সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, উন্নয়ন, অগ্রগতি, ধৈয্যের চাকায় পৃষ্ট করে----অশুভ শক্তির চক্রান্তের জবাব দিতে চান------
_______________________________
তারেক জিয়ার গোপন রাজনৈতিক আশ্রয়, ২৮বছর পর "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" বাতিল রিট শুনানীর জন্য উত্থাপন, শেখ হাসিনা বিহীন নির্বাচনের হুমকি সবকিছুই শক্তিধর রাষ্ট্রের গোপন ষড়যন্ত্রের অংশ।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাসহ অন্যান্য ১৩টি মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ায় গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলকে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল সচিবালয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দলিলাদি বিশ্লেষণের পর রেড নোটিশ জারি করেছিল।
সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা রেড নোটিশ প্রত্যাহার করেছে ইন্টারপোল।বিষয়টি অত্যান্ত সংগোপনেই করা হয়েছে।এই ধরনের নোটিশ প্রত্যাহার করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানোর বিধান থাকলেও সংস্থাটি তা জানায়নি।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইন্টারপোল জানায় তারেক প্রটেকটিব স্ট্যাটাসে আছে।
রাজনৈতিক আশ্রয়ের মতোই প্রটেকটিভ স্ট্যাটাসও বিদেশে আশ্রয় গ্রহণের অন্য একটি উপায়, হয়তোবা হতে পারে। কোনো তদন্তাধীন ফৌজদারি মামলায় বা বিচাধীন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করার বিধান ও দৃষ্টান্ত আছে। তারেক রহমান একাধিক ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্র ভুক্ত আসামি, যা আদালতে বিচারাধীন।এইরুপ ক্ষেত্রে রেড নোটিশ জারি হওয়া কোন ব্যাক্তি কোন দেশের সরকারের অনুমতিতে--সেই দেশে বসবাস করার জন্য বৈধ আশ্রয় নিতে পারে কিনা- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখছে।এইরুপ আশ্রয়ের ব্যপারটি গোপনীয় হবে কেন? ইন্টারপোলই বা কেন-কোন দেশের প্রটেকটিব স্ট্যাটাস পেয়েছে তারেক--বলতে অপরাগতা প্রকাশ করবে?
গত কিছু দিন আগে খালেদা জিয়া প্রকাশ্য তাঁর দলীয় কাউন্সিলে হুমকি দিয়ে বলেছে,বাংলাদেশে নির্বাচন হবে-তবে সেই নির্বাচন হাসিনা মুক্ত হবে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বিস্ময় প্রকাশ করে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন।
প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে গিয়ে প্রধান মন্ত্রী অনেকটা তকদির বাদীর মতই বলতে শুনা গেছে, "আল্লাহর হুকুম না থাকলে কেহ-ই মারতে পারবেনা।"
'৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট জাতির জনকের পরিবার, আত্মীয়স্বজন সহ হত্যা করা হয়েছিল-নিশ্চয়ই সবার মৃত্যু আল্লাহর হুকুমে হয়নি,'অনেকের অকাল মৃত্যুও হয়েছে।'সব আল্লাহর হুকুমে সংঘটিত হলে "অকাল " শব্দটি আদৌ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ছিলনা। আল্লহর হুকুম অবশ্যই থাকে,সাথে নীজের অসতর্কতার কারনে অকাল মৃত্যুকেও অস্বীকার করার উপায় নেই।
অপরদিকে গত ৭/৮বছর উচ্চ আদালতের রায়কে বিদ্রুপ করে বহু বিবৃতি বহুজনেই প্রধান করেছেন। রায়ের বিরুদ্ধে হরতালের প্রকাশ্য ঘোষনাও দিয়েছেন- কোন কোন রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব প্রাপ্ত মুখপাত্র। অনেক বুদ্ধিজীবিকে আদালতের কাঠ গড়ায় হাজির করলেও শাস্তি কাউকেই পেতে হয়নি।প্রকাশ্য রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দেয়া বক্তব্যের জন্য বা হরতাল ডাকার জন্য আদালত কাউকে সুয়োমটোও দেননি, কারো বিরুদ্ধে রুলও জারি করেননি।
বাংলাদেশ সরকারের দুইজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমনতর আদালত অবমাননায় শাস্তি দিতে কার্পন্য করেনি আদালত।একই সময় আদালতে ২৮বছর আগে করা রাষ্ট্র ধর্ম 'ইসলাম' সংযোজনের বিরুদ্ধে করা রিট কোন পক্ষ থেকে শুনানীর আবেদন না করা সত্বেও শুনানীর জন্য উত্থাপন করেছে।খবরটি প্রকাশের পরক্ষনেই মহল বিশেষের পক্ষ হতে বিক্ষোভ সমাবেশ, হরতাল, বিবৃতি ইত্যাদি খুব জোরের সাথেই দেয়া শুরু হয়েছিল।আগের মতই যুক্তি বা প্রসঙ্গ তুলতে গেলেই নাস্তিক, কাফের, মোনাফেক ইত্যাদি বিশেষনের ফুল- জুড়িও যথারীতি শুরু হয়েছিল।
ভয়ে দেশের বিশিষ্ট আলেম উলামারা বিষয়টির প্রয়োজন এবং ধর্মের সাথে সম্পর্ক আছে কি নেই--এই সম্পর্কেও ভালমন্দ মুখ খুলতে সাহষ করেনি।এইক্ষেত্রে দেখা গেছে 'আওয়ামী ওলামা লীগ' সবার আগে আগে হাঁটার চেষ্টাও লক্ষনীয়ভাবে ফুটে উঠেছে।এর আগেও তাঁদের কিছু বিতর্কীত ভুমিকা দেশবাসির দৃষ্টিতে সম্যক এসেছে। তবে কি ঘরের মধ্যেও কিছু বীজ '৭৫এর মতই বপন করা আছে ?
গতিবিধি, আচার আচরন লক্ষ করলে অনুধাবন করলে বুঝতে কষ্ট হয়না, জাতির জনকের কন্যার দৃষ্টিতে সবকিছুই স্পষ্ট আছে। তিনি ধৈয্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে সব কিছুই একের পর এক মোকাবেলা করে যাচ্ছেন। যথাসময়ে যথার্থ্য সিদ্ধান্তটি তাঁর কাছ থেকে জাতি পাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারিরাও ব্যপারটি বুঝতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বিরুধীতা করতেও দ্বিধা করছেনা। জনগনকে ধারনা দেয়ার আপ্রান চেষ্টা হচ্ছে -প্রধানমন্ত্রীর নিকট একক ক্ষমতা থাকা উচিৎ নয়।খমতা রাষ্ট্রপতির সাথে কিছুটা ভাগাভাগি করা দরকার। তাঁরা যখন খমতায় ছিলেন তখন ব্যপারটি তাঁদের মনেই ছিলনা-এখন মনে হচ্ছে।মনে হওয়ার মুল কারন বিশেষ বিশেষ মহুর্তে আওয়ামী লীগের অনেক দাপুটে নেতা পালিয়ে গেলেও জাতির জনকের কন্যা একাই যুদ্ধের ময়দানে সেনাপতির ভুমিকায় অবতির্ন্ন হচ্ছেন এবং বিজয় চিনিয়ে আনছেন দল ও দেশের জন্য। অশুভ শক্তির পরাজয়ই ঘটছে শুধু। পরাজিত হতে হতে দলের অস্তিত্ব নিয়েই টানাপোড়ন শুরু হয়েছে।
সর্বশেষ পরাজয়টি এত সহজে, অল্পসময়ে ঘটবে অশুভ শক্তি বুঝে উঠতে পারেনি। গত দুই বছরের চেষ্টায় দেশীবিদেশী পরিকল্পনায়, মা-ছেলের একাধিক বৈঠকের সিদ্ধান্তে গড়ে উঠা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" রিট। প্রধানমন্ত্রী দলের কিংবা আশেপাশের কারো সাথে কোন পরামর্শ না করে ঠান্ডা মেজাজে দুই বছরের ষড়যন্ত্র মাত্র পাঁছমিনিটের শুনানীতে ব্যার্থ্য করে দিলেন। তিনি তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনী লড়াই না করার সিদ্ধান্ত দিয়ে- ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিলেন।
জাতির জনকের কন্যা সম্যক বুঝতে পেরেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সাম্প্রদায়িক সংকট, উগ্র জঙ্গীবাদের উত্থান, সামরিক অভ্যুত্থান, মৌলবাদের উত্থান ইত্যাদি অশুভ শক্তির চক্রান্ত আইন করে বা পুলিশী শাষন দিয়ে নির্মুল করা যাবে না। জাতিকে শিক্ষা,সংস্কৃতি, কৃষ্টিতে এগিয়ে নিতে হবে।শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বালাতে হবে। শিক্ষাকে প্রযুক্তির শিক্ষায় রুপান্তরীত করে বিজ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গড়ে দেশকে আলোকীত করতে হবে। স্বল্প সময়ে দারিদ্রতা দূর করতে হবে।কৃষি নির্ভর অর্থিনীতির সাথে শিল্পকে সম্পৃত্ত করে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ-স্বাবলম্ভী করে তুলতে হবে। দেশ ও জাতি সমৃদ্ধশালী হলে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সমাজের বিদ্যমান কুসংস্কার দূর হয়ে যাবে।সুদুরপ্রসারী চিন্তাচেতনার বাস্তবায়ন ঘটাতে তিনি দেশি বিদেশি বর্তমানের চক্রান্ত সমুহ সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা ঠিকই বুঝতে পেরেছেন-প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে তাঁদের খমতার স্বপ্ন-স্বপ্নই থেকে যাবে। মা-ছেলেকে সারা জীবন জেলে রাখার উপকরন সরকারের হাতের মূঠোয়তো আছেই।বাংলাদেশ তাঁর কাংখিত উন্নয়ন অগ্রগতির সোপানে পৌছে গেলে বৃহৎ রাষ্ট্র সমুহের খবরদারিই বা কোথায় থাকবে?
এমনিতে বিশেষ ব্যাক্তি ও কয়েক জোটে অংশ না নিতে বিশেষ দুত ও টেলিফোনে অনুরুধ প্রত্যাখ্যাত হয়ে মোড়লগীরি অনেকাংশে কমিয়ে দিতে হয়েছে। উন্নতি অগ্রগতির রেলগাড়ী যে গতিতে চলা শুরু করেছে, একই গতিতে ষড়যন্ত্রের গাড়ী চালাতে না পারাও বিরুধী দলের ব্যর্থতা মনে করে মোড়ল রাষ্ট্র। ফলে মধ্যবর্তি নির্বাচনের জন্য কান্নাকাটিও কানে নিচ্ছেনা আগের মত।তাঁরা চায় শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া ছাড়া বর্তমান অগ্রগতির চাকা থামানো যাবেনা। সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিপুল সংখ্যা গরিষ্টতা পাবে আওয়ামী লীগ। জনগনের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে আর কোন খবরদারীই মেনে নিবেনা দেশরত্ম শেখ হাসিনা। তারচেয়ে বর্তমান অবস্থায় ইস্যু সৃষ্টি করে অরাজগতা, নাশকতা সৃষ্টি করে জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামানোই হবে একমাত্র লক্ষ।
পরিকল্পনার প্রথম ধাপ কায্যকর সম্ভব হলে দ্বিতীয় ধাপ তাঁদের-হত্যা মিশনের দিকেও দাবিত করা যাবে- তাঁদের পেইড এজেন্টদের। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ষড়যন্ত্র জাতির জনকের কন্যা কৌশলে এড়িয়ে দেশ ও জাতিকে স্বস্তি দিতে পেরেছেন।সাধারন মানুষের প্রচুর প্রসংশায় মুখরীত সারা বাংলাদেশ।
__________________________
জয়বাংলা বলে আগে বাড়ো
জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন