রাজনীতি থেকে ব্যাবসায়ি,সেনা কর্মকর্তা,তথাকথিত সুশিলদের হঠানোর এখনি মোক্ষম সুযোগ =============================== মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ক্রমস অসাধু কালোটাকার মালিক,সেনা কর্মকর্তা,দেশি বিদেশী এন,জি,ওর স্বত্বাধিকারী একশ্রেনীর সুশীলের রাজনীতিতে আর্বিভাব ঘটে।তাঁরা বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশ করে প্রকৃত রাজনীতিক,যুবসমাজ,দেশ বাসির একদা অহংকারের ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করে অবৈধ টাকার বিনিময়ে পথভ্রষ্ট করে দলের অভ্যন্তরে এবং জনমনে প্রভাব প্রতিপত্তি সৃষ্টি করে নীজেদের আখের গোচানোর কাজে মনোনিবেশ শুরু করে।দিনে দিনে আজ তা মহিরুহ আকার ধারন করে গোটা রাজনৈতিক ব্যাবস্থাকে গ্রাস করেছে।মেধাবী ছাত্রদের হাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ তুলে দিয়ে অবৈধ পথে খরছ করার পথ সৃষ্টিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করা শুরু করে প্রথমত সেনা কর্মকর্তারা,তার পরেই অবস্থান করে ব্যাবসায়ি নেতারা।সারা দেশের যুব সমাজ তাঁদের হীন উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আজ নেশার জগতে হাবুডুবো খাচ্ছে।তাঁরা না লাগছে দেশের সৃজনশীল কাজে, না লাগছে পরিবারের অভাব মোচনের কোন কাজে।নেশাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে করতে হচ্ছে ছিনতাই,ডাকাতি,রাহাজানির মত অসামাজিক কাজ। সমাজে দেখা দিচ্ছে ক্ষনে ক্ষনে অস্থিরতা।ইয়াবা ব্যাবসায়ী, স্বর্ন চোরাচালান,সেনাশাষনের সময় দুর্নীতি,ঘোষের টাকার মালিক সেনা কর্মকর্তাদের ছেলে মেয়েদের সাথে ফ্যাশনের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ভদ্র সুশীল ঘরের ছেলে মেয়েরা চলে যাচ্ছে বিপদগামীতার পথে।অবৈধ টাকার মালিকেরা সারা দেশকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃষ্টি করছে ভয়াবহ, মারাত্বক পরিস্থিতি।দেশের প্রতিটি নাগরিক কমবেশি ভুগছেন কন না কোন ভাবে। অনেকের উপলব্ধি ও মনের কথা বলেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। দুঃখ করে বলেছেন, রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে। এমন তিক্ত কথা কিশোরগঞ্জের এই মিঠা মানুষটি বলেছেন একেবারে প্রকাশ্যে। অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক নাগরিক সমাবেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। আবদুল হামিদ বলেন, সততা বজায় না রাখলে একজন রাজনীতিবিদ কিছুই করতে সক্ষম হবেন না। কেউ অর্থ-বিত্ত করতে চাইলে তাদের জন্য অনেক উপায় আছে। তাদের রাজনীতিতে আসা উচিত নয়। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের সহচর হাওরবাসীর এই জনপ্রতিনিধি দাবি করেন তার রাজনীতি মানুষের কল্যাণে। সরকারি কাজ থেকে কোনদিন অবৈধভাবে একটি লাল পয়সাও পকেটে নেননি বলে সাহসী উচ্চারণও করেন রাষ্ট্রপতি। রাজনীতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একমাত্র জনগণ। আর সেটা পূরণ হয় রাজনীতিকদের মাধ্যমে। কোন রাজনীতিক দেশ ও জাতির কল্যাণের বদলে দল বা ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করলে তাকে রাজনীতিক বলা যায় না। বলতে হবে রাজনীতি নামের ব্যবসা। শুধু ব্যবসায়ীরাই রাজনীতির এ বাণিজ্য করছেন না। চাঁদাবাজ, বিত্তশালী, প্রভাবশালীরা নিজ স্বার্থকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে রাজনীতিতে ভিড়ছেন। অল্প সময়ে অবস্থানও তৈরি করে নিচ্ছেন। এদের দুর্বৃত্তায়নে রাজনীতিকরা নাস্তানাবুদ হচ্ছেন। এ ধারা দেশকে কোথায় নেবে সেই দুর্ভাবনা বিবেকবানদের প্রতিনিয়ত তাড়া করছে। রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে প্রতিফলিত হয়েছে সেরকম তাড়নাই। খোলা চোখে তাকালে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতির এই কয়টি বাক্যের মধ্যে গুড় তাৎপয্য আছে।তিক্ত অভিজ্ঞতা না হলে এমন সত্য কথাটি রাষ্ট্রপতির মুখ থেকে বের হত না।নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ টাকার চড়াচড়ি মুলত এই সমস্ত ব্যবসায়ী নেতাদের কারনেই উদ্ভব হয়েছে।তাঁরা অজস্র টাকা পয়সা খরছ করে দলের মধ্যে প্রভাব বলয় সৃষ্টি করতে গিয়েই কর্মিদের নষ্ট করেছে।অর্থলোভী জেলা উপজেলা এবং কি কেন্দ্রীয় নেতারাও তাঁদের অর্থের নিকট নতজানু হতে দেখা গেছে।ব্যাবসায়ীরা রাজনীতিকে ব্যাবসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারনেই রাজনীতিতে দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে।আগে কখন ও এমনটি হত না। সময়ের ব্যবধানে রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্যরকম বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতি। এমন প্রতিষ্ঠান খুব কম রয়েছে যেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক ব্যাক্তি বিশেষের সংশ্লিষ্টতা না আছে। রাজনৈতিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকার অর্থই হচ্ছে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটানোর প্রবনতার অঘোষিত মহড়া। তাই ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক- সামাজিক সমৃদ্ধিতে রাজনৈতিক পরশ নেয়ার একটি প্রবণতা সমাজে সাদা চোখেই দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ প্রবণতার ভালো-মন্দ অবশ্যই আলোচনা হতে পারে। আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা রাজনীতিতে সম্পৃত্ত থাকার প্রবনতা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী নির্দ্ধিদায় বলা যায়।রাজনীতি সচেতন ব্যাক্তির কর্মক্ষমতা তুলনা মুলক অন্য নিরেপেক্ষ ব্যাক্তির তুলনায় বেশি থাকবে বলার অপেক্ষা রাখে না।প্রত্যেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান,স্কুল কলেজ এবং কি পাড়া মহল্লার ক্লাব গুলিতেও জাত রাজনৈতিক এবং সদ্য ব্যাবসায়ী নেতার মধ্যে পার্টিশান সহজেই অনুমায়িত হচ্ছে।ব্যাবসায়ীর টাকার কাছে নিবেদিত রাজনৈতিক নেতাটি গো হারা হেরে লেজ গুটিয়ে বাড়ীতে আশ্রয় নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকছেনা।আমি কোন মতেই ব্যাবসায়ীদের রাজনীতির বিপক্ষে নই।আমি বিপক্ষে টাকায় উঠতি যুবক,সমাজের চরিত্রবান ছেলেটির চরিত্র হননের বিপক্ষে।অতিরিক্ত টাকার কারনে আমাদের যুব সমাজ দিনে দিনে নেশার কবলে ডুবে যাচ্ছে আমি তাঁর বিপক্ষে।ব্যবসায়ী বা অন্য কারো রাজনীতি করতে বাধা নাই।কিন্তু বলয় সৃষ্টির নেশায় ছাত্রদের ব্যাবহার করতে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা তুলে দিয়ে তাঁদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাঁরা। আবার রাজনীতিকদের ব্যবসা করায়ও কোন বাধা নেই। কিন্তু রাজনীতিতে জেঁকে বসা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য কি দেশ ও জনগণের কল্যাণ, না রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নিজের ব্যবসা বিস্তার। এটি গুরুতর প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। পাল্টা প্রশ্নও রয়েছে। ব্যবসার জন্য রাজনীতি, আবার রাজনীতির জন্য ব্যবসা এ দু"য়ের কোনটাই দেশের জন্য মঙ্গল হতে পারে না,ফলের জন্যতো নহেই। ব্যবসায়ীর চিন্তায় লাইসেন্স সংগ্রহ, জমি পাওয়া, ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস সংযোগ এবং নিরাপত্তার আয়োজন প্রতিটি ক্ষেত্রেই কমবেশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রচলিত আইন ও নিয়ম লঙ্গন করে বিল প্রদান থেকে শুরু করে কর ফাঁকি সর্বক্ষেত্রে লাভের অংক কষা। বিভিন্ন পর্যায়ের এ কাজগুলো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে সহজ হয়ে যায়। আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের রাজনীতির এই বাস্তবতা অস্বীকার করা হবে সত্যকে চাপা রাখার অপচেষ্টা। এখানে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিলের প্রধান উৎস ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অনেকের অর্থ উপার্জন স্বচ্ছ নয়। আবার কোন ব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলকে কত অর্থ দিচ্ছেন এবং তা কিভাবে ব্যয় হচ্ছে সেটাও স্বচ্ছ নয়।ব্যাবসায়ী দিচ্ছেন তাঁর ব্যাবসার উদ্দেশ্যে দলগুলী নিচ্ছে দল পরিচালনার জন্য।সঙ্গতভাবে দুপক্ষই একে অপরের স্বার্থ বিবেচনা করবে,এতে জনগনের কি উপকার হবে তাও ভাবনার বিষয়।জনগনের তথা দেশের যে অপুরনীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি উপলব্দি করতে পেরেছেন বিধায় সত্য কথাটি অকপটে বলতে পেরেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রত্যাশা, তার মতো নির্মোহ, সৎ রাজনীতিকরাই রাজনীতি করুক। দেশ পরিচালনা করুক। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সঙ্গে কেউ দ্বিমত করেছেন বলে জানা যায়নি। আবার তার এ বক্তব্য ও প্রত্যাশা সাধুবাদ জানিয়ে কেউ বা কোন মহল সামনেও আসেনি। বরং আড়ালে-আবডালে অন্যরকম আলোচনা রয়েছে চুপিসারে, নিঃশব্দে। ব্যবসায়ী পক্ষের অনেকেরই কথা হচ্ছে- বর্তমান যুগটাই ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের। কোন কিছুই ব্যবসা বা ব্যবসায়ীমুক্ত নয়। কে ব্যবসায়ী আর কে নয়, সেটা উত্থাপন করা অমুলক। আমাদের দেশে সামাজিক ব্যবসার পক্ষে অনেকেই। শিক্ষা নিয়ে,স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এবং কি ফেইজ বুক নিয়েও ব্যবসা চলছে। বাইরের দুনিয়ায় তা আরও ব্যাপক। বিল গেটস-মার্ক জাকারবার্গ তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ী, তালেবান-আইএসসহ জঙ্গিরা ধর্মব্যবসায়ী, আইসিসি-ফিফা হলো ক্রীড়া ব্যবসায়ী, হলিউড-বলিউড হলো সংস্কৃতি ও ফ্যাশন ব্যবসায়ী। বিভিন্ন দাতাসংস্থা লগ্নি করে টাকা-- বলে উন্নয়ন সহযোগি অর্থাৎ উন্নয়ন ব্যবসায়ী। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গুলিও নানা ভাবে ব্যবসা করার ধান্ধায় আছে।এত বেসরকারি মানবধিকার সংস্থা কাজের টাকার যোগান আসে কোত্থেকে? সেই ধারায় রাজনীতিও ব্যবসার কাতারে চলে যাবে তাতে আমি বিচলিত নই মোটেই। ব্যবসায়ীদের রাজনীতি বা রাজনীতিকদের ব্যবসা করাকে নিরুৎসাহিত করা তত সহজ বিষয় নয় কোন দলের পক্ষেই। তবে, নিয়ন্ত্রন করা যে দরকার তা পোড় খাওয়া মানুষটি ঠিকই আঁচ করতে পেরেছেন।ভারতে টাটা, আম্বানির মতো বিভিন্ন গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতিতে আমাদের দেশের মতো করে সম্পৃত্ত নয়। তবে তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে এটা স্বীকৃত সত্য।স্বাধীনতার আগে পরেও ব্যবসায়ীরা আমাদের দেশে রাজনৈতিক দল গুলিকে অর্থ সাহায্যই করেছেন। সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করে রাজনীতিকে কুলষিত করেন নাই বা রাজনীতিকরা করতে দেননি।বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনে তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন প্রকাশ্যভাবে,"আমার সংগ্রাম কমিটির কাছে পৌছে দিবেন"।এখানে লক্ষ করুন" পৌছে দিবেন "কথাটা বলে তিনি রাজনীতিকে কিভাবে মহিমাম্বিত করেছেন।কোন ব্যাক্তি যাবে না পৌছে দিতে হবে,প্রাধান্য কি ভাবে দিয়েছিলেন কর্মিদের।এখন আমাদের নেতারা ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন টাকার জন্য,তাও নিজের খরছের টাকা দলের জন্য নহে। বৃত্তি বা পেশা হিসেবে ব্যবসার চমৎকারিত্ব দুনিয়াব্যাপি।আমাদের মহান ধর্ম ইসলামেও ব্যাবসাকে এগিয়ে রেখেছেন পেশা হিসেবে। ব্যবসার মূল কথা বা অর্থই হচ্ছে লাভ। যেকোন উপায়ে লাভ করাই সকল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য। লাভ করতে গিয়ে ইনকাম ট্যাক্স, সেলস ট্যাক্স,কাস্টমস, পুলিশ, কোট-কাছারি ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য অন্য ভাবে বলতে গেলে ফাঁকি দেয়ার জন্য রাজনীতিতে নাম লিখানো প্রয়োজন মনে করেন।জনসেবা করার জন্য নয়,নীজের সেবা কন্টক মুক্ত করাই উদ্দেশ্য থাকে অধিকাংশ ব্যাবসায়ী মন্ত্রী এবং সাংসদের। গত দুই আড়াই দশকে দেশে ব্যবসায়ীদের একটি নতুন সফল শ্রেণী তৈরি হয়েছে। লবণ, সয়াবিন তেল, তৈরি পোশাক, ঝুট কাপড়, বালু, জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার থেকে ইয়াবা সোনা চোরাচালানী পর্যন্ত নানা আইটেমের ব্যবসায় তারা শতভাগ সফল। বাজার নিয়ন্ত্রণের সরকারি প্রচেষ্টা তারা ভন্ডুল করে দিতে ও তাঁরা নাকি সক্ষম। তাদের অনেকে ইদানীং ভীষণ সফল রাজনীতিতেও। এক সময় নির্বাচনসহ বিভিন্ন উপলক্ষে তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে দল বা সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। তারপরও স্বার্থের পক্ষে নীতি ও আইন প্রণয়নে তাদের অনেক দেনদরবার,মন্ত্রীদের নিকট বা রাজনীতিবীদদের দরজায় ধর্নার প্রয়োজন হত।বর্তমানে ব্যবসায়ীরাই রাজনীতিবিদ, রাজনীতিবিদরাই ব্যবসায়ী,সুতারাং কারো দরবারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজেদের স্বার্থে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা তাদের কব্জায়।শুধুমাত্র সাহষ করে প্রয়োগের উদ্যোগ নেয়া।এই অবস্থায় চলতে থাকলে একসময় দেখা যাবে মাদক বিক্রি বিপনন আমদানী রপ্তানী কোন কিছুতে আইনত আর বাঁধা থাকবে না বরং সেবন না করাই হবে জেল জরিমানার কারন।কারন তাঁদেরতো ব্যাবসা করতেই হবে। গত দুই দশকের সংসদ সদস্যদের পেশাগত অবস্থানও সেই ইঙ্গিত দেয়। সংসদের অর্ধেকেরও বেশি সদস্য নাকি নিজেদের পরিচয়ে লিখেছেন ব্যবসায়ী। এক জরিপে দেখানো হয়েছে, নবম সংসদে ব্যবসায়ীদের ৩০ শতাংশ সরাসরি তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।গতবারের সংসদে আওয়ামী লীগের ২৩৫ এমপির মধ্যে ১২০ জনই ব্যাবসায়ী। বিএনপির ৩০ সদস্যের ১৮ জনই ব্যবসায়ী। চলতি দশম সংসদে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলের পরিসংখ্যানে তত হেরফের হওয়ার নয়। বরং খানিকটা বেশিও হতে পারে। মনোনয়ন পেতে নীতি, আদর্শ বা ত্যাগের চেয়ে অর্থ-বিত্তের বিবেচনাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সব দলে। দলীয় পদ-পদবি হাসিলে তার চেয়ে অধিক । কে কত বিত্তশালী, কতটাকা দিতে পারবে উদ্ধতন নেতাকে,গুনে দিবে না খোলা চেকে দিবে-সেটাই হয়ে আছে যোগ্যতার মানদন্ড। আত্মীয়করন তো আগে থেকেই ব্যাধি। এমনতর পরিস্থিতিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপলব্ধিটি সচেতন যে কারো জন্যই চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনসহ জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য বেশি করে বিবেচনা জরুরি বলে আমি মনে করি। একদিকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন অন্যদিকে পেশিশক্তির মহড়া, তার উপর ব্যাবসায়ী চিন্তাচেতনা -রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্থ চিন্তা-চেতনা থেকে কত দূরে নিয়ে যাচ্ছে তা বিভিন্ন ঘটনার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে সামাজিকও রাজনীতিক ভীতটা ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে। দুর্বল হয়ে পড়েছে মানুষের সহ্য, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ। লোপ পেয়েছে সত্য, সততা ও আদর্শবোধ। ভয়াবহ একটি অপনীতির ঘোর অমানিশার অন্ধকার ঘিরে ফেলেছে সমাজের নিম্ন, মধ্যম এমনকি নিরীহ শ্রেণীটিকে। দিব্যি ভাল আছেন শুধু অসৎ,দুবৃত্ত,লোভি,ক্ষমতা লিপ্সু, অপরাজনৈতিক কলা কৌশলি,দখলবাজ,বর্নচোরা, কালোবাজারী,মাদকব্যবসায়ী লুটেরা। লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব মন্ত্রী, এমপি, নেতার কর্মকান্ডে সরকার বেকাদায় পড়েছিল বা পড়ার সমুহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল- তারা কেহই রাজনীতি থেকে উঠে আসা নন, তৃণমূল থেকেও উঠে আসেননি। ব্যবসা, চাকরিসহ বিভিন্ন লাভজনক ক্রিয়াকর্মে বিভিন্ন দলীয় সরকার বা সামরিক শাসকদের সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত তারা। দুই বড় দলেই তাদের দেখা মেলে। তারা সহজেই দল ও সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে পারেন, যা মাঠ-ঘাটের নেতাকর্মীরা পারেন না।সত্যিকারের রাজনীতিবিদেরা তোষামোদি করেন না বা করতে জানেননা, তাই পদে পদে বর্তমানে তাঁরাই হচ্ছেন লাঞ্চিত,বঞ্চিত।ব্যাবসায়ীদের তোয়াজনীতির নিকট ধরাশায়ী হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আরেক বোমা ফাটানো মন্তব্য করেছেন সাবেক সিএসপি অফিসার, বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। রাজনীতির একটু বাইরের হলেও প্রাসঙ্গিক। তিনি তদবিরের তোড়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এ দেশের মানুষ অনেক কিছু না পারলেও তদবিরের কাজটা খুব ভালো বোঝে এবং পারে। তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে যত লোক আসে, তাদের ৯০ শতাংশই আসেন তদবিরের কাজ নিয়ে। এসব তদবিরের অধিকাংশই আবার অসঙ্গত। অর্থাৎ প্রকারান্তরে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি। পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, এমনকি রাষ্ট্রীয় কাজে তদবিরের রাজত্ব। বাড়ি তৈরি করতে প্ল্যান পাস করতে হয়। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির সংযোগ দরকার। এ ধরনের কাজের ফাইল সহজে নড়ে না। নড়াতে অনেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির শরণাপন্ন হতে হয়। এক্ষেত্রে কিছু ক্যাশ টাকা ধরিয়ে দেয়া এখন আর তত অপরাধ মনে করেন না অনেকে। চাকরির আবেদন থেকে শুরু করে উত্তীর্ণ হওয়া, নিয়োগপ্রাপ্তি, পদোন্নতি, এমনকি যুৎসই জায়গায় পোস্টিংয়ের তকদির নিশ্চিত করতে হয়।তাঁর সুনিশ্চিত ব্যাবস্থাও আমাদের স্বনামধন্য ব্যাবসায়ীরা করে রেখেছেন।প্রত্যেক অফিসে বিনা প্রয়োজনে সুন্দরী মহিলাদের নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন।প্রয়োজনে তাঁদেরকে তদবীরের কাজে ব্যাবহার করতে দ্বিধা করেন না, নীতি নৈতিকতায় ও বাঁধে না। ব্যাবসায়ী নেতারা রাজনীতিকেও অফিস আদালতের মত করে তদবীরের মাধ্যমে হাসিল করতে সচেষ্ট থাকেন।মাঠে ঘাটে যুবক শ্রেনীর হাতে তুলে দেন মাদকের যোগান,উদ্ধস্তরে করেন ব্যবসায়ীক ধ্যান ধারনায় তদবীর। বাজিমাতের প্রয়োজনে রইলো বাকী আর কি। বর্তমান সরকার এমন সময়ে এক যুগ উপযোগি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।দলীয় প্রতিকে হবে স্থানীয় নির্বাচন।প্রাথী বাছাইয়ের ক্ষমতা যদি স্ব-স্ব এলাকার কর্মি বাহিনীর উপর থাকে তাহলে অচিরেই উপরে উল্লেখিত অভিশাপ থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পাওয়ার পথ প্রসস্ত হবে।তৃন্মুলের নেতা কর্মিদের প্রার্থী বাছাইয়ে ভুমিকা রাখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অর্থ হবে অবৈধ কালোটাকার নিকট রাজনীতি হেরে যাওয়া।অচিরেই গ্রাস করবে গোটা রাষ্ট্র যন্ত্রকে।নিবেদিত, অনুগত নেতা কর্মিরা কখনই নেতা নির্বাচনে ভুল করেনা,ইহা প্রমানীত সত্য।সৎ,মেধাবি, ত্যাগী নেতা কর্মি কখনই লোভ লালসায় আত্মসমর্পন করেনা করতে পারেনা।তাঁদের নেতা নির্বাচন অতীতে কখনই ভুল হয়নি,সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও হবেনা,দৃড় আস্থা অন্তত এই একটি ব্যাপারে পোষন করা যায়। জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা

দলীয় প্রতিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন,পরিক্ষিত,ত্যাগী,মেধাবি রাজনীতিবিদদের সামনে মেধা বিকাশের পথ খুলে দিয়েছে।অচিরেই দখল বাজ,চাঁদাবাজ,কালোটাকার মালিকেরা কর্মিদের নিকট নাস্তানাবুদ হয়ে বিতাড়িত হবে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg