সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থলোপাট--আমাদের মুল্যবোধের মাত্রাজ্ঞান---
♥~~~~~~~~~~~♥
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থচুরি দেশের জন্য বড় অশনি সংকেত নি:সন্দেহে। গত দুই তিন দিন যাবত: অনেকেই অর্থ কেলেংকারির ঘটনায় সরকারের উচ্চমহল জড়িত আছে বলে জনগনকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি ও বিশ্বাস করি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জড়িত না হলে এই কাজটি করা সহজ হতনা।
অশুভ চক্রটির সমর্থক গোষ্টি পেইজবুক সহ সামাজিক অন্যান্ন মাধ্যমে আকারে ইঙ্গিতে আই, টি বিশেষজ্ঞ মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পুত্র জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে মন্তব্য করতেও ছাড়ছেন না।এবং কি আমার মত কাঁচা বস্তাপঁচা লেখকদের লেখায় কমেন্ট করে বলে যাচ্ছেন তাঁদের সন্দেহের বিষয়াবলী।তাঁরা বন্দুকের নিশানা ঠিকই নিয়েছে--সজীব যেহেতু আই,টি বিশেষজ্ঞ, টাকা চুরির ঘটনাটিও আই,টি সংক্রান্ত। সুতারাং সুযোগ হারানো যাবেনা, সাধারন মানুষকে সহজেই ভাগে আনার এইতো সময়।
"সাঈদীকে যেদিন চাঁদে দেখা গেছে সেই দিন থেকে মিডিয়া ষড়যন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে। এরপরেও আহম্মকের দলের শিক্ষা হয়নি। সামান্যতম হুশ জ্ঞান হয়েছে বলে মনে হয়না।"
আমি তাঁদের উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে একটি কথাই বলব, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন বহুকাল থেকে আমার মত পাতি লেখকদের মনের ভাব প্রকাশ করার কোন মাধ্যম ছিলনা। পত্রপত্রিকা যাই ছিল প্রতিষ্ঠিত লেখক সাংবাদিকদের লেখা চাপালেও কালেভদ্রে অনেক চেষ্টা তদবিরে আমার মত পাতি লেখকদের লেখা পত্রিকার চিঠি পত্র বিভাগে ছোট আকারে স্থান করে নিতে অনেক কষ্টই হত। সারা বাংলাদেশের সব লেখক সাংবাদিক একত্র করে গুনে ১০/২০হাজার পুর্ন করার যুগ ছিলনা। পাঠের জন্য ১/২দিনের বাসি পত্রিকা পেতে অনেক ঘাম জরাতে হত। সেই অবস্থান থেকে মাত্র ৪/৫বছরের ব্যবধানে আমরা সাধারনেরা এমন এক মাধ্যম পেয়েছি-যে মাধ্যমে আমার বউ কি রাঁধে, আমি কি খাচ্ছি সেকেন্ডের মধ্যে সারা পৃথিবীর মানুষকে জানাতে পারি, তাঁদের জীবন্ধারাও আমি জেনে নিতে পারছি। আমি শুধু উদাহরনের জন্য বলছি-সম্মান শ্রদ্ধা রেখেই বলছি-স্বনামধন্য লেখক জনাব আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা যদি এক লক্ষ মানুষ পড়ে-আমার বস্তাপঁচা লেখাটিও নিদেনপক্ষে দশ হাজার মানূষ হলেও পড়ে। ব্যবধান শুধু এইটুকু-জনাব গাফফার সাহেবের লেখা হয়তোবা ইতিহাসের অংশ হবে-আমার লেখা হবেনা। পাঠক উনারও আমজনতা আমারও তাই।
এইযে অবারিত সুযোগ পেলাম, এই সুযোগকে আমি যথেচ্ছ ব্যবহার করতে পারি? ৪/৫বছর আগে যেখানে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা উপভোগ করেছে সর্ব- সাকুল্যে ২০হাজার লেখক।সেখানে বর্তমানে প্রায় আট থেকে নয় কোটি মানুষ একই বিষয়, একই সময়ে- তাঁর মতামত স্বাধীনভাবে, ইচ্ছামত, যেভাবে মন চায় সেইভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে। আর সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার অন্যতম কর্ণধার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জনাব সজিব ওয়াজেদ (জয়)।শুধু মতামত আমার ওয়ালে নয়, অন্যের লেখায় আমার মতামতও সন্নিবেশিত করার সুযোগ আমরা আমজনতা পেয়েছি শ্রেষ্ঠ সামাজিক মাধ্যম পেইজবুকের মাধ্যমে। অনেক আগে যদিও মাধ্যমটির প্রচলন উন্নত বিশ্বে শুরু হয়েছিল কিন্তু আমাদের দেশে মাধ্যমটি এসেছে বিগত ৪/৫ বছর আগে,সর্বসাধারনের ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছি আরো ২বছর পর।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুত্র চুরির দায়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে,একজনের বিদেশে মৃত্যুও হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের গায়ে যদি কিছু রঙ লাগানো যায় মন্দ কি!! আমার কলামের মন্তব্য কারিরা বেশির ভাগ খালেদার মতই স্ব-শিক্ষিত বলে মনে হয়েছে আমার। মন্তব্য লেখার মাধুয্য এবং শব্দের বানান রীতি লক্ষ করে আমি যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তাতে মনে হয়েছে হাইস্কুল পার হতে পারেনি একজনও।
তাঁদের নিকট আমার সবিনয় জিজ্ঞাসা, আপনার বিশ্বাসের শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু? আদৌ আছে, নাকি মায়ের মতই স্ব-শিক্ষিত? আপনিও কি তাই? যদি তাই না হন হীনমন্যতায় ভুগছেন কেন? আপনি কি জানেন না- হিন্দু জমিদার অধ্যুষিত বাংলায় যে কয়জন মুসলিম জমিদার ছিলেন-তাঁর মধ্যে ফরিদ পুরের শেখ পরিবার অন্যতম একটি পরিবার?সেই পরিবারের বংশধর রাষ্ট্রীয় অর্থ চুরি করা লাগবে? তাঁর যে লেখাপড়া আছে-এই লেখাপড়ায় কি সাচ্ছন্দে পরিবার পরিজন প্রতিপালন করা যায়না? আপনি যে মন্তব্যটা সামাজিক মাধ্যম পেইজবুকে করেছেন, সজিবের জম্ম না হলে- বিশ বছর পরেও করতে পারতেন কি?
আপনার বিশ্বাসের একদা চেড়াগেঞ্জী আর ভাঙ্গা স্যুটকেসের মালিক- বৃটেনের মত ব্যায়বহুল শহরে বছরের পর বছর ভাড়া বাড়ীতে পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে থাকে-চিন্তা করেছেন কখনও? ডান্ডি ডায়িং, কোকো জাহাজ, একাদিক বাড়ী, কালোটাকা (যাহা কর পরিশোধ করে খালেদা জিয়া নিজেই সাদা করেছে) কোত্থেকে এসেছে এই বিশাল সম্পদ-ভেবে দেখেছেন কখনও?
আমি স্বীকার করছি বিগত সরকার সমুহের রাষ্ট্রীয় বাজেটের অর্ধেকাংশ টাকা হ্যকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হয়েছে।তাঁরপরও বর্তমান সরকারের অর্থনীতিতে কোন প্রভাব পড়বেনা বলে মনে করি। অতীতের সরকার সমুহের পাঁচগুনেরও বেশী শুধুমাত্র বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বাজেট। তাছাড়া এই চুরি শুধু বাংলাদেশেই ঘটেছে তাই নয়, আমেরিকার মত উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর দেশে আরো অনেক আগেই ঘটনাগুলি ঘটেছে। তাই বলে তাঁদের দেশের বিরুদীদল বা জনগন ওবামা পুত্রকে দুষারোপ করেনি।এর অর্থ এই নয় আমি চুরিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি,আমি আপনাদের মুল্যবোধের, হীনমানষিকতার,শিক্ষার,চিন্তাচেতনার মাত্রাজ্ঞানকে ঘৃনা জানানোর উদ্দেশ্যে বলছি।
আমার দৃড বিশ্বাস, হলমার্ক, পুঁজিবাজার লুটের বিরুদ্ধে সরকার যেই দৃডতা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করেছে- ঠিক একই দৃডতায় হ্যকিংয়ের ঘটনাটির বিরুদ্ধেও সরকার ব্যবস্থা গ্রহন করবে।প্রকৃত দুষি ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করবে।
অবশ্য সকারের এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর তাৎক্ষনিক পদক্ষেপে আশ্বস্ত হওয়ার যথেষ্ট উপকরন আছে।ইতিমধ্যে নেয়া ব্যবস্থা সমুহ যথাযথ বলে জনমনে স্বস্থির আবহ তৈরী হয়েছে।
সরকারের একাদিক এজেন্সি তদন্ত শুরু করে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেছেন- তদন্তের স্বার্থে তাঁরা যে কাউকেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। প্রয়োজনে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেখানে পদ-পদবি তাদের কোন বিবেচনায় আসবে না। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এবং লুট হওয়া টাকাও ফেরত আনতে পারবে বলে সিআইডি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সি আইডি দুইটি বিষয়ের উপর জোর দিচ্ছেন--
(এক) সদ্য নিয়োগ পাওয়া আইটি কনসালটেন্টের মৌখিক পরামর্শে সব বিভাগ, সেল, ইউনিট, উইং এবং শাখা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও সার্ভারের সরবরাহকৃত সিকিউরিটি প্যাচ নামের সার্ভার ইনস্টল করা হত। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সব তথ্য ফাঁস হওয়ার আশংকা করছেন সিআইডি সহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।
(দুই) চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার আগে থেকেই কেন ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিলিং রুমের দুটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বিকল ছিল? যার ফলে ওই ঘটনার সময় ডিলিং রুমে কারা ছিল, সুইফট কোড ব্যবহার করে কারা কাজ করছিল- তা নির্ণয় করার চেষ্টা করে
যাচ্ছেন তদন্ত দল।
উপরে উল্লেখীত দুই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে বলে সি আইডি সুত্র নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় জড়িত ম্যানিলার ৬ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপাইন। এর মধ্যে কিম উন নামে চীনের এক নাগরিক ফিলিপাইন ছেড়ে হংকংয়ে পালিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে ফিলিপাইনের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে চলে যায় মোট ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। ফিলিপাইনের ব্যাংকে যাওয়া এই অর্থ পাচারের সঙ্গে চীনের ওই নাগরিক অন্য ৫ জনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে ম্যানিলার অর্থপাচার বিরোধী কাউন্সিল (এএমএলসি) জানিয়েছে।
উপরে উল্লেখিত বিষয় সমুহ পয্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঘটনার সুত্র, প্রকৃত দুষি ব্যাক্তি, ডলারের পরিমান ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত হয়েছে। কোনভাবেই সরকারের সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে অশুভ চক্রের মাথায় ভাঁজ পড়েছে। ষড়যন্ত্র, চক্রান্তের রাজনীতির স্থায়ীত্ব বেশি দিন থাকেনা।
অবিবেচক বিরুদীদল চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন না ঘটালে পতনের গতি আরো দ্রুতই হবে মনে করি। সত্যের জয় চিরকাল,মিথ্যার পতন অবশ্যাম্ভাবি।শুধু প্রয়োজন ধৈয্য, সহনশীলতা, আত্মবিশ্বাস, একাগ্রতা, ক্ষিপ্রতা, বিচক্ষনতা, সর্বপুরী অগাধ দেশপ্রেম। এইসমস্ত গুনের সব গুলিরই অধিকারি জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই তার একাধিক প্রমান জাতি হাতেনাতে পেয়েছে বলে আমি মনেপ্রানে বিশ্বাস করি।
সত্যের জয় হোক, মিথ্যা নিপাত যাক
জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন