সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
আস্তিক-নাস্তিক,অতিডান-অতিবাম অবস্থান ভিন্ন---উদ্দেশ্য অভিন্ন------ কাফনের কাপড়, আতর,গোলাপজল পাঠিয়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনে র্যাপিং পেপার দিয়ে মোড়ানো একটি বক্সের মধ্যে এসব পাঠানো হয়। ওই বক্সে হাতে লেখা একটি কাগজও ছিল। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘এবার তোমার পালা, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাক’। ওই বক্সের ওপর প্রেরকের জায়গায় লেখা রয়েছে, মেয়র, নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। আশ্চায্য হওয়ার কিছুই নেই।এর আগে অনুমান করা গিয়েছিল যখন সীম নিবন্ধনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি নীতি সরকার গ্রহন করে- তখন তীব্র প্রতিবাদ করা হয় একশ্রেনীর সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে।সরকার তাঁর নীতিতে যখন অটল রইল- তখন বিতর্ক উত্থাপন করা হল হাতের চাপ অন্য কোন কাজে ব্যবহার হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে যখন বলা হল তেমন কোন সম্ভাবনা নেই --তখনি আদালতে এই পদ্ধতি বাতিলের জন্য রীট পিটিশন করা হল। আদালতের রায়ে যখন বলা হল-পদ্ধতি ঠিক আছে- তখনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে হত্যা করার হুমকি দেয়া হল। উল্লেখীত ধারাবাহিকতায় যারাই জড়িত হয়েছেন তাঁদেরকেই বলা হয় অশুভ শক্তি। কেন মাননীয় মন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়ার প্রয়োজন হল--? এই হুমকির পেছনে বহুবিধ কারন বিদ্যমান।তম্মধ্যে অন্যতম কারন হতে পারে অশুভ শক্তির যোগাযোগে কিছুটা বিঘ্নতা।একাধিক মোবাইল সীম দখলে রেখে দেশব্যাপি অরাজগতা, নাশকতা, বোমাবাজি, জঙ্গী কর্মকান্ড পরিচালনা করে সীম ধ্বংশ করে গাঢাকা দেয়া, সীম ট্রেকিং ফাঁকি দেয়ার কৌশলে বিঘ্নতা সৃষ্টি হওয়া। প্রতিনিয়ত ব্লগিং সাইট পরিবর্তন করে অপপ্রচারে বিঘ্নতা।নাম, ঠিকানা গোপন রেখে বিভিন্ন সাইট খুলে আন্ডার গ্রাউন্ডে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলার কাজে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হতে পারে। বিজ্ঞান মানব সৃষ্ট একটা উন্নত, সভ্য, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার উপায়।প্রযুক্তি বিজ্ঞানেরই ধারাবাহিক আবিস্কার। 'সৃষ্টি কর্তা প্রেরীত কোন বানী নয়'। যেহেতু মানব সৃষ্ট সেহেতু এই আবিষ্কৃত প্রযুক্তির মধ্যে প্রত্যহ নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হবে। সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তিও আবিস্কৃত হতে থাকবে। নতুন আবিস্কৃত প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিয়ে- যে কয়দিন অপরাধ চালিয়ে যাওয়া যায়--সেই কয়দিনই তাঁদের লাভ। এই প্রক্রিয়াকে বিলম্ভিত করার লক্ষে উল্লেখীত কর্মকান্ড গুলী চালানো হয়েছে।উল্লেখীত কর্মের ব্যাক্তিবর্গ একই সুত্রে গাঁথা। অতীতের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ লক্ষ করলে দেখা যায়-- আপাত:দৃষ্টে যদিও দেখা যায় অতিডান-অতিবামের মধ্যে সাঁপে নেউলে সম্পর্ক বিদ্যমান -কায্যক্ষেত্রে তাঁদের কর্মকান্ড এক ও অভিন্ন। মুক্তিযুদ্ধকে অতিবামেরা "দুই কুকুরের লড়াই"বলে অভিহিত করেছিল -পক্ষান্তরে অতিডানেরা মুক্তিযুদ্ধাদের শুধু বিরুধীতাই করেনি, অস্ত্রহাতে মুক্তিযুদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছিল। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তিতে দেশব্যাপি নাশকতা, হত্যা, লুটপাট, ডাকাতি, শ্রেনীশত্রু খতমের নামে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী হত্যা, ঘুম ইত্যাদি সমভাবে ভাগ বাটোয়ারা করেই করেছিল।জাতির জনকের হত্যাকান্ডে উভয় শ্রেনী এক ও অভিন্ন ভাবেই অংশ নিয়েছিল।তাঁদের বিদেশী প্রভুও ইহুদী রাষ্ট্র মাকিন যুক্তরাষ্ট্র।পরবর্তিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিচ্যুত করতে দেশকে একজোটে সরকার গঠন, রাষ্ট্র শক্তি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠিত হতে একে অপরের পরিপুরক হয়ে অংশ নিয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলেও একই চিত্র লক্ষনীয়ভাবে সাধারন চোখেও অনুমান করতে অসুবিধা হয়না। একদিকে নাস্তিকদের ধর্ম,নবী করিম(স:), কোরান সম্পর্কে কটুক্তি--অন্যদিকে নাস্তিকের নামে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিবীদ, বুদ্ধিজীবি হত্যা। সাম্রাজ্যবাদ কতৃক ধর্মাশ্রয়ী, জঙ্গি, অতিডানমনা দলকে অর্থ, প্রশ্রয়, আশ্রয়দান, মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচারের বিরুধীতা---অন্যদিকে নাস্তিকদের অভিবাসন দেয়ার প্রকাশ্য ঘোষনা। এই যেন "বড় বটবৃক্ষের" দুই দিকের প্রকান্ড 'দুইডাল'-- গোড়া কিন্তু একই স্থানে মাটির গভীরে শক্তভাবে প্রোথিত। আরও একটি বিষয় লক্ষনীয়ভাবে দেখা যায়, হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আই,এসের নামে বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছে বাংলাদেশেরই মিরপুর,গাজিপুর, বাড্ডা, খিলখেত ইত্যাদি আস্তানা হতে।একদিকে তাঁদের রক্ষক সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত--লোকচক্ষুর অন্তরালে জামাত শিবিরের দুর্দশ্য ক্যাডার আই,এস নামে আত্মঘাতি বাহিনী। প্রকাশ্য শক্তি খালেদা জিয়া বিভিন্ন কৌশলে আন্দোলনের নামে বিশৃংখলা তৈরি করে বিচার কাজে বিঘ্নতার আপ্রান চেষ্টা, পারত পক্ষে মাঝে মধ্যে প্রকাশ্য বিবৃতিও দিচ্ছেন।এমনি এক বিবৃতির কথা মনে পড়ে -'মিরপুরে জঙ্গি আস্তানা আবিস্কারের পর-- ধরা পড়া জঙ্গিকে 'ভাল লোক ধরে ধরে 'সরকার জঙ্গি বানিয়ে' জেলে প্রেরন করার অভিযোগ এনে দেয়া বিবৃতিটি। তাঁদের এই জোটবদ্ধতা প্রকাশ্যরুপ ধারন করে যখন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় খমতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় অথবা সরকারে থেকে দেশের উন্নয়নে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় তখন।মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের প্রকাশ্য মিত্র মুসলিম লীগ,যুদ্ধ পরবর্তি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা "জাসদ" বর্তমানে বিএনপি।গোপনের শত্রুও ঠিক একই ধারাবাহিকতায় আগের তাঁরাই। আরো একটি বিষয় সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই।বিএনপি প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করে প্রকাশ্য পল্টন অফিসের সামনে।কোন পুলিশি পাহারা না থাকলেও অনুষ্ঠান পন্ড করার কোন হুমকি কখনই দেখা দেয়নি।পক্ষান্তরে প্রগতিশীল ধারার শিল্পি,সাহিত্যিকদের পহেলা বৈশাখের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে অতীত থেকে রমনার বটমূলে।রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জাল বিস্তার রেখেও কোন সময় নিরাপদ, নির্বিগ্নে, ভয়হীন অনুষ্ঠান পালন করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেও বোমামেরে অজস্ত্র মানুষ হত্যা করার রেকর্ড় রয়েছে।নারী নির্য্যাতনের উদাহরন রয়েছে। পক্ষান্তরে একই অনুষ্ঠান বিএনপির অনুষ্ঠান স্থলে কোন দিন বোমাবাজী হয়েছে তাঁর প্রমান নেই।বিএনপি সরকারে থাকলে দেশব্যাপি অসামাজিক কর্মকান্ড বেড়ে গেলেও তথাকথিত ধর্মাশ্রয়ী দল এবং তাঁদের মিত্রদের তেমন আস্ফালন চোখে পড়েনা।নাস্তিকেরাও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেনা।পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ সরকারে এলে নাস্তিকেরা প্রকাশ্য ধর্মনিয়ে চেলেঞ্জ চুড়ে দেয়। এমনি এক অথর্ব নাস্তিকের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে ধর্ম নিয়ে বিতর্কে অংশ নেয়ার প্রকাশ্য আহব্বান- আজই অন-লাইনে দেখা গেছে।বিএনপি নেত্রী ধর্মতো মানেনই না বরঞ্চ ধর্মবিদ্বেশী মহাসচিব দিলেও ধর্মাশ্রয়ী দল এবং তাঁদের মিত্রদের পক্ষ হতে কোন প্রতিবাদের লক্ষন দেখা যায়না।এতে কি প্রমানীত হয়না কে এই অশুভ শক্তির প্রশ্রয়দাতা,রক্ষক, পালনকর্তা? পরিশেষে বলতে চাই, ৭১-৭৫ যাহা করা সম্ভব হয়েছিল ২০১৫-১৬ তে তাহা করার চিন্তা একান্তই বোকার চিন্তাচেতনা। জাতির জনকের উদারমনের সুযোগে অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ গ্রহন করে --স্বপরিবারে হত্যা করা সম্ভব হয়েছিল। তাঁর কন্যাকেও সেই ভাবে চিন্তা করতে গেলে দলীয় অস্তিত্ব হারিয়ে জনরোষের কবলে পড়ে বাসা থেকে বের হওয়ার সুযোগও থাকবেনা। কিছুদিন আগে তাঁর উদাহরন বাংলাদেশের জনগন যথাযথ ভাবে দিয়ে সতর্ক করার পরেও খালেদা জিয়া-- সেই বৃত্ত পরিত্যাগ না করে এখনও সমভাবেই ষড়যন্ত্রের জাল পেতে যাচ্ছেন। ইহা সময়ে হীতে বিপরীত হবে তা অনুমান করার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। সুস্থ্য ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার একাধিক ঘোষনা দিয়েও খালেদা প্রতারনার আশ্রয় গ্রহন করে এখনও হত্যার রাজনীতিতে সম্পৃত্ত রয়েছেন -- তাঁর প্রমান তিনি তাঁর দলের সম্মেলনে সমাপনী বক্তব্যে "শেখ হাসিনা"বিহীন নির্বাচনের ঘোষনা থেকেই স্পষ্ট হওয়া যায়। শুধু তারানা হালিম নয়,জাতির জনক থেকে আরাম্ভ করে সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরীয়া পয্যন্ত হাজার হাজার নেতাকে হত্যা করেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি সর্বপরি প্রগতির চাকাকে থামানো যায়নি--তারানা হালিমকেও হত্যা করে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় থেকে বঙ্গরত্ম শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বিরত রাখা যাবেনা।আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রয়োজনে অতীতের মতই মানব ঢাল তৈয়ার করে বুকের তাজারক্ত ঢেলে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা এবং তারানা হালিম সহ প্রগতির ধারার নেতৃবৃন্দকে রক্ষা করবে ইনশাল্লাহ।কোন ষড়যন্ত্রকেই বাংলার মাটিতে আর কোন দিন স্থান দিতে রাজী নয় বাংলার জনগন। বাংলার আবহাওয়ায় বেড়ে উঠে, বাংলায় মা ডেকে, বাংলার মাছ ভাত হজম করে বাংলার সংস্কৃতি কৃষ্টির বিরুধীতা যারা করে তাঁদের আবাস বাংলার মাটিতে হবেনা।জয় হবেই বাংলার জনগনের,নিপাত যাবে বিদেশী অপসংস্কৃতির ধারক বাহকদের। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধুজয়তু জাতির জনকের কন্যাবঙ্গরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন