মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর 'জঙ্গী বিরুধী নির্দেশনা' বৈঠক শেষেই বানচাল করার উদ্যোগ।
(রুহুল আমিন মজুমদার)

       হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলার পর জোটগত ভাবে ১৪দল "জঙ্গীবিরুধী" প্রচারনার অংশ হিসেবে প্রতিটি থানা, জেলা, ইউনিয়ন পয্যায় কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের পর ১৪ দলের যৌথ উদ্যোগে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, সম্মানীত ব্যক্তিদের উদ্যোগে উক্ত কমিটি করার ঘোষনা দেয়া হয়েছিল।
    হলি আর্টিজানে হামলার পর   সরকারি ভাবে নেয়া পদক্ষেপ সমূহ দেশে বিদেশে প্রসংশিত হতে দেখা যায়।সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, র্যব বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। জনগন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সরকারের উদ্যোগে ব্যাপকভাবে সাড়া দিতে দেখা গেছে। সর্বত্র জঙ্গীবিরোধি ঘৃনার মনোভাব  পরিলক্ষিত হয়।এমন কি মৃত জঙ্গীদের লাশগ্রহনে পিতামাতারাও অস্বীকৃতি জানাতে দেখা গেছে।ফলে মৃত জঙ্গীদের বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করতে হয়েছে--ইহা নিশ্চয়ই ঘৃনার ব্যাপকতারই ফসল।
    জনগনের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহনের ব্যাপকতায় সরকার বিরোধী দল সমূহের বারংবার "জঙ্গী বিরোধী জাতীয় ঐক্যে"র আহব্বান সরকার অবলীলায় প্রত্যাক্ষান করতে পেরেছিল।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শুনা গেছে--"জনগনের মাঝে জঙ্গীবিরুধী জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে অন্যকোন ঐক্যের এখন আর প্রয়োজন নেই।"
   এমনতর পরিস্থীতিতে দেশব্যাপি কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে, সরকারও একাধিকবার ঘোষনা করে জঙ্গীদের শক্তি খর্ব করতে পেরেছেন এবং তাঁরা এখন বিচ্ছিন্ন। সংগঠিত হামলা করার শক্তি তাঁদের এখন আর অবশিষ্ট নেই।
    রাষ্ট্রের আইনশৃংখলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, ১৪ দলীয় জোট, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরে তৃপ্তির ছায়া লক্ষ করা যায়। অতিবিশ্বাস হেতু সকলেই জঙ্গী ভীতি ভুলে স্ব-স্ব-কর্মে নিয়োজিত হয়ে পড়ে। সরকারের স্ব-স্ব সংস্থার নেয়া কর্মসূচি স্ব-স্ব-স্থানেই স্থীরিকৃত হয়ে পড়ে।

      সরকার জঙ্গীদলের অর্থদাতা, অস্ত্রদাতাদের খোঁজ খবর নিতে আইনশৃংখলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা সমূহকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিল। চলমান উক্ত সময়ের মধ্যে মালেয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড আইনশৃংলা বাহিনীর প্রতি সরকারের নির্দেশ না থাকা সত্বেও সেই সমস্ত দেশে কর্মরত: বাংলাদেশীদের দুই/পাঁছ লক্ষের মধ্যে একাধিক অর্থ সংগ্রহকারী গ্রুপের সন্ধান পেয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশে সরকারের নির্দেশ থাকা সত্বেও আইনশৃংখলা বাহিনী ১৬ কোটি মানুষের অবস্থান থাকা সত্বেও জঙ্গীদের অস্ত্র সরবরাহকারী বা অর্থ সংগ্রহকারী একটি  গ্রুপেরও সন্ধান রাষ্ট্রকে  দিতে পারেনি।
    রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকারি ১৪দলীয় জোট তৃনমূল পয্যায় অ-শুভশক্তির সন্ধান প্রাপ্তির লক্ষে  সর্বস্তরের জনগনকে  আইনশৃংখলা বাহিনী সমূহকে তথ্যদিয়ে সহযোগীতা করার আবেদন জানায়। "জঙ্গীবাদ বিরুধী প্রচার কমিটির মাধ্যমে তৃনমুলে "বাড়ীছাড়া" যুবকদের খোঁজখবর নেয়ার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। উল্লেখিত তৎপরতা থেকে আদৌ কোন খোঁজ খবর পাওয়া গিয়েছিল----এমন কোন তথ্য গনমাধ্যমে আসেনি। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশিত "জঙ্গীবাদ বিরোধী কমিটি--'জেলা, উপজেলা ইউনিয়নে গঠিত হয়েছিল কিনা বা সভা সমাবেশ হয়েছিল কিনা উল্লেখযোগ্য তেমন কোন খবর আজও পাওয়া যায়নি।
   
     অদ্য ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী আবারও পুর্বের নির্দেশনা দেন। বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের জানান--'জঙ্গীবাদের প্রসঙ্গটি অনির্ধারীত ভাবে অদ্যকার বৈঠকে আলোচিত হয়।
   
    বৈঠকে নিজ নিজ এলাকায় জঙ্গি প্রতিরোধ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সবাইকে সম্পৃক্ত করলে জঙ্গি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এলাকায় এলাকায় জঙ্গি প্রতিরোধ করতে তাই মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী জঙ্গি প্রতিরোধে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা, ইউনিয়নে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে আবারো কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
   
        "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত পূর্বের কমিটিগুলো সক্রিয় রয়েছে।"
    লক্ষ করুন পাঠক--প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন কমিটি করে কায্যকর উদ্যোগ নিতে তাঁর মন্ত্রী বলছেন পূর্বের কমিটি বর্তমান সময় পয্যন্ত সচল রয়েছে।

    সম্মানিত পাঠক--উল্লেখিত কমিটি যদি একান্তই সচল থাকে তবে তাঁদের কর্মতৎপররতার ফিরিস্তিও নিশ্চয়ই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা আছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় "স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রীর" নিকট সবিনয় জানতে চাই----'অদ্য পয্যন্ত দেশের কোথায়, কবে, কার নেতৃত্বে জঙ্গীবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে? ১৪ দলের নেতৃত্বে গঠিত সুশিল সমাজ সম্পৃত্ত " জঙ্গীবাদ বিরুধী কমিটি" কতজন "বাড়ীছাড়া" যুবকের সন্ধান পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে কতজনকে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা খুঁজে পেয়েছে? আইনশৃংখলা বাহিনীই বা কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেছে?
   
       আমাদের বাঙ্গালীদের একটি জাত স্বভাব 'হুজুগে আমরা 'অ-সম্ভবকে ও সম্ভব' করতে পারি। সংঘটিত ঘটনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আমরা কখনও পারিনি।অতীতে বাঙ্গালীর শৌয্যবিয্যের অমরকাহিনী যেমন সংরক্ষন করতে পারিনি, মায্যদা দিতে পারিনি তেমনি চল্লিশ বছর পর 'প্রগতির চাকা' সচল রাখার ক্ষেত্রে মাত্র ছয়/সাত মাস আগে সর্বস্তরের জনগনের মধ্যে গড়ে উঠা "স্ব-প্রণোদিত জনঐক্য" ও আমরা সংরক্ষন করতে পারিনি।আমরা পারি শুধুমাত্র "দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি ও শক্তি"র বাগাড়ম্ভরপূর্ণ অতিকথনের জোয়ার তুলতে।
   
    মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট আমি সবিনয়ে জানতে চাই--আপনাদের নেয়া জঙ্গীবিরোধী কমিটির অস্তিত্ব যখন ছিলনা তখন লাগাতার চার দিন দেশের কোথাও জঙ্গীদের বিরুদ্ধে দেশের শক্তিশালী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত "বিশেষ বাহিনী"কে লাগাতার চার/পাঁছদিন যুদ্ধ করতে হয়নি।এত সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, সাধারন মানুষের প্রান দিতে হয়নি।শুধু তাই নয় একমাসের মধ্যে এত সংখ্যক জঙ্গী হামলারও কোন উদাহরন সৃষ্টি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কমিটির অস্তিত্ব যদি থেকেই থাকে বিগত চার/পাঁছদিন মতণপণ লড়াই করতে হল কেন? সিলেটে "শিববাড়ী"তে অবস্থান নেয়া জঙ্গীরা কি মঙ্গলগ্রহের বাসিন্দা? আপনার সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনী, দলের নেতাকর্মী, জোটের নেতাকর্মী যে সমাজে বসবাস করে অদ্যকার দিনে ধৃত,মৃত জঙ্গীরাও সেই সমাজের বাসিন্দা।সাধারন মানুষ স্ব-উদ্যোগে আইনশৃংখলা বাহিনীকে তাঁদের অবস্থানের খবর দিতে পারলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কমিটি পারেনি কেন? সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি নির্দেশ থাকা সত্বেও তাঁরাও কেন বিগত ছয়/সাত মাসের মধ্যে একটি জঙ্গী ঘাঁটির খবর দিতে পারেনি?

     বাঙ্গালীর অর্জন সমূহ ধরে রাখার ক্ষমতা নেই এভাবে কথাটা যদি বলি হয়তো সর্বাংশে সত্য নাও হ'তে পারে।বাঙ্গালীর অর্জন সমূহ ধরে রাখার মত দৃডচেতা নেতার জম্ম হয়নি এভাবে যদি বলি সত্যিকার অর্থেই যুক্তিগ্রাহ্য হতে পারে। বাঙ্গালী জাতি ক্ষমতা অপ-ব্যাবহার করতে জানে--ক্ষমতা ব্যবহার করে জনকল্যান করতে পারেনা। ক্ষমতাভোগ করতে ঠিকই জানে---ক্ষমতা সংরক্ষনের জন্যে সামান্য সময়ও ত্যাগ করতে পারেনা। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনকের কন্যা ঠিকই জানেন তাঁর দেয়া পুর্বের নির্দেশ মাঠপয্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই অদ্যকার সভায় অনির্ধারীতভাবে আলোচনা উত্থাপন করে আবারো তিনি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ দেয়ার আধাঘন্টার মধ্যে তাঁরই সরকারের মাননীয় "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জমান খাঁন কামাল" উক্ত নির্দেশনা ব্যর্থ করে দিলেন।
     বাঙ্গালী কবি তাঁর স্ব-জাতির চারিত্রিক বৈশিষ্টের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শতবছর আগেই তাঁর কবিতায় বলেছেন--"আমাদের দেশে সেই ছেলে হবে কবে--কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।"
   
 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg