সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
জয় হত্যা পরিকল্পনা বিএনপির বর্তমান অবস্থান--গনতন্ত্র,আইনের শাষনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দাবী করে বলেছেন, সজিব ওয়াজেদের একাউন্টে ৩০০মিলিয়ন ডলার অবৈধ লেনদেন হয়েছে।সফিক রেহমান জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে পুলিশ বলছেন সফিক রেহমান এইধরনের কোন তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে দেননি।পুলিশ নিশ্চিত করেই বলছেন মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সাথে শফিক রেহমানের দেওয়া তথ্যের কোনো মিল নেই। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ চক্রান্তে’ এফবি আই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার মামলার বিচারে জয়ের একাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।ওই বিচারের সূত্র ধরে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হলেও ওই লেনদেন নিয়ে কেন কথা হচ্ছে না? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব।“যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পেশকৃত মার্কিন সরকারের ডকুমেন্টে ‘ইনডিভিজুয়াল ওয়ান’ অর্থাৎ সজীব ওয়াজেদ জয় ও ৩০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে সরকার টু শব্দ করছেন না কেন?ফখরুল সাহেবের জিজ্ঞাসা সরকারের প্রতি। ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “শফিক রেহমান জিজ্ঞাসাবাদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বহু তথ্যই দিচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে ফখরুলের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তার কোন মিল নেই। "আমরা জানি না ফখরুল সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন-তার সঙ্গে শফিক রেহমানের আগে পরে কখনও তিনি নিজে কথা বলেছিলেন কিনা।" বিষয়টি যে, বর্তমান সফিক রেহমানের গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যকে অসার প্রমান, বিতর্ক উত্থাপনের মাধ্যমে ধুম্রজাল সৃষ্ট্রি, এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপকৌশল- এতে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের পরিষ্কার কথা হচ্ছে,সত্য হোক মিথ্যা হোক বিষয়টি অতিব গুরুত্বপুর্ণ। মির্জা ফখরুল যে বিষোয়টির অবতারনা করেছেন, বিষয়টি কোন সুত্র থেকে তিনি অবহিত হলেন, তাঁর পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র প্রদানের জন্য পুলিশ কতৃক তাঁকে নির্দেশ প্রদান করা যেতে পারে।সফিক রেহমান যে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনিই বা জানেন কি ভাবে সজিবের একাউন্টে ৩০০ কোটি ডলার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে?বিষয়টি যেহেতু ফখরুল সাহেব উত্থাপন করেছেন তাঁকেই প্রমান করতে হবে সত্যাসত্য। জনমনের সন্দেহকে প্রশমিত করার জন্যই সরকার- ফখরুলকে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। নতুবা বাস্তবতায় সিনিয়র নেতাদের একাধিক বৈঠকে জয় হত্যার সিদ্ধান্তের যে কথাটি সফিক রেহমান জিজ্ঞাসা বাদে বলেছেন," ইহা কি তাঁরই অংশ হিসেবে ধরে নিতে বাধ্য হবে জনগন"?যদি অংশই হয়ে থাকে তবে মির্জা ফখরুলকে পুলিশ জিজ্ঞাসা বাদের জন্য এখনও তাঁদের হেফাজতে নিচ্ছেনা কেন?“তদন্ত সংস্থার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে সফিক রেহমানকে আইনের মধ্যে থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেখানে তার ওপর কোন চাপ প্রয়োগ বা নিপীড়ন করা হয়নি।সফিক রেহমানের সহধর্মিনীর ভাষ্য থেকেও তেমনটি উঠে এসেছে। উনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তথ্যগুলো দিয়েছেন সেই তথ্যর ভেতরে তিনি সব কিছুই উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের এবং অন্যান্য এফবি আইয়ের তদন্তের কিছু ডকুমেন্টস এবং মার্কিন সরকার কতৃক প্রেরীত বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া ডকুমেন্টসের মধ্যে পরিষ্কার উল্লেখ আছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যাক্তিগন কি কারনে মার্কিন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হলেন, উনারা এখনও মার্কিনীদের জেলেই আছেন।যথাযথ প্রমানাদি সাপেক্ষে সফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ,সফিক রেহমান সাহেব ও কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ ছাড়াই আদোপান্ত সকল ষড়যন্ত্রের বিষয় সমুহ অকপটে স্বীকার করে যাচ্ছে।এমন সব বিষয়ের অবতারনা সফিক রেহমান করে যাচ্ছেন," যে সমস্ত বিষয় সমুহ পুলিশের আদৌ জিজ্ঞাসার মধ্যেই নেই।"তাঁরপরেও নাজুক বিষয়টি নিয়ে কোন পক্ষ পানি ঘোলা করার চেষ্টা জাতির জন্য দু:খ্যজনক হবে বলে আমি মনে করি।বিএনপির উচ্চপয্যায়ের নেতৃবৃন্দের বোধদয় হওয়ার প্রয়োজন আছে যে, "জাতির জনকের দৌহিত্র একক কোন ব্যাক্তি নন, নতুন প্রজম্মের উন্নত,সমৃদ্ধ, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মানের আশা আখাংকার প্রতিভু। আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন সাধনার প্রতিভু হিসেবে নীজেকে উপস্থাপন করতে পেরেছেন তিনি ইতিমধ্যে।" তাঁর বিরুদ্ধে হাওয়াই কোন অভিযোগ উত্থাপন করার অর্থই হচ্ছে নতুন প্রজম্মের আশা-আখাংখাকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত যা জনগনের আস্থা ও বিশ্বাসের মুলে কুঠারাঘাত করার শামিল।বাংলাদেশে অতীতের ন্যায় হাওয়াই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত করার দিন-মনে হয় শেষ হয়ে গেছে। নতুন প্রজম্মের হাতে হাতে এন্ড্রয়েড ফোন তুলে দিয়েছেন জয়, ইচ্ছে করলেই গুগুল চার্জ দিয়ে তৎক্ষনাত উত্থাপিত-যে কোন বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান পেতে পারেন, যে কোন উৎসুক্য ব্যাক্তি।তাছাড়াও স্মরন রাখা প্রয়োজন জাতির জনকের পরিবার বাংলাদেশ,বাঙ্গালী জাতির জন্য বুকের রক্ত ঢেলে প্রমান করেছেন, তাঁদের পরিবারের চেয়ে অতীত বর্তমান, ভবিষ্যতেও কোন বাঙ্গালী পরিবার বা নেতা নেত্রী এত ত্যাগ স্বীকার করেনাই, করছে না,করবেও না। জাতির জনকের পরিবার বাঙলাদেশে রাজনীতি না করলেও বৃটেনের রাজপরিবারের ন্যায় সর্বচ্ছো রাষ্ট্রীয় সম্মানের অধিকারী হয়ে স্বচ্ছন্দে পারিবারিক জীবন অতিবাহিত করতে পারবে- বাংলাদেশ যতদিন পৃথিবীর মানচিত্রে "বাংলাদেশ" হিসেবে স্বীকৃত থাকবে। এই সত্যটুকু সবার মাঝে বিদ্যমান থাকা উচিৎ।নচেৎ বাঙ্গালী সর্বযুগের সেরা বেঈমান জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত হতে থাকবে।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগনের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই দলের ষড়যন্ত্র করে বা সেনা বাহিনীকে উস্কানী দিয়ে ক্ষমতা দখল করার কোন ইতিহাস নেই। অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা বা নেত্রীকে হত্যা করে রাজনীতির ভবিষ্যত নিষ্কটক করার উদাহরন- এই দলের মধ্যে কখনও ছিলনা, এখনওনেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে অখন্ড পাকিস্তানের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ "মঈন ফখরুলের সেনা সমর্থিত" সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান পয্যন্ত-কোথাও ষড়যন্ত্রের কোন ইঙ্গিত ছিল,তেমন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়না।বরঞ্চ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জাতির জনকের কন্যা ১১ মাস জেলে কাটিয়ে প্রমান করেছেন জনগনের ইচ্ছাই শেষ কথা, জনগনের ইচ্ছার বাহিরে আওয়ামী লীগ এবং তাঁর নেত্রী কোন ষড়যন্ত্রের জালে নীজেকে সম্পৃত্ত করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার চিন্তা আদৌ করেন নাই।দলটি ২০০১ ইং সালে খমতা ত্যাগের পর যে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিল-সেই নির্যাতনের বদলাও ২০০৮ ইং সালে বিপুল জনসমর্থনে খমতায় এসে নেয়ার চেষ্টা করেনি, নেয়নি।এক বিরল উদাহরনের সৃষ্ট্রি করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।বিএনপি নেত্রী তাঁর বিগত সম্মেলনে প্রকাশ্য বলেছেন ক্ষমতায় থাকলে "বেহেস্তের স্বাধ নেয়া আর ক্ষমতার বাহিরে গেলে নরকের আগুনে জ্বলা"। বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কৃতিতে রুপান্তরীত হয়েছিল,"যার কারনে তিনি নিজেই ২০০৬ইং সালে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার আপ্রান চেষ্টা করে "মঈন ফকরুলের" ক্ষমতা দখলের পথ সৃষ্ট্রি করেছিলেন।এতটুকু বোধদয়ের পরেও দলটি অতীতের হত্যা, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ইতিহাসের সহিত সামঞ্জস্য রেখে বর্তমানেও একই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে। মার্কিন আদালতে প্রমানীত হত্যা চক্রান্ত, বর্তমান বিএনপি দলের অবস্থান --চলমান গনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে ক্ষতিগ্রস্থ্য করবে।চলমান ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত -নি:সন্দেহে দলটির পতনকেই ত্বরান্বিত করবে। হত্যার রাজনীতিতে সম্পৃত্ত হওয়া বিএনপির মত বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের, বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য নিশ্চিত একটি অশনিসংকেত।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশের আদালতে প্রমানীত সত্যকে বিভিন্ন বিতর্ক উত্থাপনের মাধ্যমে পাস কাটানো চেষ্টা আদৌ সংগত হতে পারেনা।বিএনপির উচিৎ ছিল সরকারকে সহযোগিতা করা- -যাতে এই হীন চক্রান্তে জড়িত ব্যাক্তিদের চিহ্নিত করা যায়। ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।ইহা আগামীর বাংলাদেশের গনতন্ত্র, সুশাষন, উন্নয়ন, অগ্রগতির ধারাকে নিরবচ্ছিন্ন করার স্বার্থেই প্রয়োজন ছিল। জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু জাতির জনকের কন্যা বঙ্গরত্ম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন