সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
অবশেষে মানবতা বিরুধী ট্রাইবুনালের ন্যায়নীতি, আদর্শের নিকট দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা মাথা নোয়াতে বাধ্য হল-------------
_______________________
বাংলাদেশের মানবতা বিরুধী ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্তের পর থেকেই দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারিরা নড়েচড়ে বসে।সরকার ও একাধিক ফ্রন্ট হাতে নিয়ে কাজ শুরু করে।প্রথম দিকে জনমনে বিচার অনুষ্ঠান করা নিয়ে সন্দেহ দেখা গেলেও ধীরে ধীরে তা কেটে যায়।বলা যায় সরকার তাঁর দৃডতায় মানুষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
ষড়যন্ত্র কারিরা স্বাভাবিক আন্দোলন সংগ্রামে বিচার প্রক্রিয়া বাঞ্চাল করতে না পেরে নাশকতা অরাজগতা, আইন শৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে সেনা বাহিনীকে ক্ষমতা দখল করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাও ভেস্তে যাওয়ার পর আপাত: রনে ভঙ্গ দিয়ে নিয়মাতান্ত্রিক কর্মসুচি দিয়ে রাজনীতি করবেন এইরুপ ঘোষনা দিয়ে বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাধারন মানুষ-যাদের সন্দেহ ছিল বিএনপি যুদ্ধপরাধিদের বাঁচানোর জন্য নাশকতা করেনি তারাও শত ভাগ বিশ্বাসে নিতে পেরেছেন খালেদা জিয়ার কর্মসুচি ছিল নিছক সহিংসতা সৃষ্টি করে অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি।দলটির একান্ত ইচ্ছা সত্বেই এই পথে পা বাড়িয়ে শত শত মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে দেশের সম্পদ বিনষ্ট করেছে।
তাঁদের বিদেশী লবিং অত্যান্ত শৃংখলা বদ্ধ এবং শক্তিশালী, সুদুর প্রসারি ছিল।প্রথমাবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তজাতিক সংস্থার ভাড়াটে কিছু কর্মকর্তা এসে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।সরকারের অনড় অবস্থার কারনে শেষাবদি তাও সফল হয়নি।প্রসিকিউশনের দুর্বলতা নিয়ে নানা সময়ে নানা কথাবার্তা উঠছে।অনেকে অনেকভাবে ব্যাখ্যা করে বলতে চেয়েছে।
প্রসিকিউশনের সীমাবদ্ধতা যে একেবারে নেই তা নয়। প্রসিকিউসনের জন্য ভালো কোনো রিসার্চ সেন্টার নেই, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি নেই, দরকারি অনেক বইও নেই। তা সত্ত্বেও প্রসিকিউসন বসে থাকেনি এগিয়ে গেছে। এই ক্ষেত্রে প্রসিকিউসন বিভিন্ন আন্তজাতিক আদালতের মামলা পরিচালনার ধরন, রায়ের দৃষ্টান্ত, সাক্ষিদের বিশ্বাসযোগ্যতা মাপার ধরন ইত্যাদি অনুসরন করে অনেকটা ধারনা লাভ করেছে।
ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল যখন কাজ শুরু করে, তাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল।বাংলাদেশের এত সমস্যা, নানা প্রতিকূলতা এবং রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে পেরেছে, এটা দেশবাসির বিবেচনায় গোটা পৃথিবীর জন্য একটা বিরাট ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রথমদিকে যতটা সমালোচনা হয়েছে, এখন কিন্তু তা নেই। সেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে।
বিচার প্রক্রিয়া চলাকালিন বিভিন্ন দেশের সিনেট সদস্য, নীতিনির্ধারক, বিশেষ দুত বাংলাদেশ সফর করেছেন।তাঁরা তাঁদের অভিমত খোলাখোলিভাবে সংবাদ মাধ্যমকে দিয়েছেন।সব মহলের সার্বিক অভিমত পয্যালোচনায় দেখা যায় বিচার অত্যান্ত সুষ্ঠ, আইন নীতি রীতি অনুসরন করেই হচ্ছে। "যুদ্ধাপরাধ-বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত স্টিফেন যে য্যাবও ঢাকায় এসে বলেছেন, "আমাদের বিচার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। " বিচারকরা অনেক ভালো কাজ করছেন।"সবচেয়ে বড় কথা, সত্য আমাদের পক্ষে।
বিদেশীরা যে বিষয় গুলীর প্রতি বেশী আগ্রহশীল এবং আস্থাম্বিত হয়েছেন তাঁর মধ্যে অন্যতম বিষয় হচ্ছে,"ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল থেকে শুরু করে হেগের জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদির চেয়ে বাংলাদেশের গঠিত ট্রাইব্যুনালের আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। ওই সব আদালতের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের কাঠামোগত পার্থক্য হল, বাংলাদেশ নীজের আইনে অর্থাৎ ডমেস্টিক, দেশীয় আইনে বিচার হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া অন্য যে কোনো যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিচারের চেয়ে অনেক মানসম্পন্ন। প্রথমত, বিচার শুরু হয়েছে অপরাধ সংঘটনের চল্লিশ বছর পর। সুতরাং এ সংক্রান্ত অনেক তথ্য-উপাত্ত হারিয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া অনেক দুষ্কর। সে সব কারণে এই বিচার অসম্ভব সম্ভব করে তোলার মতো ব্যাপার।
নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও বাংলাদেশের মানবতা বিরুধী বিচার ট্রাইবুনাল বিচার কায্য চালিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্ন দেশের অনেক আদালতই কিন্তু সেভাবে বিচারকাজ এগিয়ে নিতে পারছে না। কম্বোডিয়া, সিয়েরালিয়ন ইত্যাদি দেশের বিচার শুরু হতেই বছরের পর বছর সময় লেগেছে। যেখানে কম্বোডিয়ার প্রথম মামলার কাজ শুরু করতে ১০ বছর লেগেছে, বাংলাদেশ ছয় বছরে ২০টি মামলার রায় দিয়েছে। সে দিক থেকেও বাংলাদেশের অর্জন অনেক বড়।
অবশ্য বিশ্বের অন্য কোন দেশের বিচারিক কায্যক্রম নিয়ে ষড়যন্ত্র নেই,অপরাধ সংঘনের বিষয় সবাই একমত এবং বিচারিক বিষয় নিয়েও একমত।বাংলাদেশের এই প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা আছে।এক শ্রেনী চায়না মুক্তিযুদ্ধের সংঘটিত মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচার হোক। বিভিন্ন উপায়ে মহলটি শুরু থেকেই বাধা দিয়ে আসছিল।যুদ্ধপরাধীদের বাঁচাতে মহলটি আন্তজাতিক ভাবেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে প্রথম থেকেই।'৭৫এর পট পরিবর্তনের পর ট্রাইবুনাল ভেঙ্গে দিয়ে মানবতা বিরুদীদের জেল মুক্ত করে দিয়েছিল মহলটি।
বিশ্বের কোথাও যুদ্ধাপরাধের বিচারে জামিন দেওয়া হয় না কিন্তু বাংলাদেশে বয়সের বিবেচনায় জামিন দিচ্ছে। ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে কিন্তু আপিলের সুযোগ ছিল না। আমাদের এখানে আছে। আছে শুধু নয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ আছে; এমনকি আপিল বিভাগের রায় রিভিউয়েরও সুযোগ রাখা হয়েছে।গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড তুল্য অপরাধ ছিল। আদালত তার বয়স এবং স্বাস্থ্য বিবেচনায় যাবজ্জীবন দিয়েছেন।এক্ষেত্রে মানবিক দিকটিও বাংলাদেশের আদালতে গ্রহন যোগ্যতা পাচ্ছে,যাহা কোন দেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারে বিচার্য্য বিষয়ের মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তা আছে বলেও মনে করেনা।
যেসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী পলাতক রয়েছে, দেশের বাইরে রয়েছে, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে বলছে কিন্তু কায্যকর হচ্ছে বলে মনে হয়না। কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করলে এর একটা সুরাহা সহজে হতে পারে। যে সমস্ত দেশ মৃত্যুদন্ডের বিরুধী সেই সমস্ত দেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে। কয়েকটির রায় কার্যকর হয়েছে। অনেকগুলোর বিচারকাজ চলছে। এতে অনেকের জীবন বিপন্ন হয়েছে সত্য বিচার কাজ বন্ধ হয়নি।
সরকার এই বিচারকাজ চালিয়ে প্রমান করতে পেরেছেন-মুক্তিযোদ্ধারা মারা যেতে পারে কিন্তু তাঁদের যে চেতনায় যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন সেই চেতনার মৃত্যু হতে পারেনা।চল্লিশ বছর পরে হলেও সেই সত্যই প্রতিষ্ঠিত হল।
মৃত্যু মানে কি চেতনারও মৃত্যু? আদর্শের ও মৃত্যু? অবশ্যই নয়। সময়ের ব্যবধানে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, অন্যায়ের পক্ষে যত শক্তিধরের অবস্থানই থাকুকনা কেন--- রনে ভঙ্গ দিয়ে গর্তে লুকাতেই হয়।বর্তমানে আর মানবতা বিরুধী বিচার নিয়ে বিদেশীরাও মুখ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরেও মেরুকরন ঘটেছে। হম্বিতম্ভি ছেড়ে অনেকেই বিতর্কীত বক্তব্য দিয়ে পানি ঘোলা করতেও চেয়েছেন।
জনগনের বিচারের পক্ষে অনড়তায়- মুখে কুলুপ এটে স্বাভাবিক রাজনীতির অংশ, স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে খেই হারিয়ে, বিভ্রান্তকর অবস্থায় কোন রকম অস্তিত্বের জানান দিয়ে টিকে আছে। বর্তমানে ছয়ধাপের ইউপি নির্বাচনের দুই ধাপের ফলাফলে স্বতন্ত্রের চেয়ে চার গুন পিছনে অবস্থান নিয়ে -- শক্তিশালী বিরুদী দলের খেতাব থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশংকার জম্ম দিয়েছে।
ষড়যন্ত্রের রাজনীতির এই দশাই হয়। মুসলিম লীগের পতনের থেকে শিক্ষা না নিয়ে দলটি অস্তিত্ব সংকটের ভীতিতে গর্তেই লুকিয়ে গেছে।
____________________________
জয়বাঙ্গলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
বঙ্গরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন