সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
অলস, ভীতু, লুটেরা নেতাকর্মী দিয়ে হম্বিতম্ভি করা যায়--আন্দোলন,সংগ্রাম, নির্বাচন হয়না------
_________________________________
যুগ উপযোগী বক্তব্য প্রদান করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ।তিনি বলেন 'নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করার জন্য তারা (নির্বাচন কমিশন) যে কোনো ধরণের পদক্ষেপ নিতে পারেন। কঠোর আইনের ব্যবস্থা নেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'' নির্বাচন বা নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংসতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেখতে চায় না।' তৃণমূলের এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে দলের নেতা-কর্মীদের কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক।
বিএনপির নির্বাচন বর্জনের হুমকি সম্পর্কে তিনি বলেন 'সরকারের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার জন্য বার বার চক্রান্ত করা হয়েছে দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে। এই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য একাত্তরের পরাজিত শক্তি, পঁচাত্তরের শক্তি এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তির এদেশীয় দোসররা অশুভ চক্রান্তে লিপ্ত আছে। তাদের অশুভ চক্রান্তের অংশ হচ্ছে নির্বাচনকে বিতর্কিত করা, নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা।'
উল্লেখিত পরিস্কার বক্তব্যের পরেও নির্বাচন সুষ্ঠুও শান্তিপুর্ণ হবে হয়ত--প্রতিযোগিতামুলক হবে আশা করা যায়না। ইউপি নির্বাচনের হয়ে যাওয়া দুই ধাপের নির্বাচন পয্যবেক্ষন করলে দেখা যায়,বিএনপি এবং তাঁর মিত্র জামায়াতের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চেয়ে প্রায় চার গুন পেছনে পড়ে আছে।নিশ্চিত বলা যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বা বিদ্রোহি প্রার্থীরা ভোট কারচুপি করে নির্বাচিত হয়নি। ভোট কারচুপি করে নির্বাচিত হওয়ার তাঁদের কোন সুযোগ নেই।
সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নির্বাচনে কঠোরতা প্রদর্শন করে বিএনপিকে মাঠে ধরে রাখার জন্য কাঁদানে গ্যাসের স্থলে গুলি ছোঁড়ে বেশ কিছু মানুষের জীবনহানী ঘটিয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিএনপির বিচ্ছিন্ন উপস্থীতি, ভোট যুদ্ধ, প্রতিরোধ, প্রতিযোগিতার ভার নীজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।সারা দেশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বেদম প্রহার, ক্ষেত্র বিশেষ গুলী করে হত্যা করতেও দ্বিধা করছেনা।তারপরও বিএনপিকে মাঠে এনে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহীত করতে পারছে বলে আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা।
বিএনপি জামায়াতের তৃনমুল পয্যায়ের বেহাল অবস্থাকে সরকার,নির্বাচন কমিশন,বিএনপি-- আওয়ামী লীগের কাঁধে তোলে দিয়ে আপাত: স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে বিএনপি দলকে রাজনীতিমুখী,নির্বাচন মুখী করা যাবেনা। সুবিধাবাদি বিএনপি প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ওয়াক ওভার দিয়ে প্রতিরোধ থেকে বিরত থেকে ভোট একতরফা করার সুযোগ করে দিয়েছে বহুস্থানে-- এই ফাঁক টুকু বিএনপি হাইকমান্ড/সরকার/নির্বাচন কমিশন তাঁদের রাজনীতি/প্রশাসনিক হিসেবের মধ্যে না এনে-- আওয়ামী লীগ ভোট নিয়ে যাচ্ছে অজুহাতে দমন পীড়ন অব্যাহত রেখেছে অন্যদিকে বিএনপি ভোট বর্জনের হুমকি দিচ্ছে।
গনতন্ত্রে সমশক্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের উপযুক্ত ক্ষেত্র নির্বাচন। ভোট হবে আনন্দের, প্রতিযোগিতার- মানুষ উপভোগ করবে, চায়ের কাপে ঝড় তুলবে,যার যার পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। অসম শক্তি কখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনা,না পারার খেসারত শক্তিধর দলের কাঁধে তুলে দেয়া সহজ কিন্তু রাজনীতি, গনতন্ত্র, নির্বাচনের জন্য অবশ্যই অশনি সংকেত।
সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে বেআইনী ভাবে আওয়ামী লীগের মাঠ পয্যায়ে কিছু দমন পীড়নে অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল,। অসংখ্য নেতাকর্মী দলের মধ্যে বিচরন করছে।একেক জনের মন মানষিকতা একেক রকমের।চোখ রাঙিয়ে দশ/ বিশ লক্ষ টাকা খরছ বাঁচাতে পারলে অসুবিধা কি? অন্য রাজনৈতিক দলের চোখ যদি আরো বড় করে তাকাতে পারে তবেতো নির্বাচন প্রতিযোগিতামুলক হয়। এই সহজ পথে না গিয়ে আওয়ামী লীগের উপর দমনের স্টিম রোলার চালিয়ে রাজনীতি চাঙ্গা করার কৌশল গনতন্ত্রকেই হুমকির মধ্যে ফেলে দিবে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার।
স্বৈরশাষক জিয়া এবং এরশাদের আমলে সর্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় আনুকুল্যে ভোট কারচুপির ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছিল। জেলা প্রশাসনের প্রতি তাঁদের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার সর্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় পয্যায় থেকে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেয়ার পরেও আওয়ামী লীগের প্রতিরোধের মুখে বহুস্থানে সম্ভব করতে পারেনি।এমন অনেক জেলা আছে যে সমস্ত জেলায় -জেলা পরিষদ ডাক বাংলায় সীল মেরে ভোট জমা দিয়ে দেয়া হয়েছে,কেন্দ্র পয্যন্ত ভোটের বাক্স আনার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেনি।তাঁর পরেও আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রতিরোধের দুর্গ ছেড়ে চুল পরিমান ও পেছনে হটেনি।এটা শুধু এক দুই মাসের প্রতিরোধ যুদ্ধ নয় দীর্ঘ একুশটি বছর একটানা যুদ্ধ করে আওয়ামী লীগ আজ এই পয্যায় মনের মত করে দেশের সেবা করার এবং জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়ন করে দেশকে সমৃদ্ধ করার পথ রচনা করেছে।এতে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা নির্যাতীত নিষ্পেষীত হয়েছে সত্য, গনতন্ত্রকে হারতে দেয়নি। গনতন্ত্রকে হারতে না দিয়ে আজকের এই পয্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছে।
আমি হলফ করে বলতে পারি জনাব হানিফ নির্বাচনের ব্যপারে যে উক্তিটি নির্বাচন কুমিশন, প্রশাসন, দেশবাসি,নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনের উদ্দেশ্যে করেছেন বিগত সরকারের কোন নীতি নির্ধারকের মুখে এর ছিটেফোঁটাও যদি উচ্চারীত হত-তবে গনতন্ত্র আরো বিকশিত রুপে বাংলাদেশের মানুষ বর্তমানে উপভোগ করার সুযোগ পেত।
নেতাদের সামনে বসা নিয়ে মারামারি কাটাকাটি করে- দশটা কর্মী নিয়ে নমিনিশন সাবমিট করার যোগ্যতা রাখেনা। মিছিল করে উপজেলা পরিষদে নমিনিশন জমা দেয়ার ক্ষমতা রাখেনা। একা একা নমিনেশন দাখিল করার জন্য উপজেলায় গমন করে অর্থাৎ তাঁর নমিনেশন ছাত্রলীগের ছেলেরা নিয়ে যাক। বলতেতো পারবে আওয়ামী লীগ নমিনেশন কেড়ে নিয়ে গেছে,ভোট করতে দিচ্ছেনা বিএনপিকে। তাঁদের সময়কালে আওয়ামী লীগের এই বেহালদশা লাগাতার বছরের পর বছর বিরাজমান কখনও যদি হতো-- একটা নেতা কর্মীকেও তাঁরা বাঁচতে দিতনা। বেহালদশা বহুবারই মোকাবেলা করে স্বল্প সময়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ।সেই ঘুরে দাঁড়ানোতে কোন রকমের হঠকারি রাজনৈতিক কর্মসুচি দিয়ে নয়,জনগনের নৈমত্তিক সমস্যার ইস্যুকে আন্দোলনের উপজিব্য করে।
রাজপথ আওয়ামী লীগের পুর্নাঙ্গ দখলে থাকা সত্বেও ২১শে আগষ্ট জাতির জনকের কন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে 'বোমা গুলী বৃষ্টি"বর্ষন করেছিল যারা-তাঁরাই বলছে আওয়ামী লীগ ভোট করার জন্য দিচ্ছেনা,গনতন্ত্র নির্বাসনে।তাঁরা গনতন্ত্রকে ঘরের কোনে লুকিয়ে রেখেছেন একবারও উচ্ছারন করেনা।
এইখানেই আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের অপরাপর দলগুলীর ত্যাগের ব্যবধান।আওয়ামী লীগ নেত্রী জাতির জনকের কন্যাকে কম করে দুইবার বোমা গুলীর বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে"মানব ঢাল" তৈরী করে নেত্রীকে বাঁচিয়েছেন অকাতরে জীবন বলি দিয়ে কর্মীরা-নেত্রীর গাঁয়ে আছড় পড়তে দেয়নি।
পক্ষান্তরে খালেদা জিয়াকে পুলিশ বালূর ট্রাক দিয়ে পথ রোধ করে রাখলেও ঢাকা শহরে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী থাকার পরেও একটা কর্মী বাসা থেকে বের হয়ে উঁকি দিয়েও দেখেনি।সে দিন যদি দশ হাজার লোকের মিছিল নিয়ে খালেদার বাসভবনে বিএনপির কোন নেতা আসতেন তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতির চেহারা হয়তো অন্যরুপে দেখা যেত।
সর্বশেষে বলতে চাই,রাজনৈতিক দলের বড় পুঁজি আদর্শ। আদর্শ ভিত্তিক বেড়ে উঠা দলের রাজনৈতিক কর্মসুচিতে শিল্পের ছোঁয়া থাকে, হঠকারিতা থাকেনা। আওয়ামী লীগকে ভাললাগেনা তাই বিএনপি করি -এমন নেতাকর্মী দিয়ে হম্ভিতম্ভি করা যায়-আন্দোলন সংগ্রাম করা যায়না।ষড়যন্ত্র করে পিছনের দরজা দিয়ে খমতা দখল করা যায়,জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায়না।আদর্শহীন দলের নেতাকর্মী-নীতি নৈতিকতা বিবর্জিতই হয়-ত্যাগ স্বীকার করার আগ্রহ থাকেনা। তাঁরা আন্দোলন সংগ্রাম জানেনা-খমতা পেলে লুটপাট ঠিকই জানে।
__________________________
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন