এবারের বাংলা বর্ষবরন অন্য যেকোন বছরের বর্ষবরনের তুলনায় আলাদা গৌরবের বৈশিষ্টতায় পরিপূর্ণতা পেয়েছে। _______________________________________ এবারের নববর্ষ কয়েকটি কারনে বিশিষ্টতা পেয়েছে। অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশে পহেলা বৈশাখ উৎযাপন নিয়ে কোন বিতর্ক ছিলনা।বিতর্কের সৃষ্টি হতে থাকে দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক সাগরের দুই পাড়ের দুই ভূখন্ডের- ভিন্নভাষা, ভিন্ন জাতি, ভিন্ন সংস্কৃতি নিয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রুটির উদ্ভবের পর থেকেই।বাঙ্গালী কবি, বাংলাভাষার কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরতো পাকিস্তানের ২৩ বছরই নিষিদ্ধ ছিলেন। দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দ্বিখন্ডিত করে রাখা হয়েছিল পুরুটা সময়। প্রথম আঘাত আসে আমাদের মাতৃভাষার উপর।সেই শুরু সাম্প্রদায়িকতার উত্থান।চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প।এতদিন যারা একই ভুখন্ডে আনন্দ বেদনা, উৎসব পার্বনে একে অপরের পরিপুরক ছিল, ভাগাভাগি করে পালন করছিল, তাঁরাই হয়ে গেছে একে অপরের শত্রু। ভারত থেকে ভিটেমাটি ছেড়ে স্রোতের মত আসতে থাকে বাঙ্গালী মসুলমান,পাকিস্তান থেকে স্রোতের মত উঠতে থাকে বাঙ্গালী হিন্দুরা ভারতে। রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে লাগল ভারতবর্ষ জুড়ে। একভাই আরেক ভাইয়ের রক্তে হুলিখেলা শুরু হল। দ্বি-জাতিতত্ব প্রকারান্তরে রুপ নিল বাঙালী হিন্দু-মসুলমানের চরম বিদ্বেসের শ্বেতপত্রে। ভাষা আন্দোলনের অসম্প্রদায়িক চেতনার সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রোপিত হল বাঙ্গালীর মনের অজান্তে স্বাধীকারের বীজ। ক্রমেই সংস্কৃতি সেবিদের পরিচর্য্যায় সেই বীজ থেকে অংকুর উদগম হয়ে রুপান্তরীত হল মুক্তিযুদ্ধের বটবৃক্ষে।অবশেষে চুড়ান্ত আসম এক রক্তক্ষয়ী লড়াই- অশুভশক্তি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শুভশক্তি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লালিত নব-উত্থিত বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী শক্তির । সম্পুর্ণ পয্যুদস্ত করে বিজয় চিনিয়ে আনে বাঙ্গালী ১৯৭১ ইং সালের ১৬ই ডিসেম্বর।সেই বিজয় বেশীদিন স্থায়ী হয়নি বাঙ্গালীর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ ইং সালের কালোরাতে স্ব-পরিবারে হত্যা করে লুকিয়ে থাকা সাম্প্রদায়িক শক্তির দেশী বিদেশী অনুচরের দল। শুরু হয় প্রগতির চাকাকে পিছনের দিকে ঘুরানো।জাতির জনকের জৈষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশ অবস্থানের কারনে সেইরাতে ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পান। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৯৬ ইং সালে জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে পুনরায় বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসে অসাম্প্রয়িক শক্তির প্রতিভু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।শুরু হয় আবার নতুন উদ্যমে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী চেতনার শানীত রুপের বহি:প্রকাশ। এই বছর এসে নতুন এক মাত্রা সংযোজিত হয় পহেলা বৈশাখ উৎযাপনে।ঘরে ঘরে দেখা দেয় আনন্দের বন্যা। উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে দেশজুড়ে।পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়- এবার পহেলা বৈশাখে ১৪শত কোটি টাকা কেনাকাটা হয়েছে, যাহা ঈদ উৎসবে দেখা যেত। নববর্ষকে সামনে রেখে বাংলাদেশ রয়েছে উৎসব পালনের প্রস্তুতির তুঙ্গে। ঘরে-বাইরে চলছে নানা উদ্যোগ, বহুমুখী কর্মকাণ্ড। নতুন বছরের শুরুটা কিভাবে করা হবে এই চিন্তায় সবাই মতোয়ারা। ঘরবাড়ি পয়পরিষ্কার করা, কি খাওয়া হবে, নতুন কোন পোশাক কেনা হবে, কোথায় যাওয়া হবে প্রভৃতি নিয়ে ইতোমধ্যে ঘরে ঘরে পরিকল্পনা কার্যকর হয়ে যাচ্ছে, চলছে নানা আয়োজন। দোকানিরা বিশ্রামের অবকাশ পাচ্ছে না। পাড়ায়-পাড়ায়, ভবনে ভবনে, সংগঠন-প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে নানামুখী আয়োজন। নতুনকে বরণ করতে গ্রাম-এলাকা-শহরগুলোতে কর্মচাঞ্চল্যের যেন জোয়ার বইছে। জাতীয়ভাবেও চলছে মন-প্রাণ উজাড় করে দিয়ে নানা উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন পাট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বৈশাখী ভাতা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, "বোনাস পেয়ে সারা দেশের মানুষ আনন্দ-উৎসব করবে, "আর আমার পাট শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওয়া না পেয়ে থালা-বাসন নিয়ে বসে থাকবে, এটা মানতে পারছি না।"সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়কোচিত বক্তব্যই দিলেন সংসদে-যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গরত্ম শেখ হাসিনা । এবারের নববর্ষ পালনের মেজাজটাই পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। আলাদা মাত্রা পাওয়ার কারণ হচ্ছে রাষ্ট্র-সরকার সর্বোতভাবে নববর্ষ পালনে চাকরিজীবীদের অর্থের যে জোগান দিচ্ছে, তা ছড়িয়ে পড়ে সবাইকে যেন নতুনকে বরণ করতে নতুনভাবে আন্দোলিত করে তুলছে। প্রসঙ্গত এটা তো ঠিক যে, অতীত থেকেই আমাদের সমাজে কম-বেশি কোনো না কোনোভাবে নববর্ষ পালনের রেওয়াজ ছিল। দোকান-ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হালখাতা, স্থানে স্থানে মেলা প্রভৃতি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশ গ্রহণে মুখরিত হয়ে থাকত। অ-যৌক্তিক তারপরেও কিছু নিয়ম কানুন অবহমানকাল থেকে পালিত হয়ে আসছে-এই একটি দিন কাউকে বকাবকি করা যাবে না, কিছু একটা ভালো খেতে হবে, ভালো জামাকাপড় পরিধান করতে হবে,দোকানে বাকী বকেয়ার জন্য যাওয়া যাবেনা,দোকানদারও দিবেনা- প্রভৃতি কম-বেশি সব সম্প্রদায়ের মধ্যেই ছিল। দিনটি নিঃসন্দেহে বাঙালির সব ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনের একটা উপলক্ষ হিসাবে অবস্থান নিয়ে ছিলই। সেটাকেই প্রধানমন্ত্রী এইবারেই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকেসরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোনাস উপহার দিয়ে আনন্দের জোয়ার এনে দিলেন।নি:সন্দেহে ইহা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমাদের জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের শিকড় বহুদূর বিস্তৃত, বহু গভীরে প্রোথিত। এই ইতিহাস-ঐতিহ্য ভালো-মন্দে, জয়-পরাজয়, বেদনা ও বীরত্বপূর্ণতায় গাঁথা। মন্দের পরাজয় ও ভালোর বিজয়ে গৌরবমণ্ডিত। বার বার জাতি কলঙ্কের কালিমা মোচন করেছে-বার বার গৌরবের তিলক পরেছে। এই জাতি কখনো পশ্চাদমুখী হয়েছে, কখনও বিপথগামী হয়েছে-- কিন্তু কোনো দিন দিকভ্রষ্ট হয়নি, পরাজয় মেনে বসে থাকেনি। ত্যাগের বিনিময়ে পরাজয়কে জয়ে রুপান্তরীত করে সামনে এগিয়ে গেছে।আজকের সার্বজনীন বৈশাখী উৎসব তাই প্রমান করে। আমাদের মনে রাখতে হবে--বাঙ্গালীর ইতিহাস-ঐতিহ্য,কৃষ্টি-সংস্কৃতি ইত্যাদি ধর্মীয় বিষয় নয়।অন্য সব জাতীর ন্যায় আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ধারন করা এবং পালন করায় দুষনীয় নয়।যেমন:- পোষাক পরিচ্ছেদে, খাওয়া-দাওয়া, চলা- ফেরা,কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে প্রত্যেক জাতি গোষ্টির নিজস্বতা রয়েছে--জাতি হিসেবে আমাদের নিজস্বতা আমাদের ধরে রাখাই বাঙ্গালীর ঐতিহ্যকে ধারন করা। তাই আসুন ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে/ মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে’ উচ্চারীত হোক প্রতিটি বাঙ্গালীর কন্ঠে। জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু জাতির জনকের কন্যা বঙ্গরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg