সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম খমতায় যাওয়ার অস্ত্র--ধর্মীয় কোন বিষয় নয়--------
___________________________________
ধর্মের যে কোন ইস্যুতে শতকরা একশত ভাগ সমর্থন পাওয়া যায়।ধর্মের সাথে প্রতারনা হচ্ছে এটা একজনও বুঝার মত নেই।কারন বুঝতে গেলে বা বলতে গেলে তাঁকে নাস্তিক উপাদি পেতে হবে। তাই অনেকে জেনেও না জানার ভান করেন।যাহা ইসলামের জন্য, ইসলামী আন্দোলনের জন্য বড় ক্ষতিকর।দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য আল্লাহর নির্দেশনার বাইরেও ফতোয়া দেয়া বা রাষ্ট্রকে কোন বিষয়ে বাধ্য করা আর যাই হোক ধর্মের মঙ্গল হতে পারেনা, বা ইসলামের মঙ্গল হতে পারেনা।
মাওলানা সাহেবেরা ওয়াজে বলেন নবীকে অনুকরন করতে হবে।তিনি যা বলেছেন এবং যা করেছেন সব কিছুই আল্লাহর হুকুমেই করেছেন।আল্লাহ সর্বজ্ঞানী এবং সর্বজান্তা।আমরা মনে প্রানে বিশ্বাস করি, বিশ্বাস না করলে বা সামান্য সন্দেহ পোষন করলে ইমান থাকেনা । ইমানহীন মানুষ বা ইমানহীন মসুলমান বেহেস্তে যেতে পারবেনা। আল্লাহ,আল্লাহর রাসুল, তাঁর প্রেরিত গ্রন্থ, আল্লাহর নবী রাসুলগনকে মনে- প্রানে বিশ্বাস করাকেই ঈমান বলে।
মহান আল্লাহ সর্বযুগের জ্ঞানী করে তাঁর প্রিয় বন্ধু হযরত মোহাম্মদ (স:) কে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন।নবী করিম (স:)রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন।তিনি দুনিয়ার মানুষের শিক্ষার জন্য অনুসরন করার জন্য--তিনি সেই রাষ্ট্র পরিচালনাও করেছেন।
নবী যে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন সেই রাষ্ট্রেও রাষ্ট্র ধর্ম ছিলনা। মহান আল্লাহ জানতেন রাষ্ট্র -ধর্ম পালন করেনা-রাষ্ট্র একটা জড় পদার্থ্য। রাষ্ট্র এর নাগরিকদের পরিচালনার জন্য যে আইন, নিয়ম বা বিধি তাহা আল্লাহর প্রেরিত শ্রেষ্ঠ কিতাব কোরানে উল্লেখ করে দিয়েছেন। কোরানে ঘোষিত আইন দ্বারা স্ব-স্ব-রাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিচালনা করার জন্য বলেছেন। মানুষকেও অর্থাৎ মসুলমানদেরকেও সেই আইন অবশ্যই পালনীয় বলে হুকুম করেছেন। নবী করিম (স:) সেই ভাবেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। নবী করিম (স:) এর উফাতের পর তাঁর বিশ্বস্ত সাহাবীরাও তাঁর প্রতিষ্ঠিত খেলাফতের খলিফা নির্বাচিত হয়ে নবীজির রাষ্ট্র পরিচালনাকে অনুসরন করে খেলাফত পরিচালনা করেছেন। খলিফারাও রাষ্ট্র ধর্ম - রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের সংবিধানে সংযোজন করেন নাই। সংযোজন করতে পারেন না কারন,-"কোরানের উপর হাত দেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ কাউকে দেননি।" কোরান সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ সংবিধান করে আল্লাহ নীজে তৈরী করে হযরত মহাম্মদ (স:) এর মাধ্যমে মানবের কল্যানে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন- রাষ্ট্র ধর্ম থাকতে হবে এই গুরুত্ব পুর্ন ইস্যুটি কোরানের আয়াতের সংযোজন না করার নিশ্চই কোন যৌক্তিকতা পাননি আল্লাহ। অথবা ভিন্নধর্মী মানুষের বসবাস রাষ্ট্র সমুহে থাকবে এই কারনে ইস্যুটি আল্লাহ কোরানে দেননি, রাসুলকেও বলেননি। ভিন্ন ধর্মের উপর আল্লাহর মনোনীত ধর্মকে চাপিয়ে দিলে(একজন হোক) আল্লহর শ্রেষ্ঠত্ব থাকেনা- তাঁর বন্ধু হযরত মোহাম্মদ (স:) এর মহানুভবতাও প্রশ্নের সম্মুখ্যীন হয়। তাই সর্বজ্ঞানী আল্লাহ মানব জীবনে ধর্ম্ম ধারন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে জেহাদের নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম " প্রতিষ্ঠিত করতে বলেননি।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কে সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ সংবিধান-আল্লাহর প্রেরীত সংবিধান "আল-কোরানে" অনুমোদন করেনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সে ভাবেই হুকুম করেছিলেন, আল্লহই ভাল জানেন।
আরও পরিষ্কার ভাবে বলা যায়, দুনিয়াতে ইসলাম আসার পর থেকে(১৪০০বছর) ইসলাম ধর্মের উপর গভেষনাকারি লক্ষ কোটি আলেম উলামা, বুজর্গ, জ্ঞানী শ্রাদ্ধাবাজন ব্যাক্তি জম্মগ্রহন করেছেন, ইসলাম প্রচার-প্রসারে সারাজীবন উৎসর্গ করেছেন- লক্ষ লক্ষ বুজর্গ, অনেক বুজর্গ রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, অনেক ইসলামী চিন্তাবীদ ইসলামী শাষন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন-শাষন করেছেন- কস্মিন কালেও কেউ কোন দিন আন্দোলন সংগ্রাম দূরে থাকুক প্রস্তাবও রাখেনি রাষ্ট্রীয় সংবিধানে"রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম" থাকা বাঞ্চনীয় বা থাকা উচিৎ।
এমন একটি বিষয় কোন প্রকার দাবীছাড়া, আন্দোলন ছাড়া, নির্বাচনী ওয়াদা ছাড়া-হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ হঠাৎ করে ১৯৮৮ইং সালে রাষ্ট্রীয় সংবিধানে সংযোজন করেন।আলেম উলামাদের পক্ষ থেকে তেমন কোন প্রতিক্রিয়াও দেখানো হয়নি।ভাল হয়েছে মন্দ হয়েছে তাও বলা হয়নি।
রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সংবিধানে সংযোজনের পর রাষ্ট্রের বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন করা হয়েছিল।সেই রিটের শুনানী করতে ২৮ বছর কোন সরকার সাহষ করেনি।এটা এমন একটা ইস্যু প্রত্যেক মুসলিমের প্রানে আঘাত লাগার মত একটি বিষয় নিশ্চয়ই। আদালতের রায় যদি বিপক্ষে যায় জনগনের বিরুপ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে কোন সরকার সে দিকে তাকিয়েও দেখেনি।
আজকে যারা হম্বিতম্বি করে জনগনের সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টায়রত: ছিলেন-রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, "ছিল, আছে, থাকবে" বলে রাজপথ কাঁপানোর হুমকি ধমকি দিচ্ছিলেন-তাঁরাও কমপক্ষে দুইবারে দশ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু এই রিট নিষ্পত্তির কোন উদ্যোগ নেননি। সুযোগের সদ্বব্যবহার করার জন্য অথর্ব, অযোগ্য রাজনৈতিক দল ও ব্যাক্তি সকলেই কোমরে গামছা বেঁধে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অযোগ্য বলছি এই কারনে,- আদালতের রায়ের পর সরকারের প্রতিক্রিয়া বা রায় বিপক্ষে গেলে সরকার আপিল করে কিনা বা সরকার মামলায় লড়ার কেমন প্রস্তুতি নিয়েছেন -কোন কিছু বিবেচনা না করেই কোমরে মোটা রশি বেঁধে পেলেছেন নাস্তিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য।"
অনৈতিক, অরাজনৈতিক, আইন অমান্যকারিদের দ্বারা আর যাই হোক রাজনীতি হয়না, দেশ শাষনও হয়না। আদালতের বিচারাধীন বিষয় নিয়ে হরতাল, আন্দোলন, মন্তব্য আমাদের দেশে পান্তাভাততুল্য হয়ে গেছে। আদালত না মানার সংস্কৃতি সৃষ্টির আপ্রান চেষ্টা হচ্ছে কোন কোন মহল থেকে, ইহা দিবালোকের মতই সত্য।
আমার সহজ সরল প্রশ্ন হচ্ছে, নবীর কর্মে যাহা ছিলনা, হাদিছে যাহার উল্লেখ নাই, সাহাবীদের শাষনে যাহা ছিলনা, আলেম উলামাদের নির্দেশনায় যাহা অতীতে কোন দিন প্রকাশিত হয়নি,সর্বশেষ কোরানে যাহার নির্দেশ নাই।এই বিষয়টি নিয়ে মনের ভিতর উকি দেয়া দুটি প্রশ্ন সকলের উদ্দেশ্যে রেখে যেতে চাই---
(১) মাওলানা সাহেবেরা যে আন্দোলনের হুমকি দিলেন (কোরানের আলোকে) -বিরুদী দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য যে উস্কানী দিলেন, ইহা কতটুকু শরিয়ত সম্মত হয়েছে।
(২) ইহুদিদের রচিত বিধি গনতন্ত্র এবং মানুষের সৃষ্ট সংবিধানে "আল্লাহর ধর্ম ইসলাম" কে সংযোজন কতটুকু শরিয়ত সম্মত হয়েছে?
জাতির জনকের কন্যা অত্যান্ত প্রাজ্ঞ রাষ্ট্র নায়ক। তিনি সচতুর ভাবে, মনযোগ সহকারে বিষয়টি পয্যবেক্ষন করেছেন।রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাবের পরিচয় তুলে ধরেছেন।বিষয়টি যেহেতু ৫ম এবং ৮ম সংশোধনী সম্পৃত্ত সেহেতু আদালত রায় কি দিতে পারেন তিনি জানেন। সুতারাং এখানে বাড়াবাড়ি করে গর্তের শৃগালকে বের হওয়ার সুযোগ দিয়ে লাভ নেই। আদালত আন্দোলনকারিদের মুখে চুনকালি মেখে আবার গর্তেই প্রবেশের রায় দিয়েছে। সংশোধন বাতিল রায় যথারীতি বহালই আছে,ভবিষ্যতেও ইনশাল্লাহ বহাল থাকবে।
------------------------------------
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন