সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
চতুর্থ দফায় ৫৫টিতে প্রার্থী নেই বিএনপির--রাজনীতি বিশ্লেষকগন, সুশীল সমাজ এবার কি বলবেন--?
_______________________________
তিন দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মতো চতুর্থ দফায়ও বেশ কিছু জায়গায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পত্রপত্রিকার খবর থেকে জানা যায়-- এই দফায় ৫৫টি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। আগামী ৭ মে চতুর্থ দফার ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে।
সব মিলিয়ে এই দফার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭২৭, বিএনপির ৬৭২, জাতীয় পার্টির ১৭৮ ও স্বতন্ত্র এক হাজার ৯১২ জন প্রার্থী। এছাড়া এই দফায় ছয়টিতে একক প্রার্থী হিসেবে জয়ের পথে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
চতুর্থ দফা নির্বাচনে ২৭ মার্চ ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ এপ্রিল।
প্রসঙ্গত, প্রথম দফা নির্বাচনে ৭১ টি, ২য় দফায় ৬১টি এবং ৩য় দফায় ৪২টিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি।
নির্বাচন ঘোষনার আগেই আমি ধারাবাহিক লিখায় বলতে চেয়েছিলাম,ঘোষিত ইউপি নির্বাচনে পৌর নির্বাচনের মতই কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেনা। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা নির্বাচন পয্যন্ত আমার লিখায় কেউই আস্থা আনতে পারেনি।আমি বলতে চেয়েছিলাম নির্বাচনে সরকারি দল শক্তি প্রয়োগ করবে।বহুস্থানে সফলও হবে।দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার নতুন কিছু নয়।তাছাড়া পশ্চিমা গনতন্ত্রে শক্তি প্রয়োগের অলিখিত রীতি বহু যুগ আগে থেকেই পৃথিবির দেশে দেশে দৃশ্যমান।বাংলাদেশেও অতীতের সকল নির্বাচনে এর ব্যাত্যায় ঘটেনি এখনও ঘটবে বলে আশা করা যায়না।
মুলত:বিএনপির তৃনমুলে বেহাল অবস্থাই নির্বাচনে সহিংসাতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।অনেক বিশেষজ্ঞ সহিংসতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দোষ দিতে ভুল করছেন না।সরকার ও একপয্যায় নির্বাচন কমিশনকে দোষ দিতে ভুল করেনি।অথছ নির্বাচন কমিশন কাঁদানে গ্যাসের স্থলে গুলি ব্যবহার করেও সহিংসতা থামাতে পারেনি।এই সমস্ত সহিংসতা আবার আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই ঘটেছে।দেশের কোন ইউনিয়নের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ বিএনপির সাথে সংঘর্ষ হয়েছে খবর পাওয়া যায়নি।অর্থাৎ কোথাও বিএনপি প্রতিরোধের চিন্তা করেনি বা প্রতিরোধ করেনি।অন্যভাবে বলা যায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথে সমঝোতা পুর্বক ভোট যুদ্ধ থেকে বিএনপি প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয় দফা নির্বাচনে বিএনপি ৫০ইউপির নির্বাচন বাতিল চেয়েছিল।অর্থাৎ বাদবাকি ইউনিয়নে নির্বাচন সুষ্ঠ ছিল।নির্বাচন কমিশন সাংঘর্ষিক আরো তের ইউনিয়ন সহ প্রায় ৬৩ ইউপির ভোট বাতিল করেছে।নির্বাচন কমিশনের বাড়তি ১৩ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী ছিলনা বা বিএনপির সাথে সংঘর্ষ হয়নি-তাই দাবিও করেনি।
তৃতীয় দফা নির্বাচনের পর বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় পাকাপাকিই করেছিলেন।রাতে নেতাদের সাথে আলোচনায় দলীয় প্রার্থীদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সমঝোতা, ভোট যুদ্ধে অংশ না নেয়া, তৃনমুলে নির্বাচনকে তেমন রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিনত না করা,নেতাদের গনবিচ্ছিন্নতা, অনেক ইউনিয়নে প্রার্থী না পাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলি উঠে আসে। ভোট কারচুপির ইউনিয়ন গুলীর উপর জরিপ চালিয়ে দেখতে পাওয়া যায় ঐ সমস্ত ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী কোন কোন ইউনিয়নে থাকলে ও কেন্দ্রে নীজের ভোটও দিতে আসেননি এবং কি কোন এজেন্ট ও নিয়োগ করেননি।সংগত কারনে একক মাঠ পেয়ে সরকারি দল ভোট কারচুপি করতে পেরেছে বা করেছে।
উল্লেখিত কারন বিশ্লেষন পুর্বক নির্বাচন মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্র, জেলা, উপজেলায় একাধিক কমিটি করে ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।চতুর্থ দফা নির্বাচনে মনিটরিং কমিটি আপ্রান চেষ্টা করেও প্রায় ৫০ ইউপিতে কোন প্রার্থী জোগাড় করতে পারেননি।
বিএনপির হাইকমান্ডের মনিটরিং এর কারনে এবার দেশের কোথাও নমিনেশনপত্র কেড়ে নিয়েছে বা নমিনেশন দাখিল করতে দিচ্ছেনা, সরকারি দলের মাস্তানেরা -- এইরুপ কোন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আগের তুলনায় চতুর্থ দফা নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে ভোটের আগেই সরকারি দলকে দমানোর মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে।তেমন কোন অভিযোগ না পাওয়ায় সরকার কাউকে দমন করতে পারেনি-সরকার ও নির্বাচন কমিশন হতাশ হয়েছেন।
নির্বাচন বিশ্লেষক, টকশোর সুশীল, রাজনীতিবীদ, সমাজের গন্যমান্য ব্যাক্তিগন নির্বাচন শুরুর প্রথম থেকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে গেছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে, গনতন্ত্র হুমকির মুখে ইত্যাদি আলোচনা- সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
অথছ তাঁদের মুরুব্বিদের শাষন বাংলাদেশের মানুষ খুব কাছ থেকে দেখেছে।শিল্পপতি, ব্যবসায়ীরা কিভাবে দেশত্যাগ করে প্রানে বেঁচেছে লক্ষ করেছে।ক্ষমতার লিপ্সা তাঁদের কোথায় নিয়ে গিয়েছিল তাও অনুধাবন করতে পেরেছে।বাহিরে থেকে হম্ভিতিম্ভি করা যায়,রাজনীতি করা যায়না,দেশ শাষন করা যায়না।
মাঠপয্যায় ত্যাগি, আদর্শবান, নিবেদিত নেতাকর্মীর উপস্থীতি না থাকলে জনপ্রীয় দলের ও পতন হতে বাধ্য।বিএনপির হয়েছেও তাই,ধাক্কা দিয়েও নেতাকর্মীদের মাঠে আনা যাচ্ছেনা।শীর্ষ নেতৃত্ব ভুল করলে মাসুল পুরূ দলকেই দিতে হয়।
চতুর্থদফা নির্বাচনে সর্বাত্মক চেষ্টা করেও৫০ ইউপিতে প্রার্থী দিতে না পারা অভিজ্ঞ রাজনীতি বিশ্লেষক গন কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানিনা।অনেক স্থানে বিএনপি নেতাদের ভোটের প্রতি অনীহার কারনে বিএনপিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের অনিচ্ছা সত্বেও ধানের শীষ কাঁধে তুলে দিতে হয়েছে।তবে আশার কথা, এই ধাপে বৃহত্তর নোয়াখালীতে বেশ কিছু ইউপিতে নির্বাচন হবে।হয়তবা তাঁদের ঘাঁটি নোয়াখালী হিসেবে কিছু আসন বেশী পেতে পারেন।এতেও হারের লজ্জা ঢাকা যাবেনা।
বৃটেনের নিম্ন কক্ষ একটি প্রতিবেদন চাপিয়েছে কিছু দিন আগে।প্রখ্যাত পত্রিকা ইকনোমিষ্টও কমন্স সভার সাথে একমত প্রকাশ করেছে।তাঁরা বলতে চেয়েছে দ্ব্যর্থ্যহীন ভাবে--"বিএনপি বাংলা দেশের পরিবর্তিত পরিস্থীতির সাথে তালমিলিয়ে রাজনীতি করার যোগ্যতা রাখেনা।"ইঙ্গিত পুর্ণ বক্তব্যে আরও একধাপ এগিয়ে শিরোনাম করেছে--"খালেদা দীর্ঘমেয়াদি জেলে থেকে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়বেন।"
পরিশেষে বলতে চাই,সমশক্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক দল, সাহষী নেতৃত্ব, সুদুরপ্রসারী চিন্তাচেতনা, যুগ উপযোগি কর্মসুচি প্রনয়ন, ত্যাগী কর্মীবাহিনী, আদর্শের প্রতি অনুগত নেতা, নির্লোভ তৃনমুলের নেতাকর্মী যে দল সৃষ্টি করতে ব্যার্থ্য হয়েছে -সময়ে সেই দল বিলীন হবেই হবে।
লোভি নেতাকর্মী দিয়ে আর যাই হোক রাজনীতি করা যায়না, নির্বাচন করা যায়না, সরকার পরিচালনা করা যায়না, দেশ শাষন করা যায়না- প্রকৃষ্ট প্রমান মুসলিম লীগ, আজকের বিএনপি।মানুষ টিকে থাকার একমাত্র উপায় নীতি এবং চরিত্র-রাজনৈতিক দল টিকে থাকার একমাত্র উপায় আদর্শ।বিএনপি নেত্রীর নীতিও নেই চরিত্রও নেই--বিএনপি দলের আদর্শ বা উদ্দেশ্য কিছুই নেই।সুতারাং যেভাবে উৎপত্তি সেই ভাবেই বিনাশ।
________________________________
________________________________
জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
বঙ্গরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন