সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
আমরা মুজিবাদর্শের লড়াকু সৈনিক:--- আদর্শ বিসর্জনে মহাখুশী--------------!!
_____________________________
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্যে আদর্শ, দর্শন শিক্ষায় শিক্ষিত, দলের অনুগত নেতাকর্মীর-অভাব প্রচন্ডভাবে অনুভুত হচ্ছে।অতীতে জাতির জনকের আদর্শ ধারন করে এমন অনেক নেতা কর্মী দেখা মিলতো, যারা নীজের জীবন যৌবন কখন হারিয়ে বৃদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে উপস্থিত হয়েছেন নীজেই জানতেন না। হাজার হাজার নেতাকর্মী চিরকুমারত্বকে সঙ্গে নিয়ে পরপারে চলে গেছেন- অনেক আগেই।
উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শকে রাষ্ট্রীয় পয্যায়ে বাস্তবায়ন করে বাঙ্গালী জাতির মধ্যে ধর্মীয় বিভাজনের যে হিংসা বিদ্বেষ প্রোথিত করে দিয়েছিল স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর মুল ঊৎপাটন। ভাষা শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ কে আলীঙ্গন। বাঙ্গালীর হাজার বছরের লালিত সংস্কৃতি ও কৃষ্টির মহিমায় গড়ে উঠা জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সোনার বাংলা গঠন।
ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ধারণা উপমহাদেশে ভুল প্রমানীত হয়েছে,জাতিকে হিংসার চরমে নিয়ে গেছে। শতশত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তাঁর প্রকৃষ্ট প্রমান।আরবের জাতিয়তাবাদও গড়ে উঠেছে ভাষার ভিত্তিতে। ইসলাম ধর্মের বধ্যভুমি হওয়া সত্বেও তাঁরা ধর্মভিত্তিক জাতিয়তাকে প্রশ্রয় দেয়নি।তাঁদের ভাষার জন্য এবং আরবে জম্ম গ্রহন করায় নীজেদের ধন্য মনে করে।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে উঠা জাতীয়তা বোধের উম্মেষের পরিনতি মুক্তিযুদ্ধ।ভাষা আন্দো -লনের মুল চেতনাই ছিল অসাম্প্রদায়িক। মুক্তিযুদ্ধকে মনেপ্রানে ধারন করলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে এসে যায় অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা তথা ধর্মনিরপেক্ষতা।
রাষ্ট্র ভাষা ও সংস্কৃতিক আন্দোলন ভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে আলিঙ্গন , বিভাজনমূলক রাজনীতিকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ এবং ঐক্যবদ্ধতামূলক দর্শনকে ধারণ করা ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গিকার। আর তাই বঙ্গবন্ধু মুজিব ১৯৭২ এর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সন্নিবেশিত করেন।'৭২ এর সংবিধানই মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারের পুর্ণ প্রতিফলন।
সাম্প্রদায়িক রাজনীতির লক্ষ্য হল- রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে বিনষ্ট করা এবং ধর্মভিত্তিক বিভাজনকে উস্কে দেয়া। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা স্পষ্টতই আমাদের স্বাধীনতার মূল্যবোধের পরিপন্থি।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল সংক্রান্ত রিট খারিজের পর মুজিব সেনাদের উল্লাস দেখে আশ্চায্যই হলাম। আওয়ামী লীগের রাজনীতির মুল চালিকাশক্তি 'দর্শন ও 'আদর্শ' বাদ দিয়ে কিসের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে দল? আদর্শ, দর্শনের মৃত্যু হলে দলের কি মৃত্যু হয়না? আওয়ামী লীগের মৃত্যু কি অনিবায্য? জাতির জনকের কন্যা জাতির জনকের আদর্শকে নীজ হাতে হত্যা করবেন? আমাদের নেতাকর্মীরা কিভাবে ভাবেন?
আওয়ামী লীগ বর্তমান সময় পয্যন্ত-জাতির জনকের আদর্শের বাহিরে এককদম দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করেনি। প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুর কথা বলেই জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসছে।প্রধান মন্ত্রী নীজেও এখন পয্যন্ত জাতির জনককে স্বরন ব্যতিত তাঁর বক্তব্য শুরু করতে আমি দেখিনি। যে কিংবদন্তি নেতার গুনগান গেয়ে ২১বছর পরেও ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে দল- তাঁর আদর্শকে বর্জন করবে আওয়ামী লীগ? কি করে সম্ভব? কখনও হতে পারেনা! কখনও নয়, আমি বিশ্বাস করিনা।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী মুসলিম লীগ দলের মৃত্যু হয়েছে ভুল দর্শন গ্রহনের কারনে,পাকিস্তান দ্বিখন্ডিত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের উদ্ভব হল ঠিক একই কারনে।আরও বহুধাবিভক্ত হওয়ার প্রহর গুনছে কম করে হলেও তিনটি প্রদেশ।
চোখের সামনে একাধিক উদাহরন থাকার পরও মুজিব সৈনিকেরা কি করে উল্লাস করতে পারেন? বর্তমান আওয়ামী লীগ মুজিব আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে?আওয়ামী লীগ এবং মুজিব আদর্শের আওয়ামী লীগের মধ্যে আদর্শগত ও দর্শন ধারনগত মতাদর্শে বড় রকমের শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে এই শুন্যতা দুরীকরনে অচিরেই পদক্ষেপ না নিলে চরম মুল্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে এই শুন্যতা পুরন করতে হবে।
নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক "জ্ঞানের পরিধি" শুন্যতার পিছনে আমি 'ঘুরে ফিরে' একটি কারনই উৎঘাটন করতে পেরেছি। আর তা হল,--" জ্ঞানের অভাব,লেখাপড়া না করা,নেতার স্তুতিতে সর্বক্ষন ব্যয়, নেতাদের আমিত্বের অহংবোধ,কর্মিদের ব্যক্তিগতকাজে ব্যবহার, নতুন নেতৃত্ব বিকাশে সর্বক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি।"
মহামান্য আদালত 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের' রিট খারিজ করেছে।খারিজের অর্থ কি পুর্নবহাল?পঞ্চম সংশোধনী সর্ব উচ্চ আদালত বাতিল করেছে।অষ্টম সংশোধনীও বাতিল করেছে।দুই সামরিক সরকারের করা আইন বিধি শাষন বাতিল বলে রায় দিয়েছে।রিট পিটিশন বাতিল হলে রাষ্ট্র ধর্ম বহাল হবে কোথায়? আদালত পঞ্চম সংশোধনী বাতিল রায় আবার বাতিল করেছে?সংশোধনী থাকলেইতো বহাল হবে,না থাকলে কোথায় হবে?
এইখানেই বিষয়টি মহত্ব নিহীত আছে,"আদালত কতৃক ৫ম/৮ম সংশোধনী রায়ের আংশিক কায্যকর করেছে সরকার, "বাদবাকী অংশ গ্রহন বর্জন কিছুই করেনি" -আগামী প্রজম্মের জন্য তুলে রেখেছেন জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী" ২০৪১ সালে রুপকল্প" বাস্তবায়িত হয়ে উন্নত,সমৃদ্ধ শিক্ষিত জ্ঞানভিত্তিক জাতিগঠন করে তাঁদের নিকট থেকে রায় নিয়ে বাস্তবায়ন করবে নতুন প্রজম্মের তেজস্বী কোন একনেতা। তাঁর আগে উন্নত,শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গঠন করার জন্য যত টুকু ছাড় প্রয়োজন দিয়ে যেতে রাজী আছেন দেশরত্ম। সেই পয্যন্ত মহাখুশী থাকুন মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনীক বন্ধুরা।
রাজনীতি শেখার জানার বুঝার সময় এখন কোথায়, ডিজিটাল যুগের ছেলে মেয়েরা এনালগের ইয়া বড় পুস্তক পড়বেইবা কেন? মাঠে ঘাঠে নেতা জনগনের মাঝে বিচরন করে তাদের মনের ভাষা স্লোগানে শ্লোগানে দাবিতে রুপান্তর করতেন। রুপান্তরীত দাবী নেতার মুখে প্রকাশ পেত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে।বর্তমানের রাজনীতিতে নেতার নির্দেশ তৃনমুলে বাস্তবায়ন করার নিমিত্তে গড়ে তোলা হয় একাধিক সিন্ডিকেট । নিয়ন্ত্রন করা হয় দল ও সরকার। ভাইয়ের জায়গা দখল করেছে বস-নির্দেশনা দাতার পরিচিতি বেড়ে হয়েছে হাই কমান্ড।জনগনের নেতা নিয়ন্ত্রনের ভার -চলে এসেছে নেতায় কর্মী নিয়ন্ত্রনে।
""হতেও পারি আদর্শচ্যুত""------------
_______________________________
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন