ইজ্জত হারিয়ে এখনো পাগল আফিয়া খাতুন চৌধুরী =======================কপি পেষ্ট ==== শরীফা বুলবুল : ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদারবাহিনী জগন্নাথ দীঘি সংলগ্ন এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে। তখন সোনাপুর গ্রামে পাকবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন বেড়ে যায়। পাক হানাদারদের ভয়ে গ্রামের নারীরা ছিল সন্ত্রস্ত। আজ এ ঘর তো কাল ওই ঘরে গিয়ে বিবাহযোগ্য কিংবা বিবাহিত যুবতী মেয়ে কিংবা মহিলাদের তুলে নিয়ে যেত। এরই মধ্যে রাজাকারদের সহায়তায় ক্যাম্পের দায়িত্বরত পাক হাবিলদারের কাছে খবর পৌঁছে যায় সুন্দরী বিধবা খঞ্জনীর কথা। তাকে হাবিলদারের হাতে তুলে দিলে গ্রামে অন্য নারীদের ওপর নির্যাতন করা হবে না। এ কথামত স্থানীয় রাজাকার নুরুল ইসলাম নুরু ওরফে নুরু মিয়া, আফজ উদ্দিন ফজল হক ও তার মা জোর করে খঞ্জনীকে হানাদারদের জগন্নাথ দীঘি ক্যাম্পে নিয়ে যান ১৯৭১ সালের জুন মাসের কোনো এক রাতে। ওই রাতেই হাবিলদার এই রাজাকারদের উপস্থিতিতে জোর করে খঞ্জনীকে বিয়ে করেন। এর পরদিন থেকেই সোনাপুর গ্রামে পাকবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন কমে যায় এবং ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত এ গ্রামের কোনো নারী আর সম্ভ্রম হারাননি। ভোরের কাগজের কাছে ফেনী জেলার বরইয়া চৌধুরী বাড়ির আফিয়া খাতুন চৌধুরী ওরফে খঞ্জনীর একাত্তরের দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদারদের অপমানের কথা জানান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তখন যে গ্রামে ডাকঘর ছিল তার নাম জোয়ার কাছাড়। সোনাপুর গ্রামের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জুলাই মাসের শেষ দিকে জগন্নাথ দীঘি সংলগ্ন চিওড়া রাস্তার মাথায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি এম্বুসে পড়ে খঞ্জনীর কথিত স্বামী পাকিস্তানি হাবিলদার মারা যান। এরপরও খঞ্জনীকে হানাদার বাহিনী ছাড়েনি। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত পর্যন্ত তাকে হানাদারদের ক্যাম্পে থাকতে হয়েছে। এই সময়ে সোনাপুর গ্রামসহ আশপাশের অসংখ্য গ্রামের অসহায় লোকজনকে পাকবাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে সামর্থ্য অনুয়ায়ী সাহায্য করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে নিজের ইজ্জত বিলিয়ে দিয়ে আশপাশের শত শত নারীর ইজ্জত সম্ভ্রম রক্ষা করা আফিয়া খাতুন চৌধুরী সমাজ সংসারে নষ্ট, ভ্রষ্ট ও অস্পৃশ্য হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সীমাহীন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুধু নিজের ইজ্জত দিয়েই গ্রামের মেয়েদের ইজ্জত রক্ষা করেননি তিনি। আশপাশের অনাহারী অভাবী মানুষজনদের জন্য কৌশলে পাক হানাদারদের ক্যাম্প থেকে খাবার দিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করেছেন। অথচ খাবার দিয়ে যে সব পরিবারকে তিনি বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, নিজের নারীত্ব বিসর্জন দিয়ে যেসব মা-বোন-স্ত্রীদের পাকবাহিনীর লোলুপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করেছেন, সে সব মানুষই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খঞ্জনী যখন গ্রামে ফিরে এলেন তখন তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে নষ্টা, ভ্রষ্টা বলে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। স্বামী, সংসার হারিয়ে পথে পথে ভিক্ষাবৃত্তি করে, অনাহারে, অর্ধাহারে জীবন কাটাতে কাটাতে এক সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর পূর্ব বাগিচাগাঁও এলাকার একটি বস্তিতে দরিদ্র মেয়ের কাছে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। আফিয়া খাতুন চৌধুরী ওরফে খঞ্জনী ১৯৩৯ সালে ফেনী জেলার বরইয়া চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাসমত আলী চৌধুরী ও মা মছুদা খাতুন। গায়ের রং ফর্সার পাশাপাশি দেখতেও ছিল বেশ সুন্দরী আফিয়া। ১৯৬৩ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের রুহুল আমিন মানিক ওরফে হেকমত আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৬৪ সালে রোকসানা ও ১৯৬৫ সালে আবদুল মতিন নামে এই দুই ছেলেমেয়ে জন্মগ্রহণ করে। খঞ্জনীর স্বামী, ছেলেমেয়ে ও শাশুড়ি বোচন বিবিকে নিয়ে বেশ ভালোভাবেই সুখের সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সুখ খঞ্জনীর জীবনে বেশি দিন স্থায়ী হলো না। ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের রেলওয়ের বৈদ্যুতিক শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় নগরীর পাহাড়তলীর ভেলুয়াদীঘির পাড়ের ভাড়া বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যান তার স্বামী হেকমত আলী। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়ি থেকে প্রস্তাব আসার পরেও স্বামীর ভিটে-মাটি ছেড়ে যাননি খঞ্জনী। এতিম দুই ছেলেমেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে চরম অভাব অনটনে কোনো মতে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। দুই সন্তানের জননী হলেও অপূর্ব সুন্দরী খঞ্জনীর গায়ের রূপ লাবণ্য কমেনি এতটুকু যা সহজেই দৃষ্টি কাটত সবার। ওই রূপই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়েছে আওয়াজ শুনে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে আসেন খঞ্জনী বেগম। স্বর্বস্ব হারিয়ে ছুটে যান তার মেয়ে রোকসানা ও ছেলে মতিনের কাছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, খঞ্জনী বেগম যাদের জন্য ইজ্জত বিলিয়ে দিয়েছেন, পাক হানাদার বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে যাদের খাবার দিয়ে ক্ষুধা মুক্ত করেছেন তারা তাকে দেখেই অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন। বলতে লাগলেন, এই নষ্টা, ভ্রষ্টা, অসতী খঞ্জনী বেগমকে সোনাপুরে জায়গা দেয়া যাবে না। তাকে ছোঁয়া যাবে না। শাশুড়ি বোচন বিবিও সন্তানদের তার কাছে রেখে এক কাপড়ে বিদায় করে দিলেন খঞ্জনী বেগমকে। সোনাপুর থেকে বাবার বাড়ি ফেনীতে গিয়েও আশ্রয় মেলেনি খঞ্জনী বেগমের। কারণ, পাকবাহিনীর ক্যাম্পে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষা করতে শুরু করে। রাত কাটে কোনো বাজারে অথবা রেলস্টেশনে। শাশুড়ির কাছে থাকতে গিয়ে অভাব অনটনে অনাহারে মারা যায় ছয় বছরের ছেলে আবদুল মতিন। জানা যায়, নষ্টা নারী বলে সোনাপুরের তৎকালীন সমাজপতিরা মৃত ছেলেকেও দেখতে দেয়নি খঞ্জনী বেগমকে। এভাবে এক সময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। নিজে নিজে বকবক করেন, রাস্তাঘাটে কিংবা স্টেশনে গান করেন, কবিতা বলেন, পুঁতি পরেন। বলা যায়, পুরোদস্তুর পাগল হয়ে যায় খঞ্জনী বেগম। এভাবে কেটে যায় স্বাধীনতার পর তার জীবন থেকে ২৮টি বছর। ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে এসে খঞ্জনী বেগম আশ্রয় পান ফেনীতে তার ভাই সেনাবাহিনী কর্মকর্তা আবদুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে। কিন্তু সেই আশ্রয়টিতেও অস্পৃশ্য থেকে গেছে তার জীবন। ভাই, ভাবী ও তার ছেলেরা কেউ তাকে নিজের ঘরে রাখেনি। ভাই আবদুর রহমান চৌধুরী দয়া করে তার জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও আড়াই ফুট প্রস্থের একটি মাটির ঘর। সেখানে ধানের খড় বিছিয়ে খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো সব কাজ করতে হতো। জানা গেছে, ভাই আবদুর রহমান চৌধুরী আনোয়ারা বেগম নামে এক চাচিকে মাসের খোরাকি বাবদ কিছু চাল দিতেন। চাচি রান্না করে খঞ্জনী বেগমকে দিতেন। খঞ্জনী বেগম তা কখনো খেতেন আবার কখনো খেতেন না। তবে সারাক্ষণ বিরবির করে আনমনাভাবে কথা বলতেন। তিনি খেলেন কি খেলেন না তার খবর নিতেন না কেউ। তিনি যত দিন আবদুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে ছিলেন ততদিন তার স্ত্রী বড় দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তার ধারণা, খঞ্জনী বেগম এখানে থাকলে ভবিষ্যতে সন্তানদের বিয়ে-শাদীতে সমস্যা হতে পারে। বীরঙ্গনা খঞ্জনী বেগমের দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে ছেলেটি ছয় বছর বয়সেই মারা যায়। আর মেয়ে রোকসানা বেগমকে ফুল মিয়া নামক এক শ্রমজীবীর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। এক সময় ফুল মিয়া ও রোকসানা দুই জনেই কুমিল্লা বিসিকের পাবন ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। এখন মানসিক ভারসাম্যহীন মা খঞ্জনী বেগম তার সঙ্গে থাকেন বলে নিজের চাকরিটুকু ছেড়েছেন। জানা যায়, খঞ্জনীর শাশুড়ি বোচন বিবি মারা যাওয়ার পর খঞ্জনীর স্বামীর ১৮ শতক জায়গার মধ্যে স্থানীয় জনৈক আবদুছ সাত্তার তাদের ৯ শতক জায়গা জোর করে দখল করে নেন। যদিও খঞ্জনী বেগমকে নিয়ে মেয়ে রোকসানা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে থাকেন মেয়ে রোকসানা ও মেয়ের জামাতা ফুল মিয়ার সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর পূর্ব বাগিচাগাঁওয়ের বড় মসজিদ সংলগ্ন বড় মসজিদের ওয়াকফ এস্টেটের বস্তির দুকক্ষের একটি খুপড়ি ঘরে। রোকসানা ও ফুল মিয়া দম্পত্তির রয়েছে সুরাইয়া, মুন্না ও তারিন নামে তিনটি সন্তান। মেয়ে ও মেয়ের জামাতা জানালেন, চলতি বছর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক এবার খঞ্জনীর নামে চৌদ্দগ্রামের কালকোট মৌজার ৩১ দাগের হালে ৬৪০ এর ৫ শতক খাস জায়গা দিয়েছেন। কিন্তু এই জায়গায় আমরা দখলে যেতে পারছি না। প্রভাবশালীরা আমাদের যেতে দিচ্ছে না। প্রশাসনও আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। মেয়ে রোকসানা আরো বলেন, আমার মার কোনো অপরাধ ছিল না। এলাকার রাজাকাররা আমার মাকে পাঞ্জাবিদের হাতে তুলে দিয়েছে তাদের মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা হবে বলে। আবার ক্যাম্প থেকে মা তাদের জন্যই বিভিন্ন খাবার পাঠাত যাতে তারা খেয়ে থাকে। অথচ যে দিন মা ছাড়া পেল সেদিন মা, মাগো মা বলে কান্নাকাটি করলেও গ্রামের লোকজন মায়ের কাছে আমাদের যেতে দেয়নি। বলেছে, তোর মা খারাপ। যে দেশের জন্য আমার মা ইজ্জত দিল সে দেশ আজো আমার মাকে বীরাঙ্গনা উপাধি দিল না। সরকারিভাবে যে খাস জমি দিয়েছে তা আজো আমরা দখল নিতে পারছি না বড় লোকদের ভয়ে।

বাঙ্গালী এবং বাঙ্গালী জাতির জন্যে বীরঙ্গনা মা বোনেরা সর্বযুগের জন্য শ্রেষ্ঠ মা বোন।তাঁদেরকে রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারনে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার কারনে সমাজে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য করেছে।জাতী হিসেবে বাঙ্গালীর এর চাইতে লজ্জার আর কি হতে পারে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg