বিশ্বমানবতার কল্যানে প্রেরিত ইসলাম ধর্ম বাংলাদেশের হেফাজতে বিভ্রান্ত!!
(রুহুল আমিন মজুমদার)

      হাইকোর্টের সামনে রক্ষিত ন্যায় বিচারের প্রতিক ভাস্কায্যকে হেফাজতে ইসলাম দেবিমূর্তি নাম দিয়ে সরানোর জন্যে সরকারকে টাইমপ্রেম বেঁধে দিয়ে হুমকি দিয়েছেন। অনেকেই হেফাজতের এই হুমকিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধ সমালোচনাকে ইসলামের দৃষ্টিতে গুনাহ এবং গহ্যিত কাজ মনে করে প্রকারান্তরে হেফাজতের পক্ষাবলম্বন করেছেন। আমিও ব্যাক্তিগতভাবে তাঁদের সাথে সম্পূর্ণ একমত। আমিও মনে প্রানে বিশ্বাস করি, সত্যিকার অর্থেই মুর্তিস্থাপন মস্তবড় পাঁপ এবং বড় ধরনের গোনাহ।

     আমি আরো মনে করি গনতান্ত্রিক সমাজে বাস করা, গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়া, গনতন্ত্রের অন্যতম বাহন বাকও ব্যাক্তি স্বাধীনতা ভোগ করা, গনতান্ত্রিক অধিকারের  সুযোগ গ্রহন করে আন্দোলন করা, বাক সস্বাধীনতার সুযোগ গ্রহন করে বক্তৃতা বিবৃতি প্রকাশ করা--ইত্যাদি সমস্তই মস্ত বড় বড় গুনাহের কাজ। মুলত: গনতন্ত্রে ভোগ, চাওয়া, পাওয়া, সমস্তই পাপ এবং বড় ধরনের গোনাহ।

      আল্লাহ প্রদত্ত ঐশ্বরিক গ্রন্থ আল কোরানের আলোকে বিশ্বব্রম্মান্ডের মানবজাতির কল্যানে তাঁর প্রেরিত দূত(রাসূল স:) কতৃক প্রবর্তিত ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি অনুসারে  একটি আধুনিক, জন কল্যানকর, সাম্য ও সমতা ভিত্তিক রাষ্ট্র শাষন ব্যবস্থার নাম হচ্ছে "ইসলামি শাষন ব্যবস্থা"। অপরপক্ষে গণতন্ত্র আল্লাহর সৃষ্ট অসংখ্য জীবকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠজীব মানবজাতি কতৃক প্রবর্তিত বিদ্যমান বিশ্বের উন্নত, আধুনিক, বিজ্ঞান ভিত্তিক,  কল্যানকর রাষ্ট্র শাষন ব্যবস্থার আধুনিক নাম হচ্ছে "গনতান্ত্রিক শাষন ব্যবস্থা"। উভয়ের মধ্যে নিশ্চিত আল্লাহর প্রেরিত গ্রন্থের আলোকে এবং তাঁর প্রিয় বন্ধু নবী মোহাম্মদের প্রবর্তিত ও প্রচারিত জীবন বিধান--"নি:সন্দেহে শ্রেষ্ঠত্বের দাবী রাখে।" ইসলামী জীবন বিধান বা ইসলামী শাষন শ্রেষ্ঠ--ইসলাম ধর্মের অনুসারি সকল মসুলমানকে  অবশ্যই ইহার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

     ইসলাম ধর্মের অনুসারী যে কোন কাউকে উভয়ের মধ্যে একটিকে যদি বেছে নিতে বলা হয়, তিনি যদি একজন খাঁটি মোমিন হন  "ইসলামী শাষন ব্যবস্থাকে"ই  বেছে নিবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই।

     মানব সৃষ্ট গনতান্ত্রিক শাষনে বহু মত ও পথের অস্তিত্ব বিদ্যমান।গনতন্ত্র আধুনিক ও সৃজনশীলতার পূজারি।অন্যদিকে ইসলামী শাষন ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক, একমতের, একপথের। ইসলামী শাষনে কোরান ও হাদিসের আলোকে আইন প্রনয়ন, প্রয়োগ, শাষনকায্য পরিচালনা ইত্যাদি বাধ্যতামূলক।গনতন্ত্রে যুগের চাহিদা অনুযায়ি পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন, সংযোজন রীতি সিদ্ধ।অন্যদিকে ইসলামী শাষনে যুগের চাহিদা অনুযায়ি নবীজি কতৃক নির্দিষ্টদের দ্বারা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন, সংযোজন রীতি সিদ্ধ। তবে অবশ্যই তাহা "পবিত্র কোরান ও হাদিসের" অভ্যন্তরে থেকেই করতে হবে।কোরানের একটি শব্দ, জের, যবর পরিবর্তন করার ক্ষমতা কেয়ামত পয্যন্ত আল্লাহ কাউকে দেননি, এবং কি তাঁর প্রিয় বন্ধু নবীজিকেও নয়। আল্লাহ নিজেই তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ  পবিত্র কিতাব "আল-কোরানে ঘোষনা করেছেন--তিনিই "একমাত্র এবং একমাত্র উক্ত কিতাবের হেফাজতকারি।" কোরান হেফাজতের  অর্থই ইসলাম ধর্মের হেফাজত, কোরানের হেফাজতকারি যেহেতু আল্লাহ স্বয়ং ইসলাম ধর্মের হেফাজতকারীও অবশ্যই স্বয়ং তিনি। এই জন্য নবীজি আল্লাহর হুকুমে তাকাওর বিদায়ি ভাষনে বলে দিয়েছেন--"এর পর আর কোন কিতাব আসবেনা, আর কোন নবীও আসবেনা, আর কোন ধর্মও আসবেনা।" আসেওনি এই পয্যন্ত ভবিষ্যতেও আসবেনা ইহাই সত্য।
 
    আল্লাহ তাঁর নবীর মাধ্যমে মক্কা জয়ের উদাহরন, মক্কা নগরকেন্দ্রিক ইসলামী শাষন ব্যবস্থা প্রবর্তন, নগর রাষ্ট্রকে ইসলামী সাম্রাজ্যে রুপান্তর, ইসলামী রাষ্ট্র শাষন ব্যবস্থার লিখিত নীতি, নবীজির মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শাষনভার পরিচালনার পদ্ধতি ইত্যকার সমূদয় বিষয়াবলীর প্রত্যক্ষ নজির নবীজির মাধ্যমে  পরবর্তি ইসলাম ধর্মের অনুসারি প্রজম্ম থেকে প্রজম্মান্তরের অনুসরন, অনুকরনের নিমিত্তে স্থাপন করেছেন। নবীজির মৃত্যুর পর তাঁর বিশ্বস্ত চার সাহাবী ক্রমানুসারে ইসলামী সাম্রাজ্যের খেলাফতের খলিফার দায়িত্ব পালন করার নজির বা উদাহরন প্রজম্মান্তরের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন।
 
    আগেই উল্লেখ করেছি পবিত্র কোরানের সামান্যতম পরিবর্তন করার ক্ষমতা আল্লাহ কাউকে দেননি।নবীজির কথা, কাজ ইত্যাদি হাদিস আকারে পরবর্তি মুসলিম ধর্মালম্বিদের অনুসরন, অনুকরন বাধ্যতামুলক। কোরানের যেমন কোন পরিবর্তন গ্রহনযোগ্য নয় তেমনি হাদিসেরও কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন, বিয়োজন গ্রহনযোগ্য নয়। তাহলে দেখা যায় নবীজি যেরুপে ইসলাম প্রচার প্রসারে তাঁর কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন, উহাই একমাত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের সঠিক পথ। নবীজি যেইরুপে রাষ্ট্র জয়, শাষন, খলিফা মনোনয়ন, জীবন যাপন ইত্যকার কায্যাদি সম্পন্ন করেছেন--"উহাই ইসলামের সঠিক রীতি এবং নীতি।" সর্বযুগে উক্তরুপ রীতিনীতি অনুসরন, অনুকরন প্রত্যেক মসুলমানের জন্যে অবশ্যই বাধ্যতামূলক এবং কর্তব্য। ব্যাতিক্রমে অবশ্যই বে'দাত, ইসলামের অনুশাষন অমান্যকারি, খোদাদ্রোহি, ইসলামের সাথে সম্পর্ক চিহ্নকারি,  মোনাফেক হিসেবে পরিচিত হবেন।

      এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই---ইসলাম ধর্ম পালন, ইসলাম ধর্মের অভ্যন্তরীন আরকাম, আহকাম পালন, পবিত্র কোরান অনুসরন, সেই মতে নিজের জীবন পরিচালনার কথা বার বারই কোরান ও হাদিসে তাগিদ দেয়া হয়েছে। কিন্ত্যু এই সমস্ত কায্যাদি সম্পন্ন করার জন্যে অবশ্যই "ইসলামী শাষন ব্যবস্থা কায়েমে"র প্রয়োজন রয়েছে, তেমন কোন তাগিদ আল্লাহ তাঁর কোরান  বা  রাসূল তাঁর হাদিসে দেননি। বরঞ্চ কাফের, বিধর্মী শাষনে ইসলাম ধর্মের অনুসারি মুসলিমদের জীবন যাপন, আল্লাহর এবাদতে মুসলিম কতৃক শাষিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার চেয়ে ভিন্নতর কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।মুসলিমদের যে যেখানেই বসবাস করুক না কেন, সে সেই দেশের আইনকানুন, রীতিনীতি মেনে দেশপ্রেমের উদাহরন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং দেশপ্রেমকে "ঈমানের অঙ্গ" হিসেবে ঘোষনা করেছেন।

ইসলামী শাষন ব্যবস্থা ব্যাতিরেকে ধর্ম পালন যথাযথ নয় এমনটি যদি হতই তাহলে আল্লাহর অনুগ্রহেই বিশ্বব্রম্মান্ডে একাধিক ইসলামী হুকুমতের দেশ পরিলক্ষিত হ'ত।অথবা মরনপন লড়ায়ের মাধ্যমে হলেও ইসলাম ধর্মের অনুসারি কোটি কোটি মুসলিম তৌহিদি জনতা নীজেদের একটি আবাস ভুমি প্রতিষ্ঠা করতেন। তথায় ইসলাম ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে ধর্ম পালন করতেন অথবা অন্যভাবে বলা যায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। যেহেতু ইসলামী হুকুমত ব্যাতিরেকে ধর্মকর্ম পালনে শুদ্ধতা আসার অন্যকোন বিকল্প পথ সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাখেননি। তদ্রুপ কি হয়েছে বা  ঘটেছে?

আল্লাহ এক হুকুমে সারা জাহান সৃষ্টি করেছেন, আর এক হুকুমে আদম (অ:) এবং বিবি হাওয়া (রা:)কে সৃষ্টি করেছেন। একলক্ষ বা দুইলক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গাম্বর পাঠিয়েছেন--তাঁদের মাধ্যমে একশত চারটি আসমানী পবিত্র কিতাব পাঠিয়েছেন। তাঁর দুনিয়ায় সৃষ্ট মানবজাতিকে সু-পথে আনার জন্যে, তাঁর এবাদত করার জন্যে।আর একটি হুকুমে কি তাঁর প্রিয় ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের জন্যে আলাদা একটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে পারতেন না? বা সমুদয় মানব জাতিকে ইসলাম ধর্মে উদ্ভোদ্ধ করতে পারতেন না ? কেন করেন নি?
   
     নবী (স:) যখন সদলবলে মক্কা জয় করেন তখনও মক্কা শরিফের ভিতরে তিনশত ষাটটি মূর্তি রক্ষিত ছিল।তিনি সব গুলী মুর্তি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কথিত আছে একটামাত্র মুর্তির অস্তিত্ব রেখে দেয়া হয়েছিল আগামী প্রজম্মের নিকট উদাহরন হিসেবে তুলে ধরার নিমিত্তে। অর্থাৎ বিজিত মক্কা নগরীতে আর কোন মুর্তির অস্তিত্ব ছিল না। সম্পুর্ণ মক্কা ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের বাসস্থানে পরিণত হয়েছিল। তারপরেই মক্কা নগরীকে "পবিত্র নগরি" ঘোষনা করেছিলেন নবীজি (স:)--তাঁর আগে নয়।


   পাঠক বন্ধুরা, সাধারন মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহন করার কারনে আমিও ইসলাম ধর্মের অনুসারি হিসেবে, বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে শ্রবন করা বক্তব্যের আলোকে নিজের ধর্মের সঙ্গে বর্তমানের ইসলাম ধর্ম প্রচারকারি, প্রতিষ্ঠাকারী, ধারক, বাহকদের বৈপরিত্য সম্পর্কে কিঞ্চিত সঞ্চিত জ্ঞানের আলোকে আলোচনা করতে পারি।কিন্ত্যু তাঁদের চেষ্টা  কোন অবস্থায় সম্পূর্ণ বা আংশিক সঠিক নয় বলতে পারিনা। পাঠক গনের উপলব্দিতে যাঁর যেমনটি আসে তাঁর তেমনটি বোধগম্যতা জাগিয়ে সঠিক সত্য, বেদাত, মিথ্যা যাছাইয়ের সুযোগ হতে পারে চিন্তা থেকেই আলোচনার সুত্রপাত।কারন ধর্মীয় জ্ঞান ধারন করার ক্ষমতা আল্লাহ আমি এবং আমার ন্যায় কোটি কোটি জম্মগ্রহনেই ইসলাম ধর্ম অনুসারীকে দেয়নি।

উল্লেখিত আলোচনায় প্রকাশ পেয়েছে ইসলামের হেফাজতকারী একমাত্র আল্লাহ। অন্য কেহ ইহার দাবীদার হ'তে পারেনা। তদ্রুপ যদি কেহ বা কোন মহল দাবীদার অনুমেয় হয়, তবে নিশ্চিত ধরে নেয়া যায়, তিনি বা তাঁরা খোদায়ী দাবীকারক? খোদায়ী দাবীকারক নি:সন্দেহে শিরকের সামিল।সুতারাং হেফাজতে ইসলামের নামের মধ্যেই অর্থ্যাৎ অংকুরেই শীরকের গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়। ইসলামী শাষন ব্যবস্থা প্রবর্তনের আন্দোলন ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে সমর্থন যোগ্য এবং অবশ্যই সঠিক।হেফাজতে ইসলাম "ইসলামী শাষন ব্যবস্থা" কায়েমের লক্ষে আন্দোলনরত:,নাকি 'ইসলামের হেফাজত' করার আন্দোলনরত:? তাঁরা প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে একাধিকবার বলেছেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার লোভ তাঁদের মধ্যে কারো নেই। অন্যদিকে ইসলামের হেফাজতকারীর অধিকার আল্লাহপাক নীজের কাছেই রক্ষিত রেখেছেন, তিনি তাঁর কোরানেই স্পষ্টভাবে ঘোষনা করেছেন। ইসলামের হেফাজতকারীর ভুমিকায় অবতীর্ন হয়ে "হেফাজতে ইসলাম" আল্লাহর সমকক্ষ দাবীদারের ভুমিকায় অবতির্ন হয়েছেন কিনা--"প্রকৃত আলেম, ওলামা, ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারিগন অবশ্যই ভেবে দেখার সময় হয়েছে।"

দ্বিতীয়ত আলোচনায় এসেছে, নবী (স:) মক্কা জয় করার পর কাবা ঘরের সকল মূর্তি ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হেফাজতে ইসলাম সহ অপরাপর ইসলামী দল সমূহ বাংলাদেশের আনাছে কানাছে অসংখ্য তথাকথিত মূর্তির অবস্থান অক্ষুন্ন রেখে, শুধুমাত্র হাইকোর্টের সামনের কথিত 'দেবিমূর্তি' সরানোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা কি ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বা অন্যকোন নগরী জয় করে ইসলামী হুকুমত কায়েম করেছেন? কোন নগর, বন্দরে ইসলামী ঝান্ডা স্থাপন ব্যাতিত ইসলামের দৃষ্টিতে "বাতিল গনতান্ত্রিক শাষন ব্যাবস্থা" এবং এর সরকারের সঙ্গে তাঁরা কি জোর জবরদস্তি মূলক ফ্যাসাদে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টারত: হননি? ইসলামী শাষন ব্যাতিত তদ্রুপ ফ্যাসাদ সৃষ্টি ইসলাম ধর্ম কি অনুমোদন করে?

    আমাদের দেশের ইসলামের ধারক বাহক "হেফাজতে ইসলাম" সহ অন্যান্ন ইসলামী দল সমূহ সারাদেশে লক্ষ লক্ষ কথিত মুর্তি উচ্ছেদ, সরানো, ভাঙ্গার আন্দোলনে সম্পৃত্ত নয়। মূর্তি স্থাপন  না করার সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রয়োজন "ইসলামী হুকুমতের সরকার প্রতিষ্ঠা।" একক ইসলামী শাষন ব্যবস্থা কায়েমের  লক্ষে জনমত সংগঠিত হওয়া পয্যন্ত অপেক্ষা না করে, গনতান্ত্রিক সরকারের নিকট মূর্তি সরানোর আবেদন বা দাবী, ইসলাম কি অনুমোদন করে?নবীজি কি মক্কা জয় করা পয্যন্ত কাফেরদের নিকট 'কাবাঘরে' রক্ষিত মুর্তি সরানোর আবেদন করেছিলেন? একটি মাত্র মুর্তি সরানো বা ভাঙ্গার আন্দোলনের অর্থ কি বাতিল "গনতান্ত্রিক সরকারের" সাথে ফ্যাসাদে জড়ানো নয়? ফ্যাসাদ সৃষ্টি বা ফ্যাসাদে লিপ্ত হওয়া ইসলাম কি অনুমোদন করে?

   বর্তমান বিশ্বব্যাবস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গনতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র সমূহ পরিচালিত হচ্ছে। একক ইসলামি অনুশাষনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়না।কোন কোন ইসলামী রাষ্ট্র আংশিক গনতন্ত্রের মধ্যে থেকে সকল ধর্মের অনুসারি গন নিজ নিজ ধর্মকর্ম,  উৎসব, আনন্দ উপভোগরত: রয়েছে। ইসলামের পিতৃভূমি আরব দেশ সহ অন্যান্ন সকল মুসলিম প্রধান দেশেই স্ব-স্ব জাতির জনকের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। সকল রাষ্ট্রেই মুসলিম জাতির জনক হযরত ইব্রাহিম (অ:) এবং নিজস্ব জাতির সত্বার জনকের বিভাজন রেখে, জাতি সত্বার উম্মেষকারির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার রীতি চালু রেখেছেন।
গনতন্ত্রের সৃজনশীলতার অংশ হিসেবে সকল দেশেই তাঁদের নিজস্ব জাতি গোষ্টির শিল্প সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি চর্চা কমবেশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মকর্মও যথারীতি ভাবগাম্ভিয্য নিয়ে পালিত হচ্ছে--কোথাও কোন মুসলিম প্রধান দেশেই আলেম ওলামাদের কোনরুপ সমস্যা হচ্ছে, তেমনটি শুনা যায়না।শুধু মাত্র বাংলাদেশে বাঙ্গালী জাতির পিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, বর্তমান সময়ে হাইকোর্টের সামনে রক্ষিত ন্যায় বিচারের প্রতিক ভাস্কায্যে সমস্যা হচ্ছে--"তথাকথিত হেফাজতে ইসলাম সহ কতিপয় ধর্মীয় দলের।"

       অথচ সৌদি আরবের জেদ্দাতেই আছে দুই দুইটি মূর্তি! একটি উটের ‘মূর্তি’, আরেকটি মুষ্টিবদ্ধ হাত সদৃশ ‘মূর্তি’। এসব নিয়ে সেই দেশের আলেম সমাজের মধ্যে কোনো সমস্যা হয় না। বর্তমান সৌদী বাদশাহর সর্ব বৃহৎ মূর্তি প্রতিস্থাপিত হয়েছে এই সেই দিন। আলেম ওলামাদের মধ্যে কোনরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়নি।

পারস্যের কবি শেখ সাদীর নাম আমরা সবাই শুনেছি,বাংলাদেশের আলেম ওলামাগন তাঁর রচিত হামদ ও নাৎ মধুর স্বরে কন্ঠে ধারন করে শ্রোতামন্ডলিকে বিমুগ্ধ করে রাখেন।’-এ দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারন মুসলমানেরা মিলাদে সব সময় পাঠ করে থাকেন--‘বালাগাল উলা বি কামালিহি কাশাফাদ্দুজা বি জামালিহি।’ বাংলাদেশের তথাকতিথ "হেফাজতে ইসলাম" কি জানেনা, শেখ সাদীর মাজারের সামনেই তার একটি মর্মর পাথরের ভাস্কর্য আছে। সেখানকার মাদ্রাসার ছাত্ররা তা কখনো  ভাঙেনি বা ভাঙ্গার আন্দোলনও করেনি।

ইসলামি রাষ্ট্র ইরানে অবস্থিত কবি ওমর খৈয়াম ও মহাকবি ফেরদৌসির ‘মূর্তি’  স্থাপন করা আছে।সেই দেশের আলেম ওলামাদের উক্ত মুর্তি সরানোর আন্দোলন করতে শুনা যায়নি।তাছাড়া সেখানে ক্ষমতায় রয়েছে ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারি আলেম সমাজ,তাঁরা ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তেহরানে অজস্র মানুষের প্রতিকৃতি সম্বলিত ‘মূর্তি’ নিয়ে সে দেশের ক্ষমতাসীন আলেমদের সরকারের কোন সমস্যা হয়েছে বলে শুনা যায়নি।  সিরিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়ামে থাকা ‘মূর্তি’ নিয়েও সেই দেশের আলেম ওলামাদের কোন সমস্যা হয়েছে এ পয্যন্তও শুনা যায়নি।

একটিমাত্র মূর্তি নিয়ে বাংলাদেশে কেন সমস্যা হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের?
অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার বলেছেন,‘এটা  মূর্তি নয়। এটা স্কাল্পচার (ভাস্কর্য)।  উক্ত ভাস্কায্যের মধ্যে দেখানো হয়েছে তিনটি জিনিস। একটি হলো দাঁড়িপাল্লা---"ন্যায়বিচারের সূচক। হাতে একটি তলোয়ার---"দণ্ড বা শাস্তির সূচক"। তৃতীয়টি চোখ বাঁধা-- অর্থাৎ নিরপেক্ষ বিচার বা বিচারকের চোখ অন্ধ অর্থে। তিনি আরো বলেছেন-- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই বিচারের নিরপেক্ষতা তুলে ধরা হয় এই স্কাল্পচার  বা ভাস্কায্য দিয়েই।’ তদোপরিও আমাদের তথাকথিত ইসলামের হেফাজতকারিরা মানতে নারাজ, মুর্তি সরাতেই হবে।

     উক্ত বিষয়ে উপসংহারে বলতে পারি--সূদুর অতীতকাল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের একশ্রেনীর আলেম ওলেমা, ইসলাম ধর্মজ্ঞান শুন্য ব্যাক্তি ও দল, আরবি জ্ঞানার্জনের ধারে কাছে না যাওয়া তথাকথিত আলেম ওলামা, বর্তমান সময়ে উপমহাদেশে নতুন অবির্ভুত ইসলামি জ্ঞানসম্পন্ন আলেম ওলেমা কতৃক গঠিত 'ইসলামের হেফাজতকারি' পবিত্র ধর্ম ইসলামকে যত্রতত্র ব্যবহার করে সাধারন ধর্মপ্রান মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় ব্রতি ছিলেন, আছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতেও প্রক্রিয়াটি আরো শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যমে জোরালো ভাবেই অব্যাহত রাখবেন।
অতীতে যতবারই সাধারনের ধারনায় "আল্লাহ ও তাঁর নবী বিরুদ্ধ ধর্মাশ্রয়িগন" শক্তি সঞ্চয় করে সাধারনের উপর চড়াও হয়েছেন, বা হওয়ার চেষ্টা করেছেন, ততবারই নাজেহাল, নিয্যাতীত, লানতের ভাগিদার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। ইহা কি ধর্মদ্রোহিতার কারনে স্বয়ং আল্লাহর পরোক্ষ প্রত্যক্ষ হুকুমে তাঁর নির্দেশিত লানতের নজির নয়?

      বর্তমানেও সারা বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ট ইসলাম ধর্ম অনুসারি দেশ সমূহের আলেম ওলামাদের বিপরীতে বাংলাদেশের আলেম ওলামাদের অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোনপ্রকার মন্তব্য না করে শুধুমাত্র বলা যায়--হয় বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ অথবা হেফাজতে ইসলাম ধর্মদ্রোহি, মোনাফেক--নয়তো সারা বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিক অথবা আলেম সমাজ ধর্মদ্রোহী, মোনাফেক।
যেহেতু বিশ্বমানবতার কল্যানে প্রেরীত ইসলাম ধর্মের বিভিন্নদেশে বিভিন্নরুপ হওয়ার কোন সুযোগ অতীতেও ছিলনা, বর্তমানেও থাকার কথা নয়, ভবিষ্যত সে তো সুদুরপরাহত।
        ruhulaminmujumder27@gmail.com
   
    

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg