চতুর্থ দফায় ৫৫টিতে প্রার্থী নেই বিএনপির--রাজনীতি বিশ্লেষকগন, সুশীল সমাজ এবার কি বলবেন--? _______________________________ তিন দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মতো চতুর্থ দফায়ও বেশ কিছু জায়গায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পত্রপত্রিকার খবর থেকে জানা যায়-- এই দফায় ৫৫টি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। আগামী ৭ মে চতুর্থ দফার ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। সব মিলিয়ে এই দফার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭২৭, বিএনপির ৬৭২, জাতীয় পার্টির ১৭৮ ও স্বতন্ত্র এক হাজার ৯১২ জন প্রার্থী। এছাড়া এই দফায় ছয়টিতে একক প্রার্থী হিসেবে জয়ের পথে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। চতুর্থ দফা নির্বাচনে ২৭ মার্চ ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ এপ্রিল। প্রসঙ্গত, প্রথম দফা নির্বাচনে ৭১ টি, ২য় দফায় ৬১টি এবং ৩য় দফায় ৪২টিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। নির্বাচন ঘোষনার আগেই আমি ধারাবাহিক লিখায় বলতে চেয়েছিলাম,ঘোষিত ইউপি নির্বাচনে পৌর নির্বাচনের মতই কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেনা। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা নির্বাচন পয্যন্ত আমার লিখায় কেউই আস্থা আনতে পারেনি।আমি বলতে চেয়েছিলাম নির্বাচনে সরকারি দল শক্তি প্রয়োগ করবে।বহুস্থানে সফলও হবে।দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার নতুন কিছু নয়।তাছাড়া পশ্চিমা গনতন্ত্রে শক্তি প্রয়োগের অলিখিত রীতি বহু যুগ আগে থেকেই পৃথিবির দেশে দেশে দৃশ্যমান।বাংলাদেশেও অতীতের সকল নির্বাচনে এর ব্যাত্যায় ঘটেনি এখনও ঘটবে বলে আশা করা যায়না। মুলত:বিএনপির তৃনমুলে বেহাল অবস্থাই নির্বাচনে সহিংসাতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।অনেক বিশেষজ্ঞ সহিংসতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দোষ দিতে ভুল করছেন না।সরকার ও একপয্যায় নির্বাচন কমিশনকে দোষ দিতে ভুল করেনি।অথছ নির্বাচন কমিশন কাঁদানে গ্যাসের স্থলে গুলি ব্যবহার করেও সহিংসতা থামাতে পারেনি।এই সমস্ত সহিংসতা আবার আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই ঘটেছে।দেশের কোন ইউনিয়নের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ বিএনপির সাথে সংঘর্ষ হয়েছে খবর পাওয়া যায়নি।অর্থাৎ কোথাও বিএনপি প্রতিরোধের চিন্তা করেনি বা প্রতিরোধ করেনি।অন্যভাবে বলা যায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথে সমঝোতা পুর্বক ভোট যুদ্ধ থেকে বিএনপি প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় দফা নির্বাচনে বিএনপি ৫০ইউপির নির্বাচন বাতিল চেয়েছিল।অর্থাৎ বাদবাকি ইউনিয়নে নির্বাচন সুষ্ঠ ছিল।নির্বাচন কমিশন সাংঘর্ষিক আরো তের ইউনিয়ন সহ প্রায় ৬৩ ইউপির ভোট বাতিল করেছে।নির্বাচন কমিশনের বাড়তি ১৩ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী ছিলনা বা বিএনপির সাথে সংঘর্ষ হয়নি-তাই দাবিও করেনি। তৃতীয় দফা নির্বাচনের পর বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় পাকাপাকিই করেছিলেন।রাতে নেতাদের সাথে আলোচনায় দলীয় প্রার্থীদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সমঝোতা, ভোট যুদ্ধে অংশ না নেয়া, তৃনমুলে নির্বাচনকে তেমন রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিনত না করা,নেতাদের গনবিচ্ছিন্নতা, অনেক ইউনিয়নে প্রার্থী না পাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলি উঠে আসে। ভোট কারচুপির ইউনিয়ন গুলীর উপর জরিপ চালিয়ে দেখতে পাওয়া যায় ঐ সমস্ত ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী কোন কোন ইউনিয়নে থাকলে ও কেন্দ্রে নীজের ভোটও দিতে আসেননি এবং কি কোন এজেন্ট ও নিয়োগ করেননি।সংগত কারনে একক মাঠ পেয়ে সরকারি দল ভোট কারচুপি করতে পেরেছে বা করেছে। উল্লেখিত কারন বিশ্লেষন পুর্বক নির্বাচন মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্র, জেলা, উপজেলায় একাধিক কমিটি করে ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।চতুর্থ দফা নির্বাচনে মনিটরিং কমিটি আপ্রান চেষ্টা করেও প্রায় ৫০ ইউপিতে কোন প্রার্থী জোগাড় করতে পারেননি। বিএনপির হাইকমান্ডের মনিটরিং এর কারনে এবার দেশের কোথাও নমিনেশনপত্র কেড়ে নিয়েছে বা নমিনেশন দাখিল করতে দিচ্ছেনা, সরকারি দলের মাস্তানেরা -- এইরুপ কোন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আগের তুলনায় চতুর্থ দফা নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে ভোটের আগেই সরকারি দলকে দমানোর মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে।তেমন কোন অভিযোগ না পাওয়ায় সরকার কাউকে দমন করতে পারেনি-সরকার ও নির্বাচন কমিশন হতাশ হয়েছেন। নির্বাচন বিশ্লেষক, টকশোর সুশীল, রাজনীতিবীদ, সমাজের গন্যমান্য ব্যাক্তিগন নির্বাচন শুরুর প্রথম থেকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে গেছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে, গনতন্ত্র হুমকির মুখে ইত্যাদি আলোচনা- সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। অথছ তাঁদের মুরুব্বিদের শাষন বাংলাদেশের মানুষ খুব কাছ থেকে দেখেছে।শিল্পপতি, ব্যবসায়ীরা কিভাবে দেশত্যাগ করে প্রানে বেঁচেছে লক্ষ করেছে।ক্ষমতার লিপ্সা তাঁদের কোথায় নিয়ে গিয়েছিল তাও অনুধাবন করতে পেরেছে।বাহিরে থেকে হম্ভিতিম্ভি করা যায়,রাজনীতি করা যায়না,দেশ শাষন করা যায়না। মাঠপয্যায় ত্যাগি, আদর্শবান, নিবেদিত নেতাকর্মীর উপস্থীতি না থাকলে জনপ্রীয় দলের ও পতন হতে বাধ্য।বিএনপির হয়েছেও তাই,ধাক্কা দিয়েও নেতাকর্মীদের মাঠে আনা যাচ্ছেনা।শীর্ষ নেতৃত্ব ভুল করলে মাসুল পুরূ দলকেই দিতে হয়। চতুর্থদফা নির্বাচনে সর্বাত্মক চেষ্টা করেও৫০ ইউপিতে প্রার্থী দিতে না পারা অভিজ্ঞ রাজনীতি বিশ্লেষক গন কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানিনা।অনেক স্থানে বিএনপি নেতাদের ভোটের প্রতি অনীহার কারনে বিএনপিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের অনিচ্ছা সত্বেও ধানের শীষ কাঁধে তুলে দিতে হয়েছে।তবে আশার কথা, এই ধাপে বৃহত্তর নোয়াখালীতে বেশ কিছু ইউপিতে নির্বাচন হবে।হয়তবা তাঁদের ঘাঁটি নোয়াখালী হিসেবে কিছু আসন বেশী পেতে পারেন।এতেও হারের লজ্জা ঢাকা যাবেনা। বৃটেনের নিম্ন কক্ষ একটি প্রতিবেদন চাপিয়েছে কিছু দিন আগে।প্রখ্যাত পত্রিকা ইকনোমিষ্টও কমন্স সভার সাথে একমত প্রকাশ করেছে।তাঁরা বলতে চেয়েছে দ্ব্যর্থ্যহীন ভাবে--"বিএনপি বাংলা দেশের পরিবর্তিত পরিস্থীতির সাথে তালমিলিয়ে রাজনীতি করার যোগ্যতা রাখেনা।"ইঙ্গিত পুর্ণ বক্তব্যে আরও একধাপ এগিয়ে শিরোনাম করেছে--"খালেদা দীর্ঘমেয়াদি জেলে থেকে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়বেন।" পরিশেষে বলতে চাই,সমশক্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক দল, সাহষী নেতৃত্ব, সুদুরপ্রসারী চিন্তাচেতনা, যুগ উপযোগি কর্মসুচি প্রনয়ন, ত্যাগী কর্মীবাহিনী, আদর্শের প্রতি অনুগত নেতা, নির্লোভ তৃনমুলের নেতাকর্মী যে দল সৃষ্টি করতে ব্যার্থ্য হয়েছে -সময়ে সেই দল বিলীন হবেই হবে। লোভি নেতাকর্মী দিয়ে আর যাই হোক রাজনীতি করা যায়না, নির্বাচন করা যায়না, সরকার পরিচালনা করা যায়না, দেশ শাষন করা যায়না- প্রকৃষ্ট প্রমান মুসলিম লীগ, আজকের বিএনপি।মানুষ টিকে থাকার একমাত্র উপায় নীতি এবং চরিত্র-রাজনৈতিক দল টিকে থাকার একমাত্র উপায় আদর্শ।বিএনপি নেত্রীর নীতিও নেই চরিত্রও নেই--বিএনপি দলের আদর্শ বা উদ্দেশ্য কিছুই নেই।সুতারাং যেভাবে উৎপত্তি সেই ভাবেই বিনাশ। ________________________________ ________________________________ জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু জাতির জনকের কন্যা বঙ্গরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg