সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
পরিকল্পনায় বিএনপির তরুন নেতারা জড়িত--হালকা করতে ইলিয়াস,তনু কে সামনে নিয়ে আসতে চায়।
------+------------++----------------+-+------
আসুন বন্ধুরা গত দুই দিনে তিব্র আন্দোলন গড়ে বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে রেহমান শফিকের মুক্তি ও গনতন্ত্র পুনরদ্ধারকারীদের অবস্থান কার কোথায় গিয়ে থমকে আছে, একটু দেখে আসি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুইটা নাম অবশ্যই আমাদের সবার জানা আছে।মশিউর রহমান (যাদু) মিয়া।সাথে আরও একটা নাম যোগ হয়েছিল শাহ আজিজুর রহমান।
দুই জনের প্রথম জন ছিলেন অখন্ড পাকিস্তানের পোঁড় খাওয়া বিপ্লবের কর্ণধার,অন্যজন ইসলাম মুখী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, অর্থাৎ মুসলিম লীগ।মেজর জিয়া ক্ষমতার দৃশ্যপটে এলে প্রথম ব্যাক্তি বিপ্লবের তকমা ছেড়ে জিয়া মন্ত্রী সভার 'সিনিয়র মন্ত্রীর' শফথ নেয় খুনী অবৈধ সরকারে,দ্বিতীয়জন সাক্ষাৎ রাজাকারের পোষাক ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধা জিয়া সরকারের প্রধান মন্ত্রীর শফথ নেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেই ধারা বাহিকতার ব্যত্যায় ঘটেনি।গতকাল ১৮/৪০০১৬ ইং দুই অতি বিপ্লবী কমিনিষ্ট নাস্তিক যোগদান করেছেন ইসলামের ধারক বাহক- জামায়াতে ইসলামের সঙ্গীয় জোট বিএনপি এবং তাঁর নেত্রী খালেদার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে। সেই অনুষ্ঠানেই খালেদা জিয়া প্রকাশ্য আহব্বান জানালেন 'ডান-বাম' ভুলে একই ছাতার নিছে আসার জন্য সবাইকে।
আশা করা যায় তাঁর এই আহব্বানে তথাকথিত ইসলামের ধারক বাহকদের চোখে-সদ্য কমিউনিষ্ট বিপ্লবের মহানায়ক, নাস্তিকদের শীরোমনি, সমকামীদের প্রানপুরুষ জনাব ইমরান এইছ সরকার সাড়া দিবেন। নাস্তিক অপবাদ নিয়ে চলাফেরা করা মহা সংকট থেকে রক্ষা পেতে বিএনপি নেত্রীর আব্বানে সাড়া দিবেন-এমনটি আশা করে দেশবাসিও।
ডানপন্থি-বামপন্থি ভুলে সবাইকে ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার’ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সদ্য আটক মহামানব সম্পর্কে একটি শব্দও উচ্চারন করেননি। দেশের আলোড়িত ঘটনা, যে ঘটনার জন্য তার আগের দিন অর্থাৎ ১৭/০৪ তারিখে তিব্র আন্দোলন গড়ে তোলার শফথ নিয়েছিলেন। যোগদানের এতবড় মহতি অনুষ্ঠানে সেই কথাটি একবারের জন্যও বলেননি বেগম খালেদা জিয়া। বলা যায়বেমালুম ভুলেই গেছেন তিনি বলতে।
বহুগুনে গুনাম্বীত- সর্বদা হাস্যোজ্জল রংবেরং এর চশমা পরিহিত , ৮২ বছর বয়সেও বাবরি চুলের বাহারি ফ্যাশন, রঙিন-ক্ষেত্র বিশেষ বহু রঙের হাফ সার্ট ব্যবহাররে অভ্যস্ত, বেলব্যাট/জোকার টাইপ প্যান্ট পরিধানে তরুন যুবক যুবতিদের উৎসাহ দাতা, অনুকরন যোগ্য মহামানব--যার চোখে মুখে সর্বদাই প্রস্ফুটিত লেডিকিলারের অবয়ব, মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন বাংলাদেশের পর্ণো-পত্রিকা প্রকাশের পুরোধা---জনাব রেহমান শফিক সাহেবের মুক্তির আন্দোলনের কথাই বলছি।মাত্র ১২ ঘন্টা ব্যবধানে ভুলে গেলেন আগুনের নেত্রী খালেদা তাঁর প্রীয় মানুষটি পুলিশ রিমান্ডে ডিম থেরাপিতে কি অবর্ননীয় দু:খ্য কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী সরকারের হাতেই আছেন বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।
ইলিয়াস আলী নিখোঁজের এত বছর পরেও তিনি সরকারের কাছে আছে দাবী করতে ভুলেননি, কিন্তু তাঁর দুই দিন আগে রেহমান শফিক আটক হয়েছেন তা বেমালুম ভুলে গেছেন।যদিও তীব্র আন্দোলন করে কারামুক্তি ঘটাবেন বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে তাঁর আগের দিনই কড়া বিবৃতি দিয়েছিলেন।
বিএনপির এ নেতা অারও বলেন, 'ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর সারাদেশে আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু সেসময় আমাকে গ্রেফতার করা হলে কিছুদিন পর আন্দোলন থেমে যায়। আমাকে গ্রেফতার করার কিছুদিন পর কেন আন্দোলন থেমে যায়? আরও কিছুদিন আন্দোলন অব্যাহত থাকলে আমরা ইলিয়াস আলীকে ফিরে পেতে পারতাম।' একই সুরে কথা বলেন বিএনপির আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও।
লক্ষনীয় বিষয়টি হচ্ছে, সদ্য আটক রেহমান শফিকের মুক্তির কথা একবারও উচ্চারন না করে ইলিয়াস আলীকে আবার সামনে নিয়ে এলেন কেন? ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনির অবয়বে এত সতেজতা কেন?ইলিয়াস আলী যদি ঘুমই হয়ে থাকেন কেন্দ্রীয় বিএনপিতে তাঁকে পুনরায় অন্তভুক্তি কেন?তবে কি তাঁকেও সরকার ভারতের কোন জঙ্গলে সহসাই ফেলে দিয়ে আসার কোন সম্ভাবনার ইঙ্গিত পেয়েছেন বিএনপির নেতারা।নাকি শফিক রেহমান সাহেবের কু-কীর্তি জনগনের দৃষ্টির আড়ালে নিতে ইলিয়াসকে সামনে আনা হল?
এদিকে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ চক্রান্তের মামলায় শফিক রেহমানকে শনিবার গ্রেপ্তারের সময় ঠাকুরগাঁওয়ে ছিলেন ফখরুল। সেখানেই তিনি নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং কঠোর আন্দোলনের কর্মসুচি দিবেন ঢাকায় ফিরে বলেছিলেন।
ঢাকায় ফিরে রোববার দলের নেতাদের নিয়ে ইস্কাটন গার্ডেন রোডে শফিক রেহমানের বাড়িতে যান বিএনপির মহাসচিব।
সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সবসময় যেটা চাইব, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ। জনাব শফিক রেহমান এদেশের একজন প্রতিথযশা, প্রবীণতম সাংবাদিক। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন বড় মাপের সাংবাদিক। তিনি বিবিসিতে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন। তিনি একজন লেখক, তার লেখা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।”
জনাব ফখরুল ঠাঁকুর গাঁও থেকে আন্দোলনের হুমকি দিলেও ঢাকায় এসে ইনসাফ চাইলেন কেন? বড় সাংবাদিক, বড় রাজনীতিক হলে কি রাষ্ট্র ইনসাফ করতে হবে-সাধারন নাগরিক হলে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে?
সর্বশেষ খবর হচ্ছে বিএনপির তরুন প্রজর্ম্মের ১২থেকে ১৬ জন নেতা জয় হত্যায় জড়িত হয়ে যাচ্ছে।বিএনপির অন্দর মহলে পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।ভারতের বর্ডার নিয়ে খোঁজ খবর শুরু হয়েছে।সরকারের এই মহুর্তে বর্ডার সীল করা উচিৎ।
তাঁরা পরিকল্পিত ভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে যে, সাগর-রুনি এবং তনু হত্যার বিচারে সরকার অনিহা দেখাচ্ছে কিন্তু জয়কে পরিকপ্লনা করেছে হত্যার এতেই এত তোড়জোড়ের প্রয়োজন কি?আহম্মকের দল নিশ্চিত ষড়যন্ত্রের সাথে অন্য হত্যার তুলনা করে জয়ের হত্যা পরিকল্পনাকে খাটো করতে চায়।এই সামান্য রাজনৈতিক বিষয়টি বুঝতে তাঁদের সমস্যা হচ্ছে জয়ের মৃত্যুর সাথে আগামীর বাংলাদেশের স্বার্থ্য জড়িত।জাতির জনকের কন্যাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে দুইবারের মানব ঢালে কমপক্ষে ৭০/৭৫ জন নেতাকর্মী বুকের তাজারক্ত ঢেলে দিয়েছিল।নীজের জীবন বিপন্ন করে জাতির জনকের কন্যার প্রান রক্ষা করার কারনে আজকে জাতি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পাচ্ছে।দেশে বিদেশে মাথা উঁচু করে বলতে পারছে আমি বাংলাদেশের গর্বিত নাগরীক বাঙ্গালী।
জাতির জনকের গর্বিত পুত্র সজিবের জীবন রক্ষা করে জাতি পাবে আত্ম নির্ভরশীল তথ্য ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ। বাঙ্গালী নীজেদের স্বার্থের কারনেই জয়কে হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত ব্যাক্তিদের ছাড় দিতে রাজী নয়।১৬কোটি মানুষের মধ্যে কাউকে হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে খুনীরা রক্তের নেশা নিবারন না করে জয়কে হত্যা করার পরিকল্পনা যে কারনেই করেছে--তাঁর বিপরীত কর্মের জন্য বাঙ্গালী জয়কে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে যাবে জাতির জনকের প্রতিটি সদস্যের জীবন রক্ষা করতে।
জাতির জনকের পরিবার এই দেশকে ভালবেসে,বাঙ্গালী জাতিকে ভাল বেসে স্বপরিবারে আত্মাহুতি দিয়ে প্রমান রেখে গেছেন- তাঁদের চেয়ে বাঙ্গালী জাতিকে আর কোন নেতা ভালবাসতেন না। -আগামী যুগ-যুগান্তরেও এমন ভালবাসার নেতা জাতির ভাগ্যে উদয় হবেনা, এত ভালবাসা উজাড় করে দিয়ে ভালবাসবেন না।
তাই বাঙ্গালী জাতি-জাতির জনকের পরিবারের সাথে কাউকে তুলনা করে বক্তব্য দেয়াকে কোন অবস্থায় মেনে নিতে রাজি নয়,মেনে নিবেনা। যারাই তুলনা করার চেষ্টা করবে তাঁদেরকেই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করবে বাঙ্গালী জাতি।
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
বঙ্গরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন