ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার গনতন্ত্র, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে প্রকৃত ভুমিকা পালন করার সময় এসেছে---- ___________________________________ এমন একটি সময় ছিল যখন পত্রপত্রিকা, ইলেকট্রোনিক মিডিয়া বলতে- হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকা আর বাংলাদেশ টেলিভিশন।তাও আবার বাংলাদেশের সব জায়গায় পত্রিকাও পাওয়া যেতনা টিভিও দেখা যেতনা।তখনকার পরিবেশে গ্রামের মাতব্বরের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে হত ব্যাক্তি রাজনীতির ধারনা। আমি বলছি সামন্ততন্ত্রের পরের কথা।সামন্তপ্রথা উচ্ছেদ হয়েছে অনেক আগেই কিন্তু রেশ রয়ে গেছে সামাজিক অনোন্নতির-অনগ্রসরতার কারনে।এখন সমাজ অনেক এগিয়ে গেছে।পত্রিকার সংখ্য অনেক গুন বেড়েছে, ইলেকট্রোনিক মিডিয়াও আকাংখার চাইতে অনেক গুন বেশি বেড়েছে।একটি টিভি ষ্টেশনের বার ঘন্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে শতশত মিডিয়ার দিন রাত ছব্বিশ ঘন্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার। এক দেড় ঘন্টা বিনোদনের স্থলে ছব্বিশ ঘন্টা বিনোদন মুলক অনুষ্ঠান উপভোগের ব্যবস্থা হয়েছে। ঘরে ঘরে টিভি দেখার সুযোগ হয়েছে।হাতের মধ্যে মেঠোফোনে দুনিয়ার খবর সংরক্ষিত আছে।ইচ্ছে হলেই দেখা যায় পড়া যায়।গুরুত্বপুর্ন তথ্য উপাত্তের জন্য কারো দ্বারস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই- গুগল চার্জ দিলেই পাওয়া যাচ্ছে কাংখিত তথ্য। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে সামাজিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনায়নের নীতিহীনতার কারনে সর্বত্র দেখা দিচ্ছে বৈপরিত্ত। সমাজ কাংখীত অগ্রগতি লাভ করছে ঠিকই --নেমে যাচ্ছে নীতি নৈতিকতার মান।বাড়ছে মানুষের সংখ্যা,কাজের পরিধি-নামছে ধর্মীয় চেতনাবোধের সুচক।সমাজ রুপান্তরীত হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভরতায়-ধর্মে ধারন হচ্ছে অন্ধত্ব, উগ্রতা।জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমান্তরালে এগিয়ে যাচ্ছে নারী পুরুষ-সমাজে বাড়ছে অবক্ষয়, নগ্নতা।রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন আইন-বাড়ছে হত্যা গুম,নারী নির্য্যাতন। ইত্যকার ইতিবাচক উন্নয়ন অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে নেতিবাচক কর্মের পরিধি।সর্বক্ষেত্রে বিপরীত মুখী, পশ্চাদপদতা, উগ্রতা, অসহনশীলতা, বাগাড়ম্বরতায় সমাজ ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে নেমে আসছে অন্ধকার যুগের আদিম নেশা। দেশের মিডিয়া সমুহ এক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তনের ধারাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যে ভুমিকা পালন করার দরকার ছিল তা পালন করতে পারছে বলে মনে হয়না। এক্ষেত্রে আমি ছোট দু'টা উদাহরন দিতে চাই।কোন নারী ধর্ষিতা হলে ছবি চাপানোর কথা ছিল ধর্ষকের -মিডিয়া ধর্ষিতার ছবিতো চাপেই বরং ধর্ষিতা কোন প্রকৃতির ছিল তাও ব্যাখ্যা করার অপপ্রয়াস চালায়।যে কোন নির্বাচনে দেখা যায় পাঁচটি কেন্দ্রে গোলমাল, মারামারি ইত্যাদি সংঘটিত হয়েছে-মিডিয়া সারা দিনরাত ঐ পাঁছটির চিত্রই দেখাতে থাকে-পঞ্চাশ কেন্দ্রে স্বাভাবিক ভোট প্রক্রিয়া সমাপ্ত হচ্ছে বা স্বাভাবিক ছিল ঘুনাক্ষরেও সেদিকে ক্যামরা যায়না। সাধারন মানুষ এই থেকে যে বার্তাটি পায় তা হচ্ছে মেয়েদের নগ্নতার কারনে মেয়েরা ধর্ষিতা হচ্ছে।ভোট জনগন নিজের পছন্দমত প্রার্থীকে দিতে পারছেনা। সন্ত্রাস নির্ভর ভোটে স্বাভাবিকভাবে মানুষ আস্থা হারিয়ে ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে যাবে।এতে গনতন্ত্রের বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার পিছনে মিডিয়া ছুরিকাঘাত করছে তা মিডিয়ার জ্ঞানে আসছেনা। মিডিয়া প্রকারান্তরে মেয়েদের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখার কাজে সাহায্য করছে তাও তাঁদের জ্ঞানে আসছেনা। এক্ষেত্রে মিডিয়া দেশের প্রতিতযষা,জ্ঞানী, গুনী, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্ব-স্ব বিষয়ের -অনুষ্ঠান সম্প্রচার করার প্রয়োজন ছিল।যে বিষয়ের উপর আদৌ কোন জ্ঞান রাখেনা সেই বিষয়ে বলতে দেয়া হয় আনাড়ি কিছু ব্যাক্তি বিশেষকে।ফলত: দেখা যায় উদ্ভট তথ্য উপাত্তের বিরক্তিকর ছড়াছড়ি। ইদানিং রাজনৈতিক দলসমুহের সভা সমাবেশ নেই বললেই চলে।মানুষের রাজনীতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ আমাদের দেশে আগে থেকেই সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে যুক্ত হয়ে আছে।তাঁর মনের আগ্রহ যেহেতু পুরন করার জন্য দলগুলি কোন ব্যবস্থা নেয়না সংগত কারনে মিডিয়ার রাজনৈতিক 'টকশোর' দিকেই তাঁর মনোযোগ।ফলে গভীররাত পয্যন্ত অপেক্ষা করে হলেও সে টক শো শুনবেই।শহরের লোকদের চাইতে গ্রামের লোকেরাই এই সমস্ত সস্তা আলোচনা শুনতে চায় বেশি। দর্শক শ্রোতাদের এমনতর দুর্বলতার সুযোগে মিডিয়া গভীর রাতে অচেনা অজানা, অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত তৃতীয় শ্রেনীর রাজনীতিবিদদের টিভি সেন্টারে হাজির করে 'সমসাময়িক রাজনীতির' উপর আলোচনার আয়োজন করে।মারমুখি আলোচনা শুনতে মানুষের অবশ্যই ভাল লাগে।ভাল লাগার মাঝে ঐ ব্যক্তিটি যে উদ্ভট,মিথ্যা, অসামঞ্জস্য তথ্য দিয়ে সরল্প্রান গ্রামের দর্শককে বিভ্রান্ত করেছে তা কি মিডিয়া কতৃপক্ষ চিন্তা করেছেন? যদি চিন্তা করে থাকেন-- টকশোর বয়সতো আর কম হয়নি-নিয়ন্ত্রন করতে পারেননি কেন? দেশের রাজনীতির বিষয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষই শুধু নয়, স্বয়ং রাজনীতিবিদরাও নিজেদের ভুল ত্রুটি, সবলতা ও দুর্বলতা বুঝতে পারেন, জানতে পারেন। এছাড়া জাতীয় নানা ইস্যু নিয়েও সে রকম আলোচনা-সমালোচনা হলে সরকার রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমৃদ্ধ হতে পারে। আসল কথা হচ্ছে, আমরা আসলে টকশোকে কীভাবে দেখতে চাই, শেখার জন্য, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য? ইলেকট্রনিক মিডিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী গণমাধ্যম। ইচ্ছা যদি সৎ থাকে মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের দেশ ও সমাজের অনেক কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব, আমি মনে করি। এটিকে শিক্ষার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করা যায়,হওয়ার কথা ছিলও তাই। মিডিয়া শুধু বিনোদনের মাধ্যমেই নয়- জীবন সম্পর্কে সচেতন, সমাজের বৈশম্য সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যম হিসেবেও এর কোনো তুলনা হয় না। যেহেতু সবকয়টি টিভি চ্যানেলই বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত সেহেতু তাঁদের আয়ের দিকেই নজর থাকবে বেশি। তাদেরকে চলতে হয় বিজ্ঞাপনের প্রাপ্ত আয়ের ওপর নির্ভর করে। সেখানে তারা অনেকটাই হয়তোবা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। তারপরও সবকটি টিভি চ্যানেলেই যেহেতু 'টকশো' প্রোগ্রাম প্রচারিত হচ্ছে, তাই অনুষ্ঠানগুলোকে দেশ এবং জাতি গঠনে, রাষ্ট্র-রাজনীতি এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি সচেতন জনগোষ্ঠী গঠনে উপযোগি করে নির্মান করা প্রয়োজন। সরকারও যুগ-উপযোগি সম্প্রচার নীতিমালা করা দরকার-যাতে কোন অবস্থায় টিভি চ্যানেলগুলি অর্থ সংকটের মুখোমুখি না হয়। দুনিয়ার অনেক দেশেই ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় টকশো প্রচারিত হচ্ছে-প্রয়োজনে তাঁদের থেকে অভিজ্ঞতা ধার নেয়া যেতে পারে। অনুষ্ঠানের মান, প্রচারের ধরন, সময়, উপস্থিত বক্তার সামাজিক মায্যদা,আলোচিত বিষয়ের উপর তার দক্ষতা আমাদের মিডিয়া বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। জনগনকে শুধু বিভ্রান্ত করা নয় -উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রকল্প গ্রহন করার সময় এসেছে।বস্তাপঁচা অযৌক্তিক বিতর্ক নয়-যৌক্তিক তথ্যভিত্তিক, জ্ঞান সমৃদ্ধ শিক্ষনীয় আলোচনার আয়োজন করার সময় এসেছে। টকশোগুলোকে আরো বেশি জ্ঞানমুখী, সমাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিমুখী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার সময় এসেছে। অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় সবশ্রেনী পেশার জনগনের প্রতি খেয়াল করা দরকার। যাতে রাজনীতিক দল, ব্যাক্তি, সমাজ, সরকার জানতে পারে, সংশোধন হতে পারে, ভুলগুলি চিহ্নিত করে--শোধরানোর রাস্তা পেতে পারে। রাজনীতির আকাল সময়ে গনতন্ত্রকে সচল রাখতে প্রকৃত বিরুধী দলের ভুমিকায় অবতিন্ন হতে হবে মিডিয়া। সার্বক্ষনিক বস্তুনিষ্ট, তথ্য নির্ভর সংবাদ জনগনকে জানানো মিডিয়ার দায়িত্ব।আমাদের দেশের ব্যাংকের টাকা চুরি হয়- ফিলিপাইনের সাংবাদিক খবর পেলেও আমাদের চতুর সাংবাদিকেরা ঘুমে থাকে। আজগুবি খবর প্রকাশে যতটুকু বাহাদুরী দেখায় তার সামান্য মেধা বস্তুনিষ্টতায় খাটালেও দেশ এবং জনগনের অনেক বেশি কল্যান হতে পারে। ________________________________ জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু জাতির জনকের কন্যা বঙ্গরত্ম শেখ হাসিনা

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg