দুই যুদ্ধপরাধির রায় কায্যকরে আমেরিকার সন্তোষ,তল্পিবাহক পাকিস্তানের ক্রন্দন। ============================ অস্থির আবহাওয়ায় সামন্য স্বস্তির বাতাবরনের দেখা মিলেছে বলা অত্যুক্তি হবেনা।বর্তমান বিশ্বের মোড়ল বলে খ্যাত আমেরীকার ভুমিকার উপর বিশ্বের বহুদেশের স্থিতিশীলতা-অস্থিরতা নির্ভর করে, কেউ স্বিকার করুক বা না করুক এটাই বাস্তবতা।বর্তমান সরকারের নীতি আদর্শ নিয়ে যুক্ত রাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কাজ করছে, এবং ভাল ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে তা বুঝাই যাচ্ছে।বিচ্ছিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা বা তাঁদের সিনেটের কতিপয় সদস্যের বিবৃতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের জনগনের মধ্যে এবং সরকারে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।প্রত্যেক রায়ের পর আন্তজাতিক কতিপয় সরকারি বেসরকারি সংস্থা ব্যাক্তি মহল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছিল,প্রতিবাদের ধরন এবং তীব্রতায় ইতিমধ্যে কিছুটা স্তিমিতভাব বা কমে এসেছে তা গত দুই একদিনের বিশ্বের নামকরা কিছু পত্রিকার উপর চোখ রাখলে স্পষ্ট অনুধাবন করা যায়। অবশ্য ইউরুপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোন দেশ সরকারি ভাবে প্রতিবাদ জানায়নি,একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া।ইউরুপিয়ান ইউনিয়নের অন্তভূক্ত দেশগুলির মধ্যে অনেক আগেই মৃত্যুদন্ডাদেশ রহিত করে আইন পাশ করেছে।নীতিগত ভাবে তাঁরা মৃত্যুদন্ডের বিরুধিতা করতে পারে,তবে তাঁরা যুদ্ধপরাধির বিচারের বিপক্ষে নয়। বিভিন্ন পত্রিকায় গত কাল একটা ধারুন সুখবর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে স্বস্থিরভাব দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশের প্রায় পত্রিকায় খবরটি আজ ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে।খবরটি নিম্নরুপ-- যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলি আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট বলে বলে জানিয়েছেন সেদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা গিলবার্ট মর্টন।বুধবার ওয়াশিংটনে সাকা-মুজাহিদের ফাঁসির দন্ড কার্যকর সম্পর্কে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধাপরাধও মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত পরিস্কার। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এই বিচার কার্যক্রমকে সমর্থন করে। বাংলাদেশে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা হোক সমাজে ন্যায়, বিচার প্রতিষ্ঠা হোক এটা যুক্তরাষ্ট্র চায়। আইন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের সাজা হয়েছে এতে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট।তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিরসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দেশীয় ও বহুজাতিক সন্ত্রাসী দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সরকারের কঠিন অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশে বড় কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি। সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার কারণে বহুজাতিক সন্ত্রাসী দলগুলো বাংলাদেশের সীমানা ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে পারেনি। বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন সময়ে আইএসএর অনুসারীদের গ্রেপ্তার করেছে। জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি),হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজিবি) এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সরকারের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এ মুহূর্তে ধর্মীয় উগ্রবাদ, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছে সরকার। উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত মানোন্নয়নে বদ্ধপরিকর।গিলবার্ট মর্টন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাস মুক্ত জঙ্গীবাদ মুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠুক যুক্তরাষ্ট্র তা চায়। কোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না। বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এই পরিবেশ ব্যাহত হয় এমন কোন কাজ যুক্তরাষ্ট্র সরকার সমর্থন করবেনা। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ একটি মধ্যবিত্ত আয়ের দেশে পরিনত হচ্ছে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার উৎফুল্ল এবং আনন্দিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য সে দেশে অবস্থারত বাংলাদেশিরা গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখছেন এটা পরিস্কার বুঝা যায়।বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ মার্কিন সরকারের বিভিন্নপয্যায়ে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রেখে চলেছেন।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকেও তদ্রুপ সফরের ব্যাবস্থা করা গেলে ষড়যন্ত্রের জালে ছিদ্র হত এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।বিরুধিদল যদি লক্ষ লখ ডলার খরছ করে লবিষ্ট ফার্ম নিয়োগ করতে পারে সরকার কেন পক্ষে তাঁর নীতি কৌশল তুলে ধরার জন্য লবিষ্ট নিয়োগ করছেনা তাও বোধগম্য নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পাকিস্তান সরকার এবং সেই দেশের গণমাধ্যম ও একাধিক রাজনৈতিক দল যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, তাতে এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তান রাষ্ট্রটির প্রতিই তাঁদের অধিক আনুগত্য ছিল। আর সেটি লুকোছাপা না করে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে জিহাদি মনোভাব দেখিয়েছে, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী জানান, বাংলাদেশে দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচারে তিনি দারুণভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। নিসার আলী ১৯৭৪ সালের চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যা বলেছেন, তার অর্থ হলো সে সময় পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের মাফ করে দিয়ে এখন বিচার করছ কেন? এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও একই কথার প্রতিধ্বনি তুলে দুই দেশের সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের স্বার্থে এ ব্যাপারে আর অগ্রসর না হওয়ার আহ্বান জানালেন। নিজের কথায়ই পাকিস্তান ধরা খেয়েছে। ১৯৭৪ সালের ত্রিদেশীয় চুক্তিতে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে আটক ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও বিচার না করে মাফ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাই, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যাঁদের মাফ করে দিতে এবং ভুলে যেতে বলেছিলেন, সেই তালিকায় কি সম্প্রতি দণ্ড পাওয়া দুই যুদ্ধাপরাধীর নাম ছিল? তাঁরা কি পাকিস্তানের নাগরিক? আসলে পাকিস্তানের এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পেছনে যে বিষয়টি কাজ করেছে, তা হলো একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি সামনে এলে পাকিস্তানের কৃতকর্ম মানুষের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু পাকিস্তানের শাসক ও রাজনীতিকেরা সেটি হতে দিতে চান না। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিকেরা একাত্তরের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থেকেও নিজেদের মানসিকভাবে যুক্ত করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এত দিন একাত্তরের ঘটনাবলির জন্য তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পিপিপি ও তার নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর ওপর দায় চাপালেও এখন মনে হচ্ছে, তিনিও সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। যুদ্ধ অপরাধীর বিচার কতটুকু যুক্তিপূর্ন হচ্ছে তা পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান ভুমিকা থেকে স্পষ্ট অনুধাবন করা যায়।এর পরেও যদি আমাদের তথাকথিত টকশোবাজদের জ্ঞান ফিরে না আসে তবে বলতেই হয়,বিদেশিদের বীর্যের ক্রিয়া অবশ্যম্ভাবি তাঁদের দেহে এখনো প্রবাহমান। "বাংলাদেশের দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ব্যাপারে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতের নেতা সিরাজুল হক। রোববার বান্নুতে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নেতার একমাত্র অপরাধ ছিল, তাঁরা এই দেশ ও এর আদর্শ ও সেনাবাহিনীকে ভালোবাসতেন। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার একের পর এক পাকিস্তানপন্থী লোকদের নির্মূল করছে এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ফাঁসিতে ঝোলাচ্ছে। কিন্তু ইসলামাবাদের শাসকেরা নিশ্চুপ রয়েছেন।’" জামায়াতের এই নেতা পাশাপাশি নওয়াজ শরিফকে উদার নীতি ত্যাগ করতে বলেছেন। অন্যথায় বাংলাদেশ বা ভারতে চলে যেতে বলেছেন। পাকিস্তানে প্রতিদিনই সন্ত্রাসী ঘটনায় বহু মানুষ মারা যাচ্ছে, তার প্রতিবাদে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামি কালো দিবস পালন না করলেও বাংলাদেশের দুই নেতার বিচারের প্রতিবাদে কালো দিবস পালন করেছে। কম যায়নি ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফও। দলটি পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে এ দুজনের ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছে।খুব কম শুক্রবার যায় যেদিন কোননা কোন মসজিদে বোমাহামলায় মানুষের জীবনহানি হচ্ছেনা।সেই বিষয়টি নিয়ে একদিনের জন্য ও জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তান প্রতিবাদ করেছে তেমনটি পত্রিকার পাতায় পাওয়া যায়না।বাংলাদেশের সর্বচ্ছ আদালতের রায়ের প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত বা সরকার পাকিস্তান দেশ হিসেবে পশ্চাদপদ,জাতি হিসেবে অসভ্যের নিদর্শনই রেখেছেন বলে আমি মনে করি। পাকিস্তানের প্রগতিশিল লেখক সাংবাদিক,সাহিত্যিক এবং জনগন বেশীরভাগ বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আগে থেকে। সংগঠিত শক্তি বা দলীয় ব্যানার নেই বিধায় সরকারের উচ্চপয্যায়ে প্রভাব বিস্তার করা হয়তোবা সম্ভব হচ্ছেনা।পাকিস্তানের ক্ষমতারবলয়ে এবং ক্ষমতার বাহিরে প্রতিক্রিশীলদের প্রভাব প্রতিপত্তি দেশটির স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই পরিলক্ষিত হয়।প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই শক্তিসঞ্চয় করে সাধারনের মাঝে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।নামে বেনামে সেনা শাষনে অভ্যস্ত জাতির মানষিকতা এর চেয়ে ভাল হবেই বা কি করে।প্রগতিশীল চিন্তাধারার লেখক সাহিত্যিক যে একেবারেই কম জম্মেছে তাও কিন্তু নয়।সাহষ করে তাঁরা স্বৈরশাষনের যাতাকলে পিষ্ট হয়েও তাঁদের লেখনি থামিয়ে দেননি। যুগের পর যুগ তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন, লড়াই করে যাচ্ছেন প্রতিক্রিয়ায় আবদ্ধ রাষ্ট্র ও সরকারের নীতি এ আদর্শের বিরুদ্ধে।তেমনি সাম্প্রতিক বাংলাদেশের মানবতা বিরুধি অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সরকার রাজনৈতিক দল, জামায়াতের বিরুদ্ধে শক্ত এবং তীব্র প্রতিবাদের পত্রিকায় প্রকাশিত উদাহরন নিম্নে তুলে ধরছি। " পাকিস্তান সরকার ‘ভারসাম্যহীনভাবে অতি আবেগ’ দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক আদালতে ও সৌদি আরবে পক্ষপাতদুষ্ট বিচারের মাধ্যমে পাকিস্তানের নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও সে ব্যাপারে সরকার নীরব থাকে। তাদের এমন প্রতিক্রিয়া এই বার্তা দেয় যে দেশের মানুষের চেয়ে বাংলাদেশের বিরোধী দলের নেতাদের প্রতি পাকিস্তান সরকারের অধিক ভালোবাসা ও আবেগ রয়েছে। পাকিস্তানের এই মানবাধিকারকর্মী আরও বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পাকিস্তানে ও সৌদি আরবে যেসব পাকিস্তানি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের প্রতি আগে সরকারকে আবেগ দেখাতে হবে। সরকারের এমন আবেগ একটি ব্যাপার নিশ্চিত করেছে যে ওই দুজন (সাকা ও মুজাহিদ) রাজনৈতিক এজেন্ট ছিলেন এবং পাকিস্তানের জন্য কাজ করতেন। ওই দুজন বাংলাদেশি কি পাকিস্তানে বসবাসকারী নাগরিকদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে কেন এবং কিসের জন্য—সরকারের এটাও পরিষ্কার করা উচিত।" সভ্য দুনিয়ায় যেখানে মানবতা বিরুধী শাস্তি মৃত্যু দন্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠছে ঠিক তখন পাকিস্তানিরা স্থগিত থাকা মৃত্যুদন্ডাদেশের উপর থেকে নিষেদাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আইনটি আবার পুরোদমে বিচারিক ব্যাবস্থায় চালু করেছে। "গত বছর ডিসেম্বরে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর গত ১১ মাসে ২৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম।"মাত্র দেড় দুই বছরের মধ্যে মৃত্যুদন্ড কায্যকারিতার দিক থেকে অন্যতম দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।বাংলাদেশের অবস্থান এখনও তুলনামুলকভাবে তলানীতে অবস্থান। তাঁরপরও পাকিস্তানের মত বর্বর দেশ বাংলাদেশের মানবতা বিরুধিদের মৃত্যুদন্ড নিয়ে কথা বলতে সামান্যতম দ্বিধাম্বিত নয়। পাকিস্তানের এই অকূটনৈতিক আচরণ ও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। গত সোমবার পাকিস্তানকে দেওয়া প্রতিবাদে বলা হয়: মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত দুজনের ফাঁসি নিয়ে ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ। বাংলাদেশ এটাও আশা করে যে পাকিস্তান দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবে। এতে আরও বলা হয়: ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি নিয়ে খণ্ডিত ব্যাখ্যা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবেশী ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হচ্ছে চুক্তির মূলনীতি। ওই চুক্তিতে কখনোই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় জড়িত এবং এর পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি কিংবা বিচার থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলা হয়নি। বাংলাদেশ সরকার চুক্তি মোতাবেক ১৯৫ জন যুদ্ধ অপরাধিকে ফেরৎ দেয়া এবং তাঁদের বিচারের অঙ্গিকারের রাষ্ট্রীয় চুক্তির কথাও স্মরন করিয়ে ভবিষ্যতে এমন আচরনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জৈষ্ট কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনার অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গিকার ছিল, সকল হত্যাকান্ডের বিচার অনুষ্ঠান করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা করার।সে লক্ষ নিয়ে '৯৬ইং সালে ২১ বছর পর খমতায় এসে জাতির জনকের হত্যার বিচার প্রক্রিয়া স্বল্প পরিসরে হলেও শুরু করেছিলেন।বিচার যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে,জড়িত কিছু লোকের শাস্তিও কায্যকর করা হয়েছে,বাকি সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা তাঁদের কৃতকর্মের বেনিফেসিয়ারিদের থেকে সুবিধা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।জেলে জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারের রায় ও আগামি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশিত হবে আশা করা যায়।সবচেয়ে দুর্ভেদ্ধ কঠিন জাতীয় ও আন্তজাতিক প্রভুবেষ্টিত, ২১ বছর স্বৈরাচারের লালনে শক্তি সামর্থ,অর্থ অস্ত্রে বলিয়ান যুদ্ধপরাধীদের বিচার করার অঙ্গিকার নিয়ে ২০০৮ ইং সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে।সরকার গঠননের পরেই জনগনের নিকট দেয়া অঙ্গিকার পুরনের লক্ষে সংসদে মানবতা বিরুধি অপরাধের বিচারের জন্য আন্তজাতিক ট্রাইবুনাল গঠনে আইন পাশ করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে।দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে বিচারের প্রাথমিক পয্যায় থেকে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারিদের টনক নড়ে উঠে।তাঁরা নাশকতা,বোমাবাজি,হত্যা,লুন্ঠন,আগুন সন্ত্রাস,ধর্মীয় গোষ্ঠিকে ইন্দন দিয়ে রাজপথে নামিয়ে সরকারকে নাস্তিকের তিলক পরানোর অপচেষ্টা,জঙ্গী উত্থানে ইন্দন,সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকার উৎখাত, নাস্তিকতার ষড়যন্ত্রে সৃজনশীল লেখক প্রকাশক হত্যা ইত্যাদি আইনশৃংখলা অবনতির নানাহ অপচেষ্টা অব্যাহত রাখে। যুদ্ধ অপরাধের বিচার বা ৭১ এর মানবতা বিরুধিদের বিচার কায্যক্রম বন্ধে এমন কোন অপচেষ্টা নেই যা তাঁরা এবং তাঁদের দোষরদের দ্বারা সংগঠিত হয়নি। শেষ পয্যন্ত কোটি কোটি ডলার খরছ করে বিদেশে লবিষ্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টে চক্রান্ত অব্যাহত রাখে। এতকিছুর পরও জাতির জনকের কন্যার মনোবল,দেশ এবং জাতির উন্নয়ন অগ্রগতি,আইনের শাষন কায়েমে মানবতা বিরুধিদের বিচার প্রক্রিয়ায় সামান্যতম চিড় ধরাতে পারেনি জাতীয় ও আন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের ধারক ও বাহকেরা।বরঞ্চ দেশ ও জাতির সংকল্প দৃড থেকে দৃডতর হয়েছে।জাতি ধীরে ধীরে বিচারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।সেই ঐক্যই আজ চারদিকে আওয়াজ উঠেছে মানবতা বিরুধী অপরাধে শাস্তি পাওয়া প্রত্যেকের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত পুর্বক তাঁদের নাগরিক অধিকার বঞ্চিত করার জন্য।

   পাকিস্তানের মত প্রতিক্রিয়াশীল দেশের জনগনের মানষিকতা উন্নত হওয়ার আশা পোষন করা সাগরে মুক্তা খোঁজার সমতুল্য।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg