সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
ভাষা শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ,মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সৌধ--বাঙ্গালী জাতির অহংকারের দুই স্তম্ভ----
=======♥♥♥♥♥♥♥=======
বাঙ্গালী জাতির এমন কতগুলী গর্বের, সৌর্য্য বির্য্যের,অহংকারের দিবস রয়েছে যা অন্য কোন জাতির মধ্যে নেই।গৌরবের সমস্ত দিবস গুলী আবার বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধের আত্মঅহমিকার একেকটি দৃষ্টান্ত।প্রত্যেকটি দিবস সুনির্দিষ্ট ভাবে বাঙ্গালী জাতির অসাম্প্রদায়ীকতা, ধর্মনিপেক্ষতা, সংস্কৃতি কৃষ্টি জাতিগত অভ্যেসকে শানীত করে।স্মরন করিয়ে দেয় পুর্বপুরুষদের ত্যাগের মহিমা,সংগ্রামের ইতিহাস, বীরত্বের অনুপম দৃষ্টান্তকে।যেমন প্রথমত: আমাদের ভাষা দিবস, ৬৬ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান,৭০ এর নির্বাচন,বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন , স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আমাদের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি। কোন দিবসেই সাম্প্রদায়িকতার সামান্যতম চোঁয়া নেই।কোন দিবসেই সাম্প্রদায়িক শক্তি,ধমীয় গোষ্টি, উগ্রবাদী, চরম ডান, চরম বাম ইত্যাদি কোন অশুভ শক্তির কোন অবদান নেই।
সমস্ত দিবসের মধ্যে দুই প্রতিকীয় নিদর্শন বাঙ্গালী জাতির সৌয্যবিয্যের,অহংকারের, বেদনার রক্তস্রোত, বীরত্ব, ত্যাগের প্রতীক হয়ে উধ্বাকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।প্রথমটি আমাদের ভাষা শহীদদের স্মরনে নির্মিত শহীদ মিনার। দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরনে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ।
প্রথমটি ভাষা শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের জাতির লক্ষ্য এবং লক্ষ্যাভিমুখী চলার গতিপথকে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতির সেই পথ লক্ষ্য করে চলার ৬৪ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অখন্ড পাকিস্তানী উপনিবেশিকদের শাষন শোষনের বিরুদ্ধে সংঘটিত যত আন্দোলন সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে সকল আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরনা,শক্তি, সাহষ যুগিয়েছে ভাষা শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ। বাঙ্গালী জাতির চলার এই পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। দেশি-বিদেশি শত্রুরা হত্যা-ক্যু, ষড়যন্ত্র চক্রান্তসহ নানা বাধা-বিঘ্ন, সমস্যা,সংকট সৃষ্টি করে বাঙ্গালী জাতির অগ্রগতি রুদ্ধ ও পশ্চাৎমুখী করতে মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা চালালেও জাতি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। ভাষা শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ এমন এক অশিরীরি শক্তির উম্মেষ ঘটাতে সাহায্য করেছে,সারা জাতি একই সুতার জাতীয়তাবোধে উদ্ভোদ্ধ হয়ে পাকিস্তানী আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সেনা বাহিনীর উপর বাঁশের লাঠি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তেও দ্বিধাবোধ করেনি।
পাহাড়ি ঝর্নার জলাধার যেমন নদীকে লক্ষ্যাভিমুখী চলার ক্ষেত্রে পানি জোগান দিয়ে চলে; ঠিক সেই রকম ভাষা শহীদ মাস ফেব্রুয়ারী এবং স্তম্ভটিও আমাদের চেতনাকে শাণিত করে লক্ষ্যাভিমুখী চলতে অসিম শক্তি, অফুরন্ত সাহস যুগিয়ে চলেছে অবিরাম। বাঙ্গালী জাতির কাছে ফেব্রুয়ারি মাস এবং স্মৃতি স্তম্ভ এক ও অভিন্ন হয়ে চির প্রেরণার অবিনাশী উৎসের সন্ধান দেয়। বাঙ্গালী চেতনাকে শানীত করে চিরজাগরুক করে রাখে প্রতিটি বাঙ্গালীর মানসপটে।
দ্বিতীয় স্তম্ভটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার নিমিত্তে নির্মিত। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী জাতি নুন্যন্নতম কয়েকটি বিষয়ে জাতিগত ভাবে একমত হতে পেরেছিল বিদায়, পাকিস্তানী সসস্ত্র সেনাদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙ্গালীরা ঝাপিয়ে পড়েছিল।বাঙ্গালী জাতি এত বেশি নৈতিক বলে বলিয়ান ছিলেন যে--মাত্র নয় মাসের মধ্যেই পাকিস্তানী প্রশিক্ষীত সেনাবাহিনীকে পয্যুদস্ত করে স্বাধীনতা চিনিয়ে এনেছিলেন।আর এই চেতনায় উদ্ভোদ্ধ হতে পেরেছিলেন ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকেই।ভাষা শহিদের জন্য নির্মিত স্তম্ভে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে যে প্রশিক্ষন বাঙ্গালী জাতি পেয়েছিল সেই প্রশিক্ষন সেনা প্রশিক্ষনের চাইতে আরো কঠোর,শৃংখলাবদ্ধ, নিয়ম- বর্তিতার গুনে সমৃদ্ধ। রাষ্ট্রীয় বেতনধায্য নিয়মিত সসস্ত্র বাহিনীকে বিনাবেতনের নৈতিক বলে বলিয়ান স্বেচ্ছা সেবক মুক্তিযুদ্ধাদের হাতে চরম পরাজয় মেনে নিতে হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তি প্রতিটি আন্দোলনের প্রেরনা শহিদ মিনার থেকে সংগৃহীত।স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলন,৯০এর গন অভ্যুত্থান,মহিয়ষী নারী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির অভিযাত্রা ইত্যাদি সকল অসাম্প্রদায়িক চেতনার উম্মেষের প্রেরনাদাত্রী শহিদ মিনার।
এইকথাটি বলার অপেক্ষা রাখেনা যে,অসাম্প্রদায়িক ভাষা আন্দোলনের পরিনতি মুক্তিযুদ্ধ।মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ পরিনতি আমাদের গৌরবের স্বাধাধীনতা।তেমনি মহিয়ষী নারী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সংঘঠিত অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ আন্দোলনের পরিনতি বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার শক্তিকে শানীত করেছিল।বাঙ্গালী জাতিকে স্মরন করিয়ে দিতে পেরেছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অহংকারের অর্জিত অঙ্গিকার সমুহ।সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করেছিল সাম্প্রদায়িক শক্তির হোতাদের। প্রতিকী বিচারের আয়োজন করে প্রতিকি ফাঁসির রায় পয্যন্ত দিতে পেরেছিল যুগের সাহষি মহিষী গর্বিনী "বাংলার মা জাহানারা ঈমাম।" এই মহতি উদ্যোগের প্রসবস্থল শহিদ মিনারের পাদদেশেই।
তাই লক্ষ করলে দেখা যায়,অশুভ সাম্প্রদায়িক গোষ্টি দেশের যেকোন দুর্বিপাকে পদদলনের লক্ষবস্তুতে পরিনত করে বাঙ্গালী জাতীর গর্বের এই দুইটি স্তম্ভ। তাঁরা সম্যক ভাবেই জানে স্তম্ভ দুইটিই বাঙ্গালী জাতির শক্তি এবং প্রেরনার উৎস।অখন্ড পাকিস্তানীরা যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছে ভাষা স্মৃতিস্তম্ভকে, ঠিক একই দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখে তাঁদের এদেশীয় প্রেতাত্বারা।পাকিস্তানীরা যেমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে চাইতো আমাদের ভাষা শহিদের অহংকার তেমনি তাদের প্রেতাত্বাদের চেষ্টাও অবিরত একই ধারায়। ভুলন্ঠিত করতে চায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অহংকারের স্মৃতি স্তম্ভকে।
বাঙ্গালী জাতির পরম সৌভাগ্য হচ্ছে, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত লক্ষ্যাভিমুখী অগ্রসর হতে যে রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।পাকিস্তানী সাম্প্রদায়িক গোষ্টির বিরুদ্ধে চউড়াবুক পেতে দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে জাতীয়তার পরিচয়ে পরিচিত করেছেন তিনিই শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয়তা বোধকে যদি জাগ্রত করে থাকেন জাহানারা ইমাম, তাঁর পরিচর্য্যা, পুষ্টি সাধন, লালন পালন করে যাচ্ছেন জাতির জনকের জৈষ্ঠ কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা। তিনিও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানীত সভানেত্রী।সুতারাং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই একমাত্র সংগঠন, জাতির যাহা কিছু অর্জন তাঁর প্রসব দাতা আওয়ামী লীগ। অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক বাহক নেতৃত্বদানকারি দল একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই এই জাতির আশা আখাংকার মুর্তপ্রতিক।
জাতির জনকের কন্যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ধারাবাহিক ভাবে ৭ বছর ধরে অধিষ্ঠিত থেকে বাঙ্গালী জাতিকে ইতিমধ্যে ক্ষুদামুক্ত,দারিদ্রমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। জাতির জনক বাঙ্গালী জাতিকে দিয়ে গেছেন স্বাধীনতা, উন্নয়ন অগ্রগতির রুপরেখা। তার সুযোগ্য কন্যা সেই লক্ষকে সামনে রেখে দিয়ে যাচ্ছেন উন্নত, সমৃদ্ধ, বিজ্ঞান মনস্ক, শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ। পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত"" রুপকল্প ২০২১ ""ঘোষনা করে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরের কর্মযজ্ঞ শুরু করে ইতিমধ্যে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে জাতিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের সনদ দিয়ে সম্মানীত করতে সক্ষম হয়েছেন।২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করে জাতিকে উন্নত জীবন উপহার দিতে সক্ষম হবেন বলে বিশ্ববাসির অভিমত।ইতিমধ্যে রুপকল্প ২০৪১ ঘোষনা করে পরিকল্পিত ভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা যায় ২০৪১ ইং সালের আগেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।সেই লক্ষেই পদ্মা সেতু, গভীর সমুদ্রবন্দর, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে।
আজকের যাহা কিছুই অর্জনের তার পিছনের শক্তি হিসেবে কাজ করছে মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারী, প্রতিনিয়ত স্মরন করিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ভাষা স্মৃতি স্তম্ভ।মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারের বাস্তবায়নের পথ নির্দেশদাতা ডিসেম্বর,অহংকার মুল্যবোধ জাগ্রত করে রেখে যাচ্ছে বীর মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরনে নির্মিত স্মৃতি সৌধ।বাঙ্গালী জাতির জাতীয়তাবোধের উম্মেষ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রাপ্ত অঙ্গিকার এক ও অভিন্ন হয়ে মিশে আছে প্রতিটি বাঙ্গালীর শিরা উপশিরায়, ত্যাগের প্রতিটি স্তরে,অহংকারের সিঁথিতে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন