২১শের চেতনা নস্যাতে-মেজর জিয়া ধর্মকেই হাতিয়ার করছিল--- ================================= ফেব্রুয়ারী মাস বাঙ্গালী জাতির জন্য এক অনন্য মাস।১৯৫২ ইং সালের ২১ফেব্রুয়ারী ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তা বোধের যে চেতনা বাঙ্গালী মননে চুড়ান্ত রেখাপাত করেছিল,তাঁরই ধারাবাহিকতায় বাঙ্গালীরা ১৯৭১ ইং সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।তাই সঙ্গত কারনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকারে রুপ পরিগ্রহ করে সর্বস্তরের বাঙ্গালীদের ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবোধ, অবশ্য অখন্ড পাকিস্তানের পুর্বাংশে বসবাসরত হিন্দূ-মুসলিম বাঙলা ভাষাবাসির মধ্যেই ভাষা আন্দোলনের বিস্তৃতি ঘটেছিল। তাই আন্দোলনের প্রাথমিক পয্যায় থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতার চরিত্র ও বৈশিষ্টে ভাষা আন্দোলনের মুল চেতনার রুপ পরিগ্রহ করে।তাছাড়া এই এলাকায় বসবাসরত হিন্দু, মুসলিম বাংলা ভাষাবাসি বাঙ্গালীদের সংস্কৃতি কৃষ্টি, চালচলন,আচার আচরন, উৎসব পার্বন আবহমানকাল থেকে একই বৃত্তে বন্দি হওয়ায় উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অভাবনীয় মিল খোঁজে পাওয়া যায়। বাঁচার তাগিদে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া মেজর জিয়া দ্বি-জাতিতত্বের পাকিস্তানী ধারাকে প্রতিষ্ঠিত করার মানষে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে অনুসরন করে এই ক্ষেত্রেও বাঙ্গালী সরলপ্রান মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে স্বার্থ্য সিদ্ধির উদ্দেশ্যে নীজে এবং তাঁর পরিবার সম্পুর্ন পাশ্চাত্য ধারায় জীবন যাপনে অভ্যস্ততা সত্বেও ক্ষমতা দখলের প্রারম্ভে প্রথম জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষনে "বিসমিল্লাহ হির রাহ মানির রাহিম" উচ্চারন করে ভাষন শুরু করেন। যদিও আরবী চর্চায় অনভ্যস্ততার কারনে উচ্চারনে যথেষ্ট অসংগতি সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।একই চিত্র তাঁর নাজায়েজ সহধর্মীনি বেগম জিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধারাবাহিকতা দেখা যায়। আবহমান বাঙ্গালী মুসলমান নারীদের চিরায়ত রীতি মাথায় ঘোমটা পরিধান করে চলাপেরা করা।বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে তা কখনও দেখা যায়নি,এখনও দেখা যায়না।অথছ সরল প্রান মুসলমানদের সস্তা ধর্মীয় অনুভুতিকে রাজনীতি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সাম্প্রদায়িকতার পুরাতন ধারা পিরিয়ে আনে। বিদেশী উপনিবেশিক শাষকদের অনুকরনে শোষনের ধারা অব্যাহত রাখতে অতীতের পাকিস্তানী শাষকদের মতই ধর্মীয়জ্ঞানে সমৃদ্ধ না হওয়া সত্বেও ধর্মকে ডাল হিসেবে ব্যবহার করার নীতি গ্রহন করে। ভাষা শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে উঠা অসাম্প্রদায়ীক চেতনাকে কবর দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাস্প ছড়িয়ে দেয়। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা উচ্ছেদ করার পরিকল্পনাই এসেছে পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক চেতনার উৎস থেকে।সেন্টিমেন্ট থেকে। ভাষা আন্দোলন ছিল সর্বতোভাবে ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলন। জিয়াউর রহমান সামরীক ফরমান জারি করে ‘বাংলাদেশি’ শব্দের আড়ালে ভাষা আন্দোলনের স্পর্ধাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৭২-এ প্রণীত সংবিধানকে তিনি ইসলামিকরণ করে ভাষা আন্দোলনের চেতনায় গড়ে উঠা মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারকে বাঙ্গালী জাতীয়তা বোধকে কবর দিয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতায় আরোহন করেই বিসমিল্লাহ করে প্রথমে জাতির জনকের সরকার কতৃক "মদ জুয়া" নিষিদ্ধ করে জাতীয় সংসদে পাশ করা আইন বাতিল করে দেন।অবাধে মদ জুয়ার লাইসেন্স প্রদান করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির পথ পরিস্কার করে দেন। জাতির জনকের সরকার কতৃক অনৈসলামিক কর্মকান্ড রোধে পতিতাবৃত্তি সহ উলঙ্গনৃত্য রোধে বিধিনীষেদ প্রত্যাহার করে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স প্রথা চালু করেন। যুবকদের নৈতিক পদস্থলনের অন্যতম উপায় উলঙ্গনৃত্য চালু করে দেশব্যাপি চরম অপসংস্কৃতি লালনের লীলাভুমিতে পরিনত করেন।তৎসময়ে উদ্ভব হয় প্রিন্সেস সংস্কৃতি,পালিয়ে যায় বাংলার ঐতিহ্যের জারি,সারি,পালাগান, যাত্রা আর পুথির সংস্কৃতি।জায়গা করে নেয় প্রিন্সেস জরিনা, প্রিন্সেস ডলি,প্রিন্সেস রত্মা নামে অসংখ্য অগনিত অপসংস্কৃতির কীট। জাতির জনকের সরকার"তথাকথিত" ইসলামী পাকিস্তানী সরকার " কতৃক উপমহাদেশের বৃহত্তর জুয়ার আসর "রেস কোর্স ময়দানকে" ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জুয়ার (বড় আসর) প্রচলন নিষিদ্ধ করে তথায় গাছের বাগান করে বাংলার স্বাধীনতার অন্যতম আর এক মনিষী হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর নামে "সরওয়ার্দী উদ্যান " নামকরন করেন। সচুতুর মেজর জিয়া মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে জাতিকে প্রস্তুতিমুলক, দিকনির্দেশনামুলক জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনের স্পৃহা জনমন থেকে মুছে দেয়ার লক্ষে এবং বাংলার আর এক ঐতিহাসিক ব্যাক্তিত্বের নাম মুছে দেয়ার লক্ষে তথায় শিশুপার্ক করে।উদ্দেশ্য ছিল সরোওয়ার্দী উদ্যানকে ভীন্ননামে আগামী প্রজম্মের নিকট তুলে ধরা। আল্লাহ তাঁর রাসুলের মাধ্যমে প্রেরন করেছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির ধর্ম ইসলাম,পৃথিবীর পথভ্রষ্ট মানব জাতিকে পথ দেখানোর জন্য সার্বজনীন করে।একক কোন জাত গোষ্টিকে অপব্যবহার করার জন্য নহে।ইসলামকে একক ব্যবহার করতে গেলেই তাঁর সার্বজনীনতার ব্যাঘাত ঘটে।তাই মহান আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল স্ব স্ব মাতৃভাষার মর্যাদা দিয়েছিলেন, দেশপ্রেমের মর্যাদা দিয়েছিলেন। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স:)দশম হিজরির ৮ জিলহজ সমগ্র মানব্জাতির উদ্দেশ্যে তার বিদায় হজ্বের মহামুল্যবান ভাষণটি দেন। ঐ ভাষন সম্পর্কে মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ তার ‘বিদায় হজ’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন মহানবী কীভাবে তার ভাষণটি শুরু করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘নবী প্রথমে আকাশের দিকে চাহিয়া তাহার প্রভুর প্রশংসা ও শোকর গোযারি করিলেন এবং তারপর উদাত্ত কণ্ঠে তাঁর বক্তৃতা প্রদান শুরু করিলেন।" অর্থাৎ মহানবীও ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ভাষণটি শুরু করেননি। সৃষ্টির আদিকাল থেকে চলে আসা মানব সভ্যতার প্রথম ও প্রধান চুক্তি বা সংবিধান বা আইন যাই বলিনা কেন "মদীনা সনদ"।মদিনা সনদের প্রারম্ভেও ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা নেই। মহান আল্লহর অশেষ মেহেরবানীতে নবী করিমের কায্যাদি নির্বাহ যদি হয়ে থাকতো আল্লাহর হুকুমেই তবে তিনিও কি ভুল করেছিলেন? আল্লাহ তাঁর প্রেরিত সার্বজনীন ধর্মকে এককত্বের পিঞ্জরে বন্দি করে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে সামান্যতম খাটো হতে দেননি। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ধর্মীয় ভণ্ডামি থেকে মেজর জিয়া সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেন। জাতীয় সংবিধান একটি সর্বজনীন দলিল। সেই দলিলে একটি ধর্মের প্রাধান্যের ঘোষণা লিপিবদ্ধ করা হলে সেই সংবিধান সাম্প্রদায়িক দলিলে রূপান্তরিত হয়। জিয়া সেই কাজটি করেছেন অবলিলায়। জাতির জনকের রাজনীতির,জতীয়তাবোধের উৎপত্তি,বাঙ্গালীর স্বাতন্ত্রতাবোধের চেতনার উৎস ভাষা আন্দোলনের অপরিসিম শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য। ভাষা আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জিয়া বিশ্বাস করতেন না। উচ্চাবিলাসী নিলজ্জ জিয়া ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বেতারে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা দিয়ে সমগ্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। চাপের মুখে সাথে সাথে বেহায়া জিয়া আবার প্রত্যাহারও করেছিলেন। তাঁর সম্পুর্ন কর্মকান্ড পয্যালোছনা করলে স্পষ্ট যে, তিনি পরিবেশের চাপে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি অনেক ক্যাম্পে মুজিবনগর সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেই প্রমানাদিও জাতির জনককে দেয়া হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু খবর পেয়েছিলেন পাকিস্তান থেকে ‘সোয়াত’ জাহাজে অস্ত্র আসছে চট্রগ্রাম বন্দরে। এই খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান মেজর জিয়াউর রহমানের কাছে লোক মারফত খবর পাঠান যেন চট্টগ্রামে ‘সোয়াত’ থেকে যেন অস্ত্র না নামানো হয়--জিয়া বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মান্য করেননি। বঙ্গবন্ধু আর জিয়ার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। ড. রফিকুল ইসলাম সম্পাদিত "সম্মুখ সমরে বাঙালি" বইয়ে সংকলিত ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের প্রবন্ধে তথ্যটি দেয়া আছে। আবদুল মতিনের বইতে লেখা আছে জেনারেল ওসমানী জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন বেঈমানির কারনে ফায়ারিং স্কোয়ার্ডে মৃত্যুদন্ড দিতে চেয়েছিলেন। প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি। অথচ ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জিয়ার জ্ঞাতসারেই খন্দকার মোশতাক ডালিম-ফারুকদের কেন্দ্রীয় কারাগারে "জাতীয় চার নেতা হত্যার" নির্দেশ দিয়েছিলেন মেজর জিয়া।জিয়া ক্ষমতার মুল মসনদ দখল করার আগে ঠান্ডামাথায় প্রতিপক্ষ মুক্তিযুদ্ধা সেনা অফিসার নিধন প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। জিয়া প্রথমেই তাঁর জীবনদাতা খালেদ মোশারফ, কর্নেল তাহেরকে হত্যা করে তাঁর হত্যা মিশন শুরু করেছিলেন। ক্ষমতায় গিয়ে কাল্পনিক অভ্যুত্থানের নাটক সাজিয়ে হাজার হাজার মুক্তিযুদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে ক্ষমতা নিস্কন্টক করতে চেয়েছিলেন। দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর সরকার অবিভক্ত বাংলার সিভিল সার্জেন্ট ও প্রাক্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের সচিব এ রবকে প্রধান করে জাতীয় পে-কমিশন গঠন করেন। কমিশনকে সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেতনের স্কেল নির্ধারণের পরামর্শ দেয়া হয়। কমিশন তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে বুলগেরিয়া, যুগোশ্লাভিয়া ও পূর্ব জার্মানিতে সে দেশের পে-পলিসি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রেরণ করেন। সে দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন জিয়াউর রহমান। অথচ এই পে-কমিশনের একজন প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর জন্য যে গ্রেডের ও পে-স্কেলের সুপারিশ করেন তা সেনাবাহিনীতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর সমর্থন সরকারের উপর না থাকার জন্যই কাজটি করেছিলেন। সেনা বাহিনীর মাথা গরম করার জন্য এই কৌশল গ্রহণ করেছিলেন বলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা অওরবর্তিতে একাদিক সাক্ষাৎকারে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিষদভাবে উল্লেখ আছে (অধ্যাপক আবু সাইয়িদ-বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ফ্যাক্টস্ এন্ড ডকুমেন্টস পৃ : ৯৮) মুক্তি যুদ্ধের সময় জেনারেল ওসমানীকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে অপসারণের চক্রান্ত, সর্বোপরি যুুদ্ধের সময় সর্বক্ষেত্রে তার অদক্ষতা ও ব্যর্থতার জন্য মুজিবনগর সরকার কর্তৃক কায্যত:" জেডফোর্স "ভেঙেদেয়া ইত্যাদি কারণে সেনাপ্রধান পদে তার নিয়োগ ওসমানী এবং তাজউদ্দীন আহমদ দুজনেরই ঘোর অসম্মতি ছিল। (আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী- বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনী পৃ : ১৫)বইটিতে পুর্নাঙ্গ তথ্য দেয়া আছে। জিয়াউর রহমানের উচ্চাভিলাষ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগ নেতারা সচেতন ছিলেন। জেনারেল ওসমানীও সন্দিহান ছিলেন। এ সময় জিয়াকে পূর্ব জার্মানিতে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কৌশলী জিয়া কর্নেল খুরশিদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কাছে সুপারিশ পাঠান। তাতে কাজ নাহওয়াতে কর্নেল হামিদকে ধরে, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েলকে ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সক্ষম হন। (কর্নেল হামিদ- তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা)।বইটিতে তথ্য সন্নেবেশিত রয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার ১০ দিন পর উপ সেনাপ্রধান থেকে সেনাপ্রধান, আড়াই মাস পর সেনাপ্রধান এবং ডেপুটি সামরিক আইন প্রশাসক, আধা বছর পর সেনাপ্রধান এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও অর্থমন্ত্রী, সোয়া এক বছর পর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, সেনাপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি হন। হুবহু মীর কাশিমের চরিত্র যেন নকল করা।’ (মিনা ফারাহ- হিটলার থেকে জিয়া, পৃ : ৬৭)। সুপ্রিয় পাঠকগনলক্ষ করলে দেখা যায়-- বাঙ্গালী, বাংলাদেশ,বাঙ্গালী জাতিকে নিয়ে যতবারই ষড়যন্ত্রের জাল পাতা হয়েছে ততবারই পবিত্র ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করা হয়েছে।বারবার যত্রতত্র এই মহান শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে ধর্মের আবেদনকে তাঁরা নষ্ট করেছে।তাই দেখা যায়, মাল্টিপারপাস খ্যাত বা ইসলামী অর্থলগ্নিকারি প্রতিষ্ঠান সমুহ যত্রতত্র ইসলামী পবিত্র "শব্দসমুহ "ব্যবহার করে "সুদের মত" হারাম ব্যবসায় জড়াতেও বাংলাদেশের মুসলমান ভাইয়েরা দ্বিধাবোধ করছেনা। যতবারই ইসলামকে বা ইসলাম ধর্মকে সামনে রেখে কায্যসীদ্ধির চেষ্টা হয়েছে,ততবারই ইসলাম সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান বহন করেনা-এমন ব্যাক্তিরাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান সৃষ্টি থেকে অদ্যাবদি নন্যুন্নতম ইসলামী অনুশাষন না মানা ব্যক্তিরাই, ইসলামের বা ইসলাম ধর্মের দোহাই দিয়ে নেতৃত্ব দেয়ার চেষ্টা করেছে। বাঙ্গালী জাতি বার বার তাঁদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ধর্মব্যবসায়ীদের চক্রান্ত রুখে দিয়েছে। পাকিস্তান সৃষ্টির দ্বিজাতি তত্ব থেকে বিগত শাফলাচত্বরে সফি সাহেবের অবস্থান পয্যন্ত একই ধারাবাহিকতার প্রমান দেয়।কায়েদে আজমের ইসলাম থেকে বেগম জিয়ার সাম্প্রতিক সফি হুজুরের শাফলা চত্বরে অবস্থানকে সরকার উৎখাতের ঘোষনা একই গোলক ধাঁধায় আবর্তিত। >>>>>>>>>>>>>>চলবে>>>>>>>>>>>>>>>>>> জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা

    বাঙ্গালীর হাজার বছরে গড়ে উঠা ইতিহাস ঐতিহ্যকে মুছে দিয়ে,আবহমানকাল থেকে লালিত সংস্কৃতি কৃষ্টিকে বিজাতীয় ভাবধারার সংমিশ্রন ঘটিয়ে ঐতিহ্য নষ্ট করে দীর্ঘদিন শাষন শোষনের পথ পরিস্কার করেছিলেন।একাজে সর্বাজ্ঞে ব্যবহার করেছেন মানুষের পবিত্র ধর্মীয় অনুভুতিকে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg