ভাষা শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ,মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সৌধ--বাঙ্গালী জাতির অহংকারের দুই স্তম্ভ---- =======♥♥♥♥♥♥♥======= বাঙ্গালী জাতির এমন কতগুলী গর্বের, সৌর্য্য বির্য্যের,অহংকারের দিবস রয়েছে যা অন্য কোন জাতির মধ্যে নেই।গৌরবের সমস্ত দিবস গুলী আবার বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধের আত্মঅহমিকার একেকটি দৃষ্টান্ত।প্রত্যেকটি দিবস সুনির্দিষ্ট ভাবে বাঙ্গালী জাতির অসাম্প্রদায়ীকতা, ধর্মনিপেক্ষতা, সংস্কৃতি কৃষ্টি জাতিগত অভ্যেসকে শানীত করে।স্মরন করিয়ে দেয় পুর্বপুরুষদের ত্যাগের মহিমা,সংগ্রামের ইতিহাস, বীরত্বের অনুপম দৃষ্টান্তকে।যেমন প্রথমত: আমাদের ভাষা দিবস, ৬৬ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান,৭০ এর নির্বাচন,বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন , স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আমাদের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ  ইত্যাদি। কোন দিবসেই সাম্প্রদায়িকতার সামান্যতম চোঁয়া নেই।কোন দিবসেই সাম্প্রদায়িক শক্তি,ধমীয় গোষ্টি, উগ্রবাদী, চরম ডান, চরম বাম ইত্যাদি কোন অশুভ শক্তির কোন অবদান নেই।   সমস্ত দিবসের মধ্যে দুই প্রতিকীয় নিদর্শন বাঙ্গালী জাতির সৌয্যবিয্যের,অহংকারের, বেদনার রক্তস্রোত, বীরত্ব, ত্যাগের প্রতীক হয়ে উধ্বাকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।প্রথমটি আমাদের ভাষা শহীদদের স্মরনে নির্মিত শহীদ মিনার। দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরনে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। প্রথমটি ভাষা শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের জাতির লক্ষ্য এবং লক্ষ্যাভিমুখী চলার গতিপথকে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতির সেই পথ লক্ষ্য করে চলার ৬৪ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অখন্ড পাকিস্তানী উপনিবেশিকদের শাষন শোষনের বিরুদ্ধে সংঘটিত যত আন্দোলন সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে সকল আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরনা,শক্তি, সাহষ যুগিয়েছে ভাষা শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ। বাঙ্গালী জাতির চলার এই পথ কখনোই  কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। দেশি-বিদেশি শত্রুরা হত্যা-ক্যু, ষড়যন্ত্র চক্রান্তসহ নানা বাধা-বিঘ্ন, সমস্যা,সংকট সৃষ্টি করে বাঙ্গালী জাতির অগ্রগতি রুদ্ধ ও পশ্চাৎমুখী করতে মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা চালালেও জাতি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। ভাষা শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ এমন এক অশিরীরি শক্তির উম্মেষ ঘটাতে সাহায্য করেছে,সারা জাতি একই সুতার জাতীয়তাবোধে উদ্ভোদ্ধ হয়ে পাকিস্তানী আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সেনা বাহিনীর উপর বাঁশের লাঠি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তেও দ্বিধাবোধ করেনি।   পাহাড়ি ঝর্নার জলাধার যেমন নদীকে লক্ষ্যাভিমুখী চলার ক্ষেত্রে পানি জোগান দিয়ে চলে; ঠিক সেই রকম ভাষা শহীদ মাস ফেব্রুয়ারী এবং স্তম্ভটিও  আমাদের চেতনাকে শাণিত করে লক্ষ্যাভিমুখী চলতে অসিম শক্তি, অফুরন্ত সাহস যুগিয়ে চলেছে অবিরাম। বাঙ্গালী জাতির কাছে ফেব্রুয়ারি মাস এবং স্মৃতি স্তম্ভ এক ও অভিন্ন হয়ে  চির প্রেরণার অবিনাশী উৎসের সন্ধান দেয়। বাঙ্গালী চেতনাকে শানীত করে চিরজাগরুক করে রাখে প্রতিটি বাঙ্গালীর মানসপটে। দ্বিতীয় স্তম্ভটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার নিমিত্তে নির্মিত। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী জাতি নুন্যন্নতম কয়েকটি বিষয়ে জাতিগত ভাবে একমত হতে পেরেছিল বিদায়, পাকিস্তানী সসস্ত্র সেনাদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙ্গালীরা ঝাপিয়ে পড়েছিল।বাঙ্গালী জাতি এত বেশি নৈতিক বলে বলিয়ান ছিলেন যে--মাত্র নয় মাসের মধ্যেই পাকিস্তানী প্রশিক্ষীত সেনাবাহিনীকে পয্যুদস্ত করে স্বাধীনতা চিনিয়ে এনেছিলেন।আর এই চেতনায় উদ্ভোদ্ধ হতে পেরেছিলেন ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকেই।ভাষা শহিদের জন্য নির্মিত স্তম্ভে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে যে প্রশিক্ষন বাঙ্গালী জাতি পেয়েছিল সেই প্রশিক্ষন সেনা প্রশিক্ষনের চাইতে আরো কঠোর,শৃংখলাবদ্ধ, নিয়ম- বর্তিতার গুনে সমৃদ্ধ।  রাষ্ট্রীয় বেতনধায্য নিয়মিত সসস্ত্র  বাহিনীকে  বিনাবেতনের নৈতিক বলে বলিয়ান স্বেচ্ছা সেবক মুক্তিযুদ্ধাদের হাতে চরম পরাজয় মেনে নিতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তি প্রতিটি আন্দোলনের প্রেরনা শহিদ মিনার থেকে সংগৃহীত।স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলন,৯০এর গন অভ্যুত্থান,মহিয়ষী নারী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির অভিযাত্রা ইত্যাদি সকল অসাম্প্রদায়িক চেতনার উম্মেষের প্রেরনাদাত্রী শহিদ মিনার।   এইকথাটি বলার অপেক্ষা রাখেনা যে,অসাম্প্রদায়িক ভাষা আন্দোলনের পরিনতি মুক্তিযুদ্ধ।মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ পরিনতি আমাদের গৌরবের স্বাধাধীনতা।তেমনি মহিয়ষী নারী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সংঘঠিত অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ আন্দোলনের পরিনতি বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার শক্তিকে শানীত করেছিল।বাঙ্গালী জাতিকে স্মরন করিয়ে দিতে পেরেছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অহংকারের অর্জিত অঙ্গিকার সমুহ।সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করেছিল সাম্প্রদায়িক শক্তির হোতাদের। প্রতিকী বিচারের আয়োজন করে প্রতিকি ফাঁসির রায় পয্যন্ত দিতে পেরেছিল যুগের সাহষি মহিষী গর্বিনী "বাংলার মা জাহানারা ঈমাম।" এই মহতি উদ্যোগের প্রসবস্থল শহিদ মিনারের পাদদেশেই। তাই লক্ষ করলে দেখা যায়,অশুভ সাম্প্রদায়িক গোষ্টি দেশের যেকোন দুর্বিপাকে পদদলনের লক্ষবস্তুতে পরিনত করে বাঙ্গালী জাতীর গর্বের এই দুইটি স্তম্ভ। তাঁরা সম্যক ভাবেই জানে স্তম্ভ দুইটিই বাঙ্গালী জাতির শক্তি এবং প্রেরনার উৎস।অখন্ড পাকিস্তানীরা যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছে ভাষা স্মৃতিস্তম্ভকে, ঠিক একই দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখে তাঁদের এদেশীয় প্রেতাত্বারা।পাকিস্তানীরা যেমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে চাইতো আমাদের ভাষা শহিদের অহংকার তেমনি তাদের প্রেতাত্বাদের চেষ্টাও অবিরত একই ধারায়। ভুলন্ঠিত করতে চায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অহংকারের স্মৃতি স্তম্ভকে। বাঙ্গালী জাতির  পরম সৌভাগ্য হচ্ছে, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত লক্ষ্যাভিমুখী অগ্রসর হতে যে রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।পাকিস্তানী সাম্প্রদায়িক গোষ্টির বিরুদ্ধে  চউড়াবুক পেতে দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে জাতীয়তার পরিচয়ে পরিচিত করেছেন তিনিই শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয়তা বোধকে যদি জাগ্রত করে থাকেন জাহানারা ইমাম, তাঁর পরিচর্য্যা, পুষ্টি সাধন, লালন পালন করে যাচ্ছেন জাতির জনকের জৈষ্ঠ কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা। তিনিও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানীত সভানেত্রী।সুতারাং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই একমাত্র সংগঠন, জাতির যাহা কিছু অর্জন তাঁর প্রসব দাতা আওয়ামী লীগ। অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক বাহক নেতৃত্বদানকারি দল একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই এই জাতির আশা আখাংকার মুর্তপ্রতিক। জাতির জনকের কন্যা  রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ধারাবাহিক ভাবে ৭ বছর ধরে অধিষ্ঠিত থেকে বাঙ্গালী জাতিকে ইতিমধ্যে ক্ষুদামুক্ত,দারিদ্রমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। জাতির জনক বাঙ্গালী জাতিকে দিয়ে গেছেন স্বাধীনতা, উন্নয়ন অগ্রগতির রুপরেখা। তার সুযোগ্য কন্যা সেই লক্ষকে সামনে রেখে দিয়ে যাচ্ছেন উন্নত, সমৃদ্ধ, বিজ্ঞান মনস্ক, শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ।  পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত"" রুপকল্প ২০২১ ""ঘোষনা করে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরের কর্মযজ্ঞ শুরু করে ইতিমধ্যে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে জাতিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের সনদ দিয়ে সম্মানীত করতে সক্ষম হয়েছেন।২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করে জাতিকে উন্নত জীবন উপহার দিতে সক্ষম হবেন বলে বিশ্ববাসির অভিমত।ইতিমধ্যে রুপকল্প ২০৪১ ঘোষনা করে পরিকল্পিত ভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা যায় ২০৪১ ইং সালের আগেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।সেই লক্ষেই পদ্মা সেতু, গভীর সমুদ্রবন্দর, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের যাহা কিছুই অর্জনের তার পিছনের শক্তি হিসেবে কাজ করছে মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারী, প্রতিনিয়ত স্মরন করিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ভাষা স্মৃতি স্তম্ভ।মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারের বাস্তবায়নের পথ নির্দেশদাতা  ডিসেম্বর,অহংকার মুল্যবোধ জাগ্রত করে রেখে যাচ্ছে বীর মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরনে নির্মিত স্মৃতি সৌধ।বাঙ্গালী জাতির জাতীয়তাবোধের উম্মেষ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রাপ্ত অঙ্গিকার এক ও অভিন্ন হয়ে মিশে আছে প্রতিটি বাঙ্গালীর শিরা উপশিরায়, ত্যাগের প্রতিটি স্তরে,অহংকারের সিঁথিতে।       জয় বাংলা     জয় বঙ্গবন্ধু     জয়তু জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা  

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg