ভাষার মাসের প্রধান দাবি--এফ,এম রেডিও অবিলম্বে সম্প্রচার বন্ধ করতে হোক ---- ========♥♥♥♥====== বাংলা ভাষা বাঙ্গালীর ত্যাগের ভাষা।পৃথিবীর কোন জাতি ভাষা রক্ষা করার জন্য জীবন দিতে হয়েছে এইরুপ শুনা যায়না।ত্যাগের বিনিময়ে বাংলা বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিয়েছে।অবশ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান জাতি সংঘের সাধারন অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বাংলায় বক্তৃতা করে বাংলার মহত্বতাকে বিশ্বের নিকট তুলে ধরেছিলেন।তাঁরই ধারাবাহিকতায় তাঁর কন্যার নির্ভেজাল সহযোগিতায় বাঙ্গালীর ত্যাগের ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতি সংঘ। জাতি সংঘের সদস্য দেশ সমুহ সেই থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। নি:সন্দেহে ইহা অত্যান্ত গৌরবের বিষয়।কিন্তু এই গৌরবকে ম্লান করে দিচ্ছে এফ,এম রেডিও সহ আরো কতিপয় সম্প্রচার কেন্দ্র।বাংলা ভাষাকে বিকৃত ভাবে উচ্ছারন করে তাঁরা ভাষা শহিদের রক্তের সাথে তামাশাই করছে।এমনিতে বিভিন্ন উপসর্গে ভোগে বাংলা ভাষা স্বাস্থ্যগত ভাবে দুর্বল হওয়ার উপক্রম। নতুন উপসর্গ বিকৃত উচ্ছারন মরার উপর খড়ার গা হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে।বিদেশী শাষন শোষনের নিমিত্তে আমদানী হওয়া শব্দ সমষ্টিতো আছেই, তার উপর বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাংলা ভাষার চারিত্রিক বৈশিষ্টে নিত্য পরিবর্তনের হাওয়া লক্ষনীয় ভাবে ফুটে উঠেছে। বিদেশী ভাষা শব্দমালা,আঞ্চলীক ভাষার প্রয়োগ বাংলার চারিত্রিক বৈশিষ্টে কোন প্রভাব রাখতে পারেনি,বরঞ্চ অনেক ক্ষেত্রে ভাষাকে সমৃদ্ধ ও অলংকারিক করতে সাহায্য করেছে।তাঁরপরও উক্তরুপ ব্যবহারে কোঠোরতা অবলম্বন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ""কিন্তু ভাষাকে বিকৃত, জড়তা মিশিয়ে উচ্ছারন এবং বাংলার সাথে অপ্রয়োজনে ইংরেজী শব্দ মিশিয়ে প্রয়োগ করে বাক্য তৈরী করে বাংলা ভাষাকে ওরা কোথায় নিয়ে যেতে চায় ইহাই ভাবিয়ে তুলেছে সর্বমহলকে।"" ভারতীয় উপমহাদেশ প্রায় সাত শত বছর মোগল ও অন্যান্ন সাম্রাজ্যের করতলগত ছিল। তাঁদের ভাষা রাজভাষা হিসেবে প্রচলিত ছিল।ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক কবি সাহিত্যিকের কবিতায় প্রবন্ধে ফার্সী ভাষার আধিক্য ছিল। মুলত:ঐ সমস্ত শব্দ সমুহ বাংলাকে সমৃদ্ধই করেছিল।ফার্সী ভাষা চাপিয়ে দেয়ার কোন রাজ ফরমান জারি হয়েছিল এইরুপ শুনা যায়না। ইংরেজরা ভারত দখল করার পরও রাতারাতি ইংরেজি ভাষা ভারতবাসীর ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেনি। তারা মোগল রাজদরবারের পোশাক-আশাক, ভাষা বহুদিন অপরিবর্তিত রেখেছিল। তারপরও ইংরেজি ভাষা ভারতের মানুষ সাগ্রহে গ্রহণ করে। এই ভাষা সমৃদ্ধি, শক্তি এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শক্তিশালী বাহন হওয়াই মুল কারন ছিল। ইংরেজি ভাষা শুধু অবিভক্ত ভারতের মানুষের নয়, সারা বিশ্বের মানুষের ভাষা-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বময় ইংরেজ শাষনের পতন হলেও তাঁদের ভাষা এখনও টিকে আছে,সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবেই। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ইংরেজী ভাষার বিশ্বময়তার মৃত্যু হবেনা। ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য এখনও বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে মানুষ ছোটে যাচ্ছে ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অধ্যয়নের জন্য,প্রয়োজনীয় গভেষনার জন্য। "চতুর্মুখী সাঁড়াশি আক্রমনের মুখেও বাংলা ভাষার জাতীয় চরিত্র এখনও অটুট রয়েছে। বাংলাভাষা অন্য কোন ভাষার উপর অধিপত্য বিস্তার করার প্রয়োজনে নয়, অন্যভাষার অধিপত্য থেকে রক্ষার জন্য বাংলাকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। " বাংলা ভাষা এখনও নিজ গৃহে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগের অভাবে পরবাসী। পাকিস্তানিরা উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল,রক্ষা করার জন্য ত্যাগের প্রয়োজন হয়েছে। উর্দুর বদলে বাংলায় এখন আধিপত্য বিস্তার করছে হিন্দি। বাংলা কবিতা গানে অনুপ্রবেশ ঘটছে হিন্দির। আমরা এত দুর্ভাগা জাতি ভালো করে ইংরেজিও শিখছি না,আবার বাংলাও শিখছিনা। শিক্ষিত প্রজন্মের মধ্যে একটা জড়ষড় বাংরেজি ভাষা সৃষ্টি হচ্ছে। ধর্মান্ধতা আমাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা বোধকে ম্লান করে দিচ্ছে। এখনি একুশের ভাষা দিবস উদযাপনে আদি চরিত্র পিরিয়ে আনা প্রয়োজন। শুধু ভাষার মাসে নয়, প্রতিনিয়ত ভাষা উৎকর্ষের প্রয়োজন, বাংলা ভাষার বিজ্ঞানসম্মত উন্নয়ন প্রয়োজন। সব কাজে ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার এ কাজে ভাষা ইনস্টিটিউটকে আরো উদ্যোগী ভুমিকা পালন করার নির্দেশনা দেয়া প্রয়োজন।বিজ্ঞান গভেষনা উপযোগী পুস্তক বাংলায় অনুবাদের প্রতি মনযোগী হতে হবে। অনুবাদের ক্ষেত্রে সরকারী পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। বাংলা কবিতা প্রবন্ধ,বিভিন্ন রচনাবলী অন্য ভাষায় অনুবাদের প্রক্রিয়ায় জোর দিতে হবে। যাহাই করা হোকনা কেন, সর্বাজ্ঞে ""রেডিও এফ,এম,"" এর মত সম্প্রচার কেন্দ্রগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধের এই মাসেই উদ্যোগ নিতে হবে।বিদেশী ভাষার প্রয়োগের জন্য নয়,ভাষা বিকৃতির জন্য বন্ধ করতে হবে।যুৎসই বিদেশী শব্দ বাংলাকে সমৃদ্ধ করতে পারে,বিকৃত উচ্ছারন ভাষার বিনাশ ঘটাতে পারে। ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ার খবর পাঠক,উপস্থাপকদের ভাষা বিষয়ক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা অবশ্যই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাঙের ছাতারমত গজিয়ে উঠা মিডিয়া গুলী অনুষ্ঠানে বৈচিত্রতা আনায়নের জন্য এমন সব নতুন প্রজম্মের তরুন তরুনীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে যাদের বাংলা উচ্ছারনে "তথাকথিত বৈচিত্রে "বাংলার বারটা বাজতে আর বেশি দেরী হবেনা। এই ভাষার মাসেই উদ্যোগ গুলী নিতে হবে। কতৃপক্ষের মনে রাখা উচিৎ, "মা'' মাকড়সা ডিম দিয়ে বাচ্ছা করে,সেই বাচ্ছাই মা মাকড়সাকে খেয়ে ক্ষুধা নিবারন করে।যথাসময়ে যথাকাজটি না করা হলে অসময়ে কাজটি করা সহজ সাধ্য হয়ে উঠেনা। অন্য ভাষার নতুন কোনো হামলায় আমাদের ভাষা জাতীয়তাবোধের দুর্বল দুর্গ বিপন্ন হওয়ার আগেই ব্যবস্থা গ্রহন করা মহান ভাষার মাসের মহৎ দাবী পুরনের মহতি উদ্যোগ হতে পারে। জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু জাতির পিতার যোগ্য কন্যা, দেশরত্ম শেখ হাসিনা

  এফ,এম রেডিও সহ আরো কতিপয় সম্প্রচার কেন্দ্র,বাংলা অন-লাইন,অপ-লাইনের পত্রিকা,ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ার অধিকাংশ কেন্দ্র প্রতিযোগিতামুলক ভাবে বাংলা ভাষা বিকৃতি শুরু করেছে।অবিলম্বে এই অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা বন্ধ না হলে বাংলা বিকৃত এক ভাষায় রুপ নিতে দেরী হবে না।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg