সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের ২০১৫ ইং সালের দৃশ্যমান উন্নয়নের খন্ডচিত্র______
============================
আমরা সকলেই অবগত আছি যে,আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে বিপুল সংখ্যাধিক্যে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার অব্যাবহিত পরই দেখা যায়, সারা বাংলাদেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত।দিনের পর দিন পার হয়ে গেলেও বিদ্যুতের দেখা মিলেনা।এমনতর অবস্থায় সাধারন মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।শিল্প কলকারখানা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।স্বাভাবিক জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগের সীমাহীন দুর্গতি।
বিগত সরকার সমুহ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগি না হয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের খুটি বিলিয়ে ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে রেখে যায়।
জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আরোহন করেই পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎক্ষনাৎ ভাড়ায় বিদ্যুৎ প্লান্টের অবাধ আমদানী অনুমোদন দিলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে।যদিও রেন্টাল প্লান্ট ব্যায়বহুল,লুটপাটের আশংকাও যথেষ্ট থেকে যায়,তথাপিও জরুরী বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর আর কোন বিকল্প পথ খোলা ছিলনা।পরিস্থিতি এমন একপয্যায় দেশকে নিয়ে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, অথবা আমদানী করে চাহিদা পুরন করার মত ও কোন সুযোগ বাস্তবতার নিরিখে তখন ছিলনা।প্রধান মন্ত্রী সব দিক বিবেচনা করেই রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের অনুমতি দিয়ে সাময়িক বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেন।
জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আগামী ২০৪১ সালের রুপকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ঘোষনার সাথে বিদ্যুতের চাহিদাকে সামনে রেখে আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ ২৫০০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেয়।২০১৫ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়।
বিদ্যুতের সাথে সভ্যতার নিবিড় যোগসুত্র রয়েছে। তাছাড়া উন্নত বিশ্বের খাতায় নাম লিখাতে হলেও দেশকে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পে সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।
সবকিছু বিবেচনায় রেখে সরকার বিদ্যুত উৎপাদন,সঞ্চালন,শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সহ নানাবিধ কর্মযজ্ঞে দেশকে নিমজ্জিত রেখেছেন।গত কিছুদিন আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালের নভেম্বরে সিলেটের বিদ্যুৎ প্লান উদ্ভোধন করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী প্লান উদ্ভোধনের সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।
সুখের কথা যে, সরকারের ২০৪১ সালের রুপকল্প বাস্তবায়নের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ ইতিমধ্যে দেশব্যাপি শুরু হয়েছে, তাতে উল্লেখ করার মত কোন দুর্নীতির খতিয়ান দেশি বিদেশি সংস্থাই তুলে ধরতে পারেননি।এতে বিশ্লেষক গন স্থীর সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন যে, সরকারের নির্ধারীত ধারনার আগেই বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে নাম লেখাতে সক্ষম হবে।জিডিপি বর্তমানের একক ঘর পেরিয়ে ডাবল ডিজিটে পৌঁছাতে আর বেশি সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনার শতভাগ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য -রামপালের ১২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে যে, অত্যন্ত দক্ষ প্রযুক্তি ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করেই কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।এতে পরিবেশ বীদেরা নিশ্চয়তা পেতে পারে,যথাসময় রামপালের বিদ্যুৎ জাতিয় গ্রীডে সংযুক্ত করার পরিবেশ নিশ্চিতে এখনই সরকারকে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
গ্যাস ক্ষেত্রের উন্নয়নে ব্যাপক মনোযোগ ও বিনিয়োগ অচিরেই সুফল দিতে পারে। তবে গ্যাসের ব্যবহারে বিদ্যুৎ উৎপাদন খুবই অলাভজনক বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।তাই যদি হয় ; এর বদলে গ্যাস দিয়ে শিল্পায়নে যাওয়ার দিকেই মনোযোগি হলে দেশ উপকৃত হবে বলে মনে করি।
আজ ২০১৬ ইং সালে ৭ই জানুয়ারী বাংলাদেশ যুগান্তকারি এক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছেন।বাংলাদেশের প্রযুক্তি ব্যাবহার করে,বাংলাদেশী সংস্থা পেট্রোবাংলা তেল, গ্যাস অনুসন্ধান কাজের উদ্ভোধন করেছেন। এতেই উপলব্দি করার যথেষ্ঠ মশল্লা বিদ্যমান আছে বলে আমি মনে করি।দেশরত্মের হাত ধরে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রেই স্বাবলম্বিতা অর্জনের পথে কয়েশ ধাপ এগিয়ে গেছে।
২৫০০০হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষে ইতিমধ্যে সরকার উপআঞ্চলিক সহযোগিতায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন।২০২৫ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়ণযোগ্য উৎস থেকে শতকরা ১০ ভাগ বিদ্যুৎ আহরণ করে ২৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কৌশল নির্ধারীত হয়েছে। কর্মসংস্থান তথা দারিদ্র নিরসনের উপায় হিসেবে ব্যাপক শিল্পায়ন প্রচেষ্টা সফল করার লক্ষকে সামনে রেখে একের পর এক উদ্যোগ গ্রহন করে তাঁর সফল বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।
২০১৫ ইং সাল নিয়ে গেছে বাংলাদেশের অনেক তাজাপ্রান,জ্বলেছে বিপুল সম্পদ,উত্থান ঘটেছে আগুন সন্ত্রাসের মত ঘৃন্য রাজনৈতিক কর্মসুচির,কিন্তু দিয়ে গেছে যুগান্তকারি উন্নয়নের সফল বাস্তবায়ন,স্থিতিশীল সরকার। বিধাতা দান করেছেন লবাংলাদেশকে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠায় দৃড সংকল্পের এক প্রধান মন্ত্রী।
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ,তাঁর কাংখিত লক্ষে, জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অভিষ্ঠ লক্ষে,তাঁরই জৈষ্ঠ কন্যা বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার হাত ধরে।।
(চলমান)
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন