'পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আই, এস' এর মুদ্রিত মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত তথ্য সম্বলিত বই---বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধ বিরুধী বক্তব্য সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  (রুহুল আমিন মজুমদার)

     ২০১৫ ইং সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল।তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল পরিস্কার----দুর্নীতির মামলা থেকে জিয়া পরিবারকে রক্ষা, যুদ্ধপরাধের বিচার বানচাল।উক্ত দাবি আদায়ে নৈতিক শক্তির ভিত্তি হতে পারতো----আমাদের অরাজকতার কারনে যেহেতু তোমরা ক্ষমতা পেয়েছ, সেহেতু আমাদের সকল দুর্নীতি সন্ত্রাস, অরাজকতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতৃক আনীত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অনেকেই মনে করেন খালেদা জিয়ার উক্ত মতলব হাসিল না হওয়ার কারনে---মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, স্বাধীনতার ঘোষক ইত্যাদি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে নিয়মিত হাজির আছেন জানান দিয়ে নেতাকর্মী, দেশবাসি ও বহি:বিশ্বকে আশ্বস্ত রাখার জন্যই বোধ হয়, জাতীয় দলের জাতীয় নেত্রী হয়েও, প্রতিনিয়ত এমন বালখিল্য মন্তব্য করে যাচ্ছেন।

      ঘটনা কিন্তু আদৌ তা নয়---খালেদা জিয়ার ঐসমস্ত মন্তব্য তাঁদের দলের আদর্শিক মন্তব্য, উৎসস্থলের মন্তব্য, তাঁদের জম্মদাতার মনের গহিনে লুকায়িত গোপন অভিসন্ধির আগাম বহি:প্রকাশ ছিল মাত্র।আমি আগেও বার কয়েক বলতে চেষ্টা করেছি বিএনপি দলের সৃষ্ট্রির উৎস বৃত্তের বাহিরে এসে বাঙ্গালী জাতি, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধিনতাকে মেনে রাজনীতি করার মানষিকতা এখনও গড়ে উঠেনি। বঙ্গবন্ধুর রক্ত স্রোত পান করে যে কালবাঘ রাতারাতি হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল, সেই কালবাঘের বল কি এত তাড়াতাড়ি নি:শেষ হতে পারে?

       একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘ ৪৬ বছরে ২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মরণসভা কিংবা আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের কোন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর আগেও দুইবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনগনের দাবির পক্ষে স্বত:স্ফুর্ত আন্দোলনও ছিল।তথাপি ২৫ মার্চ সহ মুক্তিযূদ্ধের বিশেষ কিছু দিন ও শ্লোগান সংবিধানভুক্ত, স্মরনীয়, পালনীয় করে রাখার উদ্যোগ গ্রহন করেনি।

      দীর্ঘদিন পর হলেও এই সরকারী স্বীকৃতির পথ খুলে দিয়েছে আর কেউ নয়, খোদ একাত্তরে পরাজিত শক্তি দেশ পাকিস্তান। সম্প্রতি একাত্তরের এ গণহত্যার দায় এড়িয়ে উল্টো মুক্তিবাহিনীর ওপর দায় চাপিয়ে পাকিস্তানের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মিথ্যা তথ্য সংবলিত একটি বই ছাপিয়ে তা বিভিন্ন দেশে প্রচার করতে থাকে পাকিস্তান। সম্প্রতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়ার অমোঘ সত্যটি অস্বীকার করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার আইএসআইর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত ওই বইটি সরকারের নজরে আসলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

    প্রিয় পাঠক, বাংলাদেশ সরকারের নজরে আসে বইটি বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত অফিসে আসার পর।তাঁর আগে বিভিন্ন দেশে তাঁদের রাষ্ট্রদূত  অফিসের মাধ্যমে আন্তজাতিক পয্যায় বইটি ছড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।তাঁরা যখন বইটি ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করে তখনই খালেদা জিয়া বাংলাদেশে বইটি প্রচারের আগাম মাঠ প্রস্তুতির বক্তব্য উত্থাপন করেছে মাত্র।বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই তিনি বক্তব্যগুলী রাজনীতির মাঠে ছেড়ে দিয়েছিলেন।অথবা খালেদা জিয়ার নিকট আগাম কপি পাঠিয়ে ক্ষেত্র প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়েছিল আই এস।

       আই এসের নির্দেশীত পথেই স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বাস করে, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করার সাহষ দেখায়। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে শাষন করার জন্যে রাজনীতি করে আবার মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা, দিন, নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার সাহষ করে। এই সমস্ত সব কিছুই সম্ভব হয়েছে এবং হচ্ছে একমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর কন্যা বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উদারতার কারনে।

   বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।এই দাবি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের নিকট ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের এই বিকৃত বই ছাপানোর বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টান্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রতি নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে ২৫ মার্চকে জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও দিবসটির স্বীকৃতি আদায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর ঘোষণা দেন।

  প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানী শাষক, সেনাবাহীনি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষরদের একই অপরাধে অপরাধী বলে চিহ্নিত করেছেন।আমি মনে করি বাংলাদেশে গনহত্যার পিছনে পাকিস্তানী সেনাদের চাইতে হাজার গুনে বেশী দুষে দুষ্ট এদেশীয় তাঁদের প্রেতাত্বারা।কারন পাকিস্তানীরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানুষ হত্যা করেছে এদেশ দাবিয়ে রেখে তাঁদের শোষন অব্যাহত রাখার স্বার্থে। তাঁরা পারেনি, পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগ করেছে। এখন তাঁরা আন্তজাতিক পয্যায় কূটনৈতিক ভাবে তাঁদের প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করতে পারবে বা করে।কিন্তু এদেশীয় দোষরেরা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের সরলপ্রান বাঙ্গালীদের বিভ্রান্ত করে তাঁদের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকার সুযোগ রয়েছে।যেহেতু তাঁরা এদেশের অধিবাসি, এই সমাজে বসবাস করে, এই দেশের আলোবাতাসে তাঁরা নি:শ্বাস গ্রহন করে। আমরা স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও তাঁদের ষড়যন্ত্র করার পথ রুদ্ধ করতে পারেনি।

    মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নেতৃত্বদানকারি দল পরপর দুইবার ক্ষমতায় আসার পরেও বুঝতে পারেনি মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ দিন, বিশেষ কিছু ঘটনা, বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দিপক শ্লোগানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নাথাকার কারনে দীর্ঘ বছর পাকিস্তানী প্রেতাত্বাদের উক্ত বিশেষ দিনগুলীকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের সুযোগ ছিল। তাঁরা যথাযথভাবে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে মাত্র। 'জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু'র স্থলে ১৫ ই আগষ্ট ব্জাতির জনকের তাজা রক্তের উপর দাঁড়িয়ে 'বাংলাদেশ জিন্দাবাদ' শ্লোগান প্রতিস্থাপন করতে পেরেছিল।, 'বাংলাদেশ বেতার'কে রেডিও বাংলাদেশ ১৫ই আগষ্ট সকালে প্রথম ঘোষনাতেই বানাতে পেরেছিল। পাকিস্তান জিন্দাবাদের স্থলে শুধু বাংলাদেশ জিন্দাবাদ এবং রেডিও পাকিস্তানের স্থলে শুধু "রেডিও বাংলাদেশ" নয়।পরবরর্তীতে, সংবিধানেরও আমূল পরিবর্তন করে পাকিস্তানি ধারায় এদেশকে নিয়ে যেতে অনেকাংশে সফল হয়েছিল।
     ২০০৯ ইং সালে ভূমিধ্বস জয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে ক্ষমতায় ফিরে এলে তৎপরবর্তি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসখ্যাত  "রাষ্ট্র বনাম মাজদার হোসেন" মামলায় ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে সুপ্রিম কোর্ট।উক্ত রায় দিতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে অতীতের দুই "সেনাশাষকের শাষনকাল" সহ তাঁদের সকল "সংবিধান সংশোধন'' অবৈধ ঘোষনা করে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। সাথে সাথে উচ্চ আদালত সরকারকে কায্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন পুর্বক মুল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার পয্যবেক্ষন ও সংযোজন করে।

শেখ হাসিনার সরকার বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন বিবেচনায় আদালতের সম্পুর্ণ রায় বাস্তবায়ন না করে সংসদের মাধ্যমে কিছু সংশোধনী এনে উক্ত রায় কায্যকর করেন।সরকার মোক্ষম সুযোগ পেয়েও সর্বদিক বিবেচনা করে আদালতের রায় গ্রহন বর্জনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগনের মনের ভাষারই মায্যদা প্রদান করেছিল, আমি মনে করি।

     বানর না মানে মনিবের কিছুক্ষন আগের আদর সেবা--সুযোগ পেলেই উঠে কাঁধে, লাগিয়ে দেয় লম্বা নখের আঁছড়। "শেখ হাসিনার সরকারে"র বেলায়ও হয়েছে ঠিক তাই। সংসদে হাইকোর্টের রায় বিল অনুসারে পাশ হওয়ার অব্যাবহিত পরেই আন্দোলনের নামে তাঁরা নামে নাশকতা, অরাজকতা, সন্ত্রাস, আগুনবোমা, পবিত্র কোরানে আগুন দেয়ার ন্যাক্কারজনক সব কর্মকান্ডে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল পরিস্কার--আইন শৃংখলা অবনতির মাধ্যমে তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র। উক্ত আন্দোলন স্তিমিত হতে না হতে আবার আসে মোক্ষম সুযোগ "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" পবিত্র সংবিধানে সংযোজন করার মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিরল ঘটনা "আদালতে মামলার শুনানী চলাকালে রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন"। বর্তমানেও তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ন্যায় বিচারের প্রতিক হাইকোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কয্যটি সরানোর জন্যে। "রাষ্ট্র বনাম মাজদার হোসেন" ঐতিহাসিক হাইকোর্টের রায় অবিকল সংবিধানে সংযোজিত হলে তাঁদের আজকের ষড়যন্ত্রের কোন পথ কি খোলা থাকতো?
 
প্রিয় পাঠক, এ প্রসংগে ১৪ মার্চ ২০১৭ দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদকীতে যা বলা হয়েছে তার অংশ বিশেষ এখানে উদ্ধৃত করছি। “বিশ শতকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘটিত হয়েছে গণহত্যা। এর মধ্যে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, গুয়েতেমালা, চিলি, বুরুন্ডিসহ বিভিন্ন দেশে গণহত্যা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনও বলেছে, মানব সভ্যতার ইতিহাসে যতগুলো গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে; তাতে অল্প সময়ের মধ্যে সব থেকে বেশিসংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে। প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে বারো হাজার বাঙালীকে খুন করা হয়েছে। পঁচিশ মার্চ থেকে ষোলো ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বারো হাজার হিসেবে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২ লাখ ৪ হাজার।

       বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনাকারী খোদ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক "যুদ্ধাপরাধী আবদুল্লাহ নিয়াজি" তার ‘বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান’ গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন--"পঁচিশে মার্চের সামরিক অভিযান বুখারা ও বাগদাদে চেঙ্গিস খান ও হালাকু খানের গণহত্যার চেয়েও বেশি নিষ্ঠুর ছিল।" স্বয়ং গণহত্যাকারী প্রধান নিজেই যখন দাবি করছেন, স্পষ্ট হয় বাংলাদেশে তাদের নৃশংসতার মাত্রা কতটুকু ছিল। ১৯৭১ সালের পঁচিশ মার্চ এক রাতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে হানাদাররা বাংলাদেশে লক্ষাধিক বাঙালীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ হত্যাপ্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণহারে নারীদের ওপর চালানো হয়েছে পাশবিক নির্যাতন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সেসব পৈশাচিক বর্বরতা গণহত্যার ইতিহাসে এক ভয়াবহতম ঘটনা। পঁচিশে মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকাণ্ডই ছিল না, এটা ছিল বিশ্বসভ্যতার জঘন্যতম হত্যাকান্ডের সূচনা। এর পর নয় মাসে পাকিস্তানী হানাদাররা ত্রিশ লাখ নিরপরাধ নারী-পুরুষ শিশুকে জঘন্যভাবে হত্যা করে।”

     মহান জাতীয় সংসদে দেরিতে হলেও ভয়াল ২৫ মার্চকে জাতীয় গনহত্যা দিবস পালনের আইন পাশ হয়েছে। মহান সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি মন্ত্রীপরিষদ উক্ত "২৫ মার্চকে গনহত্যা দিবস" পালন অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার অনুমোদন দেয়ার অর্থ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উক্ত দিবস পালন করতে এই বছর থেকে বাধ্য। কিন্তু দু:খ্যজনক হলেও সত্য মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজনীতি করে যারা ক্ষমতা দীর্ঘদিন উপভোগ করেছে এবং আগামীতেও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে তাঁদের মধ্যে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি সহ তাঁর বিশদলীয় জোটের পক্ষ থেকে দিবসটি পালন উপলক্ষে কোনপ্রকার তোড়জোড় লক্ষ করা যাচ্ছেনা। দেশেবিদেশে স্বীকৃত, মহান সংসদে অনুমোদিত, হত্যাকারি কতৃক স্বিকৃত, বাংলাদেশ সরকার কতৃক ঘোষিত ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ এর ভয়াল গনহত্যাকে অস্বীকার করেও কি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে তাঁরা রাজনীতি করার অধিকার ভোগ করতে পারবে?
 ruhulaminmujumder27@gmail.com
    "জয়বাংলা    জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg