সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
জাতির জনকের আদর্শ, বর্তমান সরকার-----আওয়মীগের তৃনমুলে আদর্শচ্যুতি-----
_________________________
*"রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় হাইব্রিডের আধিক্যে যোগ্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সেতু ও সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে মান কমে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন তিনি।"
দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর সামন্তপ্রথা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়েছে।কিন্তু তাঁর অবশিষ্টাংশ এখনও সমাজ দেহের রন্ধে রন্ধে রয়ে গেছে।সামন্ত প্রথা উচ্ছেদের পর গনতন্ত্র আসি আসি বলে আজও পথিমধ্যেই আটকে আছে।আটকে আছে বললে ভুল হবে আটকিয়ে রেখেছে সামন্ততন্ত্রের বীজে লালিত অতিবিপ্লবী মানষিকতা সম্পন্ন রাজনীতিবীদেরা। দেশীয় আবহাওয়ায় গনতন্ত্রের সংজ্ঞা নির্ধারন না করে তাঁরা আমদানী করেছেন পশ্চিমের আবহাওয়ায় পুষ্ট গনতন্ত্রকে।যার ফলে পশ্চিমা গনতন্ত্র বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের আবহাওয়ার হৃষ্টতা না পেয়ে দৈন্যতায় রুপান্তরীত হয়ে পেশীশক্তিকে উৎসাহীত করছে। দেশীয় উর্বর গনতন্ত্রের চর্চা না করে পাশ্চাত্য গনতন্ত্র চর্চা করতে গিয়ে সামন্তবাদের গরিমায় অন্ধ মানুষদের রোষানলে পড়ে গনতন্ত্র সঠিক ভাবে বিকশিত না হয়ে প্রত্যহ মৃত্যুর মিছিলকে বড় করে তুলছে।
"একনেতা একদেশ" শ্লোগানের প্রবক্তা ছিল তথাকথিত হাইব্রিড আওয়ামী লীগারেরা।যে শ্লোগানের ভীতি জাতির জনককে বাঙ্গালী অকালে হারিয়েছিল। বাকশাল একদলীয় শাষন ছিল বটে একব্যাক্তির শাষন ছিলনা।একদলীয় শাষনটিও ছিল জাতীয় দলের আদলে। হাইব্রিড আওয়ামী লীগারেরাই সেদিন "একনেতা একদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ " শ্লোগানে জাতীয় দলের শাষন ব্যবস্থা কে একদলীয় শাষনের বৃত্তে বেঁধে জনগনের মাঝে বঙ্গবন্ধুর উদার রাজনৈতিক ধ্যানধারনাকে সংকির্নতার গন্ডিতে আবদ্ধ করেছিল।
এই প্রসঙ্গে আমি দেশের রাজনীতি বিশ্লেষকদের নিকট জানতে চাই," সমবায় সমিতির নির্বাচন কি একনেতার আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য অনুষ্ঠিত হয় নাকি সমিতিভুক্ত যে কোন সদস্যই নেতা পদের জন্য নির্বচনে অংশ গ্রহন করতে পারে?"আরো সহজে যদি বলি,"খোলাফায়ে রাশেদীনের"সময় মসজিদে বসে "মজলিশে সুরা" কমিটির মাধ্যমে যে পদ্ধতি অনুসরন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা হয়েছে,"উহাতে কি গনতন্ত্রের অভাব ছিল?" নাকি একজনই বার বার নির্বাচিত হয়েছেন"? জাতির জনকের নির্বাচন পদ্ধতি এই দুইয়ের বাইরে অন্য কোন পন্থায় ছিল--?যদি না থাকে তাহলে "একনেতা একদেশ,বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ"শ্লোগান কেন দেয়া হয়েছিল?জাতির জনককে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করতে?
আজকেও দেখি আওয়ামী লীগের মধ্যে তৎদ্রুপ শ্রেনীর জম্ম হয়েছে। রাষ্ট্র ধর্ম "ইসলাম"এর বিরুদ্ধে আনীত রীট আদালত বাদিদের এই রুপ রিট করার কোন অধিকার নাই মর্মে খারিজ করেছেন।অনেক আওয়ামী লীগ শুকর গুজার করে "আলহামদুলিল্লাহ" উচ্ছারন করে নীজের দিলকে শীতল করেছেন- সাথে বন্ধুদেরকেও শীতলতার পরশ দিতে ভুল করেননি।
এই পরশ তিনি কি মুজিব আদর্শের সৈনীক হয়ে বুঝে শুনে দিলেন নাকি আওয়ামী লীগ করি ভাল লাগে তাই, দর্শন জানার প্রয়োজন কি- এই বোধ থেকে দিলেন?
আমি আপনাদেরকে আজ একটি বিতর্কিত কথা জেনে শুনেই বলতে চাই, পারলে কোন বন্ধু আমাকে সহজ ভাবে বলে বুঝিয়ে দিবেন,"পবিত্র কোরানে বহু জায়গায় আল্লাহপাক বলেছেন,"জ্বীন এবং এনসান"এর বিচার হবে কিয়ামতের ময়দানে"।কোরানের কোন জায়গায় বলেছেন জ্বীন এবং মসুলমান ধর্মের অনুসারীদের বিচার হবে?"এনসান বলতে মানব জাতি কে বুঝায় নাকি শুধু ইসলাম ধর্মালম্বিদের বুঝায়?
ইহজগতে বিচারের পর আদালত শাস্তি নিশ্চিত করেন কার কি শাস্তি আইনানুযায়ী প্রাপ্য।কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ মানব জাতি এবং জ্বিনের বিচার করবেন বলেছেন,"সেই বিচার অনুষ্ঠিত হবে দুনিয়ায় কৃত অপরাধের,নিশ্চয়ই ধর্মের বিচার হবেনা। ইসলাম যেহেতু আল্লাহ প্রেরীত মানুষকে সৎ পথে থাকার নির্দেশনামুলক ধর্ম সেহেতু ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা শাস্তি ভোগের পরে হলেও বেহেস্তে যাবেন, এই বাড়তি সুবিধা তাঁদের রয়েছে। অন্য কোন ধর্মের মানুষ এই সুবিধা পাবেনা।
আমি আমার প্রত্যেক লিখার একটি পয্যায়ে হলেও চ্যালেঞ্জ করে বলতে চেয়েছি,"জাতির জনকের সাড়ে তিনবছরের ধর্মনিরপেক্ষতার শাষনে ইসলামের প্রচার প্রসারে সে সমস্ত মৌলিক কাজ গুলী হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর পর আমাদের যে কয়জন শাষক- শাষন করেছেন, সবাই ইসলামের জন্য জীবনবাজি রাখা শাষক,। গত ৪০বছরে তুলনামুলক তাঁর সিকিভাগ কাজ সবাই মিলে কি করেছে? যদি না করে থাকে, আপনার মনে হয়-তাহলে ধর্মের শাষন কেন চাইতেছেন?
তাহলে এই ধর্মের শাষন আমাদের কি প্রয়োজন,"যে ধর্মের শাষন আমার "লালিত বিশ্বাস ইসলাম ধর্মের" কোন কাজ করেনা?তার চাইতে কি নিরপেক্ষতার নীতি অধিক শ্রেয় নয়?"
*"ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পুরো জাতির ‘অস্তিত্বের’ বিষয় মন্তব্য করে তাদের রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।"
“এটি শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের বিষয় না, এটা সমগ্র জাতির এবং আমাদের অস্তিত্বের বিষয়।
আসুন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব রক্ষায় রুখে দাঁড়াই। কারণ তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে আমি নিরাপদ থাকব- এটা হতে পারে না।”*
ষ্টার চিহৃত উপরের অংশটুকু বিশেষভাবে হৃদয়নগ্গম করুন বন্ধুরা,তারপর আওয়ামী লীগ করেন।এত বেশী ধর্মানুরাগী যদি হয়ে থাকেন তবে দেশরত্মের খোলাফায়ে রাশেদীনের শাষনের প্রতি আপনার সমর্থন পাওয়া যায়নি কেন।বর্তমানের আলেম সমাজ কি তাঁদের চেয়েও বড় কিছু?
বিশদভাবে কিছু বলতে চাইনা, "দেশ একটা বড় রকমের পরিবর্তনের দিকে দাবিত।আজকের জরিফেও এসেছে,"এই সরকার দেশকে সঠিক ভাবে এগিয়ে নিচ্ছে শতকরা তিয়াত্তরজন মানুষ মনে করে।তার পরেও আওয়ামী লীগ তাঁর লালিত আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে? '৯১-'৯৬-২০০১--২০০৮ইং সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি এত সংখ্যক মানুষের "মৌন সমর্থন" ছিল? তখন যদি আদর্শ বিচ্যুত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে না থাকে দল, এখন করার প্রয়োজন হয়েছে কিভাবে মনে করতে পারলেন প্রিয় মুজিব আদর্শের বন্ধুরা??
শীর্ষের ষ্টার চিহ্নিত প্যারা এবং মাঝে আশরাফুল ইসলাম সাহেবের মন্তব্য হৃদয় দিয়ে অনুভব করুন,"দলকে যদি ভালবাসেন কোড করে রাখুন,নীজের অন্তরের সাথে মিলিয়ে দেখুন বর্তমানে আওয়ামী লীগ কি সমস্যায় আছে। বিরুদীরা আওয়ামী লীগের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। ক্ষতি করতে পারবে ঘরের শত্রুরা। যারা না বুঝেই অতিরঞ্জিত করে-দলের বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করে।তাঁরা দলে জায়গা করে নিয়েছে শুধু আখের গোছানোর জন্য, আদর্শকে অনুভব করার, ধারন করার প্রয়োজন তাঁদের নেই।
______________________
জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন