সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোরতায়-সরকারি কর্মচারিরা বলির পাঠায় পরিনত:---
♥__________________________________♥
এই প্রথম কোন স্থানীয় নির্বাচনে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী কর্মকর্তা /কর্মচারিদের চাকুরী গড়ে হারানো ও জেল জরিমানার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে।এর আগে বিচ্ছিন্ন দু একটি উদাহরন থাকলেও গড়পড়তা ছিলনা।
কমিশন সুত্র ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এলাকার জগনের মতামতের ভিত্তিতে জানা যায় -- নির্বাচনে পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্ব-স্ব এলাকার জনগনও সন্তুষ্ট। অনিয়মের কারণে প্রথমধাপে ৬৫টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এগুলোতে ভোটগ্রহণ করা হবে। সাতক্ষীরায় ১৪টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টিতে ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাতক্ষীরার যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে সেখানে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ও যেসব উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে সেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কমিশনে এসে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
অন্য যেসব জায়গায় ভোট বন্ধ করা হয়েছে সেগুলোতেও তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানা গেছে।
গতকাল সন্ধায় আবদুল্ল্যা আল নোমানের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন কায্যালয়ে বিএনপির একটি প্রতিনীধি দল নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ করে ৫০ টি ইউপির ভোট পুর্ননির্বাচনের দাবি করেন।যে সমস্ত ইউপির সম্মন্ধে বিএনপি অভিযোগ উত্থাপন করেনি ঐ সমস্ত ইউপির নির্বাচনও বাতিল করেছেন নির্বাচন কমিশনার।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার বলে রাখতে চাই, বিএনপিকে মাঠে ময়দানে, রাজনীতি এবং নির্বাচনে সংগঠিত ভাবে রাখার জন্য সরকারের অভ্যন্তরে এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে নি:সন্দেহে বলা যায়। তবে ইহা একান্ত বাস্তব সত্য যে স্বতন্ত্র এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ না নিলে কোন কেন্দ্রেই এজেন্ট পেতনা বিএনপি। আওয়ামী লীগ /বিএনপি থেকে যারা সুষ্ঠ নির্বাচনে জনগনের মতের প্রতিফলনে নির্বাচিত হয়েছেন আমি তাঁদের অভিন্দন জানাই -"তাঁরাই সত্যিকারের রাজনীতিবীদ।"
বিএনপিকে রাজনীতি, নির্বাচনে ধরে রাখার জন্য সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারিদের এবং আওয়ামী লীগ তাদের নেতাকর্মিদের অকাতরে বলি দিতেও কুন্ঠাবোধ করছেনা। ইতিমধ্যে শতাধিক পুলিশ চাকুরি হারাবার সীমানায় অবস্থান করছেন।প্রিজাইডিং অফিসারদের মধ্যে শিক্ষকের সংখ্যা অত্যাধিক। তাঁদের অনেকেই চাকুরী হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।অনেকআওয়ামী নেতা জেলে বন্দি রয়েছেন।অনেকের জীবনহানী এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরনের পয্যায় রয়েছে।
একশ্রেনীর মাস্তানদের দল নমিনেশন দিয়ে, কতগুলি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির জীবন জীবিকার উপর আঘাত আসছে তা কি কোন রাজনীতিবিদ বা দল চিন্তা করছে?
যেই সমস্ত প্রার্থী সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ব্যাখ্যা দিয়ে জনগন থেকে ভোট আদায় করে নিয়ে আসতে পারবেনা ধারনা করেছে তাঁরা কি আদৌ দলের মঙ্গল কামনা করে? নৌকা বা ধানের শীষ কি তাঁর নীজের মার্কা? যে ব্যাক্তির দলের সমর্থনের উপর আস্থা নেই, সরকারের এত উন্নয়ন কর্মকান্ডের উপর আস্থা নেই, তাঁর নীজের ব্যাক্তিত্বের উপর আস্থা নেই -সেই ব্যাক্তি ভোটে নমিনেশন চাইবে কেন? আওয়ামী লীগ বিতর্কিত পঞ্চাশটি ইউপি না ফেলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বা দলের অভ্যন্তরে এমন কি কম্পনের সৃষ্টি হত? পুর্ননির্বাচন ঘোষিত ৬৫ টি এককভাবে বিএনপিকে বা অন্য আর কোন দলকে বিনাভোটে দিয়ে দিলেও এক- তৃতীয়াংশ ইউপিতে তাঁদের বিজয় সম্ভব হতনা। তবে কেন সাতক্ষিরা সহ অন্য আরো দুই একটি জায়গায় ভোট কারচুপি করার সুযোগ দিয়ে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা হল?
এইক্ষেত্রে বিএনপির আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার কারনেও ভোটে কারচুপি হতে পারে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশও হতে পারে। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঝে যদি এইরুপ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার অভিযোগ থাকে- তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
এই কথাটি বলছি এই কারনে-বিভিন্ন থানায় দেখা যায় কিছু অফিসার ছাত্রদল/শিবিরের ক্যাডার ছিল। ব্যাক্তি গত ভাবে আমি তাঁদের জানি এবং চিনি।তাঁরা আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার হয়ে দল ও সরকারের বারটা বাজিয়ে দিচ্ছে-সুযোগ সন্ধানী আওয়ামী নেতাদের কারনে।
বিএনপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী বাদবাকি ৫৪৭ ইউপি সম্পর্কে তাঁদের কোন অভিযোগ নেই। অভিযোগ না থাকলেও মিডিয়ায় বার বার ১৫/ ১৬ ইউপির ভোট কারচুপির সচিত্র প্রতিবেদন ফলাও করে দেখানোর ফলে জনমনে সুষ্ঠ নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপারে নেতিবাচক ধারনার জম্ম হওয়া কি অস্বাভাবিক?
আওয়ামী লীগ বা অন্যকোন দলের প্রার্থী জিততেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা তাঁদেরকে দলের পক্ষ থেকে কি দেয়া হয়েছিল? ঘুষের বিনিময়ে উক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ভোট কারচুপিতে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল কিনা আগে তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এইরুপ কর্মে তাঁদের বরখাস্তাদেশ মেনে নেয়া যায়।
যদি তাই না হয়, সরকারি দল বা অন্য কোন দলের প্রভাবের কারনে কারচুপি সংগঠিত হয় তাহলে সরকারি কর্মচারিদের চাকুরি বরখাস্তের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষমতাধর নেতার বহিস্কার হওয়া প্রয়োজন।
যিনি নমিনেশন প্রদানে মুর্খ্য ভুমিকা পালন করেছেন, তাঁর সহযোগি যারা ছিলেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদেরকে স্ব-স্ব দল থেকে বহি:স্কার করা উচিৎ। তাঁদের প্রভাব প্রতিপত্তির কারনেই চাকুরির উপর নির্ভরশীল বেশ কিছু পুলিশ অফিসার, সাধারন গরিব পুলিশ, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারির জীবন জীবিকার উপর অসহনীয় দুর্ভোগ নেমে আসবে দিব্যি চোখেই দেখা যাচ্ছে।
কঠোরতা যদি সবমহল থেকে করা হবে-তবে প্রার্থী নির্বাচন তৃনমুল থেকেই করা উচিৎ ছিল।,তাহলে আজকের এই মড়ার ফাঁদে কাউকেই পড়তে হতনা।দল এবং সরকারের ভাবমুর্তির উপরেও আঁছড় পড়ার কোন সম্ভাবনা ছিলনা।
প্রথম ধাপের নির্বাচনের কঠোরতার কারনে অন্যধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিএনপির পরামর্শের উপর নির্ভর করে তদন্ত ছাড়াই বরখাস্তের আদেশ কতটুকু আইন সিদ্ধ তাও ভেবে দেখা দরকার সংশ্লিষ্ট মহলের। নির্বিচারে গুলি করে হত্যার মত কারন সৃষ্টি হয়েছিল কিনা তাও তদন্ত করার দরকার।নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ষড়যন্ত্রেকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না।
পরিশেষে বলতে চাই,নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর হোক দেশবাসি কামনা করে।অযথা কোন মহলকে সুযোগ দিতে যেন কাউকে বলি দেয়া না হয় সেই দিকেও নজর রাখা দরকার সংশ্লিষ্ট সব মহলের।
___________________________
জয়বাংলা বলে আগে বাড়ো
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম
♥প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা♥
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন