তিতাস গ্যাসে শুধুমাত্র গ্যাসই চুরি হয়না -"ঘনিভূত(কনডেনসেট) তেলও চুরি হয়।"
(রুহুল আমিন মজুমদার)
 
      বাস্তবতায় জনমনের ধারনা গ্যাস কোম্পেনিতে গ্যাস ছাড়া চুরি করার আর কি বা আছে। কথাটি একেবারে মিথ্যে নয়, অন্য যাহা পাওয়া যায় তা পরিশোধন করার পরই কেবল ব্যবহারযোগ্য বিধায় কারো দৃষ্টি সে দিকে থাকার কথাও নয়। তিতাস গ্যাসে অঞ্চলভিত্তিক সিন্ডিকেটের খবর তথায় সম্পৃত্ত সকলের জানা আছে।  ঐ সমস্ত সিন্ডিকেট কত যে শক্তিশালী সম্পৃত্ত ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়া সর্বসাধারনের কল্পনাও করা সম্ভব নয়।
     বিশ্বের গ্যাস সমৃদ্ধ কোন দেশেই পাবলিক ব্যবহায্য জ্বালানি হিসেবে গ্যাস উত্তোলন ও ববিতরনের প্রাথমিক পয্যায় থেকেই পাইপ লাইনে অনির্দিষ্ট ব্যবহার নির্দিষ্ট টাকায়  পদ্ধতি অনুসৃত হয়নি।সকল দেশে যদিও সিলিন্ডারে গ্যাস ব্যবহার করার রীতি প্রচলিত আছে কিন্তু বাংলাদেশেই একমাত্র বিপরীত পাইপলাইনেতো বটেই অ-প্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধকল্পে নেয়া পদক্ষেপও কখনও কায্যকর করা যায়নি। গ্যাস আবিস্কারের প্রাথমিক যুগে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দীর্ঘ ৫২/৫৩ বছর চলমান থাকার পরেও থামানো সম্ভব হয়নি।সরকারের উদ্যোগ এবং  সদিচ্ছা ছিলনা তা কিন্তু  নয়, একাধিকবারের চেষ্টা তিতাসের অভ্যন্তরে গড়ে উঠা দুর্নীতিবাজ চক্র নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।এই থেকে অনুমান করা সম্ভব তাঁদের শক্তি কোথায়? নিম্নে তদ্রুপ শক্তির একটি ঘটমান ঘটনার বিবরন আপনাদের জ্ঞাতার্থে পূণ:আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করি----
     জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) মালিকানাধীন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের ঘনীভূত তেল (কনডেনসেট) চুরিতে ধরা পড়া ২ কর্মচারীকে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি দোষী সাব্যস্ত করলেও রহস্যজনক কারণে তাদের দু'বার সাময়িক বরখাস্তের পর দু'বার পুনর্বহাল করা হয়।ঘটনাটি ২০১২ সালে সংঘটিত হয়।
      মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন গাজীপুরের মাওনা সামিট পাওয়ার প্লান্ট থেকে চালানবিহীন কনডেনসেট (তেল) তিতাসের তালিকাভুক্তির বাইরে ট্যাঙ্কলরিতে (ঢাকা-মেট্রো-ন-১২৩৭) ভরার সময় এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় ওই প্ল্যান্টে কর্মরত পেট্রোলম্যান মো. জসিম উদ্দিনের হাত পুড়ে যায়। এ ঘটনায় পরের দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করতে গিয়ে অনুমোদনবিহীন ট্যাঙ্কলরিতে তেল চুরির ঘটনা ফাঁস হয়। দেখা গেছে, একইভাবে একই ট্যাঙ্কলরিতে করে ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ৮৮ হাজার লিটার কনডেনসেট চুরি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৬১ লাখ টাকা।
         এ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি তিতাসের পেট্রোল ম্যান ফরিদ ও জসিমকে সাময়িক বরখাস্ত করে কৃর্তপক্ষ। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এ ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আখেরুজ্জামান বাদী হয়ে বাংলাদেশ গ্যাস আইন এবং ৩৮০/৩৪ দ-বিধিতে ফরিদ ও জসিমসহ ৬ জনকে বিবাদী করে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (শ্রীপুর) এর সিআর মো. নং- ১১৫/২০১২ করেন। মামলার অন্য বিবাদীরা হলো ট্যাংকলরি চালক শাহীন, আফসার, হারুন ও মনির। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা ট্যাংকলরি (ঢাকা মেট্রো ন- ১২৩৭) দিয়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার লিটার কনডেনসেট চুরি হয়েছে। যাহার বাজার মূল্য প্রায় ৬১ লাখ টাকা।
      এ দিকে মামলা চলমান অবস্থায় রহস্যজনকভাবে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল তিতাস গ্যাসের সংস্থাপন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মমতাজ বেগম স্বাক্ষরিত এক পত্রে ফরিদ ও জসিমকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ২৫ মার্চ হতে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয়া হয়। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তান্তে পরবর্তী ব্যবস্থা গৃহীত হবে। ২০১২ সালের ২৮ জুন আদালতে ফরিদ ও জসিম জামিন নিতে গেলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। তিতাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (সংস্থাপন) মমতাজ বেগম ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত অপর এক পত্রে আইনগত মতামত ও সিআর মামলা থাকার কারণে ফরিদ ও জসিমকে পুনরায় ২০১২ সালের ২৫ মার্চ থেকে কার্যকর করে সাময়িক বরখাস্ত করেন। ঐ পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ঐ সময়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত তারা কোম্পানির কোনো অফিসে প্রবেশ করতে পারবে না এবং স্থানীয় ঠিকানা ত্যাগ ও পরিবর্তন করতে পারবে না। এ দিকে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি উপ-মহাব্যবস্থাপক (সংস্থাপন) মমতাজ বেগম বরখাস্তকৃত ঐ ২ পেট্রোলম্যানকে বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে আবার কাজে যোগ দানের অনুমতি দেন। তবে পত্রে তিনি বিভাগীয় তদন্তে ঐ দুই জনকে দোষী সাব্যস্ত করে চাকরিতে অবিলম্বে যোগদানের নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশ সরকারি চাকুরীবিধির কোন নীতিতে বা কোম্পেনী আইনের কোন ধারায়  আইন সম্মত নয়। উক্ত বিষয় দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা তখনকার পরিস্থীতিতে মুখ খুলতে না চাইলেও প্রজ্ঞাপন দাতা উপ-মহাব্যবস্থাপক (সংস্থাপন) মমতাজ বেগম সাংবাদিকদের সঙ্গে উদ্যত পুর্ণ আচরন করেন বলে তখনকার সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।(সংগৃহিত)
   উক্ত কর্মচারিদের ভাগ্যে পরবর্তীতে কি ঘটেছিল বা মামলার ভাগ্যেই বা কি ঘটেছিল আজও জানা যায়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ও মন্ত্রানালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়টির সর্বশেষ অবস্থা ব্যাখ্য দিয়ে জনকৌতুহল নিবারন জরুরি প্রয়োজন মনে করি।
      এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই---বিগত ৫২ বছর একচেটিয়া উক্ত সংস্থায় লুটপাট, গ্যাস চুরি, তেলচুরি চলতে থাকলেও বন্ধ করার কায্যকর কোন ব্যবস্থা আজব্দি  কোম্পেনির পক্ষ থেকে বা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। এক্ষেত্রে সেন্ডিকেট ফুলেফেঁপে সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার শক্তি অর্জন করে নিশ্চিন্তে লুটপাট অব্যাহত রেখেছে।সকল প্রকার দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি নির্মূলে প্রয়োজন বেসরকারি খাতে উক্ত সংস্থার আংশিক হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনায় অমূল পরিবর্তন সাধন করা বর্তমান সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তবেই কেবল সকল গৃহস্থালী গ্যাস সিলিন্ডারে সরবরাহ, শিল্প কারখানায় মিটার ডিজিটিলাইজেশনের মাধ্যমে বিলিং পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হবে। উক্ত পদ্ধতিতেই কেবলমাত্র  সরকারের প্রভূত আয় করা সম্ভব উক্ত খাতটি থেকে।সরকার এবং ব্যাক্তির যৌথ মালিকানায় ব্যাবস্থাপনা ব্যাতিরেকে সর্বসাধারনের সমমূল্যে গ্যাস সরবরাহ কখনই সম্ভব হবে বলে মনে করিনা।
                    "জয়বাংলা     জয়বঙ্গবন্ধু"
         ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg