তিতাস নদীর মরাগাঙ্গে তিতাস গ্যাসের তিব্র খরস্রোত---বেড়িবাঁধ দিয়ে গ্রামীন জনপদে গ্যাস সরবরাহ নিচ্ছিত সম্ভব।
  (রুহুল আমিন মজুমদার)

সরকার এককভাবে দেশে গ্যাস সরবরাহের অধিকার সংরক্ষণ করে। পাইপলাইন ও সিলিন্ডার উভয় মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তিতাস গ্যাস পরিসঞ্চালন কর্তৃপক্ষ ও বাখরাবাদ গ্যাস পরিসঞ্চালন কর্তৃপক্ষ এই পাইপলাইন নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী। বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকের জন্য উভয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংযোগ নীতি, রাজস্ব হার ও পরিষেবা রয়েছে। এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য সরকারের নিজস্ব একটি সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ
পেট্রোবাংলা
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড।

   তিতাস গ্যাস:--
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা, বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। তেল,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং পেট্রোবাংলার অধীনে তিতাস গ্যাস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তিতাস ১৯৬৪ সালের ২০ নভেম্বর কোম্পানী আইনের আওতায় যৌথ তহবিল কোম্পানী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে বিরাট গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। ১৯৬৪ সালের ২০ নভেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড জন্মলাভ করে ৫২ বছর বয়স অতিক্রান্ত করেছে। তৎকালীন সরকারি প্রতিষ্ঠান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক ১৪″ব্যাস সম্পন্ন ৫৮ মাইল দীর্ঘ তিতাস-ডেমরা সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের পর ১৯৬৮ সালের ২৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে কোম্পানী বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে।

 উল্লেখযোগ্য সংযোগ ও মুলধন:---
অনুমোদিত মূলধন       : ২,০০০.০০কোটি টাকা।
পরিশোধিত মূলধন(২০১৬ সালে ৩০ জুন অনুসারে)   : ৯৮৯.২২কোটি টাকা।
গ্যাস বিক্রয় (অর্থবছরে ২০১৫-১৬) : ১৬,৫৮৩.৩৩ এমএমছিএম
সেলস রাজস্ব (অর্থবছরে ২০১৫-১৬) : ১১,২০৩.৮৩ কোটি টাকা
জাতীয় রাজস্ব আদায় : ৪৮৩.৬০ কোটি টাকা
(২০১৬ জুন ৩০ অনুসারে) ক্রেতাদের সংখ্যা: মোট ২০,২৩,০০৫
পাওয়ার (সরকার.) ০৭ টি
পাওয়ার (ব্যক্তিগত) ৩১ টি
সার :-                              ০৩ টি
শিল্প :-                                ৪,৬০৪ টি
সিএনজি :--             ৩৩৩ টি
ক্যাপটিভ পাওয়ার:--       ১০৮৫ টি
বাণিজ্যিক :---             ১০,৯১৭ টি
আবাসিক:---             ২০,০৬,০১৩ টি
নির্মিত পাইপলাইন(২০১6 সালের জুন ৩০ অনুসারে): ১৩,০৩৮.৬৯ কিমি

 সর্বশেষ মুল্য নির্ধারন---
     গ্যাস বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোম্পানি গৃহস্থালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই চুলার জন্য মাসিক বিল ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছে। এক চুলার বিল হবে ১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম ৬৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে বিইআরসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এই হারে বাড়ানো হলে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম হবে প্রায় ৫৮ টাকা, যা বর্তমানে ৩৫ টাকা।
মাত্র সাত মাস আগে, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন দুই চুলার বিল ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা এবং এক চুলার বিল ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছিল।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতামত:--
     -সরকার বাসাবাড়িতে নতুন করে গ্যাস-সংযোগ তো বন্ধ করেছেই, এখন পাইপলাইন গ্যাসের ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করতে চায়। এ ছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষ পাইপলাইনের গ্যাস পায় না। তাদের অনেকেই বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস ব্যবহার করে, যার দাম অনেক বেশি। দুই ধরনের ব্যবহারকারীর মধ্যে বৈষম্য কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সে কারণেই বাসাবাড়ির গ্যাসের দাম একটু বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মুল্য বৃদ্ধির উপকারিতা:---
     সরকার বাসাবাড়ির গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সেখান থেকে পাওয়া বাড়তি অর্থের একাংশ এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীদের ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার কথাও ভাবছে। আর সিএনজির দাম বাড়ানো হবে যানবাহনে ব্যবহৃত তরল জ্বালানির (পেট্রল, অকটেন) দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য। এর আরেকটি উদ্দেশ্য দ্রুত কমে আসা দেশের গ্যাসের ওপর থেকে বাড়তি চাহিদার চাপ কমানো।

বিইআরসি এর অভিমত:---
এবার সব গ্রাহকশ্রেণির ক্ষেত্রেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। বাসাবাড়ি ও সিএনজি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন বলে আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো।

চুরির ফাঁদে ১০০কোটি টাকা:----
   ১০০ কোটি টাকা নিয়ে বিব্রত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এ বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্যাসের বিল বাবদ যে পরিমাণ টাকা আসার কথা ছিল, তার চেয়ে ১০০ কোটি টাকা বেশি এসেছে।কিন্তু এই বাড়তি টাকা পুরোনো বকেয়া নয়; চলতি বছরের বিভিন্ন মাসের বিলের টাকার সঙ্গে এসেছে এই বাড়তি টাকা। তাহলে কি গ্রাহকেরা ভুল করে তিতাসকে এই ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন? নাকি ভালোবেসে দিয়েছেন?

  তিতাসের বৈধ উপায় চুরির ফাঁদ:---
সরকার গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করার পর থেকে নানা কৌশলে যেসব সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেই এই ১০০ কোটি টাকা এসেছে। এই সংযোগগুলোকে অবৈধ বলতে চান না গ্রাহকেরা। কারণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিল বইয়ের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা নিয়ে এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছে।তিতাসের আবাসিক গ্রাহকেরা যেসব ব্যাংকে প্রতি মাসে গ্যাসের বিল জমা দেন, সেই ব্যাংকগুলো থেকে ওই বাড়তি টাকার হিসাব কোম্পানির কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগে এসেছে। কিন্তু এই টাকা তিতাসের হিসাবে জমা হচ্ছে না (পোস্টিং না হওয়া), তাই বেকায়দায় পড়েছে তিতাস।

পাইপ লাইনের অনুমোদিত চুরি:--
      রাজধানী সহ সারা দেশে গড়ে উঠা বস্তি, আবাসিক এলাকা, শিল্পকারখানায় অনুমোদিত পাইপ লাইন সংযোগ না থাকলেও বৈধ সংযোগ প্রাপ্ত এলাকা বা শিল্প কারখানার চেয়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পেয়ে থাকে অবৈধ পাইপ লাইনে প্রাপ্ত গ্যাস সংযোগ কারিরা।সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত তিতাস কর্মকর্তা/কর্মচারি এলাকার মাস্তানদের যোগসাজসে উক্ত অবৈধ পাইপ লাইন সংযোগ প্রদান করে একদিকে তিতাসের কোটি কোটি টাকার গ্যাস বিক্রিলব্দ টাকা তিতাস তহবিলে জমা না হয়ে কর্মকর্তা/কর্মচারিদের পকেটে জমা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে। অবৈধ সংযোগের ব্যবহার করা গ্যাসের মুল্য পরিশোধে বাধ্য করছে কোম্পেনি বৈধ সংযোগপ্রাপ্ত গ্যাস ব্যবহারকারিদের কাঁধে উক্ত গ্যাসের বিল পরিশোধে বাধ্য করে।

 সামাজিক অস্থিরতা:--
এলাকা ভিত্তিক মাস্তানদের গ্যাস পাইপ লাইন এলাকা দখল পালটা দখল উচ্ছেদ, পালটা উচ্ছেদে পাড়া মহল্লায় বিরাজ করছে অস্থিরতা, ঝরে পড়ছে অকালে অনেকের প্রান। মাস্তানদের অবৈধ পথে আয়ের টাকা খরছ হচ্ছে উঠতি মাস্তান সৃষ্টি করে আধিপত্য ধরে রাখার কাজে। উঠতি মাস্তানদের ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে মদ, মাদক সহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে অবাধে বিচরনের টাকা মুল মাসানের পকেট থেকে সরবরাহের মাধ্যমে। ফলে প্রলুব্দ হচ্ছে ভদ্রঘরের অবুঝ স্কুল কলেজ পড়ুয়া তরুন অনায়াসে খবরদারি করার লাইসেন্স সংগ্রহে।

  কর্মচারির একাধিক কর্মচারি:---
এমনও দেখা যায় তিতাসে বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত মিটার রিড়ার এখন আর মিটার রিড়ার পদে পরিচয় দিতে নারাজ।সে বড় কোন কোম্পেনি বা হাউজিং ব্যবসায় নিজেকে ব্যাস্ত রেখে তার পদে বিকল্প কাজ করার একাধিক কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে রেখেছে।তাঁরাও কয়েক বছর কাজ করার পর রাজধানী শহরে একাধিক  গাড়ী বাড়ীর মালিক হতে দেখা যায়।
   খোঁজ নিলে দেখা যায় অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারি বিদেশে সেমিনার, ট্রেনিং, সংযোগ রক্ষার নামে সারাবছর দলে দলে বিদেশ ভ্রমনের প্রবনতা।তাঁদের ছেলে মেয়েদের বিদেশী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে আসা অথবা পরিবারের সাথে দেখা করে আসাই মুল উদ্দেশ্য।

      হিসেবে গরমিল:--
    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবউশন কোম্পানিতে গত চার বছরে তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকার হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে।  ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে এই অনিয়ম হয়েছে।এর সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে দ্রুত ওই অর্থ আদায়ের সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। উক্ত অর্থ আদায় হয়েছিল কিনা বা অর্থের ভাগ্যে কি পরিণতি ঘটেছিল সে তথ্য আজো জানা যায়নি।

    উপসংহারে বলতে চাই--
বর্তমান সরকার জনগনের সরকার।অতীতে সামরিক সরকার, অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে রাষ্ট্রের সর্বত্র দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে।বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকা বা নতুন করে ক্ষমতা দখলের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিকড় গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের অন্তরে প্রোথিত।সুতারাং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগ্রাসি ভুমিকা গ্রহনে বৃহত্তর জনগোষ্টির আস্থা অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন আশা করি।
তিতাস নদী স্থানে স্থানে মরা নদীতে রুপান্তরিত হয়ে স্রোত থেমে গেলেও তিতাস গ্যাসের তিব্রস্রোত প্রতিনিয়ত দ্বিগুন শক্তি নিয়ে প্রবাহমান রয়েছে।অনতি বিলম্ভে উক্ত স্রোতের বিপরীতে কঠিন পাথর ঢালাই বাঁধের ব্যবস্থা গ্রহন করা না গেলে অচিরেই তিতাস গ্যাসের বিশাল সাগর শুকিয়ে তিতাস নদীর মরাস্রোতে রুপান্তর হতে সময় লাগবেনা বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।
পাইপলাইনে সংযুক্তি প্রাপ্ত ব্যবহারকারিগন মনে রাখা প্রয়োজন গ্রামের বাড়ীতে রেখে আসা তাঁদের পরিবার পরিজন প্রতিমাসে জ্বালানী বাবদ ৪/৫হাজার টাকা খরছ করেও একাধিক চুল্লিতে রান্নাবান্না করতে পারেননা।সেই অবস্থানে মাত্র ১২ শত টাকায় নিত্য জেয়াফতের ব্যবস্থা থাকা সত্বেও মুল্যবৃদ্ধির বিরুধীতা গ্রামীন জনগনকে শোষন করার আদিম মানষিকতারই পরিচায়ক।
সুতারাং সরকারের নেয়া পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ অনুৎসাহের  পদক্ষেপ কেন, উপকার, অপকারের ব্যাপক  প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ট গ্রামীন জনপদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিচ্ছিতে পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। সরকারের নেয়া বিভিন্ন জনকল্যানমুলক পদক্ষেপ প্রচার প্রচারনার অভাবে গনবিরুধী চিহ্নিত হয়ে ইতিপুর্বে বাতিল করার বহু ন্যাক্কার জনক উদাহরন সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের বেলায় তদ্রুপ যেন না হয়-সেই দিকে মনযোগী হওয়ার জন্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। পারত: পক্ষে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শিল্পকারখানায় অনুমোদন রেখে বাদবাকি সব লাইন তুলে নেয়া দেশ, জনগন, সরকারের কল্যানে একান্ত জরুরী প্রয়োজন।
 ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg