বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের বিরুধীতা করে স্বাধীনতা বিরুধী দল হিসেবে মুখোষ উম্মোচন করেছেন--- =====♥♥♥♥♥===== রাজনীতির সমশক্তি হারিয়ে বিএনপি দুটি পথ আঁকড়ে ধরেছে খুব শক্ত করে। প্রথমটি হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা প্রদান এবং মীমাংসিত সত্য  সমুহকে নতুন করে উত্থাপন করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, রাজনীতির প্রচলিত ধারা মিটিং, মিছিল, পথসভা, পোষ্টারিং, জনসভার ধারাকে পরিবর্তন করে মিডিয়া নির্ভর, দালাল নির্ভর, বিদেশ নির্ভর, সন্ত্রাস নির্ভর, ষড়যন্ত্র নির্ভর ও বিবৃতি নির্ভর করে তোলা। অর্থাৎ মেজর জিয়ার হাতে যে রীতিতে  উৎপত্তি হয়েছিল  সেই ধারায় ফেরৎ যাওয়া।      প্রথম বিষয়টি নিয়ে প্রপাগান্ডা করার মিশন হাতে নেয়ার জাতীয় ও আন্তজাতিক বহুবিধ কারন বিদ্যমান রয়েছে। উল্লেখিত মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, জাতির জনক ইত্যাদি বিষয় দলীয় অবস্থান তুলে ধরাও সময়ের দাবি ছিল। ইতিমধ্যে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি,দলটির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষনাকারি প্রচার করা যতদিন প্রয়োজন ছিল ততদিন প্রচার করেছে। সুবিধা যা নেয়ার প্রয়োজন ছিল এবং মুক্তিযুদ্ধাদের যতটুকু সমর্থন দরকার ছিল ততটুকু নিষ্কাষন হয়ে গেছে।  তাছাড়া তৎসময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি প্রমান না করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে  অবস্থান নেয়া দুষ্করই ছিল। কারন সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত শিশু বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবচিত্র স্বচক্ষে দেখা সকল শ্রেনী পেশার মানুষ তখনও জীবিত এবং রাজনীতিতে সক্রিয়। মুক্তিযুদ্ধারা ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করে যথোপযুক্ত কাজের সন্ধান না পেয়ে দিকভ্রান্ত। যে কোন অপরাজনীতি, স্বাধীনতা বিরুধী চক্রান্তে রাজপথে নেমে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা ছিল। ফলে স্বাধীনতার বিপক্ষ দেশী বিদেশী শক্তি সমুহ মুক্তিযুদ্ধের ভিতরে লুকিয়ে থাকা গুপ্তচর মেজর জিয়াকেই বেছে নিয়েছিল- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির বিপরীতে বিপক্ষ শক্তির সংগঠিত হওয়ার কুশিলব হিসেবে।দীর্ঘ ২১বছর এহাত ঐহাত করে যাঁদের পুর্ণবাসন দরকার ছিল তাঁদের পুর্ণবাসন করার কাজ শেষ।অর্থবিত্ত বিদেশীদের সমর্থন ইত্যাদি মিলে মহিরুহ আকারই ধারন করা সম্ভব হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ এবং তাঁর মিত্রদের যতদিন খাঁচায় বন্দিরাখার প্রয়োজন ছিল তাঁরচেয়ে বেশীই রাখা সম্ভব হয়েছে।   আওয়ামী লীগ যেহেতু তাঁর পুর্নশক্তি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা এবং ঐতিহ্যে ফেরৎ এসে গেছে সুতারাং এইখানে বিভ্রান্ত,প্রতারনা, বা অন্যকোন উপায়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে বিভ্রান্ত করে ফায়দা আদায় সম্ভব হবেনা।  তাঁর চেয়ে বরং উদ্দেশ্যের জায়গায় ফেরৎ যাওয়াই যুক্তিযুক্ত হবে।বিলম্বে স্বাধীনতা বিরুধী সাম্রদায়ীক শক্তির মধ্যে নতুন নেতৃত্বের মেরুকরনে- তাঁদের সমর্থন হারানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠতে পারে। মুল চরিত্রে ফিরে আসায় সাম্প্রদায়ীক শক্তি, বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্র সমুহ-যারপরনাই খুশী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল  হবে।তাঁদের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক অন্যান্ন ঐকান্তিক সমর্থন বীনাপরিশ্রমে,বিনাবাক্যব্যয়ে পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থেকে উজ্জলতর হবে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান এইক্ষেত্রে শতভাগ সঠিক, যুগান্তকারী ,  বাস্তবসম্মত, শঠতাবর্হিভুত, প্রতারনা বর্জিত, দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সাথে সম্পুর্ন সংগতিপুর্ণ। রাজনৈতিক অবস্থান  পরিস্কার করে দলটি সবিশেষ উপকারিতা পাবে চিন্তাধারা থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ৪৪বছর পর মখোশ উম্মোচন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধা মেজর জিয়ার কুকীর্তি জনসমক্ষে প্রচারিত হয়নি। সেই সুবাধে জাতির জনকের নির্মম হত্যাকান্ডের পর দিকভ্রান্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির একাংশ জিয়াকে অবলম্বন ভেবে মাথায় তুলে নিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি জাসদ। বিচ্ছিন্নভাবে কর্নেল অলি, সাদেক হোসেন খোকা,মেজর আক্তারুজ্জমান,মেজর জিয়া,কর্নেল অব: জাপর ইমাম বীর বিক্রম সহ অনেকেই।      ১৫ই আগষ্টের পর ৭ই নভেম্বর মাত্র তিন মাসের মধ্যে জাসদ তাঁদের ভুল বুঝতে পারলেও, ক্ষোভে দু:খ্যে একে অপরকে দোষারপের বলয়ে বহুধাবিভক্ত হয়ে বর্তমানে রাজনীতিতে ভাঁড়ের ভুমিকায় অবতিন্ন হয়েছে।তাঁদের একাংশ মহাজোটে অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারের মন্ত্রীত্ব পেয়ে অতীতের জ্বালা মিটাতে অরাজনৈতিক, কুরুচিপুর্ণ বক্তব্য দিয়ে প্রকারান্তরে সরকারকেই বিব্রত করে চলেছে প্রতিনিয়ত।  অন্য বিচ্ছিন্ন মুক্তিযুদ্ধারা প্রতিনিয়ত বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছে, বর্তমান বিএনপি মেজর জিয়ার বিএনপির অবস্থান থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। অর্থাৎ তাঁরা প্রকারান্তরে বুঝাতে চেষ্টা করেন মুক্তিযুদ্ধা মেজর জিয়ার দল রাজাকার তোষননীতি, রাজাকার পুর্নবাসননীতি সমচীন হচ্ছেনা। মুলত: তাঁরা জিয়ার দলে মিলেমিশে একাকার হয়ে অতীতে যে ভুল করেছেন সেই ভুলের প্রায়চিত্ত করার কোন রাস্তা না পেয়ে বেগম জিয়ার উপর দোষ চাপিয়ে জনগনের নিকট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারনকারি ব্যক্তি ও দল প্রমান করার প্রানান্তকর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।    দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে,বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতিতে দিকভ্রান্ত বিএনপি গনতন্ত্রকে উন্নয়ন অগ্রগতির সংগে সাংঘর্ষিক অবস্থানে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত গনতন্ত্রের মায়াকান্নায় বিভোর।যেহেতু দলটি তাঁর আদর্শিক অবস্থানে থেকে জ্বালাও পোড়াও, নাশকতা ইত্যাদি আইন শৃংখলা অবনতিকর কর্মসুচি দিয়ে জনসম্পৃত্ততা হারিয়েছে তাই বিবৃতি,সেমিনার, টকশো নির্ভর হয়ে কোনরকমে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে।  রাজপথে নামার নৈতিক অধিকার হারিয়ে রাজনৈতিক বিকারগ্রস্ততার শিকারে পরিনত হয়েছে। রাজপথে জনপ্রতিরোধের মুখে বিশদলের শীর্ষ নেত্রীকে ভোট প্রার্থনা পরিত্যাগ করে কয়েকবার ফেরৎ আসতে হয়েছে। তাছাড়া নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অতীত অভিজ্ঞতাও দলটির নেই। মুলত: দেশী বিদেশী শক্তির ইন্দনে জাতির পিতার   সরকারকারকে বিব্রত করে,আইন শৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে যে রীতিতে দলের প্রতিষ্ঠাতা ক্ষমতা দখল করেছিলেন,সেই একই পদ্ধতি বেগম জিয়া গ্রহন করেন।কিন্তু বিধিবাম, ষড়যন্ত্রের কুশিলবেরা এবং সব সেক্টর সমভাবে মাঠে না নামায় চরমভাবে জাতির পিতার জৈষ্ঠকন্যার বিচক্ষনতা, ধৈয্য, সহশীলতার নিকট চরম পরাজয় বরন করে অফিস ছেড়ে বাসায় গমন করতে বাধ্য হয়। পরাজয়ের গ্লানীতে ভোগে দলটি বহুধাভাগে বিভক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি বহুলাংশে কমে প্রকাশ্য সভায় মারামারী পয্যায় গড়িয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়ার খেশারত প্রতিনিয়ত দলকে দিতে হচ্ছে।দলটি এতই জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, গত পৌর নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীদের সামান্য প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়েছে।  রাজপথে নামার শক্তি সামর্থ হারিয়ে মিডিয়া, টক শো, বিবৃতির মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দিতে বর্তমান অগ্রসরমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামান্য বিবেকে বাধা দিচ্ছেনা। রাজনীতির অনেকটা মিডিয়া নির্ভর হয়ে পড়ায় গণতন্ত্র সম্পর্কে রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা মিডিয়ার কল্যাণে শোনা যায়।আবার ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যে সব টকশো হয়- তাতেও গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রতিনিয়ত শ্রোতারা নানা কথা শুনে। প্রিন্ট মিডিয়ায় যেসব লেখালেখি হচ্ছে তাও পড়ে নানা কথা জানা যাচ্ছে। গণতন্ত্র সম্পর্কে বিএনপি ও বাম সংগঠনগুলোর নেতাদের বক্তব্যকে এক বা অভিন্ন বলে অভিহিত না করেও যে সুরটি উভয়ের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে তা হচ্ছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ-বিএনপির অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ হয়নি। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, দেশে এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে সেটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।ফলে দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই, গণতন্ত্র বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। বিএনপি এখন তাই গণতন্ত্রের মায়াকান্নাই শুধু নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাঠে নামতে নেতাকর্মীকে সংঘবদ্ধ হতে বলছে।জনগণকে সমর্থন জানাতে আহ্বান জানাচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার জ্বালাময়ী প্রতিটি ভাষণেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে বিএনপির পেছনে দাঁড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগকে তিনি গণতন্ত্র হরণকারী এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবেও বারবার অভিহিত করে বক্তৃতা করছেন।     এখানে শুভংকরের ফাঁক সৃষ্টি করে ভোটের সাথে উন্নয়ন অগ্রগতিকে এক ও অভিন্ন করে একে অপরের সাথে বৈরীতার সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত থেকে আরেকবার পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে সকলের অগোচরেই চলে যাচ্ছে দলটি। অনভিজ্ঞ রাজনীতিকদের সেই দিকে কোন লক্ষই নেই।      গনতন্ত্র যে সমাজে থাকেনা সেই সমাজে উন্নয়ন হতে পারেনা।আমাদের পাশ্ববর্তি দেশ মিয়ানমার তাঁর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।ভারতীয় উপমহাদেশের সমৃদ্ধশালী দেশ গনতন্ত্রের অভাবে দারিদ্রের নীছে বসবাস করছে। দারিদ্রের কষাঘাতে অধিবাসী ননধিবাসী বিতর্কে বাংলাদেশে প্রায় দুই লক্ষ মিয়ানমার শরনার্থী বিগত কয়েক বছর দুর্বিসহ জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।     বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রেই যদি গনতন্ত্রের উপস্থীতি না থাকে তবে তাঁদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক এত উন্নয়ন অগ্রগতি হচ্ছে কি করে? গনতন্ত্র যদি নাইবা থাকে, সরকার যদি অবৈধই হয় তবে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনে কিভাবে অংশগ্রহন করছে? অবৈধ সরকারের নির্বাচন অবৈধ নয় কি?     মুলত: বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতির দৃশ্যমান ধারাবাহিকতা দেশের অভ্যন্তরে এবং বিশ্বব্যাপি প্রসংশার মুখে দিশেহারা হয়ে,ক্ষমতা পাওয়ার আশা নির্বাসনে যাওয়ায় রাজনৈতিক শিষ্টাচার, রীতিনীতি,  ধারা ভুলে জ্ঞানশুন্যের মতই বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতির সাধারন ধারাবাহিকতা কে জনমন থেকে মুছে দেয়ার এক অশুভ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। ডান-বামের এই মহামিলন জাতির পিতাকে বাঙ্গালী জাতির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।অশুভ চক্রটি এখনও তাঁদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে তাঁর কন্যাকেও বাঙ্গালী জাতির কাছ থেকে চিনিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত।     বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অশুভ শক্তির চক্রান্ত রুখে দিয়ে আগামী ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে উন্নত,সমৃদ্ধ করবে ইনশাল্লাহ।সেই লক্ষ নিয়ে জাতির জনকের কন্যা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে জাতিকে দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষেই এগিয়ে নিচ্ছেন দেশকে। জয় ইনশাল্লাহ হবেই হবে।      জয় বাংলা    জয় বঙ্গবন্ধু     জয়তুদেশরত্ম  শেখ হাসিনা          

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg