সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
জাতির জনকের আদর্শ শেখ হাসিনার প্রেরনা-----খালেদা জিয়ার প্রজেক্ট প্রয়াত স্বামীর পদাংক অনুসরন।
_____________________________________
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আরো কিছুদিন জীবিত থাকলে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিগনিত হতেন। তার নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও তীক্ষতা এদেশের মানুষ অনুভব করতে পারে নাই।তাঁর মৃত্যুর পর একে একে সকল রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ এবং আন্তজাতিক সম্পর্ক, প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি সমুহ মুল্যায়িত হচ্ছে।বিশ্বব্যাপি আলোচিত হচ্ছে তাঁর ধ্যান ধারনা,অসাধারন ব্যাক্তিত্ব, সুদুরপ্রসারী চিন্তা চেতনার।
বিশেষ করে স্বল্পকালীন শাষনের দুর্ভিক্ষপীড়িত,খরামঙ্গা মোকাবেলা করে স্থায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মানের লক্ষ সমুহ বিশ্ববাসির জন্য শিক্ষনীয় হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে চিরকাল।বিশ্বের নীপিড়িত নিয্যাতীত সংগ্রামী মানুষের অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববরেন্য নেতাদের নানাবিদ কেলেংকারি ফাঁস হয়ে মৃত্যুর পরও সমালোচিত হতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু এক্ষেত্রেও আলাদা এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।গনতন্ত্রের পুজারী হিসেবে তাঁর সকল কর্মকান্ডই ছিল কৌশলি প্রক্রিয়ায়।
উদাহরন হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে পয্যালোচনা করলেও তাঁর নেতৃত্বের অনেক দিক উম্মোচিত হতে পারে।৭ই মার্চের ভাষন মানব সভ্যতার অমূল্য রত্ম হয়ে বিশ্ব দরবারে ঠাই করে নিয়েছে।বিগত আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দিকনির্দেশনামুলক ভাষন হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এইকৌশলী ভাষনের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা এমন ভাবে উচ্চারন করেছিলেন যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদের অপবাদে বিশ্ববাসি তাঁকে দুষতে না পারে-আবার জাতি সম্যক উপলব্দিও করতে পারে এখন তাঁদের কি করা উচিৎ এবং বঙ্গবন্ধু জাতিকে কি নির্দেশনা দান করেছেন।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের স্বাধীনতা যারা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল তারাই স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছর পর বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।জাতিকে অন্ধকারের অতল গব্বরে নিমজ্জিত করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছেন কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে বেগবান করার নির্দেশনার অল্প কয়দিন পরই তাঁকে স্বাধীনতা বিরুধীরা হত্যা করে। ফলে তাঁর অর্থনৈতিক মুক্তির আহব্বান মুখ থুবড়ে পড়েছিল। জাতির জনকের দুই কন্যা সেদিন ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল বিদেশে অবস্থানের কারনে। তাঁর জৈষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করেছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রাম সফল হচ্ছে।দ্রুতগতিতে দেশ উন্নতি অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভিক্ষা বৃত্তির জাতি মধ্যম আয়ে উন্নিত হয়েছে।পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প নীজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার যোগ্যতা অর্জন করেছে। জি,ডি,পির উধ্বগতি প্রতিনিয়ত লক্ষনীয়ভাবে জনসমক্ষে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি যখন মন্দার কবলে পড়ে সরকারি আধা সরকারি অফিসের জনবল চাটাই পুর্বক মন্দা মোকাবেলার কৌশল নির্ধারন করছে -তখন শেখ হাসিনার সরকার মন্দার ছোঁয়া অর্থনীতিতে পড়তে দেন-নি বরঞ্চ প্রতিটি সেক্টরে জনবল নিয়োগ দিয়ে গতিশীলতা আনানয়নের প্রতি মনোযোগি হয়েছেন। তাঁর সুফল ইতিমধ্যে জাতি পাওয়া শুরু করেছে।বর্তমান জিডিপি ৭'৫এর ঘরে পৌচেছে, মাথা পিছু আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে(১৪৬৬ ডলার) লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্ববাসি ইতিমধ্যেই তাঁদের মুল্যায়ন পত্রে বলা শুরু করেছেন আগামী দশক আসার আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের তালিকায় শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে নাম লিখাতে সক্ষম হবে।
বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯২ দিন আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে ক্ষমতা দখলে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফিরে যান। আর ঘরে ফিরে তিনি তার প্রিয় পাকিস্তানকে খুশি করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন।
বিএনপিকে এক নেতা "ফিনিক্সপাখি" হিসেবে উল্লেখ করে হঠাৎ জেগে উঠার স্বপ্নে বিভোর আছেন।অর্থাৎ তিনিও স্বীকার করে নিলেন বিএনপির অবস্থা ভাল নেই।বিএনপি দাঁড়াতে পারবে কিনা তাঁরা সন্দিহান।হঠকারি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বিএনপি বিপুল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধীরে হলেও নেতারা স্বীকার করে নেয়া শুরু করেছে।
বিএনপি এই নাশকতা করেছিল মানবতা বিরুধী বিচার বানচাল করার উদ্দেশ্যে।৭৫এর পট পরিবর্তনের অব্যবহিত পরেই বুঝা গিয়েছিল মেজর জিয়াই ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার মুল নেপথ্যের নায়ক। ক্ষমতা দখলের নাটকিয়তা, সেনা অভ্যুত্থানের গুজব ছড়িয়ে বিভিন্ন সেনা সদরে মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার হত্যা, রাজাকার আলবদরদের মন্ত্রী সভায় স্থান দেয়া,যুদ্ধ অপরাধাদের জন্য গঠিত ট্রাইবুনাল ভেঙ্গে দেয়া, যুদ্ধ অপরাধে সাজা প্রাপ্ত রাজাকারদের জেলমুক্তি করে দেয়া, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জড়িত শীর্ষ অপরাধীদের দেশত্যাগে সুযোগ করে দেয়া ইত্যাদি পয্যলোচনা করলে স্পষ্ট বুঝতে কারই অসুবিধা হওয়ার কথা নয় মেজর জিয়া প্রকৃত একজন রাজাকার ছিলেন-বঙ্গবন্ধু হত্যার মুল কারিগর ছিলেন--মুক্তিযুদ্ধে পাকিদের হাই প্রোফাইলের একজন চর ছিলেন। কোন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার বাসা বাড়ীতে অবস্থান করতে না পারলেও তাঁর পরিবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত সেনা সদরে বেশ সুখে শান্তিতেই ছিলেন। পরবর্তিতে খালেদা জিয়ার কর্মকান্ডই তা প্রমান করে।
শিমলা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের যে ১৯৫ শীর্ষ সামরিক যুদ্ধাপরাধীর বিচার করার কথা ছিল তার মধ্যে জেনারেল জানজুয়াও ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শোকবার্তা পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের কোন তোয়াক্কা না করে।
বেগম খালেদা জিয়ার এ শোকবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে প্রমান হয় তিনি দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন না।কথিত আছে, খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধি মি: জানজুয়ার হেফাজতেই ছিলেন।
১৫ই আগষ্ট ভুয়া জম্মদিন পালন,শহিদের সংখ্যা বিতর্ক, মানবতা বিরুধী বিচার বানচালে আগুন সন্ত্রাস, আইন শৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র-ইত্যাদি নানাহ কর্মকান্ড পয্যালোচনা করলেও স্পষ্ট ধারনা পেতে) -তেমন কোন অসুবিধা হয়না খালেদাও তাঁর স্বামীর পদাংক অনুসরন করে বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তান বানানোর প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনিও স্বাধীনতা বিরুধী।
পরিশেষে বলতে চাই, জাতির জনকের কন্যা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষে।আওয়ামী লীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর উদ্দেশ্য হবে কর্মসুচি বাস্তবায়নে সর্বদা অনুপ্রেরনা যুগিয়ে যাওয়া,সাহষ দিয়ে এগিয়ে নেয়া।যখন দেখি কোন মুজিব আদর্শের সৈনিক অপপ্রচারকারিদের পদাংক অনুসরন করে তাঁদের মতই কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে,তখন নেত্রী নীজেকে বড়ই অসহায় মনে করে, একা মনে হয়। তিনি প্রত্যহ একাকিত্বে ভোগছেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারাও অনেক সময় তাঁদের সাথে সুর মিলিয়ে একই ভাষায় কোরাশ গায়। জাতির জনকের কন্যা একাদিকবার তাঁর ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে বলতে চেয়েছেন,"আমি ছাড়া আর কেউ চায়না জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়ন হোক।"
__________________________________
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন