জাতীয় চারনেতার আত্মত্যাগের প্রতিদান হতে পারে ৭২ এর সংবিধানের পুর্নাঙ্গ অনুসরন। ================================== '৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যার পর ৭৫ এর ৩রা নভেম্বর আর একটি নির্মম নিষ্ঠুর ইতিহাসের বর্বতম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল ঘাতকেরা।মায়ের কোলে শিশু নিরাপদ,পার্থিব জগতে সব শ্রেনীর মানুষের জন্য জেল খানা নিরাপদ।এই তপ্তবাক্য সে দিন মুখ থুবড়ে পড়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের নরপিশাচদের বুটের নিছে। ১৯৭৫ এর আগষ্ট থেকে নভেম্বর মাসের ঘটনা পুঞ্জিতে যাহা ঘটেছিল রাষ্ট্র ব্যাবস্থার সৃষ্টির আদিকাল থেকে যদি সব ইতিহাস তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়াই তাহলেও দেখা মিলবেনা কোন রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের স্বপরিবারে হত্যার ঘটনা। সভ্যতার আদিযুগেও হয়তো বা নয়।আবার কোন দেশের জেল খানায় হত্যাকান্ড ঘটেছে, সেই দেশেরই জাতীয় নেতা কস্মিনকালেও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। বিশ্বের যত রাষ্ট্রনায়ক হত্যাকান্ড ঘটেছে একক অথবা তাঁর অনুসারীদেরকে সহ হত্যা করা হয়েছে।পরিবারের শিশু সন্তান ও অবলা নারী হত্যা হয়েছে তেমন ইতিহাস রচিত হয়নি। হত্যাকান্ডটি কোন আঞ্চলিক জেল খানায় নয়,খোদ রাজধানীর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে,পাগলা ঘন্টি বাজিয়ে,সতীর্থদের কাছ থেকে সরিয়ে, সেনাবাহিনীর সাজোয়া যান ব্যাবহার করে ঘটানো হয়েছিল।জেল হত্যার শিকার জাতিয় নেতার এক কন্যার দু:খের সাগরের এক বিন্দু শিশিরসম আকুতির উদৃতি দিয়ে আজকে আমার লিখা শুরু করতে চাই।সিমিন হোসেন রিমি,মহান জাতীয় সংসদের সম্মানীত সাংসদ।তিনি আজকে যে কলামটি লিখেছেন তাঁর কিয়দংশ দিয়েই শুরু করতে চাই আমার লিখার প্রারম্বিকতা---।তিনি লিখেছেন--- "মৃত্যুর সহজ সংজ্ঞা হয়তো বা না-ফেরার অনন্ত অজানায় চলে যাওয়া। শারীরিক উপস্থিতির বিচ্ছেদ। সরাসরি কোনো দিন আর না দেখা হওয়া। অথবা যে আমার সরব উপস্থিতি ছিল, তা এক নিমেষে নীরব হয়ে যাওয়া, চিরতরে। ৪০ বছর আগে সাদা কাফনে জড়ানো মুক্তিযুদ্ধের অনন্য বীর, দেশপ্রেমী বাবার (তাজউদ্দীন আহমদ) রক্তাক্ত নীরব নিথর মৃতদেহ। একপাশে দাঁড়ানো আমি। মানুষের বলা কত রকম শব্দ ভেসে আসে কানে। শুনতে পাই, জেলহত্যার নির্মমতার শিকার বাবার তিনজন মৃত্যুসঙ্গীর একজনের মৃতদেহ রাখা হয়েছে আমাদের বাড়ির পাশেই। বাবাকে রেখে অদ্ভুত মমতায় হেঁটে যাই সেই পথে। সাদা কাপড়ের অনেকটা জুড়ে রক্তে ভেজা। রক্তবর্ণ একটি চোখ খোলা। তাকিয়েই থাকি। প্রশ্নের পর প্রশ্ন আছড়ে পড়তে থাকে আমার ভেতরে। সেই খোলা স্পন্দনহীন রক্তাক্ত চোখকে মনে হয় বাংলাদেশের মানচিত্রে রক্ত দিয়ে লেখা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন! সেই প্রশ্নবোধক চিহ্নের বিপরীতে ন্যায়ের পতাকা সগর্বে ওড়ে না ৪০ বছরেও। জোড়াতালিতে অথবা বিরুদ্ধ স্রোতে ন্যায়ের পতাকা নুয়ে পড়ে বারবার। যে মানুষ নিজেকে প্রকাশ করবে বলে হাজার বছর ধরে পাহাড়, অরণ্য, সাগর, মহাসাগর পাড়ি দিয়েছে। কঠিন রুক্ষ মাটিকে করেছে উর্বরা, ছুঁয়েছে আকাশ, ভেদ করেছে অজানা রহস্য__________!!!!। মীর জাফর নবাবী পাওয়ার আশায় বৃটিশ বেনিয়াদের চক্রান্তে পলাশির আম্রকাননে প্রধান সিপাহশালার হয়ে ভয়াবহ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাবের অভিনয়ের মাধ্যমে নবাব সিরাজদৌল্লার চরম পরাজয় ঢেকে আনেন।পালায়নপর নবাবকে পথিমধ্যে হত্যা করে ভারতীয় ইতিহাসে রচনা করেছিলেন নিমোঘ কাল অধ্যায়ের। বাংলার নবাবকে হত্যার মাধ্যমে গোটা ভারতবর্ষকে তিনি তুলে দিয়েছিলেন ইংরেজদের হাতে।মাত্র ছয় বছর তল্পিবাহক ফরমায়েসি নবাবি চালাতে পেরেছিলেন।শেষবদি অত্যান্ত অপমান অপদস্ত হয়ে সিংহাসন ত্যাগের অল্প কিছুদিনের মধ্যে মৃত্যু বরন করেন কথিত আছে ন্যাক্কারজনক ভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। মরেও বেঁচে আছেন ভারতবাসির কাছে প্রচণ্ড ঘৃণা, ধিক্কার,আর পরম বন্ধুর গালির প্রথম শব্দের উৎস হয়ে। থাকবেন পৃথিবীর চন্দ্র সুর্য্য যতদিন উদয় আর অস্ত যায় ততদিন পয্যন্ত।অভিশপ্ত হতে থাকবেন অনাগত কাল ধরে। মীরজাফরের চায়ার কায়া দেখা যায় স্পষ্ট খোন্দকার মোশতাকের চরিত্রের মধ্যেও।জাতির জনকের অপার ভালবাসা,বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে স্ব-পরিবারে হত্যায় প্রধান ভুমিকা পালন করেন মোস্তাক।শুধু তাই নয় স্বঘোশিত রাষ্টপতি হয়ে ক্ষমতাকে নির্ভেজাল,কন্টকমুক্ত করার মানষে সরাসরি টেলিফোন আদেশে মোস্তাক হত্যা করানন বাঙালি জাতির চার মহান নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং মুহাম্মদ মনসুর আলীকে। তারই নির্দেশে কতিপয় সেনা কর্মকর্তা ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে তাঁরই দীর্ঘদিনের সহচর পরম বন্ধু জাতিয় চার নেতাকে হত্যার জন্য সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে ঘাতকদের জেল খানায় প্রেরন করে-- চালায় ইতিহাসের নারকীয় বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ।মোস্তক জানতেন চারনেতার দৃড চারিত্রিক বৈশিষ্টের এবং জাতির জনকের প্রতি তাঁদের আনুগত্যের অনুকুল্লতা, অপিরিসিম ভালবাসার নিচ্ছিদ্র বন্ধনে আবদ্ধতা কত গভীরে প্রোথিত ছিল।চার নেতাকে হত্যার মুল কারন বশ্যতা স্বীকার না করা,ভবিষ্যতের ক্ষমতারকাঁটা হয়ে দাঁড়াবার সমুহ সম্ভাবনা,আওয়ামী লীগ সংগটিত হলে বীরের মায্যদায় জেলমুক্তি পেয়ে নেতৃত্ব গ্রহনের আশংকা ইত্যাদি নানাহ রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক হিসেবের খাতা মেলানোর জন্যই তড়িঘড়ি জাতিয় চারনেতাকে জেলখানায় হত্যার প্রয়োজনীয়তা তাঁর নিকট অবশ্যম্ভাবি হয়ে উঠে। তাছাড়া সকল বিভ্রান্তির বেড়াজাল ছিন্নকরে ততদিনে প্রতিরোধের আগুন মিটি মিটি জ্বলা শুরু হয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে।অকাতরে ছাত্রজনতা রক্ত ঢেলে খুনীচক্র প্রতিহতের ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে চতুর্দিক থেকে।এতেই প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন মোস্তাক। তিনি সামরিক বাহিনীর বন্দুকের নল পেছনে ঠেকিয়ে যাদের মন্ত্রিপরিষদে শপথ নিতে বাধ্য করেছিলেন, তাদের মধ্যেও ভীতি কেটে যাওয়া শুরু হয়ে গেছে।সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে মোস্তাকের নেতৃত্ব চেলেঞ্জ করার মত সাহস সঞ্চয় করে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন। প্রথমেই সংসদ সদস্য এড. সিরাজুল হক প্রকাশ্য চেলেঞ্জ করে মোস্তাককে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলতে অস্বিকার করে মোস্তাক ভাই বলে সম্ভোধন করে রাষ্ট্রপতি পদের শিরায় 'প্রশ্নবোধক চিহ্ন ’ বসিয়ে দিতে সক্ষমতা প্রদর্শন করে বসেন।সুচুতুর মোস্তাক অন্তদৃষ্টিতে বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি।রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে।সংসদের বিদ্যমান সদস্যরাও সকল ভীতি পায়েদলে সংঘটিত হতে থাকে।সরকার এবং সংসদের ভেতরের প্রভাব বাইরেও কিছু কিছু পড়তে থাকে। যদিও জাতীয় ৪ নেতাসহ অনেকেই তখন জেলখানায় বন্দি, পলাতক,সেনাবাহিনীর একাংশের অকথ্য নির্যাতনের শিকার।বাহিরের জগতের যেকোন নেতাকর্মীর জীবন বিপন্ন হওয়ার সময় তখনও বিদ্যমান। জীবন বিপন্নের তোয়াক্কা না করার মত সাহষি মুজিব প্রেমিরা মাঠে ঘাটে অবস্থান নিচ্ছিদ্র করতে ব্যস্ত ।কোন কোন এলাকায় প্রতিবাদের দুর্গ গড়ে উঠেছে,প্রয়োজন শুধু শক্ত নেতৃত্বের।রাজধানী ঢাকায় ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ মিছিল বের করার খবর পাওয়া যাচ্ছিল।জনগন ভীতিকর চোখে উৎসুক নয়নে আগ্রহ ভরে মিছিল গুলি প্রত্যক্ষ করছিল,হাতনেড়ে কেউবা চোখের ভাসায় সমর্থনও দিচ্ছিল। সামগ্রিক অবস্থা দ্রুতই খন্দকার মুশতাক সরকার এবং তার নেপথ্যের শক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে---এটি অনেকটা নিশ্চিত হয়েই খন্দকার মুশতাক আহমদ এবং ১৫ আগস্টের ঘাতকচক্র জেলখানায় বন্দি জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের আশঙ্কা একটাই তা হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সব কিছু চলে গেলে জাতীয় ৪ নেতা জাতীয় বীরের মর্যাদা নিয়ে জেল থেকে মুক্ত হবে, বঙ্গবন্ধুর শূন্যস্থান পূরণ করতে হাল ধরবেন। সেই ভয় থেকেই ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে, ৩ নভেম্বর প্রত্যুষে খুনিচক্র বঙ্গভবন থেকে খন্দকার মুশতাকের টেলিফোনে আদেশ পেয়ে রাষ্ট্রীয় সাজোয়াযান ব্যাবহার করে,পাগলা ঘন্টি বাজিয়ে,বিউগলে সুর তোলে জেলখানার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, চারনেতার সহ যোদ্ধাদের আলাদাকক্ষে সরিয়ে নির্মম,নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি জাতিয় চার নেতাকে। বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারেনি ২/৩রা নভেম্বর মধ্যরাতে ও প্রত্যুষ্যে কি ঘটেছিল রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে। ঘাতকচক্র খন্দকার মুশতাককে আর ক্ষমতায় ধরে রাখতে পারেনি। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্ষমতার লড়াইয়ে পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান পালটা অভ্যুত্থান ঘটতে থাকে।একপয্যায়, খন্দকার মুশতাক রাষ্ট্রপতি পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। নানা কলাকৌশলের আশ্রয় নিয়ে শেষাবদি ক্ষমতার শীর্ষে আসেন আসল নাটের গুরু সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট,পাকি দালাল মুক্তিযোদ্ধা জিয়া। জাসদ এবং বিপ্লবী নানা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর অনেকেই ৭৫ এর ঘটনা চক্রে যুক্ত হলেও শেষ পরিণতি এদের কারোই সুখকর হয়নি। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই হয় অভ্যুত্থানে মারা গেছেন নয়তো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জেলে গেছেন।মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে তত দিনে জাসদের বিপ্লবি চেতনার। কেননা ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট এর অপ লাইনের রাজনৈতিক শক্তি ছিল তখনকার জাসদ। সূচিত হত্যাকাণ্ড, ক্ষমতার পরিবর্তন সবই ছিল একটি বিশেষ নেপথ্যের শক্তির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে হত্যা করা, এর আদর্শকে ধ্বংস করা।বাংলাদেশ বিরোধি আমেরীকা সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহক পাকিস্তানের প্রতাত্মার দ্বারা দেশ শাষন।রাষ্ট্রদ্রোহি, মুক্তিযুদ্ধবিরুদি শক্তিকে ক্ষমতা, রাষ্ট্র, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস জেলে চার নেতা হত্যার মাত্র তিন দিনের মাথায় ৮২ দিনের খল রাষ্ট্রনায়ক মোশতাকের পতন ঘটে।ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে জায়গা হয় কারান্তরালে। কিন্তু তার অপকর্মের সুবিধাভোগী জিয়াউর রহমান অবৈধ ভাবে নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করে মোশতাকের ক্ষমতা দখলের বিচার না করে ১৯৭৮ সালে তাকে মুক্ত করে দেন। বিচারের পথ বন্ধে জারী করেন কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ।বিচারমুক্ত জেল মুক্ত করলেও জনগণের ঘৃণা আর ধিক্কার থেকে তাকে রক্ষা করতে পারেননি জিয়াউর রহমান। ফলে তাকে আমরণ স্বেচ্ছায়বন্দি জীবনযাপন করতে হয়েছে নিজ গৃহের কারান্তরালে। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির তল্পিবাহক মোশতাক চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তানে রূপান্তরিত করতে।তৎক্ষনাৎ যদিও তাঁর পরিনতি সেই পয্যন্ত তাঁকে যেতে দেয়নি,ধারবাহিকতা বিচ্যুত হয়নি ষড়যন্ত্রকারিদের।এখন ও সেই ধারাবাহিকতার বহিপ্রকাশ ঘটছে প্রতিনিয়ত।জাতির জনকের কন্যাকে হত্যা প্রচেষ্টা কয়েকবারই সংঘটিত হয়েছে।নেতৃত্ব শুন্য করতে প্রগতির চাকা পিছনে নিতে ধারাবাহিক ভাবে নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে।স্বাধীনচেতা, প্রগতিমনা, মুক্তমনা-- লেখক, সাংবাদিক সাহিত্যিকদের উপর প্রতিনিয়ত চলছে হামলা।অকাতরে বলি হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।ধর্মের নামে কখন ও গনতন্ত্রের নামে চলছে বোমা হামলা, পেট্রোল বোমার আঘাতে পুড়িয়ে জ্যান্ত মানুষকে কয়লায় রুপান্তরের অহর্নিশ প্রচেষ্টা। এমতর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অনুসরন করার দরকার ছিল ৭২ইং সালের বিশ্বের সেরা লিখিত সংবিধান।যে সংবিধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে রচিত হয়েছিল বাঙ্গালি জাতির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গিকারের নিমিত্তে।জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তব প্রতিফলনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন,জাতিয় চার নেতার আত্মদানের ঋনের ভার কমানোর উপায়। "জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা"

জাতির জনকের বিশ্বস্থ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাতিয় চার নেতার ঋন বাঙ্গালী এখনও শোধ করতে পারেনি।জাতির জনকের স্বপ্নের ফসল ১৯৭২ ইং সালে প্রনীত বিশ্বের অন্যতম সুলিখিত সংবিধান পুর্নাঙ্গ অনুসরন ও বাস্তবায়ন হতে পারে আংশিক ঋনের বোঝা কমানোর প্রকৃত চেষ্টা।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg