সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বিএনপি দলের ভিতরে বাইরে গড়ে উঠা লুটেরা শ্রেনীর স্বার্থরক্ষায় পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত 'জয়হত্যা'।
_______________________________________
বাংলাদেশের রাজনৈতিকদল তথাকথিত শুশীলসমাজ, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবীদ, অল্প কয়েকটি সামাজিক সংগঠন দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য মনে হচ্ছে। কোন বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসলে জয়হত্যার পরিকল্পনার ব্যাপারটি জনগনের দৃষ্টির আড়ালে নেয়া যায় বুঝতেই পারছেন না। গতকাল রাতে শীর্ষ নেতাদের সংঙ্গে খালেদা জিয়া দীর্ঘ বৈঠকের পরেও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বা যুৎসই বক্তব্য স্থীর করতে পারেন নাই।ফলে স্থায়ী কমিটির নেতারা একেক জন একেক রকমের বক্তব্য নিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির হচ্ছেন।তরুন তুর্কিরা অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে বাঁচার জন্য চারিদিকে জায়গার খোঁজ খবরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
আমেরিকার আদালতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দন্ড হওয়া এবং নৈতিকভাবে দুর্বল জনাব রেহমান শফিকের সরল স্বীকারোক্তি মুলত: আওয়ামী বিরুধীদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।সফিক রেহমান সম্মানীত ব্যাক্তি, বাম বলয়ের সাংবাদিকতার সাথে জড়িত থাকায়,অনেকটা স্পষ্টবাদিতার কারনে--স্বল্প সময়ে নাম কিনতে পেরেছিলেন- ইহাও সত্য। কিন্তু রাজনৈতিক ও চারিত্রিক পদস্থলনের কারনে তাঁর প্রকাশিত পত্রিকা আগের মত পাঠক টানতে পারেনা- ইহাও সত্য।তিনি ডিবি কতৃক কোন প্রকার নির্য্যাতন ছাড়াই সংগঠিত ঘটনার অকপটে সবিস্তারে বর্ণনা দিয়েছেন-- ইহা তাঁর সহধর্মীনির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট অনুমান করা যায়।
তাঁর সহধর্মীনি তালেয়া রেহমান বলেন, ‘শফিকের সঙ্গে আমার কিছু কথা হয়েছে। ওকে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছ? বলল, পুলিশ তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে, সেদিক দিয়ে চিন্তা নেই। তবে তাঁর চিন্তা হচ্ছে তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না, জেলেই দেবে। শফিক বলছে যে, সে কোনো দিন কারও কাছে কোনো কিছু চায়নি। কেবল দিয়েছে। দিয়েছে ভালোবাসা। তার বদলে কোনো পদ বা কোনো কিছু পায়নি। আশাও করেনি।’
এতেই বুঝা যায় সফিক রেহমান কোনপ্রকার শারিরীক নিয্যাতন ব্যাতিরেকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও বিএনপির মহাসচিব অভিযোগের সুরে বলতে চাইছেন-"বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ও তনু হত্যার ঘটনা নিয়ে যে বিক্ষোভ, তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনার কথা সাংবাদিক শফিক রেহমান স্বীকার করেছেন মর্মে যে খবর বেরিয়েছি এটা 'অস্বাভাবিক।' আজ সকালে শেরে বাংলা নগর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে এ কথা বলেন তিনি।'
মুলত: সফিক রেহমানের জন্য বিএনপি এবং বিএনপি মনোভাবাপন্ন শুশিল সমাজ,বুদ্ধিজীবি, দলটির তরুন তুর্কি,জনাব হাইকমান্ড তারেক,খালেদা জিয়া সহ সংশ্লিষ্ট সবাই যারপরনাই হতাশ হওয়ার মুলে কয়েকটি কারন যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। তাঁদের বুদ্ধিজীবির তালিকা অত্যান্ত সীমিত আগে থেকেই। সিনিয়র তিনজন বুদ্ধিজীবি দেশ-বিদেশে সর্বমহলে আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একজন গত কিছুদিন আগে দলের সকল স্তর থেকে পদত্যাগ করেছেন।বাকি ছিলেন এমাজ উদ্দিন আহম্মেদ, এবং সফিক রেহমান। শমশের মোবিন চৌধুরী এবং শফিক রেহমান বিদেশী দুতাবাস সমুহে সরকার বিরুধী তৎপরতা চালানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া কতৃক অনুমতি প্রাপ্ত ব্যাক্তি ছিলেন। একজনের প্রস্তানের পর গুরু দায়িত্বটি একক ভাবে শফিক রেহমানের উপরই বর্তায়। তাছাড়াও বিএনপির তরুন তুর্কি, তাঁদের হাইকমান্ড তারেক ও খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত ব্যাক্তি হিসেবে পর্দার আড়ালে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন তিনি।
বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন শফিক রেহমান খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। যাদের পরামর্শ বা মতামতকে খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করেন তাদের মধ্যে শফিক রেহমান অন্যতম। শফিক রেহমান নিজেও সে কথা জানালেন। গত মার্চ মাসের শুরুতে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে রেহমান বলেছিলেন, 'আমি কৃতজ্ঞ যে, 'খালেদা জিয়া আমার উপদেশ মাঝে-মধ্যে নিয়েছেন এবং সে মোতাবেক অনেক কাজও করেছেন। বিএনপির নীতি নির্ধারণে শফিক রেহমানের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হত, তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।
নিয্যাতন ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে সবিস্তারে স্বীকারোক্তি পয্যবেক্ষন করেই দলটি হতাশ। শফিক রেহমানের দেয়া তথ্য মাহমুদুর রহমানের সামানা সামনি যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে অনেকটা শক্ত প্রকৃতির মাহমুদুর রহমান- এতদিন যাহা অস্বীকার করে এসেছেন তাও স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। ' সমুহ বিপদজনক তথ্য প্রকাশের আগাম বার্তায় শংকিত বিএনপি জ্ঞানশুন্য হয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে কিভাবে জনগনের দৃষ্টির আড়ালে নেয়া যায়- তাঁর চিন্তায় বেসামাল হয়ে বিভিন্নভাবে, পেছনে পড়া ইস্যুকে জনসমক্ষে আনতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
এফবিআই এর তদন্তে অনেক বিষয় এখন স্পষ্ট হয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায়- তাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতি হুমকির মুখে ফেলতে চেয়েছিলেন অভিযুক্তরা।'
তাছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর 'আইসিটি উপদেষ্টা' হিসেবে- আইসিটি খাতে ব্যাপক 'উন্নতি ও অগ্রগতি' দেশে বিদেশে প্রশংসার জোয়ারে তারেকের ইমেজ ভেসে যাওয়াও আর একটি কারন।
খালেদা জিয়া খমতায় থাকাকালিন ২০০১--০৬ ইং সালে তারেক-কোকোর কর্মকান্ড দেশের মানুষ ভাল চোখে নেয়নি। তারেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট, নীতি নৈতিকতা নিয়েও জনগনের মনে যথেষ্ট সংশয় আছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেম, উন্নয়ন অগ্রগতির পরিকল্পিত চিন্তাধারা, দেশেবিদেশে গ্রহনযোগ্যতা, রাষ্ট্র পরিচালনার পারঙ্গমতা, সিদ্ধান্ত নেয়ায় স্বচ্ছতা, কাজের প্রতি একাগ্রতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি ইঞ্চি পরিমান ছাড় না দিয়ে প্রতিবেশিদের নিকট থেকে দেশের স্বার্থ উদ্ধার, ভীক্ষুক জাতিকে মধ্য আয়ের জাতিতে রুপান্তর, বৃহৎ রাষ্ট্র সমুহকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সাহস ইত্যাদি কারনে খালেদা জিয়া যোজন যোজন মাইল ব্যাকফুটে চলে গেছে সত্য বিএনপি দলকেও অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে।
এমতবস্থায়, তারেককে রাজনীতিতে আগাম পুর্নবাসন যে আশা-ভরসায় করেছিল খালেদা- তার সেই আশায় গুড়েবালি।জয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজনীতি করার এমন কোন গুন তারেকের মধ্যে অবশিষ্ট নেই। আওয়ামী বিদ্বেশী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে বেশিদুর যাওয়া যাবেনা, 'যে সমস্ত অভিযোগ এত দিন গোয়েবলসীয় কায়দায় চর্বিত চর্বন করা হত-সেই সমস্ত অভিযোগ ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিচক্ষনতায় জনমন থেকে দূর করতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ।'
উপসংহারে বলা যায়, জাতির জনকের পরিবারের স্ব-মহিমায় উত্থান -জিয়া পরিবারের সঙ্গত পতনে দিশেহারা বেনিফিসিয়ারী মহল পরিকল্পিত, সুচিন্তিত, সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনা থেকেই 'জয়হত্যা' পরিকল্পনা করে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে সদর্বে টিকে থাকার মানষে এবং তাঁদের ভবিষ্যত প্রজর্মের অবস্থান নিশ্চিত করার প্রয়াসে হীন হত্যা প্রচেষ্টা গ্রহন করেছে।
জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
বঙ্গরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন