সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
রাজশাহীতে এখনও জিন্নাহ মিউনিসিপ্যাল পার্ক--!!!!!
====♥♥♥♥====
====♥♥♥♥====
দেশে যখন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি কার্যকরের পালা চলছে, ঠিক তখনও রাজশাহীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে পার্ক। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার করছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখনও পাকিস্তানিদের এ স্মৃতি মুছে ফেলা যায়নি বিভাগীয় নগরী রাজশাহী থেকে। নগরীর সিপাইপাড়া এলাকায় বিশাল আয়তনের পুকুরকে ঘিরে গড়ে ওঠা জিন্নাহ মিউনিসিপ্যাল পার্কের দেখভাল করে যাচ্ছে খোদ জেলা প্রশাসনই।
পাকিস্তানের শোষণ ও শাসন থেকে রক্ষা পেতে নয় মাস যুদ্ধ করে লাখ লাখ বাঙালি প্রাণ দিয়েছেন। সেই পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে এখনও পার্ক বহাল রয়েছে। এই পার্কটি জৌলুস হারালেও নামফলকটি জ্বলজ্বল করছে ঠিকই। এতো বছর ধরে এ নামটি নাকি সবার নজর ফাঁকি দিয়েই এসেছে। অথচ এর পশ্চিমপাশেই রয়েছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার ও কারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উত্তরে সরকারি হাইস্কুল যা রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসা নামে পরিচিত। আর দক্ষিণে মহানগর পুলিশের অফিসার্স মেস। পশ্চিমে রয়েছে শাহ্ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর ১৯৭০ সালের ৫ ডিসেম্বর নগরীর সিপাইপাড়া এলাকায় জিন্নাহ মিউনিসিপ্যাল পার্কের উদ্বোধন করেন রাজশাহীর তৎকালীন জেলা প্রশাসক কেএ জামান। এর কয়েক মাস পরই স্বাধীনতার লাল সূর্যটা ছিনিয়ে আনার প্রত্যয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে বাঙালি।
খবরটি আজকের পত্রিকা দৈনিক যুগান্তরে সবিস্তারে রাজশাহী ব্যুরুর সাংবাদিক এর বরাতে উঠেছে।
আমার এক সুহৃদ পেইজ বুক বন্ধু এই মাসে ভাষার উপর আমার প্রতিটি কলামে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রায় একই মর্মবস্তু নিয়ে কমেন্ট করে তাঁর মনের অন্তদহনের কথা প্রকাশ করে যাচ্ছে।আমি তাঁর কমেন্ট পড়ে যাচ্ছি কোন উত্তর দিতে পারছিলামনা।আমি নিম্নে তাঁর কমেন্টের আংশীক কপিপেষ্ট করে আপনাদের জ্ঞাতার্থে তুলে দিচ্ছি--
Shaikh Muhammad Robiul Islam
""যে দেশে এখনও ১৯৫২ সালে আমার মাতৃভাষাকে অপমান কারি, পাকিস্তানের জাতির পিতা ( বাংলা ভাষাকে রাষ্টভাষার দাবির বিরধীতাকারী একপষান্ড) কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জীন্নাহ'র নামে বিভিন্ন স্থাপনা, প্রতিষ্ঠান, সড়ক, মহল্লা বা পাড়া এমন কি মসজিদও থাকে ( খুলনায় খাঁন জাহান আলী রোড ও যশোর রোডের সংযোগ স্থানে, ফেরিঘাট মোড়ে অবস্থিত) সেখানে আমরা বড়ই অসহায় । তারা যত গভীরে গিয়ে বাঙ্গালী জাতীর অস্তিমজ্জায় -----!!!""
আমি আশ্চায্যাম্ভীত, মর্মাহত, বেদনাতুর, লজ্জিত,ক্ষুব্দ, অতিশয় বিক্ষুব্দ। রাজশাহীর পার্কের এত বড় নামপলক থাকার পরও কারো নাকি চোখে পড়েনি। বিষয়টি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি,এবং আমাদের ভাষা শহীদদের সাথে প্রতারনার সামিল বক্তব্য বলেই আমি মনে করি। এই বক্তব্য অযোগ্য নেতৃত্বের দুর্বলতাকে ঢাকা দেয়ার কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।
কেন সেখানে নামপলক রয়েছে সারা বাংলার মানুষ জানে।চট্রগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়, চট্রগ্রাম সরকারি মহসীন কলেজ পাকিস্তানী শাষকদের শাষনেই বিগত বছরগুলী শাষিত হয়েছে। সত্য স্বীকারে লজ্জার কিছুই নেই। যে সাংবাদিক ভাই আজকের সংবাদটি পত্রিকায় পরিবেশন করেছেন তিনিও কেন এত বছর পর জানতে পেরেছেন তাও আমরা জানি। সাংবাদিকতার পেশা নীতি আদর্শের পেশা,সাহসিকতার পেশা।যেকোন পরিস্থীতিতে সত্য প্রকাশ করাই তাঁদের ধর্ম।তাঁরা বিগত ৪৪ বছর সেই ধর্ম পালন করতে পারেননি।এখন যথাযথ ভাবে ধর্ম পালনের সুযোগের সৎব্যবহার করার মানষিকতা তাঁদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে। বিলম্বে হলেও খবরটি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।
আমি আমার প্রীয় মুজিব আদর্শের ভাই যারা উল্লেখিত রাজশাহী ও যশোর অঞ্চলে অন-লাইনে কাজ করেন,মুজিব আদর্শ প্রচারে মুল্যবান সময় ব্যয় করেন--তাঁদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি কথাই বলবো।আপনার এলাকায় জিন্নাহ'র স্মৃতি চিহ্ন বহাল তবিয়তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে,শুনতে আপনার নিকট কেমন লাগছে?
২১ তারিখের এখনও নয় দিন সময় বাকি আছে, আগামী সাপ্তাহর মধ্যে একটা দিন ধার্য্য করে জিন্নাহ 'নামপলকের মিনার সহ পাশের গনশৌচাগারে নিক্ষেপ করবেন। আমার আকুল আবেদন থাকবে সাথে আপনারা ইট, বালু, সিমেন্ট, নামপলক নিয়ে যাবেন। গুড়িয়ে দেয়ার সাথে সাথে সাথে নিয়ে যাওয়া নামপলক স্থাপন করে দিবেন। সেই নামপলক ভাষা শহিদের নামের উপর দেয়ার চেষ্টা করবেন।প্রকাশ্য দিবালোকে করবেন,বাঁধা এলে উপড়ে পেলবেন।
বসে বসে শুধু ভাষা আন্দোলনের মহত্ব লিখে গেলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়না। নীজ হাতেও কিছু কাজ করে নিতে হবে।প্রসাশনের উপর ভরসা করে কোন লাভ হবেনা, ওরা অপেক্ষায় আছে তাঁদের দোষর কবে আসবে আবার ক্ষমতায়। এই প্রসাশন আপনাদের সরকারের নিয়োগকৃত প্রসাশন নহে,২১ বছরের কমপক্ষে ২৪টি বেইছ বিসিএস উন্নিত হওয়া তাঁবেদার সন্তানদের ছেলেরা। আপনাদের নেতারা যেমন টাকার বিনিময়ে রাজাকারের ছেলেদের চাকুরির সুপারিশ করেছেন,চাকুরী দিয়েছেন।ওরা টাকা নিয়েছেন ঠিকই তবে নীজেদের সন্তানদের কাছ থেকে নিয়েছেন, চাকুরিও দিয়েছেন। একটা মুক্তিযুদ্ধার সন্তানের চাকুরীর জন্য সুপারীশও করেনি টাকাও নেয়নি,চাকুরিও দেয়নি।যে কয়জন নিয়োগ পেয়েছে একান্ত মেধার বলেই পেয়েছেন,সংখ্যায় অত্যান্ত নগন্য।
এবারের একুশে ফেব্রুয়ারী সকল পাকিস্তানী প্রেতাত্বার স্থাপনামুক্ত ২১শে ফেব্রুয়ারী উৎযাপন করতে চায় জাতি। তাই আসুন যেখানে যার স্থাপনা আছে, সব ভেঙ্গে চুড়ে গুড়িয়ে দিই।আগামী প্রজম্ম যেন প্রশ্ন করতে না পারে, আমার পুর্বজম্মে এই তল্লাটে কোন ভাষা প্রেমিক ছিলনা।,মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোন সচেতন লোক ছিলনা।তাই আমরা আজ এত বছর পর তাঁদের পরবর্তি প্রজম্ম তাঁদের রেখে যাওয়া জঞ্জাল পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।তারা যা পারেনি আমরা তা করে দিয়ে প্রমান করেছি, "আমরা পারি"।
জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
দেশরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন