নীরবে, নীবৃত্তে চলে গেল ঐতিহাসিক ছয়দফার উত্থাপনের পঞ্চাশতম দিবস------!!!!! ============ ♥♥♥========= আজ মহান এক ঐতিহাসিক দিন বাঙ্গালী এবং বাংলাদেশ পার করে দিল।৫ই ফেব্রুয়ারী ১৯৬৬ ইং সালে লাহোরে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খাঁন কতৃক আহুত সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ ৬দফা উত্থাপন করেছিলেন।সেই হিসেব অনুযায়ী ৬দফা উত্থাপনের ৫০ বছর পুর্ন হল। পরিতাপের বিষয় ৬দফা রাজনৈতিক দাবীর ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় কোন আপোস করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বা রাজনৈতিক ভাবে আপোসের মানষিকতা ঘুনাক্ষরেও প্রকাশ করেছিলেন এইরুপ উদাহরন অদ্যাবদি তাঁর সহকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা পাকিস্তানের এযাবৎ কালের শাষক বর্গ থেকে কোন আভাস ইঙ্গিত, বিবৃতি, স্মৃতিচারন, তথ্য সংবলিত দলিল, বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা বা অন্য কোন তৃতীয় পক্ষ হতে কোন দিন কোন তথ্য প্রমান কোন পক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন ৯মাস পাকিস্তানি কারাগারে তাঁদের হেফাযতে থেকেও কোন আপোষ প্রস্তাবের জন্য বা সরকারের কোন বিশেষ ব্যাক্তির সাথে আপোষের প্রস্তাবে কোন রুপ বাক্যালাপ করেছেন বা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এইরুপ তথ্য কোন মহল বা পাকিদের পক্ষ হতেও উত্থাপিত অদ্যাবদি হয়নি। যদিও তাঁর প্রীয় বাংলাদেশে কি হচ্ছে, কেমন আছে তাঁর স্বজন, সহকর্মীরা তাঁর কোন খবর তিনি জানতেন না।তিনি শুধু জানতেন জেলের অভ্যন্তরে তাঁর বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিচারে তাঁর ফাঁসির হুকুম হয়েছে।সর্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় কতৃপক্ষের স্বাক্ষরের পর তাঁর ফাঁসী কায্যকর করা হবে।বঙ্গবন্ধুকে সমাধীস্থ করার জন্য তাঁর কনডেম সেলের সামনে একটি সুপরিসর কবর খোঁড়ে রাখা হয়েছে।এমনি বিপদ সংকুল পরিস্থিতিতেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিচল, স্বাভাবিক। মানষিক ভাবে ছিলেন দৃড। অথছ ৬দফার একটি দফাও যদি বঙ্গবন্ধু চাড় দিতেন তাহলেও আজীবনের জন্য সারা পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী হয়ে বাকী জীবন আরাম আয়েশেই কাটিয়ে দিতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা প্রণয়ন, উপস্থাপন নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত। অতিবাম কমিউনিষ্টদের কেউ কেউ বলতেন যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ৬দফা প্রস্তুত করে দিয়েছে। আবার উগ্র ভারত বিরোধীরা বলতেন এটি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা "র" তৈরী করে দিয়েছে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানোর জন্য। "৫৪ ইং সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অখন্ড ভারতের সকল দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। তাঁদের সকলের সম্মতিতে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে পারলে ২১ দফার আলোকে পাকিস্তানের শাষন তন্ত্র রচনা করবেন জনগনের নিকট অঙ্গিকার ছিল। '২১ দফা জনগন স্বত:স্ফুর্ত ভাবে গ্রহন করেছিল বিধায় যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতায় আরোহন করেছিল। তাঁর পরবর্তি ইতিহাসে আমি যাবনা। আমি শুধু '২১ দফার একটি দফা পাঠকদের অনুধাবনর্থে এখানে তুলে ধরতে চাই---। এখানে ২১ দফার ১৯ নম্বরটি তুলে ধরা হল-- ============ ======= “ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তান কে স্বশাসিত ও ‘সভরেন্ট’ করা হবে এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মুদ্রা ব্যবস্থা ব্যতীত অন্য সব বিষয় অবশিষ্ঠাত্মক ক্ষমতাসহ পূর্ব পাকিস্তানে নৌবাহিনীর হেড কোয়ার্টার এবং একটি সমরাস্ত্র কারখানা নির্মাণ পূর্বক, পূর্ব পাকিস্তানকে আত্মরক্ষার স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা হবে।” সম্মানিত পাঠক বন্ধুরা উপরের কথাগুলোর সঙ্গে ছয় দফার কতটুকু দূরত্ব ছিল আপনারাই বিচার করবেন। আমি অত্যান্ত সংক্ষেপে ছয় দফার উল্লেখ করতে চাই। (১) ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান একটি যুক্তরাষ্ট্র হবে যেখানে প্রদেশসমূহ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। পাকিস্তানে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটের মাধ্যমে সার্বভৌম আইন পরিষদ গঠিত হবে। (২) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল দুটি বিষয় যথা দেশরক্ষা এবং বৈদেশিক নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। (৩) দুটি অঞ্চল যথা পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম অঞ্চলের জন্য সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা চালু থাকবে। (৪) কেন্দ্রীয় সরকারের কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না। এই ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অঙ্গরাজ্যগুলো থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যের রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ লাভ করবে। (৫) পাকিস্তান ফেডারেশনভুক্ত দুটি অঙ্গরাজ্যের (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান) বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দুইটি পৃথক খাত থাকবে। বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত পূর্ব পাকিস্তানের আয় পূর্ব পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের আয় পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। (৬) আঞ্চলিক সংহতি এবং সংবিধান রক্ষার জন্য সংবিধানে অঙ্গরাজ্যগুলোকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধাসামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রক্ষার ক্ষমতা দিতে হবে। অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানকে ইহার নিজস্ব আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন এবং পোষণের অধিকারী হবে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের পদত্যাগের পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৬৮-৬৯-এ আইয়ুবের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে তিনি সরে যেতে বাধ্য হন। জেনারেল ইয়াহিয়া নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু তার নির্বাচনী প্রচারণায় দ্ব্যার্থহীনভাবে বলেন যে, তিনি এই নির্বাচনকে ছয় দফার ম্যান্ডেট হিসেবে নিয়েছেন এবং ব্যাপক প্রচারেরও উদ্যোগ নিলেন। এখানে আমি আর একটি বিষয় গুরুত্ব সহ উল্লেখ করতে চাই--নির্বাচনের আগে পাকিস্তানকে চারটি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়,চার প্রদেশের জন্য প্রাদেশিক সরকারের বিধান করা হয়।পশ্চিমাঞ্চলের অংশে একক তিন প্রদেশ পুর্বাংশে শুধুমাত্র পুর্ব পাকিস্তান(বর্তমান বাংলাদেশ)।এতেও ক্ষমতা পশ্চিমের হাতে থাকবে কিনা সন্দিহান হয়ে প্রেসিডেন্ট তাঁর নীজ ক্ষমতায় কি করতে পারবেন তাঁর উল্লেখ করে( পি-২) জারী করলেন।অর্থাৎ ""প্রেসিডেন্ট যদি মনে করেন নির্বাচিত সংসদ দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে তাহলে তিনি সংসদ বাতিল করতে পারবেন।"" এই ন্যক্কার জনক শর্ত থাকা শর্তেও বঙ্গবন্ধু সাধারন নির্বাচনে অংশ নিলেন। ""বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার প্রয়োজন নেই,প্রয়োজন শুধু পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের ভাগ্যের ব্যাপারে একক সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার।যে অধিকার দেশে বিদেশে গ্রহন যোগ্য হতে পারে।"" নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য পেলেন তিনি। ভোট পড়েছিল শতকরা ৫৫ ভাগ। প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৭৫ ভাগ আওয়ামী লীগের বাক্সে পড়ে। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের ভেতর ১৬৭টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। এর সঙ্গে সংযুক্ত হয় মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৭টি আসন। প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের ভেতর ২৮৮টি আওয়ামী লীগের দখলে.। ’৭০-এর নির্বাচনে পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। তবে বঙ্গবন্ধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতো নয়। শোনা যায় যে, পাকিস্তানের সামরিক এবং বেসামরিক গোয়েন্দারা নাকি এই মর্মে রিপোর্ট দিয়েছিল যে, কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাহলেই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ’৫৪-’৫৬ সালের মতো রাজনৈতিক খেলা খেলবে। বিধিবাম--বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকদের বলে দিলেন যে, ছয় দফা থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। কারন তিনি ছয়দফার ম্যান্ডেট চেয়ে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ছয় দফার ভিত্তিতে সংবিধান প্রণয়ন করাই হবে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সাহেবের ঝুলিতে তখন যুক্তফ্রন্ট নির্বানোত্তর অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাঙ্গালী জাতির স্বাতন্ত্রবোধ, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। ""বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সব নির্বাচিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের ১৯৭১-এর ৩ ফেব্রুয়ারি রমনা মাঠে জনসমক্ষে এই মর্মে শপথ পড়ালেন যে,"" তারা কোনো অবস্থাতে ছয় দফা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসবেন না।""-----!! প্রীয় পাঠক বন্ধুরা,বঙ্গবন্ধু সুদুরপ্রসারী রাজনীতিবীদ। তিনি জানতেন ছয়দফা পাকিস্তানি শাষক চক্র মানতে পারবেন না।আর তাই ছয় দফা প্রনয়নের বছরই ঢাকা ইউনিভারসিটি কেন্দ্রিক"" নিউক্লিয়াস"" গঠন করে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুক্তির জন্য লড়াই করার সকল ব্যবস্থা পাকা করতে ছাত্র নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব বন্টন করে দিয়ে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন বলেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একদল "" বিশ্বস্ত তরুন বাঙ্গালী অফিসার" ভারতের আগড়তলা পাঠিয়ে ভারতের সহযোগিতা কি হতে পারে তাঁর ধারনা নিয়ে রেখেছিলেন। " আর যদি ছয়দফা কোন কারনে মেনেও যায়,তাহলে পাকিস্তানের ইতিহাস হত অন্যরকম আর এক ইতিহাস।পশ্চিম পাকিস্তানের তিন প্রদেশ পুর্ব পাকিস্তানের নিকট থেকে স্বাধীনতা নেয়ার সংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হত হয়তোবা বহুযুগ।" পরিতাপের বিষয়, কমপক্ষে অর্ধশত বুদ্ধিজীবি বলেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা চাননি। ইতিহাস না জেনেও ইতিহাস বীদ হওয়ার খায়েশে নিত্য বিতর্কিত আলোচনাই নতুন প্রজম্মকে শেখানোর চেষ্টায় রত:। আহম্মকের দল ছোট্র কথাটাও বুঝতে চেষ্টা করেনা,"একক রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে থেকে আগে আক্রমন করা যায়না, এতে বহি:বিশ্বের স্বীকৃতি পাওয়া যেতনা"। স্বাধীনতা চেয়েছিল নাকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চেয়েছিল, তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষন করলেই পাওয়া যায়। ছয় দফাইতো বলে দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু কি চেয়েছিলেন। নীরবেই চলে গেল ঐতিহাসিক ছয় দফার পঞ্চাশ বছর পুর্তির দিনটি। অথছ বঙ্গবন্ধুর সেই দিনের সকল বাধা উপেক্ষা করে ছয়দফা যদি উত্থাপন না করতেন তাহলে হয়তোবা বাঙ্গালী আজও পাকিস্তানের করদ রাজ্যের অন্তভুক্ত হয়েই থাকতে হত। দু:খ্যজনক হলেও সত্য কথাটি হচ্ছে, জাতির জনকের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশের ক্ষমতায়, তাঁর চেয়ে বড় কথা তাঁর কন্যা দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্বেও দিবসটি নিয়ে দলীয় অথবা রাষ্ট্রীয়ভাবে খুব বেশী তোড়জোড় পরিলক্ষিত হয়নি। জয় বাংলা জয়বঙ্গন্ধু জয়তু জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইহা একান্তই চিরন্তন সত্য যে,৬ দফার সুত্র ধরেই আন্দোলনের তিব্রতা সৃষ্টি হয়েছিল, আগরতলা মামলার উদ্ভব হয়েছিল,বঙ্গবন্ধুকে জেল মুক্ত করতেই গন অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছিল।গন অভ্যুত্থানের কারনেই ৭০ এর নির্বাচনে বিধাল বিজয় অর্জিত হয়েছিল।বিজয়ের কারনেই মুক্তিযুদ্ধের অনিবায্যতা সৃষ্টি হতে পেরেছিল।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg