সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের বিরুধীতা করে স্বাধীনতা বিরুধী দল হিসেবে মুখোষ উম্মোচন করেছেন---
=====♥♥♥♥♥=====
রাজনীতির সমশক্তি হারিয়ে বিএনপি দুটি পথ আঁকড়ে ধরেছে খুব শক্ত করে। প্রথমটি হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা প্রদান এবং মীমাংসিত সত্য সমুহকে নতুন করে উত্থাপন করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, রাজনীতির প্রচলিত ধারা মিটিং, মিছিল, পথসভা, পোষ্টারিং, জনসভার ধারাকে পরিবর্তন করে মিডিয়া নির্ভর, দালাল নির্ভর, বিদেশ নির্ভর, সন্ত্রাস নির্ভর, ষড়যন্ত্র নির্ভর ও বিবৃতি নির্ভর করে তোলা। অর্থাৎ মেজর জিয়ার হাতে যে রীতিতে উৎপত্তি হয়েছিল সেই ধারায় ফেরৎ যাওয়া।
প্রথম বিষয়টি নিয়ে প্রপাগান্ডা করার মিশন হাতে নেয়ার জাতীয় ও আন্তজাতিক বহুবিধ কারন বিদ্যমান রয়েছে। উল্লেখিত মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, জাতির জনক ইত্যাদি বিষয় দলীয় অবস্থান তুলে ধরাও সময়ের দাবি ছিল। ইতিমধ্যে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি,দলটির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষনাকারি প্রচার করা যতদিন প্রয়োজন ছিল ততদিন প্রচার করেছে। সুবিধা যা নেয়ার প্রয়োজন ছিল এবং মুক্তিযুদ্ধাদের যতটুকু সমর্থন দরকার ছিল ততটুকু নিষ্কাষন হয়ে গেছে। তাছাড়া তৎসময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি প্রমান না করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান নেয়া দুষ্করই ছিল। কারন সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত শিশু বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবচিত্র স্বচক্ষে দেখা সকল শ্রেনী পেশার মানুষ তখনও জীবিত এবং রাজনীতিতে সক্রিয়। মুক্তিযুদ্ধারা ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করে যথোপযুক্ত কাজের সন্ধান না পেয়ে দিকভ্রান্ত। যে কোন অপরাজনীতি, স্বাধীনতা বিরুধী চক্রান্তে রাজপথে নেমে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা ছিল। ফলে স্বাধীনতার বিপক্ষ দেশী বিদেশী শক্তি সমুহ মুক্তিযুদ্ধের ভিতরে লুকিয়ে থাকা গুপ্তচর মেজর জিয়াকেই বেছে নিয়েছিল- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির বিপরীতে বিপক্ষ শক্তির সংগঠিত হওয়ার কুশিলব হিসেবে।দীর্ঘ ২১বছর এহাত ঐহাত করে যাঁদের পুর্ণবাসন দরকার ছিল তাঁদের পুর্ণবাসন করার কাজ শেষ।অর্থবিত্ত বিদেশীদের সমর্থন ইত্যাদি মিলে মহিরুহ আকারই ধারন করা সম্ভব হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ এবং তাঁর মিত্রদের যতদিন খাঁচায় বন্দিরাখার প্রয়োজন ছিল তাঁরচেয়ে বেশীই রাখা সম্ভব হয়েছে।
আওয়ামী লীগ যেহেতু তাঁর পুর্নশক্তি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা এবং ঐতিহ্যে ফেরৎ এসে গেছে সুতারাং এইখানে বিভ্রান্ত,প্রতারনা, বা অন্যকোন উপায়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে বিভ্রান্ত করে ফায়দা আদায় সম্ভব হবেনা। তাঁর চেয়ে বরং উদ্দেশ্যের জায়গায় ফেরৎ যাওয়াই যুক্তিযুক্ত হবে।বিলম্বে স্বাধীনতা বিরুধী সাম্রদায়ীক শক্তির মধ্যে নতুন নেতৃত্বের মেরুকরনে- তাঁদের সমর্থন হারানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠতে পারে। মুল চরিত্রে ফিরে আসায় সাম্প্রদায়ীক শক্তি, বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্র সমুহ-যারপরনাই খুশী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।তাঁদের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক অন্যান্ন ঐকান্তিক সমর্থন বীনাপরিশ্রমে,বিনাবাক্যব্যয়ে পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থেকে উজ্জলতর হবে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান এইক্ষেত্রে শতভাগ সঠিক, যুগান্তকারী , বাস্তবসম্মত, শঠতাবর্হিভুত, প্রতারনা বর্জিত, দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সাথে সম্পুর্ন সংগতিপুর্ণ। রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্কার করে দলটি সবিশেষ উপকারিতা পাবে চিন্তাধারা থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ৪৪বছর পর মখোশ উম্মোচন করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধা মেজর জিয়ার কুকীর্তি জনসমক্ষে প্রচারিত হয়নি। সেই সুবাধে জাতির জনকের নির্মম হত্যাকান্ডের পর দিকভ্রান্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির একাংশ জিয়াকে অবলম্বন ভেবে মাথায় তুলে নিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি জাসদ। বিচ্ছিন্নভাবে কর্নেল অলি, সাদেক হোসেন খোকা,মেজর আক্তারুজ্জমান,মেজর জিয়া,কর্নেল অব: জাপর ইমাম বীর বিক্রম সহ অনেকেই।
১৫ই আগষ্টের পর ৭ই নভেম্বর মাত্র তিন মাসের মধ্যে জাসদ তাঁদের ভুল বুঝতে পারলেও, ক্ষোভে দু:খ্যে একে অপরকে দোষারপের বলয়ে বহুধাবিভক্ত হয়ে বর্তমানে রাজনীতিতে ভাঁড়ের ভুমিকায় অবতিন্ন হয়েছে।তাঁদের একাংশ মহাজোটে অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারের মন্ত্রীত্ব পেয়ে অতীতের জ্বালা মিটাতে অরাজনৈতিক, কুরুচিপুর্ণ বক্তব্য দিয়ে প্রকারান্তরে সরকারকেই বিব্রত করে চলেছে প্রতিনিয়ত। অন্য বিচ্ছিন্ন মুক্তিযুদ্ধারা প্রতিনিয়ত বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছে, বর্তমান বিএনপি মেজর জিয়ার বিএনপির অবস্থান থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। অর্থাৎ তাঁরা প্রকারান্তরে বুঝাতে চেষ্টা করেন মুক্তিযুদ্ধা মেজর জিয়ার দল রাজাকার তোষননীতি, রাজাকার পুর্নবাসননীতি সমচীন হচ্ছেনা। মুলত: তাঁরা জিয়ার দলে মিলেমিশে একাকার হয়ে অতীতে যে ভুল করেছেন সেই ভুলের প্রায়চিত্ত করার কোন রাস্তা না পেয়ে বেগম জিয়ার উপর দোষ চাপিয়ে জনগনের নিকট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারনকারি ব্যক্তি ও দল প্রমান করার প্রানান্তকর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে,বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতিতে দিকভ্রান্ত বিএনপি গনতন্ত্রকে উন্নয়ন অগ্রগতির সংগে সাংঘর্ষিক অবস্থানে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত গনতন্ত্রের মায়াকান্নায় বিভোর।যেহেতু দলটি তাঁর আদর্শিক অবস্থানে থেকে জ্বালাও পোড়াও, নাশকতা ইত্যাদি আইন শৃংখলা অবনতিকর কর্মসুচি দিয়ে জনসম্পৃত্ততা হারিয়েছে তাই বিবৃতি,সেমিনার, টকশো নির্ভর হয়ে কোনরকমে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। রাজপথে নামার নৈতিক অধিকার হারিয়ে রাজনৈতিক বিকারগ্রস্ততার শিকারে পরিনত হয়েছে। রাজপথে জনপ্রতিরোধের মুখে বিশদলের শীর্ষ নেত্রীকে ভোট প্রার্থনা পরিত্যাগ করে কয়েকবার ফেরৎ আসতে হয়েছে। তাছাড়া নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অতীত অভিজ্ঞতাও দলটির নেই।
মুলত: দেশী বিদেশী শক্তির ইন্দনে জাতির পিতার সরকারকারকে বিব্রত করে,আইন শৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে যে রীতিতে দলের প্রতিষ্ঠাতা ক্ষমতা দখল করেছিলেন,সেই একই পদ্ধতি বেগম জিয়া গ্রহন করেন।কিন্তু বিধিবাম, ষড়যন্ত্রের কুশিলবেরা এবং সব সেক্টর সমভাবে মাঠে না নামায় চরমভাবে জাতির পিতার জৈষ্ঠকন্যার বিচক্ষনতা, ধৈয্য, সহশীলতার নিকট চরম পরাজয় বরন করে অফিস ছেড়ে বাসায় গমন করতে বাধ্য হয়। পরাজয়ের গ্লানীতে ভোগে দলটি বহুধাভাগে বিভক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি বহুলাংশে কমে প্রকাশ্য সভায় মারামারী পয্যায় গড়িয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়ার খেশারত প্রতিনিয়ত দলকে দিতে হচ্ছে।দলটি এতই জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, গত পৌর নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীদের সামান্য প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়েছে। রাজপথে নামার শক্তি সামর্থ হারিয়ে মিডিয়া, টক শো, বিবৃতির মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দিতে বর্তমান অগ্রসরমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামান্য বিবেকে বাধা দিচ্ছেনা।
রাজনীতির অনেকটা মিডিয়া নির্ভর হয়ে পড়ায় গণতন্ত্র সম্পর্কে রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা মিডিয়ার কল্যাণে শোনা যায়।আবার ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যে সব টকশো হয়- তাতেও গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রতিনিয়ত শ্রোতারা নানা কথা শুনে। প্রিন্ট মিডিয়ায় যেসব লেখালেখি হচ্ছে তাও পড়ে নানা কথা জানা যাচ্ছে। গণতন্ত্র সম্পর্কে বিএনপি ও বাম সংগঠনগুলোর নেতাদের বক্তব্যকে এক বা অভিন্ন বলে অভিহিত না করেও যে সুরটি উভয়ের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে তা হচ্ছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ-বিএনপির অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ হয়নি। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, দেশে এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে সেটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।ফলে দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই, গণতন্ত্র বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। বিএনপি এখন তাই গণতন্ত্রের মায়াকান্নাই শুধু নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাঠে নামতে নেতাকর্মীকে সংঘবদ্ধ হতে বলছে।জনগণকে সমর্থন জানাতে আহ্বান জানাচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার জ্বালাময়ী প্রতিটি ভাষণেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে বিএনপির পেছনে দাঁড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগকে তিনি গণতন্ত্র হরণকারী এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবেও বারবার অভিহিত করে বক্তৃতা করছেন।
এখানে শুভংকরের ফাঁক সৃষ্টি করে ভোটের সাথে উন্নয়ন অগ্রগতিকে এক ও অভিন্ন করে একে অপরের সাথে বৈরীতার সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত থেকে আরেকবার পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে সকলের অগোচরেই চলে যাচ্ছে দলটি। অনভিজ্ঞ রাজনীতিকদের সেই দিকে কোন লক্ষই নেই।
গনতন্ত্র যে সমাজে থাকেনা সেই সমাজে উন্নয়ন হতে পারেনা।আমাদের পাশ্ববর্তি দেশ মিয়ানমার তাঁর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।ভারতীয় উপমহাদেশের সমৃদ্ধশালী দেশ গনতন্ত্রের অভাবে দারিদ্রের নীছে বসবাস করছে। দারিদ্রের কষাঘাতে অধিবাসী ননধিবাসী বিতর্কে বাংলাদেশে প্রায় দুই লক্ষ মিয়ানমার শরনার্থী বিগত কয়েক বছর দুর্বিসহ জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রেই যদি গনতন্ত্রের উপস্থীতি না থাকে তবে তাঁদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক এত উন্নয়ন অগ্রগতি হচ্ছে কি করে? গনতন্ত্র যদি নাইবা থাকে, সরকার যদি অবৈধই হয় তবে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনে কিভাবে অংশগ্রহন করছে? অবৈধ সরকারের নির্বাচন অবৈধ নয় কি?
মুলত: বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতির দৃশ্যমান ধারাবাহিকতা দেশের অভ্যন্তরে এবং বিশ্বব্যাপি প্রসংশার মুখে দিশেহারা হয়ে,ক্ষমতা পাওয়ার আশা নির্বাসনে যাওয়ায় রাজনৈতিক শিষ্টাচার, রীতিনীতি, ধারা ভুলে জ্ঞানশুন্যের মতই বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতির সাধারন ধারাবাহিকতা কে জনমন থেকে মুছে দেয়ার এক অশুভ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। ডান-বামের এই মহামিলন জাতির পিতাকে বাঙ্গালী জাতির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।অশুভ চক্রটি এখনও তাঁদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে তাঁর কন্যাকেও বাঙ্গালী জাতির কাছ থেকে চিনিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত।
বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অশুভ শক্তির চক্রান্ত রুখে দিয়ে আগামী ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে উন্নত,সমৃদ্ধ করবে ইনশাল্লাহ।সেই লক্ষ নিয়ে জাতির জনকের কন্যা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে জাতিকে দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষেই এগিয়ে নিচ্ছেন দেশকে। জয় ইনশাল্লাহ হবেই হবে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তুদেশরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন