২৭শে মার্চ সাম্প্রদায়িক চেতনার দ্বিতীয়বার কবর রচিত হবে ---জাতি আশায় বুক বেঁধেছে--- ♥~~~~~~~~~~~~~♥ বাংলাদেশের সংবিধান সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম লিখিত একটি দলিল আকারে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।দেশ বিদেশের অভিজ্ঞ সংবিধান বিশারদেরা এই সংবিধানের ভুয়সি প্রসংশা করে একাধিক প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেছিলেন তৎসময়ে।জাতির জনকের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের আলোকে জনমানুষের চাহিদার প্রতি সম্যক যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন, তাঁর সবটুকু উজাড় করে এই সংবিধান সৃজনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তরুন কিন্তু অভিজ্ঞ কিছু আইনজ্ঞ ও পোড় খাওয়া কয়েক রাজনীতিবিদের হাতে।তাঁর নির্দেশ ও পরামর্শ নিয়ে তাঁরা স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রনয়ন করে ছিলেন তৎসময়ের গনতান্ত্রিক বিশ্বের সেরা সুলিখিত সংবিধান,- "গনপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকার" শিরোনামের বিখ্যাত রাষ্ট্র পরিচালনার দলিলটি। পরিতাপের বিষয়টি হচ্ছে আজকে সেই সংবিধানের চিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই।যা আছে তা পোষ্ট মর্টেম করা পঁচাগন্ধযুক্ত লাশ।তাই বলছিলাম ১৯৭২-এর সংবিধান নেই। কমপক্ষে পনের বার অপারেশনের পর এখন যা আছে, তা ১৯৭২এর ধ্বংসাবশেষ মাত্র। মর্মর অবস্থায় কোন ররকমে নি:শ্বাসটা বের হয়ে জানান দিচ্ছে আমাকে তোমরা চিকিৎসা কর,আমি ভাল হয়ে যাব। বর্তমান সরকার বড় রকমের সুযোগ পেয়েও ১৯৭২-এ ফিরে যায়নি। আমাদের সংবিধানের উপর স্বৈরাচারী সরকার সমুহ অনেক আঘাত করেছেন। জিয়া-এরশাদ তালিকার শীর্ষে। ক্ষমতায় থাকার জন্য দুজননেই সংবিধানকে তাদের বাপদাদার সম্পত্তির মতো করে একবার পুকুর কেটেছে,একবার দিঘি কেটেছে। ইচ্ছামত অপারেসন করে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন। সবচেয়ে বড় অপারেশনটি করেছে কুখ্যাত খুনী মেজর জিয়া ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে।সংবিধানের হাত,পা মাথা যা ছিল সব কেটে ফেলে দিয়েছেন। স্বৈরাচার এরশাদ ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে অস্থিমর্জ্যাই বের করে ফেলে দিয়েছেন,সেখানে স্থাপন করেছে ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টির চেতনার ক্যাপসোল। সেনা শাষকদ্বয়ের দুটি সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ পুনরায় পাকিস্তানের মতো একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হল। আদালতের রায়ের বর্ননানুসারে অবশ্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭২এর সংবিধানে ফিরে আসতে পারত।রায়ের ব্যাখ্যায় বর্ননায় যা পাওয়া যায় তাতেই ৭২ এর সংবিধান পুন:জ্জিবিত কোন সন্দেহ নেই। সরকার শুধু ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল’ অংশটুকু গ্রহণ করেছেন। রায়ের বাকি অংশ দীর্ঘ দিন ধর্মব্যবসায়ীদের শাষনে অদৃষ্টবাদিদের যে উত্থান ঘটেছে তাঁদের এবং নব জম্মনেয়া উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীদের সন্তুষ্ট করতে বাদবাকি রায় এড়িয়ে গেছেন। লাভ কি হল? সরকার কি তাঁদের কালোথাবা থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে রক্ষা করতে পেরেছেন? নাকি তাঁদের হত্যা তালিকা থেকে জাতির জনকের কন্যার নাম বাদ দিতে পেরেছেন? নবী করিম (স:)এর বিশ্বস্ত সাহাবী খোলাফায়ে রাসাদীনের তিন খলিফাও তাঁদের বিষাক্ত ছোঁবল থেকে রক্ষা পায়নি, জাতির জনকের কন্যা কিভাবে পাবেন আশা করেন? যাইহোক রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে ২৮ বছর আগে দায়ের করা রিট-পিটিশনের উপর পুনরায় শুনানি শুরু হচ্ছে ২৭ মার্চ ২০১৬ইং তারিখে।যেহেতু পুর্ববতী রায়ে ৫ম ও ৮ম সংশোধনী বাতিল করেছে, মেজরদ্বয়ের শাষন অবৈধ ঘোষনা করেছে,সেহেতু২৭শে মার্চের রাষ্ট্র ধর্মের উপর শুনানীতে "রাষ্ট্র ধর্ম" বাতিল হচ্ছে ইহা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই রীট যারা করেছিলেন সেই স্বনাম ধন্য ব্যাক্তিবর্গ এত দিন জীবিত থাকার কথা নয়। তাঁদেরকে মরনোত্তর অভিনন্দন জানাই।যারা জীবিত আছেন তাঁদের প্রতিও রইল অগ্রিম প্রানঢালা ভালবাসা। হাইকোর্টের দেরিতে হলেও হুঁশ হয়েছে রিটটির মীমাংসা হওয়ার দরকার, তাই কায্য তালিকার অন্তভুক্ত হয়েছে।দেশবাসী বিশেষকরে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের মানুষ চায় তাঁদের সংগ্রামের, যুদ্ধের অঙ্গিকার বাস্তবায়ন হোক। জনগন এটাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, মামলার রায় যাই হোক, স্বাগত জানাবেই। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আশা করে সরকার রায় যথাযথ বাস্তবায়ন করবেন। এ কথাটি বলার কারণ এই যে, বহু মামলার রায়ের কথা আমরা জানি, রায় অবজ্ঞা করেনি সত্য,বাস্তবায়নও করেনি সরকার। ভারতের মত পরমতসহিঞ্চু দেশেও রাজীব গান্ধী সরকার মৌলবাদীদের খুশি করতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে লোকসভায় "শাবনুর" মামলার রায় উল্টে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশেও বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আমরা চাই না তদ্রুপ কোন নজির স্থাপিত হোক। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এখন যে কোনো সময়ের চাইতে অনেক বেশি স্বাধীন।গনমানুষের যথেষ্ট আস্থা ফিরে এসেছে।জাতিয় ও আন্তজাতিক চাপ উপেক্ষা করে কোটি কোটি ডলারের লোভ সংবরন করে বেশ কিছু রায় ইতিমধ্যে বহাল রেখে জন আস্থার শিখরে আদালতকে নিয়ে যেতে পেরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মহামান্য প্রধান বিচারপতির কিছু পদক্ষেপ ও কথাবার্তায় জনগন আন্তরিকভাবে গ্রহন করেছে।যদিও বিচারপতি মহোদয় সম্পর্কে একাধিক ঘটনা বাজারে চড়িয়ে চিটিয়ে আছে- তিনি যে সাক্ষ-প্রমানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ইতিমধ্যেই তা প্রমান করতে পেরেছেন। সবচাইতে মজার ব্যপারটি হল দুই মন্ত্রীকে আদালতে তলব করে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন । একটি দেশের সাধারণ মানুষের সর্বশেষ আস্থার স্থল হচ্ছে আদালত।যে দেশের আদালত যতটা স্বাধীন সেই দেশের গণতন্ত্র ততটাই মজবুত। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা সদ্য দুই মন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেছেন - ‘দুই মন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের বক্তব্য নয়’- আওয়ামী লীগের বক্তব্যও নয়। প্রধান মন্ত্রী বিচক্ষনতার সঙ্গে জবাব দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সরকার এবং সরকারের বর্তমান প্রশাসন আদালতকে সমীহ করে। আমি সর্বান্তকরনে মনে করি জাতির জনকের কন্যা একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা দিতে পেরেছেন, "বর্তমান সরকার এবং সরকারের প্রশাসন চায় আদালত স্বাধীন ও বলিষ্ঠভাবে কাজ করুক।দেশে আইনের শাষন,আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফিরে আসুক।বিচার হীনতার সংস্কৃতির অবসান হোক।সে যেই হোকনা কেন আইনের চোখে সবাই সমান।অপরাধ করে কেউ যেন রক্ষা না পায়, এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হোক। পরিশেষে বলতে চাই, ২৩বছরের শাষন শোষন বঞ্চনার হাত থেকে মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিব জাতিকে মুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিকের মার্য্যদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাঙ্গালী জাতিকে একটি দেশ উপহার দিয়েছেন। অধিকারি করেছেন লাল সবুজের পতাকার, দিয়েছেন নীজেরা নীজেদের শাষন করার দলিল।সব কিছুই অবিকল ফেরৎ আনার আপ্রান চেষ্টারত: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার। আবেদন থাকবে '৭২ এর দলিলখানাও যেন ২৭শে মার্চ অপারেশন শেষে হাসপতাল থেকে আসার পর আপনার হাতে সুশ্রুষা পেয়ে যথামার্য্যদায় অবিকলকারে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সহ সর্বস্তরে প্রতিস্থাপিত হতে পারে তাঁর উদ্যোগ গ্রহন করবেন। জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু জাতির জনকের কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা

'৭২ এর সংবিধান অবিকল পুন:প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম জিয়ার সংশোধনীর পর থেকেই শুরু হয়।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার পুন:প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার ২০০৮ইং সালের নির্বাচনী ইসতেহারে সংযোজন করে। বিপুল গনরায় নিয়ে সরকার গঠন করার পর আইনী জটিলতার কারনে সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার থেকে সরে আসে।প্রখ্যাত মাজদার হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলায় ৫ম ও ৮ম সংশোধনী বাতিল হলে বিষয়টি আবার সামনে আসে।রায়ের কিয়দাংশ কায্যকর করে বাদবাকী অংশ আদালতে মামলার কারনে বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দেয়। এমত:বস্থায় আগামী ২৭শে মার্চ "রাষ্ট্র ধর্ম" এর উপর শুনানীর দিন ধায্য করে আদালত।আশা করা যায় রায় গনমানুষের আশা আখাংকার প্রতিফলন ঘটবে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg