সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বিশ্বমোড়লের স্বার্থের বাহিরে গেলে প্রিয় বন্ধুরাষ্ট্রেও জঙ্গীর উপস্থিতি আছে:অনুকুলে থাকলে দেশের সব মানুষ মারা গেলেও আপত্তির কোন কারন থাকে না।
প্রীয় পাঠক বন্ধুরা,নিম্নে বহুল প্রচলিত বিশ্ব নেতাদের নীতি কৌশলের আতংক ওয়েব সাইট উইকিলিকস,অভিজ্ঞ সাবেক বিশ্বনেতা ফিদেল কেস্ট্রো,বর্তমান বিশ্বের ২য় শক্তিধর নেতা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত তিনটি বিশেষ খবর কপি পেষ্ট করে তুলে দিলাম।বর্তমান বাংলাদেশের কথিত আই এস হামলার সাথে এখানে কোন যোগসুত্র পাওয়া যায় কিনা তাঁর একটা বিশ্লেষন ধর্মী আলোচনা বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষকদের কাছ থেকে জানার আগ্রহে আমার ক্ষুদ্র এই প্রয়াস। দেখি তাঁরা কি বলেন------
(এক) ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করে আলোচিত ওয়েবসাইট ‘উইকিলিকস’ প্যারিস হামলার জন্য আমেরিকা ও তার মিত্রদের অভিযুক্ত করেছে।
হামলার পর এক টুইট বার্তায় উইকিলিকস বলে, বছরের পর বছর ধরে সিরিয়া ও লিবিয়ায় চরমপন্থীদের অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দেয়ার ফল।
পরের দিন আরেক টুইট বার্তা ওয়েসসাইটটি বলে, প্যারিস সন্ত্রাসী হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়াও ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এই দুই মৃত্যুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যে উগ্রপন্থীদের প্রতিপালন করেছে তার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
আরেক টুইট বার্তায় উইকিলিকস বলে, প্যারিসে ইসলামি সন্ত্রাসীদের হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ায় আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। এই ব্যাপারটা তখনো মজার ছিলো না, এখন মজার না।
অস্ত্র এবং আর্থিক সহায়তার প্রশ্ন তুলে আরেক টুইট বার্তায় উইকিলিকস বলে, এরা (হামলাকারী) কারা? সুন্নী উগ্রপন্ত্রী, তাদের অর্থ এবং অস্ত্র দেয় কে?
ওয়েবসাইটটি আরো বলে, সিরিয়া ও ইরাক রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে উগ্রপন্ত্রীদের যারা অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছে তাদের প্রত্যেকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।
শনিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি আর্টসেন্টার, রেস্টুরেন্টসহ কয়েকটি জায়গায় বন্দুকধারীর গুলি এবং ফ্রান্স স্টেডিয়ামের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় দেড়শতাধিক মানুষ নিহত হয়।
ক্যাস্ত্রো বলেছেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সৃষ্টির পেছনে রয়েছে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল। কিউবার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বহু মিডিয়া এ খবর দিয়েছে।
(দুই) ক্যাস্ত্রো বলেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সৃষ্টির জন্য ইসরাইলের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ও আমেরিকার যুদ্ধবাজ সিনেটর জন ম্যাককেইন ষড়যন্ত্র পাকিয়েছেন। ক্যাস্ত্রো তার নিবন্ধে পরিষ্কার করে বলেছেন, জন ম্যাককেইন হচ্ছেন ইসরাইলের নিঃশর্ত মিত্র এবং মোসাদের সঙ্গে গোপন পরিকল্পনায় আইএসআইএল সৃষ্টি করা হয়। সেই অনিষ্ট শক্তি এখন ইরাকের বিরাট অংশ এবং সিরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
ক্যাস্ত্রো তার বক্তব্যে ন্যাটো সামরিক জোটকেও এক হাত নিয়েছেন। তিনি এ জোটকে জার্মানির নাজি বাহিনীর এসএস কোরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটোর কিছু নেতার বক্তব্য শুনলে মনে হবে যেন তারা অ্যাডলফ হিটলারের নাজি বাহিনীর কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছেন।
(তিন) বাংলাদেশ প্রেস ডেস্ক || রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, জি-২০’র কোনো কোনো সদস্যসহ প্রায় ৪০টি দেশ তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশকে অর্থের যোগান দিচ্ছে।
জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী তুরস্কের আনাতালিয়া শহরে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, রুশ গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আইএসআইএল’র অবৈধ তেল ব্যবসা জরুরিভিত্তিতে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মহাকাশ এবং বিমান থেকে তোলা ছবি জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানকারী রাষ্ট্র প্রধানদের দেখানো হয়েছে। এসব ছবিতে দায়েশের অবৈধ তেল বাণিজ্যের ব্যাপকতা ফুটে উঠেছে। ।
এ সব ছবিতে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে তেল ট্যাংকারের লাইন ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি। পুতিন বলেন, চার থেকে পাঁচ হাজার মিটার ওপর থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে- তেল ট্যাংকারের লাইন দিগন্ত রেখা পেরিয়ে গেছে। গত বছর অধিকৃত তেলক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলিত তেল বিক্রির অর্থ দায়েশ গোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস ছিল। ইরাকের উত্তরাঞ্চল এবং সিরিয়ার রাকা প্রদেশের তেলক্ষেত্রগুলো থেকে এসব তেল উত্তোলন করা হচ্ছে।
আমার অভিমতের সাথে পাঠকের মনের মিল খোঁজে পান কিনা একটু দেখুন:------
পাঠকগন লক্ষ করুন--তিনটি পত্রিকার তিন দিগন্ত থেকে দুই বিশ্ববরেন্য ব্যাক্তি এবং এক মিডিয়া ওয়েব বিশ্ববাসিকে একই খবর একই সময়ের মধ্যে জানানো হল।
আগেই বিশ্বনেতৃবৃন্দ স্থীর সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন আইএস জঙ্গী সমস্যা কোন একক দেশের একক কোন সমস্যা নয়।শান্তিকামি দেশ সমুহের উপর বিশ্ব মোড়ল বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন কৌশলে একতরফা ভাবে কথিত জঙ্গীর ছদ্মাবরনে তাঁদের মাতব্বরির পথ মসৃন রাখার স্বার্থে চালিয়ে যাচ্ছে শান্তিকামি দেশ সমুহের শান্তিকামি জনগনের উপর। একের পর একবোমা হামলা,আগুন সন্ত্রাস,আর্জেস গ্রেনেড,গুলি,চাপাতির হামলা।দেশ সমুহের সম্পদহানি, প্রকাশ্য লুটতরাজ,গুপ্তহামলা ইত্যাদি করতেও দেখা যায়।মুলত;সামাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতনের পর সাম্রাজ্যবাদি দেশ আমেরীকা এবং তার মিত্রদেশ সমুহের মিলিত প্রপাগান্ডার অংশই হচ্ছে আজকের বিশ্বের অস্থিরতার মুল কারন।এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে শীতল যুদ্ধের অবসানের পর থেকেই।জঙ্গির আনাগোনার আত্মপ্রকাশ একেক দেশে একেক নামে প্রকাশ করছে অনেক আগে থেকেই।তাঁদের শোষন এবং ভু-রাজনীতির হিসেব নিকেশ রাখার দোষর যতদিন দেশটির সরকারে আসতে পারবেনা ততদিন তাঁরা সেই দেশটির উপর এই অঘোষিত যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন।এটাই তাঁদের নীতি আদর্শে পরিনত হয়েছে।বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাঁদের এই উলঙ্গ হামলা জ্ঞানপাপিরা দেখেও না দেখার ভান করেন।
এটাতো স্পষ্ট, বি,এন,পির ডাকা অবরোধ প্রত্যাহার করা না করার উপর যেহেতু তাঁদের আরোপিত রেড এলার্ট নির্ভরশীল সেহেতু বি,এনপি কেন তাদের অবরোধ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রত্যাহার না করে শঠতার আশ্রয় নিয়ে একটা জাতিকে ধ্বংশের নেশায় মেতে উঠেছেন? আগুন সন্ত্রাসের রশি কি বেগম জিয়ার হাতে ছিলনা? অবরোধ প্রত্যাহারের ক্ষমতা কি খালেদা জিয়ার নেই? কোন অশুভ শক্তির ইশারায় খালেদা অবরোধ ডেকে নিরাপদ কক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন? কারা দেশের মধ্যে আগুন সন্ত্রাস করেছিল? এই আগুন সন্ত্রাসের নেতৃত্বে কি খালেদা ছিলেননা? খালেদা কি সাম্রাজ্যবাদি চক্রের হাতে এই দেশটা সঁপে দেননি? ঘুপ্ত হত্যা কি অবরোধ প্রত্যাহার করা না করার সাথে সম্পৃত্ত? অবরোধকে উপলক্ষ করে এখনও কেন বাংলাদেশের উপর রেড এলার্ট থাকবে?খালেদা কেন প্রাকাশ্য এখনও বলছেননা তিনি অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন?
গুপ্ত হত্যার পর আন্তজাতিক ভাবে আই এসের হামলায় লিখক প্রকাশক হত্যার প্রচার এবং বিএনপি দলের সংলাপ ভিক্ষার মধ্যে একান্ত মিল থাকার পরও আমাদের দেশের তথাকথিত টকশোবাজেরা আইএস খোঁজতে সারা পৃথিবি সব তোলপাড় করে ফেলছেন।
অনেক প্রাজ্ঞ রাজনীতিক,বিশ্লেষক,দল, জোট বুঝাতে চান গনতন্ত্রের অভাবে চরম পন্থার উদ্ভব হচ্ছে।গনতন্ত্র বলতে শুধুই কি একটা জাতীয় নির্বাচন? এখনতো পরিষ্কার হয়ে গেল,বিশ দলীয় জোট কেন নির্বাচনে অংশ নেয়নি?ভোটে অংশ না নিয়ে নির্বাচন সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা আহম্মকি,বেহায়াপনা ছাড়া আর কি হতে পারে? ফ্রান্সে কি গনতন্ত্রের অভাব আছে.না ভোটের কোন হেরফের আছে? সেখানে কেন হামলা হল? ফ্রান্সে হামলা হয়েছে নতুন শক্তির আগমনের আগেই সতর্ক করে দেয়ার কৌশল আমেরীকার।,যে যেদিকে যাবে যাক আগামী বিশ্ব রাজনীতিতে তুমি আমার আশে পাশে থেকো,নয়তো তোমার দেশেও জঙ্গীর উপস্থিতি বিশ্ব টের পেয়েছে,তাই নয় কি? টুইন টাওয়ার ধংশ হল গনতন্ত্রের অভাবে? এত বড় টুইন্টাওয়ার সেখানে নাকি সেদিন কোন মনুষ্য জীবের অবস্থান ছিল না। কি হাস্যকর ব্যাপার। গনতন্ত্রের অভাব কি ভারতেও আছে? খাগড়াগড় হামলা কেন হল?
মুলত গনতন্ত্র সমাজতন্ত্র,রাজতন্ত্র কোন বিষয় নয়।তাঁদের স্বার্থের রক্ষক বড় বিষয়।সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমুহ রাজতন্ত্র নয় কি?ইসলামে কি রাজতন্ত্রের অনুমোদন আছে? ইহুদি রাষ্ট্র সমুহ কি ভাবে মুসলিম প্রধান দেশের বন্ধু হয়। কিভাবে গনতন্ত্রের সোল এজেন্ট আমেরীকার মিত্র হয়?
জাতির জনকের কন্যা নতুন নতুন নামে নব্য আবিস্কৃত সকল বাংলাদেশি আই,এস,মোজাহেদিন,তাহরিকে ইসলাম ইত্যাদি যে নামেই ডাকা হোকনা কেন,সব জঙ্গীর আস্তানা ঠিকই চিনেন। উদ্ভাবীত আই এস,আগুন সন্ত্রাস,ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান,ইত্যাদি সব কিছুর চেলেঞ্জ মাথায় নিয়েই ধীর স্থীর ভাবে চিরদিনের জন্য নির্মুলের প্রজেক্ট হাতে নিয়ে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন।
ইতিমধ্যে বাংলার জনগনের সম্মুখে উক্ত প্রজেক্ট গুলির নির্মুলের উপকারিতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারনে জনগন স্বতস্ফুর্ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।আন্তজাতিক জরিপের ফলাফল সমুহের প্রতি লক্ষ রাখলে আমার উক্তির সত্যতা বোধগম্য হতে বিশ্লেষনের প্রয়োজন হবেনা। বিশ্বের কোন দেশের চলমান সরকারের জনপ্রিয়তায় ধ্বস ছাড়া উন্নতি হতে দেখা যায়না,বাংলাদেশের সরকার তথা জাতির জনকের কন্যাই একমাত্র ব্যাতিক্রম শত ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উন্নয়নের গতির সাথে তাল মিলিয়ে সকল অশুভ শক্তির আস্তানায় উপোয্যপুরি ক্ষেপনাস্ত্রের হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন।যতক্ষন পয্যন্ত বাংলাদেশের জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তির গ্যারান্টির নিশ্চয়তা হবেনা, ততক্ষন পয্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন ইনশাল্লাহ। সাথে সকল অশুভ শক্তির পাটাতন বাংলার মাটির গভীর থেকে উপড়ে সাম্রাজ্যবাদিদের দেশে ফেরৎ পাঠানোর দৃড মনোবল নিয়ে স্থীর হয়ে একাগ্রচিত্তে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রজেক্ট সমাপ্তির পর যাদুঘরেও আর আই এসের সন্ধান করে পাওয়া যাবেনা ইনশাল্লা।সেই মতেই সরকার দেশের জনগনকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
"জয় ইনশাল্লাহ হবেই হবে।"
"জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন