি রাজপথে বুক চিতিয়ে চলবেন তা হবেনা। আপনি আপনার মত করে আর একটি দেশ বানিয়ে নেন, মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ করে এদেশ তাঁদের করে নিয়েছে,আপনার আস্ফালন দেখার জন্য নয়,আপনি তাঁদের আস্ফালন দেখারজন্য। আজকে যদি গভেষনার জন্য প্রশ্নগুলীর উত্থাপন করা হত তবে কারো বলার কিছুই ছিলনা।বুদ্ধিজীবিরা গভেষকের আওতায় পড়েনা। বিএনপির নেতারাতো বলতেই পারেননা।তাঁরা অনেকেই মুক্তিযুদ্ধা দাবী করেন।অনেকের মুক্তিযুদ্ধার ভাতার আওতায়ও আছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত সত্য নিয়ে তাঁদের কোন কথাই ক্ষমার আওতায় পড়েনা।পৃথিবীর কোন দেশেই ক্ষমা করার বিধান নেই।যদিও তাঁরা আমাদের মত ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা লাভ করতে হয়নি।এত মা -বোনের ইজ্জত নষ্ট করা লাগেনি।তাঁদের দেশের জাতির জনককে তাঁরা হারাতে হয়নি।তাঁরপরেও তারা আইনের বিধান রেখেছে,বিতর্ক উত্থাপন কারির শাস্তির বিধান রেখেছে। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকেও আমি জড়াতে চাইনা। খালেদা জিয়া বলতে পারেন,কারন খালেদা জিয়ার একান্ত আন্তরিক অনুভুতি তাঁদের প্রতি থাকতে পারে। তিনি তাঁদের সাথে নয়মাস চলাফেরা করেছেন।তাঁদের অখ্যাত একজন মেজর মারা গেলে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটো - কলের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশের সেই যুদ্ধাপরাধী মেজরের জন্য শোক বার্তা পাঠাতেও দ্বিধা করেননি বা লজ্জা অনুভব করেননি।তাঁর আত্মার আত্মীয়ের প্রতি প্রেমের সর্বশেষ পয্যায় পয্যন্ত গেলেও কারো মনে করার কিছুই নেই। কারন বাঙালি মহিলারা প্রেমের প্রতি অত্যান্ত যত্নশীল, অনুগত,ভক্তিপুর্ন।যুগে যুগে তার উদাহরন বঙ্গীয় দেশের পথে প্রান্তরে রয়েছে। প্রেমের বহু উপাখ্যান গৃহস্তের বাড়ীর আঙ্গিনায় চাঁদনী রাতে দল বেঁধে পুথিপাঠে মনোযোগ দিয়ে শুনে আর দুই চোখের পানির স্রোত ছেড়ে দেয়। খালেদা জিয়াও প্রেমিকের বিচ্ছেদে মহিমাম্বিত সেই প্রেমের অশিরিরী স্বাদ উপভোগ করবেন, করতেই পারেন।অনন্তকাল বাংলার মানুষের মনে চিরজাগরুক থাকার সকল চেষ্টা করার সুযোগ তিনি চাইতেই পারেন। পরিশেষে বলতে চাই,এযাবৎকাল যতজনই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে বাস করে বিতর্ক উত্থাপন করার চেষ্টা করেছেন বা করছেন,তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।তাঁদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির বিধান করতে হবে।ভবিষ্যতে কোন বেজর্ম্মা কোন দিন আমাদের বীর সন্তানদের, আমাদের মা বোনদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে বসবাস করে কষ্টার্জিত সত্যকে কটাক্ষ করতে সাহষ না পায়। দৃষ্টতা কোন পয্যায় গেলে জাতির জনকের অবদানকেও অস্বীকার করার দু:সাহষ দেখাতে পারে তাও ভেবে দেখার জন্য সচেতন মহলের প্রতি আবেদন রইল। জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাছিনা


   বিরুদী দল বিরুধীতা করবে,সেটা হবে দলীয় নীতি আদর্শের বিরুধীতা।সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংঘঠিত করে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পরিষ্কার করবে।প্রয়োজনে নেতৃত্বের সমালোচনা করবে।কিন্তু বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুধীতা করতে পারে না।মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারের বিরুধীতা করতে পারেনা।জাতির জনকের বিরুদ্ধে বিরুপ সমালোচনা করতে পারেনা।যারা এমনটি করে বা করার চেষ্টা করে তাঁরা নির্গাত স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg