সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বাংলাদেশি ব্লগারদের আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র_____সুক্ষ মেজাজে উস্কানি।
_______________________________
বাংলাদেশে ব্লগারদের মধ্যে যারা হুমকির মুখে আছেন তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মার্ক সি টোনার এ কথা বলেন।
ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিম উদ্দিন সামাদ হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মার্ক টোনার বলেন, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের দুই রাজনৈতিক মহিরুহের মধ্যে একটি জঙ্গি পৃষ্টপোষকতা,জঙ্গি লালন,আগুন সন্ত্রাস,নাশকতা, লুটপাটের অভিযোগে জনগনের হৃদয় থেকে ২০দলীয় জোটের প্রধান বিএনপি এবং তাঁর নেত্রী খালেদা জিয়ার নাম মুছে যাওয়ার মহুর্তে-- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী ব্লগার -যারা 'নাস্তিকতায় বিশ্বাসী' তাঁদের রক্ষা করার জন্য সে দেশে নাগরিকত্ব দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছে বলে পত্র- পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে।
খবরটি এমন একসময় প্রকাশ পেল সরকার যখন খোদাদ্রোহি নাস্তিক্যবাদ,সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে জিরু টলারেন্স ঘোষনা করে সাঁড়াষি অভিযান অব্যাহত রাখার একাধিক ঘোষনা দিয়ে কাজ শুরু করে সফলতার দ্বার প্রান্তে উপস্থিত হয়েছে-- তখন তাঁদের দরদ নাস্তিকদের জন্য উত্থলে উঠেছে।সরকার নাশকতা, জঙ্গি উত্থান রোধ কল্পে ইতিমধ্যে নেয়া পদক্ষেপের কারনে সমাজে, দেশে স্বস্তির সুবাতাস দৃশ্যমান হ'তে শুরু করেছে তখনই তাঁরা ঘোষনাটি প্রকাশ করে 'নাস্তিক'দের উস্কানি দিল।
তাঁর আগে সরকারের হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে ২৮বছর আগের রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত হাইকোর্টের একটি রিট স্বয়ংক্রিয় ভাবে কায্যতালিকায় আসে, আদালতে ইহার শুনানীও যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে রাষ্ট্রপক্ষ রীট আবেদনের বিপক্ষে এটর্নি জেনারেলকে আইনি লড়াই থেকে বিরত থাকার এবং রাষ্ট্রধর্ম বহালের পক্ষে আইনি লড়াই করার নির্দেশ দেয়ার পরেও ষড়যন্ত্রকারিরা পোষ্টার, ফেষ্টুন করে বলতে থাকে, "রাষ্ট্রধর্ম ছিল, আছে, থাকবে"। জনগনকে বিভ্রান্ত করার প্রক্রিয়া থেকে এখনও তাঁরা সরে আসেনি।এমনি মহুর্তে একজন "ব্লগার"হত্যার রেশ ধরে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ঘোষনা দেয়ার আনুষ্ঠানিকতায় জড়িত হয়েছেন, যে ঘোষনায় 'নাস্তিক'দের জন্য বেহেস্তের দরজা খোলে দেয়ার সমতুল্য আমি মনে করি।
চোর, চেঁছড়াও এই ঘোষনায় সহজে আমেরিকায় অভিবাসনের আশায় আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সম্পর্কে বিদ্রুপাত্বক মন্তব্য করা শুরু করলে-- ধর্মভীরু মুসলিম কিছুতে মেনে নিবেনা।সুতারাং সহজে হানাহানির একটা পথ সৃষ্টির অপপ্রয়াসে আমেরিকার এই ঘোষনা- এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ আছে বলে আমি মনে করিনা।
কিছুদিন আগে ওয়ার্ল্ড জার্নালে বর্নবাদ, সন্ত্রাস, আইন শৃংখলা, গুপ্তহত্যা, বিনাবিচারে হত্যা ইত্যাদির উপর এক গভেষনা জরিপের ফলাফল প্রকাশিত হয়। উক্ত জরিপের ফলাফলে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের চেয়েও বাংলাদেশ অনেক বেশি নিরাপদ এবং সুচকে বাংলাদেশ অগ্রগামি। তখনও সুক্ষ একটি প্রপাগান্ডা লক্ষ করা গেছে।আমাদের দেশের কিছু পত্র পত্রিকা সব দেশের তুলনামুলক প্রতিবেদন না ছাপিয়ে একক ভাবে, আলাদা করে বাংলাদেশের চিত্রটি নেতিবাচক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করে।সাধারনের চোখে ফাঁকি দিয়ে ফায়দা লুটার মানসে এহেন কর্মকান্ড সুযোগ পেলেই তাঁরা করে থাকে। আজকের এই খবরটিও ঠিক ঐ ধারার পত্রিকায় চাপিয়ে ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছে বলে আমি মনে করি।
সাম্রাজ্যবাদিচক্র সম্যক অবগত আছেন, এই উপমহাদেশে ধর্মের ব্যবহার ছাড়া তাঁদের স্বার্থ অন্যকোন ইস্যুতে সম্ভব নয়।সুতারাং বার বার ধর্মকে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করেছে এখনও ধর্মকেই মুল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
তাঁরা জানে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার, যেমনি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আপোষহীন তেমনি ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও আপোষহীন।নাস্তিক একদিনে সৃষ্টি হয়নি,দীর্ঘদিন তাঁরা তাঁদের লেখনি চালিয়ে আসলেও কোন সরকারের নজরে আসেনি।আওয়ামী লীগ খমতা গ্রহনের পরই তাঁদের হুশ হয়েছে 'নাস্তিক' আছে, নাস্তিকদের খতম করতে হবে।অশুভশক্তির উৎস বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিংহভাগ নাস্তিক থাকলেও তাঁদের চোখ পড়েনা,এখানে কে কখন তাঁর ব্লগে কি লিখেছে, তাঁর খোঁজে অহর্নিশি ঘুম হয়না। আমি তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে চাই বর্তমান বিএনপির মহা-"সচিব কোন আস্তিকের ঘরে জম্ম নিয়ে আস্তিকের নেতৃত্বে আসিন হয়েছে?"
জাতিরজনক নাস্তিকদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার উদাহরন আছে,তাঁর কন্যার নাস্তিকদের বিচার করার জন্য জেলে রেখেছে,আর কোন আস্তিক সরকার নাস্তিকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছে উদাহরন কি কেউ দিতে পারবে?নাস্তিক কি সাত বছরে জম্ম নিয়েই-লিখা শুরু করেছে?
আমেরিকা বাংলাদেশের প্রকৃতবন্ধু হলে বলতেন --সকল জঙ্গিহামলার বিরুদ্ধে, ধর্মদ্রোহির বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর দেশের অবস্থান। বাংলাদেশের বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যার আসামীদের নাগরিকত্ব দিয়ে রক্ষা করা যে দেশের নীতি,বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারিদের আশ্রয় দেয়া যে দেশের আদর্শ সেই দেশ নাস্তিকের নাগরিকত্ব দিবেনা আর কার দিতে পারে? মুল কথা হচ্ছে তাঁদের সৃষ্টির ধ্বংসে তাঁরা বেসামাল।কি পদক্ষেপ নিলে অশুভশক্তিকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আনা যাবে তাঁর চিন্তায় দিশেহারা।
এইযাবৎ কমপক্ষে বিশের অধিক ষড়যন্ত্র জাতির জনকের কন্যার দুরদর্শিতায় নস্যাৎ হয়ে গেছে। ২০১৪ ইং সালে চুড়ান্ত ষড়যন্ত্র ড. ইউনুসকে দিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমেরিকা। খমতা গ্রহন করে- মালশিয়ার "মাহাথির" সিষ্টেমে যুগের পর যুগ শাষন শোষনের পরিকল্পনা করেছিল।শেখ হাসিনার দৃড়তায় পরিকল্পিত পরিকল্পনা ফলপ্রসু না হওয়াই আমেরিকার অন্তজ্বালা।ধর্মদ্রোহিদের আশ্রয় দিয়ে হলেও মনের সেই জ্বালা মিটাতে চায়।
এতবড় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমাদের তথাকথিত ইসলামের ধারক বাহকেরা সাধারন একটা প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ করেনি।ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে চাপাতির নিছে যেতে হবে,কিন্তু আমেরিকা গেলে দুষনীয় নয়। আমেরিকা নাগরিকত্ব দিলে কি তাঁদের ব্লগ ডিএক্টিব থাকবে? কলমে কি কালি ফুরিয়ে যাবে?এরাই আমাদের ধর্মীয় শাষন উপহার দিতে চায়।এদের পিছনেই আমাদের সেজদা দিতে হবে,এরাই আমাদের ইমাম --!!
______________________________
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
বঙ্গরত্ম শেখ হাসিনা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন