সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের উদ্যোগ--জন বিচ্ছিন্ন বিরুদী দলকে উজ্জিবীত করতে পারেনি--
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
এবারই প্রথম সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বেশ কিছু নতুন রীতিনীতি প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।দলীয় মনোনয়নে স্থানীয় নির্বাচনে অভিজ্ঞতা না থাকায় সাধারনে কিছু ভুল বুঝাবুঝি আছে। তা কাটিয়ে উঠার জন্য সরকার আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে- সাধারনে দৃশ্যমান করার জন্য বেশ কিছু তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন নির্বাচন কমিশন।
দেশের বিরুদীদলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা, দোদল্যমানতা, মনোবল, দলের প্রতি আন্তরীকতা, দীর্ঘদিন ক্ষমতা না পাওয়ার আশংকা, সংগ্রামী লড়াকু মনোভাবের ঘাটতি হেতু নির্বাচন প্রতিযোগিতা মুলক হবে বলে মনে হয়না। দেশের কোথাও সংঘটিতভাবে বিএনপির প্রর্থীরা মনোনয়ন দাখিলের খবর পাওয়া যায়নি। এই সুযোগটি সরকারি দলের নেতৃবৃন্দ বেশ ভাল ভাবেই কাজে লাগানোর চিন্তায় আছেন। ইতিমধ্যে নীজেদের আত্মীয় স্বজনকে মনোনয়ন দিয়ে মাঠে নামিয়েছেন। গ্রহনযোগ্যতার অভাবে তাঁরাও নির্বাচনী আমেজ আনতে সক্ষম হচ্ছেননা। সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশের স্থলে বিস্বাদময় পরিবেশ বিরাজমান। সরকারি দলের প্রভারের বিপরীতে কোথাও কোথাও নিয়মতান্ত্রীক প্রতিবাদের সুযোগ থাকা সত্বেও বিচ্ছিন্ন ভাবে চোরাগুপ্তা হামলা চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। নীতি নৈতিকতাহীন নেতৃত্ব জনসম্পৃত্ত কর্মসুচিতে ভয় পেয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিস ভাংচুরের মত সরকারি সম্পদ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এদিকে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সর্বশক্তি নিয়োগ করেও ফললাভ হবে বলে মনে হয়না।নিস্তেজ বিরুদীদলকে সতেজ করে নির্বাচনী মাঠে নামানোর সরকারি উদ্যোগ যথাযথ হলেও তৃনমুলের নেতৃত্বে কোন প্রভাব রাখতে সক্ষম হচ্ছেনা। সর্বত্র গাবাঁচিয়ে চলার মনোভাবের রোগে ধরেছে বিরুদীদলের তৃনমুলে। কেন্দ্রীয়ভাবে নেতিবাচক প্রচারনা বন্ধ করে কর্মী উজ্জিবীত করার প্রক্রিয়া গ্রহন না করা পয্যন্ত বিএনপিকে দিয়ে আর নির্বাচন,আন্দোলন,সংগ্রাম কিছুই সম্ভব হবেনা।নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নেয়া কতেক পদক্ষেপ তুলে ধরছি-----
(১) প্রথমধাপের দু’টি ইউপির ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উচ্চ আদালতের নির্দেশে দু’টি ইউপির ভোট বাতিল করা হয়েছে। ইউপি দু’টি হলো-ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ও লালমোহন উপজেলার রামগঞ্জ।
(২) গত ১১ ফেব্রুয়ারি ৭৫২টি ইউপির তফসিল ঘোষণা করে ইসি। এর মধ্যে নানা জটিলতায় ১৪টি ইউপির ভোট বাতিল আগেই করা হয়। বর্তমানে ৭৩৬টি ইউপিতে ২২শে মার্চ ভোট হবে।
(৩) দ্বিতীয় ধাপে একটি ইউপির ভোট বাতিল করা হয়েছে। সেটি হলো-চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুরমডেল ইউপি।
(৪)আগামী ৩১ মার্চ ওই ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬৮৪টি ইউপির তফসিল ঘোষণা করা হয়।
(৫)বিভিন্ন কারণে ১২টি ইউপির তফসিল বাতিল করা হয়। বর্তমানে ৬৭১টি ইউপি ভোট হবে।
(৬) আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন উপলক্ষে আট উপ-সচিবের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
(৭)এই টিমের সঙ্গে ইসি সচিবালয়ের ২৬জন কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদের মধ্যে উপ-সচিব সামসুল আলমকে চট্টগ্রাম বিভাগ, আবুল কাসেমকে ঢাকা বিভাগ, ইসরাইল হোসেনকে ময়মনসিংহ বিভাগ, মো. মতিয়ার রহমানকে বরিশাল ও সিলেট বিভাগ, ফরহাদ আহম্মদ খানকে রাজশাহী বিভাগ, আব্দুল ওয়াদুদকে খুলনা বিভাগ এবং রকিবউদ্দিন মন্ডলকে রংপুর বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
(৮) ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব (আইন) মহসিনুল হককে আইনি দিকগুলো পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।
(৯) এবার ছয় ধাপে ইউপি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৭৩৬ টি ইউপির ভোট হবে ২২ মার্চ। এরপর ৩১ মার্চ ৬৭২টি ইউপি, ২৩ এপ্রিল ৭১১টি ইউপি, ৭ মে ৭২৮টি ইউপি, ২৮ মে ৭১৪টি ইউপি এবং ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট হবে।
উপরে উল্লেখীত পদক্ষেপ সমুহ নি:সন্দেহে সরকারের সুষ্ঠ নির্বাচনের ইঙ্গিতবহ। অতীতে কখনই এই পদক্ষেপ সমুহ নেয়া হয়নি। তথাপি বিএনপি সহ অন্যান্ন বিরুদীদলের নেতাকর্মীদের ভোটে অংশগ্রহন করার এবং দলবদ্ধ প্রচারনায় উৎসাহ যোগাতে পারেনি। বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নমিনেশন প্রাপ্ত নেতারা স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে ভোটের লড়াই থেকে সরে যাচ্ছে।
এমতবস্থায় ভোটের আমেজ ধংস হয়ে নিস্তেজ, অনানন্দদায়ক, নির্বাচন প্রহসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিএনপি সরকারে যেমন ব্যর্থ্যতার ষোলকলা পুর্ন করে মঈন-ফকরুলদের মত ষড়যন্ত্রকারিদের ক্ষমতায় ঢেকে এনে নীজেদের দলীয় বিপয্যয়ের পথ পরিষ্কার করেছিল। বিরুধী দলের ভুমিকা পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাস, বোমাবাজি, মানবতা বিরুধী অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে জন সম্পৃত্ততা হারিয়ে গনতন্ত্র, নির্বাচন, আন্দোলন, সংগ্রামকেও বিপদাপন্ন করে তুলেছেন।
নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্ধিতা না করলে, জনগনকে সম্পৃত্ত করে ভোট যুদ্ধে না নামলে নির্বাচন কমিশনের বা সরকারের কি করার আছে।এমতবস্তায় বিনাপ্রতিদ্বদ্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ার কালচার শক্তভাবে শিকড় গেঁড়ে বসার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায়না।
সরকারি দলের মাঠকর্মীরা চাইবেই প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচিত হতে। সকল সরকারের সময়ে এহেন পাশ্চাত্যের গনতন্ত্রে প্রভাব বিস্তারের ভুমিকা পরিলক্ষিত হয়েছে। তখনকার বিরুদীদলের অনড় ভুমিকার কারনে উজ্জিবীত নেতাকর্মী ভোটে ঝাপিয়ে পড়েও কারচুপি, ভোট ডাকাতি অনেক ক্ষেেত্রে প্রতিহত করতে পারেনি। অনস্বীকায্য ভাবে জোর, জবরদখল, হানাহানি, মারামারির মত অনভিপ্রেত ঘটনা সমুহ ঘটেছে। বর্তমানে চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরুদীদলের কেন্দ্রীয় পয্যায়ে নেতীবাচক প্রচার, ব্যার্থ্য আন্দোলনের খতিয়ান, পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারার মত নেতিবাচক কর্মকান্ড বলবৎ থাকা অবস্থায় তৃনমুলের নেতৃবৃন্দ উজ্জিবীত থাকার প্রশ্নই আসেনা। সুতারাং যা হওয়ার তাই হবে, নির্বাচন একতরফা, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ার উদাহরনই সৃষ্টি হবে। সরকার বা নির্বাচন কমিশন যতই উদ্যোগ নিবে কোন লাভ হবেনা--.।
♥♥♥♥♥♥♥♥♥
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু জাতির জনকের কন্যা
♥দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা♥
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন