সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
সরকার ও নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক শুন্যতা পুরনের জন্য--আওয়ামীলীগের উপর অত্যাচারের সহজপথ বেচে নিয়েছে---
♥-----------------------------♥
বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তৎপরতা করেও কেন্দ্রীয় বা তৃনমুলের নেতা কর্মীদের মধ্যে প্রানের সঞ্চার সৃষ্টি করতে পারেন নাই।গতকাল কাউন্সিলের লগো উম্মোচন অনুষ্ঠানে নেতারা প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়ে তৃনমুলে প্রান সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, বিএনপির বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত ভাইসচেয়ারম্যান তারেকের ক্ষমতার পরিধি নির্দিষ্ট করে দিচ্ছেন বলে প্রকাশ্য গায়েশ্বর চন্দ্র রায় মিডিয়াকে বলছেন।
"সুপ্রীয় পাঠক ভাইয়েরা--'উপরের উল্লেখিত দুটি বক্তব্য গতকালের ধরে নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাই। বিষয়টি আপনাদেরও ভালভাবে উপলব্দি করার অনুরুধ জানাই।"
প্রায় শুনা যায়,আওয়ামী লীগ জোর পুর্বক -সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন এবং কি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিনা-প্রতিদ্বন্ধিতায় অথবা কাউকে নমিনেশন সাবমিট করতে না দিয়ে দখল করে নিচ্ছে।ব্যাপারটি বা অভিযোগটি সর্বাংশে মিথ্যা আমি বলবোনা।যথেষ্ট সত্যতা রয়েছে--
বিএনপি নিজেরা যেখানে মিডিয়াকে বলছে এবং কি প্রকাশ্যেই বলছে--"তৃনমুলে নেতাকর্মিদের উজ্জিবীত করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন (সবেমাত্র)।"
সেখানে আমরা আমজনতা বুঝতে পারি আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ করার অবস্থা বর্তমান তৃনমুল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নেই, বা সেই ধরনের কোন সংগঠন তৃনমুলে নেই (ইহাই সত্য)।
"বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত ভাইসচেয়ারম্যান তারেকের কর্মের পরিধি সীমাবদ্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি মিডিয়ার সামনে একাধিকবার দিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে তৎপর বিএনপি নেতৃবৃন্দ।"
সুপ্রীয় পাঠক লক্ষ করুন,বিষয়টিতে গুড়তাৎপয্য রয়েছে:--আমরা এখানে দু'টা দিক ধরে নিতে পারি
-(১) এর আগে বিএনপির কোন সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ছিলনা এবং কেন্দ্রিয় নেতাদের কর্মপরিধি নির্দিষ্ট ছিলনা।
(২) তারেক কে দলের অভ্যন্তরে কোন নেতা গ্রহন করে নিতে পারে নাই। তাঁর স্বেচ্ছাচারিতার কারনে, জৈষ্ঠ নেতাদের সাথে বেয়াদপি, তদারকি বা খবরদারী ইত্যাদি নানাবিদ কারন হতে পারে।
" যার ফলে কেন্দ্রীয় নেতারা কাউন্সিল ঘোষনার পরেও দলীয় কাজে অংশগ্রহন থেকে বিরত রয়েছেন। কাউন্সিল সফল না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় তারেকের কর্মপরিধি নির্দিষ্ট করে দেয়ার আগাম ঘোষনা দিতে হল দলটিকে(সঠিক)।"
মাননীয় নির্বাচন কমিশন, গনতান্ত্রীক দলসমুহের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, গভীর রাতের বুদ্ধিজীবি, রাজনীতি বিশ্লেষক গন এবং সচেতন দেশবাসি, রাজনৈতিক,সামাজিক নেতৃবৃন্দ:----,
"হা-ডু-ডু খেলা " একসময় আমাদের দেশের অত্যান্ত জনপ্রীয় একটি খেলা ছিল। এখনও অনেকেরই খেলাটি সম্পর্কে কমবেশি ধারনা আছে। গ্রামে গঞ্জে খ্যাতনামা 'বলি'দের নামডাক ছিল। গ্রামের অনেকেই খেলাটিকে 'বলি' খেলা নামেও ডাকতেন। প্রতিযোগিতা মুলক খেলায়,--গরু, খাঁসী, ছাগল ইত্যাদি বিজয়ী দলকে উপহার দেয়ার রেওয়াজ প্রচলিত ছিল। খেলায় বিভিন্ন এলাকার নামকরা 'বলি'রা ভাড়ায় আসতেন। খেলা শুরু হলে, "অধিকতর 'বলিয়ান বলি' অপেক্ষাকৃত 'কম বলের বলি'কে কিভাবে পরাস্ত করতেন?"
"কোন ঘোষিত দল যথাসময়ে খেলায় অংশ নিতে না এলে,"খেলা পরিচালনা কমিটি কি সিদ্ধান্ত নিতেন?" মনে আছে কি আপনাদের?"
""নির্বাচন কি গনতান্ত্রিক দেশের একটি প্রতিযোগিতা- মুলক আন্ত রাজনৈতিক দল সমুহের মধ্যে শক্তি সামর্থ প্রদর্শনের উপযুক্ত খেলা নয়?'এই খেলায় কি আওয়ামী লীগের কর্মীরা জীবন বাজী রেখে দর্শকদের ভাল খেলা উপহার দিয়ে বিজয়ী হয়ে আসেনি? চারদলীয় জোটকে শক্তিহীন করে ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে নেতা কর্মীদের কি কোন ভুমিকা নেই?কোন ত্যাগ নেই? সরকারি ক্ষমতা উপভোগের জন্য নেতাকর্মীরা কি কোন ত্যাগ স্বীকার করেনি? দল সরকারে গেলে সরকারের সুযোগ গ্রহন করে-নীজের মার্য্যদা বৃদ্ধি করবেন, আর্থিক অনটন ঘোঁচাবেন - ইহা কি বাড়তি চাওয়া নেতা কর্মীদের?
যেখানে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করা দল প্রকাশ্য স্বীকার করছেন, "তৃনমুলে দল গোছানোর চেষ্টা সবেমাত্র চালিয়ে যাওয়ার।কেন্দ্রীয় নেতাদের বশে রাখতে নতুন নতুন অফার দিতে হচ্ছে। আন্দোলনে-নির্বাচনে, রাজনীতিতে-রাজপথে, হাটে-ঘাটে, সমাজে-নামাজে কোথাও কোন অস্তিত্ব নেই। দলটির কোথাও কোন তৎপরতা নেই। যেখানে দলটির বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রতিনিয়ত স্পষ্ট ফুটে উঠছে অবক্ষয়ের চিত্র, শক্তিহীনতার চিত্র, সাংগঠনিক ভিত্তির চিত্র, দলীয় মান অভিমানের চিত্র।
সেখানে আওয়ামীলীগ জোর পুর্বক সব নিয়ে যাচ্ছে বলা কি আদৌ যৌক্তিক? নির্বাচন কমিশন কোন তদন্ত না করে বিভিন্ন ইউনিয়ন-পৌর সভার নির্বাচন স্থগিত করে দিচ্ছেন ইহা কি আদৌ যৌক্তিক হচ্ছে?
"বিএনপি বা অন্যকোন দল শক্তি সঞ্চয় করে সংগঠিত হয়ে যদি ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে না পারে-আওয়ামী লীগ কি তাঁদের অপেক্ষায় বসে থাকবে? সমশক্তি সম্পর্ন্ন বা কাছাকাছি শক্তি সম্পর্ন্ন না হলে কোন দেশে-সুষ্ঠু,অবাধ ভোট করতে পেরেছে, প্রতিদন্ধি না থাকলে কাকে ভোট প্রয়োগ করবে ?
বর্তমান প্রচলিত গনতন্ত্রে- কোন গনতান্ত্রিক দেশে নিস্তেজ দলকে সতেজ দল মাঠে দাঁড়ানোর অবারীত সুযোগ দিচ্ছে বা দেয়? একটাও নেই, কখনই ছিলনা-থাকবেও না কোন দিন, কোন দেশেই।
সবার জন্য সমান সুযোগ দেয়ার জন্য যারা মধ্য রাতে মায়াকান্নায়- টি, ভি বক্স ভাসিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদেরকে বলতে চাই- সমান সুযোগ গ্রহন করার জন্য আপনার শক্তি আছে কিনা তা কি দেখেছেন? নীজের শরীরে বল না থাকলে অন্যের বলে বলিয়ান হয়ে ভাল খেলা কি দর্শকদের উপহার দেয়া যায়?
নির্বাচন কমিশন, সরকার, সরকারের প্রশাসন যতই বল দিকনা কেন- বিএনপি মাঠে আসতে পারবেনা, আসার বল তাঁদের নিকট নেই। নতুন অফার দিয়ে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের অফিস মুখি করতে পারছেনা দলটি- সেখানে আওয়ামী লীগের উপর অত্যাচার, নির্য্যাতন করে, মামলা-হামলা করে সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল করে দেয়ার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে?
আমাদের সবার স্বরনে রাখা উচিৎ-আওয়ামী লীগও একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। সাধারন নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে সরকার নয়। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব যখন পায়নি তখনও দলটি ছিল। সরকারের ক্ষমতা চলে গেলেও এই দেশের গনমানুষের সাথে দলটি থাকবে। দেশের গনমানূষের ভাগ্যন্নয়নে কাজ করে যাবে। মাঠে ঘাটে অজস্র নেতাকর্মী রয়েছে-অবিরাম রাজনীতির সাথে সম্পৃত্ত রয়েছেন।যদি কোন দিন সুযোগ হয়- নির্বাচিত প্রতিনীধি হয়ে এলাকার মানুষের হিতে কাজ করবেন-এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখবেন।
সেই সুযোগ আসার পর জনগন কতৃক 'প্রত্যাখ্যাত কোন রাজনৈতিক দল'কে মাঠে আনার জন্য আওয়ামী লীগের উপর অত্যাচার করবেন! নিয্যাতন করবেন! তাঁদের সেবার স্পৃহাকে স্থবির করে দিবেন! ইহা কি দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় পড়ে? ইহা কি প্লেয়িং ফিল্ডের সংজ্ঞায় পড়ে?
প্লেয়ার থাকলেই তো প্লেয়িং ফিল্ডের প্রয়ো- জনীয়তা ছিল। যেখানে প্লেয়ার নেই-সেখানে কার জন্য প্লেয়িং ফিল্ড খুঁজেন মধ্য রাতে টিভি বক্সে? আগে মাঠে প্লেয়ার আনার চেষ্টা না করে ফিল্ড খুঁজেন কেন?
প্লেয়ার আসলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাঠ সমান হয়ে যায়-এটাও কি আপনাদের মত বুদ্ধিজীবিদের বলে দিতে হবে, শিখিয়ে দিতে হবে?
অবিলম্বে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের উপর নিয্যাতন বন্ধ করে স্থগিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাই।নির্বাচন কেন্দ্রিক সকল মামলা প্রত্যাহার পুর্বক আটক নেতা কর্মীদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানাই। ২০০৫ সালে চার দলীয় জোট সরকারের রাষ্ট্রপতির বিশেষ অডিনেন্সে নিয়োগকৃত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ তদন্তে সংসদীয় কমিটি গঠন করার দাবি জানাই। প্রশাসনের সর্বস্তরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে রাজাকারের সন্তানদের চিহ্নিত করার দাবি জানাই। জাতির জনকের পরিবারের সর্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিধানের জোর দাবি জানাই।
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন