জঙ্গি দমনে সরকার অনেকটা সফল হলেও বর্তমানের দানব দমন কি সম্ভুব হবে?

জঙ্গি দমনে সরকার সফল,বর্তমানের দানব দমন কি সম্ভব হবে।??
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
শুধু লেখক কিংবা ব্লগার নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের ওপরই হামলা হচ্ছে আমি মনে করি। সারাদেশে এখন হাজার হাজার মানুষ গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না।পুলিশ কাউকে চিহ্নিত করতে পারছেন না।যারা ধরা পড়ছেন তাদের বিচারেও ধীর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।আগেও এই ধরনের হত্যাই সংঘটিত হয়েছে,তবে সেই সমস্ত হত্যা কোন অভিধায় অবিষিক্ত হয়নি।যেমন আহসান উল্লা মাষ্টার, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরীয়া,উদিচির বর্ষবরন অনুষ্ঠানে হামলা২১শে আগষ্টের হামলা ইত্যাদি আরো শত হামলা কথাই বলা যায়।
বর্তমানের হামলা সমুহের জন্য প্রথমেই যে দিকে নজর দিবেন সেই দিকটি হচ্ছে জঙ্গী।তাঁদের এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলি করার সেই সামর্থ আছে বলে আমি মনে করি না।
আগে দুইজন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হল।দেশি বিদেশি কেহই রক্ষা পাচ্ছেন না।বিদেশি হত্যার বেলায় ঘটনাকারি চিহ্নিত হয়ে ধরা পড়েছে,কিন্তু কথিত বড়ভাই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।বড় ভাইকে চিহ্নিত করে ধরা গেলে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে আশা করা যায়।
আমরা কেউই তেমন নিরাপদ নই। আসলে শুধু ব্লগার নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের ওপরই হামলা হচ্ছে। এই পর্যন্ত চারজন ব্লগারকে খুন করা হয়েছে। বুঝতে পারলাম মুক্তমনাদের শাহবাগে অবস্থানের কারনে ধর্মীয় জঙ্গিরা ঐ সমস্ত ঘটনার ঘটিয়েছে। বর্তমানে ঘটনাক্রম হচ্ছে লাল মাটিয়ায় তিন জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে প্রকাশক দিপনকে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলার তাঁর অফিস কক্ষে কুঁপিয়ে হত্যা করেছে।হত্যার ধরন আগের ব্লগারদের অনুসরনে অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে।
এখানে একটু পিছনে তাকানো প্রয়োজন মনে করি।'৪৭ এর দেশ বিভাগের পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়ে থেমে থেমে পুরো পাকিস্তানি শাষন আমল জুড়েই সংখ্যায় লুঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়েছে।তাঁর মোটিভ পরিষ্কার ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে দাঙ্গা শব্দটি মানুষ ভুলেই গিয়েছিল।জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নির্মম ভাবে হত্যার পর এই জগন্য ইস্যুটি আমাদের শাষক শ্রেনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সংবিধানের মুলনীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্রমস সামনে নিয়ে আসতে থাকে।সর্বশেষ স্বৈরশাষক এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পুরাতন ইস্যু আবার চাঙ্গা হয়ে ২০০১ সালে নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিজয় মিছিলটি হিন্দুদের উপর পাশবিক নিয্যাতনের মাধ্যমে উৎযাপন করে।তাঁর আগে ভারতে বাবরী মসজিদকে কেন্দ্র করে সুচনা পর্বটি শুরু হয়।২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশাল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় এলে সংখ্যালুঘু শব্দটি ক্রমশ যখন হারিয়ে যেতে বসেছে তখন আরেকটি নতুন শব্দ সংযোজনের সুচনা হল।যাহা ইতিপুর্বে বাংলাদেশে আদৌ কোন দিন ঘটেনি। বাংলাদেশে হঠাৎ নিরীহ শিয়া সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হল?
সব হত্যা জঙ্গিরা করছে ধারনাটি আগে থেকে জনমনে প্রোথিত বলে হত্যার পরই সেদিকে নজর রাখার নিমিত্তে চক্রটি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে কিনা ভেবে দেখা দরকার।আজকের প্রকাশক হত্যার পর হয়তো অনেকের ধারনা হতে পারে অভিজিতকে যারা হত্যা করেছে তাঁরাই দিপনকে হত্যা করতে পারে।যেহেতু দীপন অভিজিতের বইয়ের ও প্রকাশক ছিলেন।মুলত জঙ্গি গোষ্ঠী নয়, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এই ঘটনা গুলী করে যাচ্ছে একের পর এক।এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা। তাই স্বাভিকভাবেই স্বাধীনতা বিরোধী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো তফাৎ করা মারাত্মক ভুল হতে পারে।এরা মুলত একসুতায় গাঁথা জামায়াত শিবির,সাম্প্রদা
য়িক উগ্রগোষ্টি,স্বাধীনতা বিরুদি,মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদিরা। এরা নতুন নামে অভিহিত হতে চায়- জনগনের দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে,জনরোষ থেকে রক্ষা পাওয়ার একটা নয়া কৌশলের অংশ হিসেবে।দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের তথাকথিত দায় স্বীকারের ঘটনা থেকেও উপলব্ধি করা যায় অনেক বিষয়। ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার কৌশলের দিকটি পয্যবেক্ষন করলে বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয় আমি মনে করি। বর্তমানের সমস্ত হত্যার পিছনে একক শক্তিই সক্রিয়-তাঁরাই জামায়াত শিবির,যুদ্ধ অপরাধীর দোষর,মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুধী,সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক -উদ্দেশ্য পরিষ্কার দেশব্যাপি আইনশৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশের সংবাদ মাধ্যম জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকলে তৎকালীন সরকার তা অস্বীকার করে। মিডিয়ার নাটক বলে অভিহিত করছিল।যা পরবর্তীতে দানব রূপে সমগ্র জাতিকে চেপে ধরছিল।সে জঙ্গি নামক দানবের হাত থেকে জাতি সরকারের দৃড অবস্থানের কারনে কিছুটা স্বস্তি পেলেও বর্তমানের কৌশলি দানবের হাত থেকে মুক্তি পাবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
শিয়াদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামলা,দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা,অভিজিতের বইয়ের প্রকাশক দীপন হত্যা একসুত্রে গাঁথা,হত্যাকারী অভিন্ন-উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। নাশকতার মাধ্যমে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটিয়ে মানবতা বিরুদি অপরাধিদের বিচার বানচাল করার অপতৎপরতা।
পরিত্রানের একমাত্র উপায়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির সম্মিলিত প্রতিরোধ,সামাজিক গনসচেতনতা,সরকারের কঠোর অবস্থান।শুধু আইনশৃংখলা বাহিনীর উপর নির্ভর করে বর্তমানের দানব দমন করা যাবেনা।তাঁদের রক্ষক ঘরে ঘরে অবস্থান নিয়েছে।কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতার পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির মধ্যে বিভ্রান্তি চড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। জোটে ভাঙ্গন ধরিয়ে সরকারকে দুর্বল করার হীন প্রচেষ্টা করা হয়েছিল।মাস পার হতে না হতে যুগৎপৎ স্বাধীনতা বিরুদীরা সাড়াষি অভিযান শুরু করে একের পর এক জীবন কেড়ে নিচ্ছে।এ থেকেই উপলব্ধি করার প্রয়োজন আছে তাঁদের সংখ্যায় যদিও কম হয়ে থাকে সহযোগির কোন ঘাটতি নেই।সুতারাং সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেই দানব দমন করার উদ্যোগ নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা।"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg