বঙ্গবন্ধু কন্যার একক সাফল্য, উজ্জ্বল ভাবমূর্তি অ-শুভ শক্তির চক্রান্ত মোকাবেলা যথেষ্ট নয়--প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক, আদর্শিক শক্তির।
   (রুহুল আমিন মজুমদার)

        কুমিল্লার একটি চেকপোস্টে বাস তল্লাশির সময় পুলিশের ওপর হামলা করে সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি। স্থানীয়দের সহায়তায় দুই জঙ্গিকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাদের কাছ থেকে বোমা ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।সেখান থেকে বিপুল পরিমান বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জঙ্গিরা ভুয়া ন্যাশানাল আই, ডি জমা দিয়ে বাড়ীটি ভাড়ায় নিয়েছিল বলে জানা গেছে। তাঁরা নীজেদেরকে কাপড় ব্যাবসায়ি পরিচয় দিয়ে বাড়ীটি ভাড়ায় নিয়েছিল। জঙ্গিদের সঙ্গি এক মহিলাকে ঐ বাড়ী থেকে আটক করা হয়েছে।

    কয়েকদিন আগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগীদের বহনকারী দুটি প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বোমা হামলার কথা স্বীকার করেছে। হামলায় আরও অন্তত দুজন অংশ নিয়েছিল বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারী আটক এক যুবকের কাছ থেকে একটি গ্রেনেড, সাতটি হাতবোমা, ছয়টি চাপাতি এবং সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বোমা হামলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা করেছে।

      মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে---এমন একটা আশঙ্কা আগেই ছিল। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিল যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজিবি) জঙ্গিরা মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নেয়ার ছক কষছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে আটকও করে। তাদের কাছ থেকে জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে পুলিশ। জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা জানা সত্ত্বেও টঙ্গীতে প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলার ঘটনা আগে থেকে নস্যাৎ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় জনতা সহযোগিতা না করলে হামলাকারী যুবককে হয়তো গ্রেফতার করা সম্ভব হতো না। এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে তিন জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। বাকি দুই জঙ্গির কোন খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি।

        জঙ্গি হামলা নিস্তেজ করা সম্ভব হয়েছে সত্য সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হয়নি।বর্তমান বিশ্ব পরিস্থীতিতে সম্পূর্ণ উৎপাটন সম্ভব হবেনা ইহাও বাস্তব। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশী অ-শক্তি কতৃক তাঁদেরকে অর্থ, অস্ত্র, সাহষ দিয়ে লালন করার রাজনৈতিক দল ও প্রভূর অভাব নেই। তাঁদের পাহারাদার চিহ্নিত রাজনৈতিক গনসংগঠন যতক্ষন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবে ততক্ষন রাষ্ট্র ও ইসলাম ধর্ম বিরুধী অপশক্তির আস্ফালনও বিদ্যমান থাকবে। গাজী পুরের অস্ত্র উদ্ধার ও জঙ্গি গ্রেপ্তারের সাময়িক বিরতির পর উল্লেখিত তিনটি ঘটনা স্বল্প সময়ে সংঘটিত হয়েছে। এমন সময়ে ঘটনা তিনটি ঘটেছে যখন একদিকে আমেরিকার কংগ্রেসে আইনশৃংখলা বাহিনী কতৃক বাংলাদেশের মানবধিকার লঙন বিষয় রিপোর্ট উত্থাপিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ আই এস আই এর জঙ্গি ঘাঁটি অনুসন্ধানে ব্যাস্ত মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র।

     অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল আই এস আই জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই, সংঘটিত জঙ্গি হামলা দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট অপশক্তির তৎপরতা এবং সরকার সফলভাবে উক্ত কায্যক্রম নিস্তেজ করতে পেরেছে। অদূর ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও ধর্মবিরুধী অপশক্তি শক্তি নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগ পাবেনা---ঠিক তখনই।

      প্রিয় পাঠক বন্ধুগন, বাঙ্গালীর চিরায়ত একটি অভ্যেস তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্টে বার বার ফুটে উঠতে দেখা যায়। রাজনীতি, খেলাধূলা, পারিবারিক, ব্যাক্তিগত সাংসারিক, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, এবং কি বহি:বিশ্বের সাথে সম্পর্ক প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষনটি যথারীতি পরিলক্ষিত হতে দেখা যায়। সেটি হচ্ছে সংগঠিত ঘটনা যখন ঘটে তখন উৎসাহ, উদ্দিপনার ভাব যথেষ্ট  লক্ষ করা যায়।কিন্তু পরক্ষনে সে বিষয়টি আগের গুরুত্ব নিয়ে তাঁর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনা। হুজুগে বহু অসাধ্য কাজও  বাঙ্গালী অতীতে সাধন করতে পেরেছে কিন্তু পরবর্তিতে  অসাধ্য সাধন করা কাজটির মুল্যমান নির্ণয়ে বাঙ্গালী যথারীতি উদাসিনই থেকেছে।

     জঙ্গি উত্থান রোধ, তাঁদের হামলা রোধ, অপশক্তির আস্ফালন নিয়ন্ত্রন ইত্যাদি ধারাবাহিক অর্জিত সাফল্য সমূহ নিশ্চিতকরনে যে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন অপরিহায্য ছিল সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে গড়িমসি জোট ও সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করে আগের অবস্থানে নিয়ে গেছে। ঘটনার প্রক্কালে সরকারের সঙ্গে জনগনের যে নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল--সময়ের ব্যবধানে সে বন্ধনে অনেকটা ছিঁড় ধরেছে বলেই মনে হয়। এই প্রসংগে জোটের এবং সরকারের সমসাময়িক দুটি উদাহরন আমি তোলে ধরতে চাই--

       প্রথমত:  সরকারের একটি ভাল উদ্যোগ ছিল শহর থেকে গ্রাম পয্যায় বিভিন্ন  সময়ে 'হারিয়ে যাওয়া পরিবারের' সন্তানদের তথ্য সংগ্রহ করার উদ্যোগটি। যথেষ্ট সাড়াও মিলেছিল উদ্যোগটির কিন্তু মাঝপথে উদ্যোগটি একেবারেই থেমে গেছে। দ্বিতীয়  উদ্যোগটি রাজনৈতিক ভাবে  ১৪ দল জোটগত ভাবেই নিয়েছিল---প্রত্যেক পাড়া, মহল্লায় জঙ্গি বিরুধি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে গন্যমান্য ব্যাক্তি, মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী সমন্বয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মসুচি বাস্তবায়নের লক্ষে "নাগরিক কমিটি" গঠন প্রক্রিয়া।

         তৃনমূলে জঙ্গি বাদ বিরুধী জনসচেতনতা বৃদ্ধিজনিত কর্মসূচি গ্রহন ও বাস্তবায়নের লক্ষে ১৪ দলের গৃহিত এই উদ্যোগটিও শেষাবদি  আলোর মূখ দেখেনি। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দুটি দিক থেকে জোট এবং সরকার লাভবান হ'ত। প্রথমত: দলীয় নেতাদের দখলবাজি, মাস্তানীর কারনে ক্ষমতাসীন সরকারের জনবিচ্ছিন্নতার ঘাটতি আদর্শিক নেতাদের পদচারনায় পূরণে সহায়ক হতে পারতো। জনগনের সঙ্গে আদর্শিক নেতাদের সরাসরি আলোচনায় অংশ নেয়ার সুযোগে তাঁদের সুখ, দু:খ্যের সংঙ্গে একাত্মতার কারনে হারানো "জনসম্পৃত্ততা পুর্ণোদ্ধার করা সহজে সম্ভব হতো।" দ্বিতীয়ত: সরকার সহজেই জঙ্গি অপতৎপরতায় বিশ্বমানবতার ধর্ম  ইসলামের কোনরুপ সম্পৃত্ততা নেই--জনগনকে সম্যকভাবে ধারনা দেয়া সম্ভব হ'ত।ফলে জনঘৃনার বহি:প্রকাশের ইতিবাচক ফলের ভাগিদার পরোক্ষভাবে বর্তমান সরকারের সাফল্যের ঝুড়িতে জমা হয়ে জনসমর্থন স্ফিতই হত- আমি বিশ্বাস করি।

       ১৪ দলের রাজনৈতিক জোট ও সরকারের নেয়া উদ্যোগ যথারীতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ঘাপটি মেরে থাকা কচ্ছপ প্রজাতির  অ-শুভ শক্তি নতুন উদ্যোমে তাঁদের পূর্বের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নতুন করে ক্ষেত্র সৃষ্টির সুযোগ পেয়েছে।বিগত সরকার বিরুধী আন্দোলনে হেফাজতে ইসলাম রাজপথে নামার সর্বপ্রথম  মূল রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়েছিল--"নারী কতৃক অর্জিত সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত সংসদে পাশ হওয়া 'বিলটি"। উক্ত আইন পবিত্র কোরানের আলোকে ইসলামের মুল নীতি আদর্শ পরিপন্থি তাঁর কোন যৌক্তিক ফতোয়া অদ্যাবদি তাঁদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি। একমাত্র 'জোট ও সরকারে'র প্রচার সেলের দুর্বলতার সুযোগে অশুভ শক্তি ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে উক্ত আইনকে ইস্যু হিসেবে গ্রহন করে সরলপ্রান মুসলিম ধর্মালম্বিদের বিভ্রান্ত করার উদ্যোগ নিতে পেরেছিল।

      এবার তাঁরা বেঁচে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সামনে রক্ষিত--"ন্যায় বিচারের প্রতিক ভাস্কায্যটি দেবিমূর্তি নাম দিয়ে প্রতারনামূলক প্রচারের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মালম্বিদের বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।  ভাস্কায্য সম্পর্কে সরকার ও জোটের নির্লিপ্ততার সুযোগে  নির্দিষ্ট সময়ে সরানোর জন্যে সরকারকে ইতিমধ্যে তাঁরা  আলটিমেটাম দেয়ার দু:সাহষও দেখিয়েছে।

     লক্ষনীয় বিষয়টি হচ্ছে--গতবার হেফাজতে ইসলাম তাঁদের নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিচালিত জঙ্গি মিছিলের সামনের কাতারে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে "মাদ্রাসার কোমলমতি এতিম শিশুদে"র। এবার তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছে "প্রতিবন্ধি ও হিজড়াদে"র মানবঢাল হিসেবে  ব্যবহার করে কায্যসিদ্ধি করার। জামায়াতি ইসলামী নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত তাঁদের জঙ্গি মিছিলের সামনে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল তাঁদের সৃষ্ট "ছাত্রী সংস্থার প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত নারী সদস্যদে"র। এবার অবশ্য তাঁদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা এখন পয্যন্ত পাওয়া যায়নি।

      সম্মিলিত অ-শুভ শক্তির রক্ষক, প্রেতাত্বা রাজনৈতিক শক্তি "বিএনপি" এর গতবারের আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল "দুইবারের ব্যর্থ তত্বাবধায়ক সরকার" পুর্ণবহাল করার দাবি। এবার তাঁদের আন্দোলনের কর্মসূচি "নির্দলীয় সরকারের অধিনে সাধারন নির্বাচন" অনুষ্ঠানে সরকারকে অ-সাংবিধানিক পথে যেতে বাধ্য করা।" সম্মিলিত অ-শুভশক্তির একমাত্র গোপন সসস্ত্র শক্তি জঙ্গিদের আস্তানা ছিল গতবার শহর কেন্দ্রিক মুক্তমনা লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিক, ব্লগার হত্যার মাধ্যমে জনজীবনে আতংক সৃষ্টির অপকৌশল।অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে- এবার তাঁদের আস্তানা মফস্বল শহর, দ্বিপাঞ্চল, প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চল কেন্দ্রিক নাশকতা,অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত রাখার অপকৌশল।

       উদ্দেশ্য একটাই--মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত অঙ্গিকার বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারকে অ-নিয়মতান্ত্রিক, অ-গনতান্ত্রিক, অ-সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করা। অ-শুভশক্তির চক্রান্তের ফসল অ-গনতান্ত্রিক অ-সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠনকারি তাঁবেদার শক্তির রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, তৃনমূলের নেতাকর্মীদের উপর আরো এক দফা  নিয্যাতন, হামলা, মামলা , হত্যার মাধ্যমে অগনিত বছর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহিরে রাখার চক্রান্তের সফল বাস্তবায়ন।

     মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির অনেকেই যদিও নৈরাশ্যবাদের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নেতিবাচক বিবৃতি, বক্তৃতা, প্রার্থী নির্বাচনে আদর্শবান ত্যাগিদের বাদ দিয়ে তথাকথিত হাইব্রিড প্রার্থীদের অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে ধর্ম নিরপেক্ষ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদি চেতনায় উদ্ভোদ্ধ লৌহকঠিন ঐক্যে ইতিমধ্যে ফাঁটল সৃষ্টি করতে পেরেছেন ; তথাপি সম্মিলীত দেশী-বিদেশী অ-শুভশক্তি প্রয়োজনীয় মহুর্তে মুক্তিযুদ্ধের অদম্য শক্তির ঐক্যের অতীতের সফল দৃষ্টান্তকে স্মরণে রেখেছেন। তদ্রুপভাবে সৃষ্ট দেশপ্রেমে উদ্ভোদ্ধ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী চেতনার ঐক্যবদ্ধ অদম্য শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করে সাংবিধানিক উপায়ে নিয়মাতান্ত্রিক রাজনীতি,গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার সামর্থ তাঁরা  রাখেনা এবং কি কল্পনাও করেনা। দেশপ্রেমিক বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদি শক্তির চেতনা সম্পর্কে তাঁদের ভালভাবেই বুঝাপড়া আছে"।

     ১৯৭১ ইং মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুধীতার মাধ্যমে শুরু করা হত্যা যজ্ঞ '৭৫  ইং সালের ১৫ই আগষ্ট মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী মহাশক্তির উৎসের বংশসহ বদ করে একতরফা অপপ্রচার, চরিত্রহনন করেও "৯৬ এ উত্থান রোধ সম্ভব হয়নি। আবার "২০০১ ইং সালের ইতিহাসের জগন্যতম নিয্যাতন, হত্যা, অত্যাচার সহ দীর্ঘ '৭১--৯৬পয্যন্ত দীর্ঘ  ৩৫ বছর একটানা "রাষ্ট্রীয় শক্তির পৃষ্টপোষকতায় কখনও বা রাষ্ট্রের নীজ উদ্যোগে" হত্যাযজ্ঞ, গুপ্তহত্যা, প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা, অপপ্রচার, গুজব, চরিত্রহনন মূলক নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে--যে শক্তিকে সম্পুর্ণ বদ তো দুরের ভাবনা বরঞ্চ ২০০৮ ইং সালে ভুমিধ্বস উত্থানই রোধ সম্ভব হয়নি; সেই শক্তিকে  একমাত্র একটি সাধারন নির্বাচনে পরাভূত করে ক্ষমতায় আসতে পারবে--ইহা তাঁদের চিন্তাচেতনায় কস্মিনকালেও আসেনা বা আসার কথাও নয়।
   
     এই প্রকারের ভাবনা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির অভ্যন্তরে সদ্য   অনুপ্রবেশকারি তথাকথিত 'ধর্মনিরপেক্ষ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদে' বিশ্বাসি একশ্রেনীর সুযোগ সন্ধানী অতি আদর্শবান হাইব্রিডদের রক্ষক নেতাদের। যে শ্রেনীটি দল ও সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে অতিভক্তি প্রদর্শন পুর্বক  বঙ্গকন্যার এযাবৎ  নেয়া একাধিক জনসম্পৃত্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি বানচাল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। যে শ্রেনীটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির একমাত্র ভরসাস্থল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রাক্কালে কৌশলে বাঁধা প্রদান করে দলকে জনবিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে পদে পদে।

      জোট ও সরকারের নেয়া উল্লেখিত দু'টি কর্মসূচির একটিও চলমান থাকলে অদ্য হেফাজতের ভাস্কায্য সরানোর হুমকি, জঙ্গিদের নতুন উৎপীড়ন, বিএনপি জোটের নির্দলীয় সরকারের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বার্ণিয়াকটের লম্পজম্পের কোন কারন বিদ্যমান থাকার প্রশ্নই ছিল না। বরঞ্চ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফর্মূলা নিয়ে সরকারের সঙ্গে দেনদরবারে সময় কাটিয়ে দিতে বাধ্য হ'ত বলে আমার বিশ্বাস। বর্তমান সময়ে বিএনপি জোটের রাজনৈতিক দৈন্যদশায় এর চেয়ে বেশিকিছু আশা করার অর্থই ছিল বিএনপি  দলের রাজনীতি, হাজার হাজার নেতা লক্ষ লক্ষ কর্মীকে অরক্ষিত রেখে  বিদেশে পালিয়ে বেড়ানোর পরিস্থীতির উদ্ভব ঘটানো।

অনেকের ধারনা সাগরসম উন্নয়ন-অগ্রগতি, জাতির জনকের কন্যার বিশ্বব্যাপি গড়ে উঠা উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরনী পার হয়ে যাবেন।ইহা নিতান্তই দুরাশার প্রকৃষ্ট উদাহরন হতে পারে ২০০১ ইং সালের সাধারন নির্বাচন থেকে প্রকৃত শিক্ষা না নেয়া। পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ে বিরাজমান যুগান্তরের অশান্তি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নিরসন, তথাকথিত অনেক আপোশহীন নেত্রী বা রাষ্ট্রনায়কের ভুলে যাওয়া 'গঙ্গার' পানি বন্টন চুক্তির ন্যায় অসাধ্য সাধনের যুগান্তকরি সাফল্যের একক অংশিদার হওয়া সত্বেও বাংলাদেশের কোন নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী কোনপ্রকার প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি ২০০১ ইং সালের অশুভশক্তির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের কারনে। যে কয়টি আসন পাওয়া গিয়েছিল ঐসমস্ত আসনে শুধুমাত্র প্রার্থী না দিয়ে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতিক রেখে আসলেও জনগন স্বেচ্ছায় নৌকাকেই গ্রহন করার আসন। এতবড় শিক্ষা গ্রহনকারি নেতা প্রত্যেকেই জীবিত থাকাবস্থায় "শুধুমাত্র উন্নয়নকে প্রধান্য দিয়ে দলীয় কর্মসুচিকে গৌন চিন্তা করে এড়িয়ে চলা" কতটুকু রাজনৈতিক বিচক্ষনতার পরিচায়ক হচ্ছে সময়েই তাঁর যথার্থ উত্তর দিবে।
    "জয়বাংলা    জয়বঙ্গবন্ধু"
  ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg